কবিতা

  • আমিহীন আমার ছায়ারা

    ওমর কায়সার   আমার আড়াল থেকে ওরা বেরিয়ে এসেছে হেঁটে গেছে সীমানা চিহ্নের বাঁধ ভেঙে চলে গেছে কোন পরবাসে।   আমিহীন আমার ছায়ারা পথে প্রান্তে ঘুরে ঘুরে কোনো ব্যস্ত কোলাহলে থমকে দাঁড়িয়েছে। অথবা নির্জনতার অতীব প্রাচীন কোনো গোলকধাঁধায় হারিয়েছে পথ।   কিংবা কোনো ঘুমন্ত নদীর বাঁকে আড়ি পেতে দু-একটা বেদনার গানে আমারই প্রতিচ্ছবি কল্লোলিত হতে…

  • নির্জনতা ও কোলাহল

    মাহবুব বারী   নির্জনতা খুব ভালোবাসত, অনন্ত; তাই সে নির্জনতায় ঢুকে নির্জনতা না দেখে চিৎকার করে ওঠে। তার স্ত্রী তখন কোলাহলে ব্যস্ত। চিৎকার শুনে হন্তদন্ত হয়ে নির্জনতা পৌঁছে দিলো। নির্জনতার ঘ্রাণ নিল সে, প্রাণভরে। তারপর দরজা বন্ধ করে অনেকক্ষণ নির্জনতার মধ্যে ডুবে থাকল – কী সুন্দর নির্জনতা! ঘুমেভরা আচ্ছন্ন মায়াবী! এরকমই আকাঙ্ক্ষা ছিল, চেয়েছিল এরকমই…

  • থাকা না থাকা

    আশরাফ আহমদ   অর্ধসত্যে যদি অথবা না ভেবে ভ্রমে, তবে তার মীমাংসা জরুরি। দীর্ঘভ্রমণ শেষে শূন্যহাত এইবার পকেটে রাখার মহাক্ষণ।   নির্বোধ, কাকে কার কথায় জড়াই, কাকে ফেলে কাকে টানি কাছে, না জেনে সংযোগসূত্র, সম্পর্কের গূঢ়মন্ত্র অপঠিত রেখে, কী গড়ার নেশায় যে দিনরাত! অবোধের এইবার থামার সময়।   নিজের নিখোঁজবার্তা প্রচারের আগে, জানা চাই –…

  • ছয়টি চার পঙ্ক্তির পদ্য

    রবিউল হুসাইন   এক. নিজের আমার কিছুই নেই ব্যক্তিত্বহীন আমি-র দেহ তৈরি পিতামাতার মনটি অন্তর্যামীর   দুই. পরিখাটি চারিদিকে প্রাচীর প্রাসাদ ঘিরে তবু আসে শত্রু বারে বারে ফিরে   তিন. মাঝরাতে বাজ পড়ে ঠা-ঠা – বিদ্যুতায়িত কর্ণকুহরে পৌঁছুলেই সবকিছু সত্যায়িত           চার. পাঁচমিশালি পাঁচে নয় অগণন তার সংখ্যা হয়তো দুই-তিনে মেশে…

  • বিভাবরী

    বীথি চট্টোপাধ্যায়   শখ করে শুয়েছিলাম এত গভীর ছিল সে কাম… বিদ্যুতে বর্ষণে কয়েকবার; যেন প্রথম সরে গেল অন্ধকার কিছু দূরে পড়েছিল জামাকাপড় সবকিছু বদলে দেয় সেই আদর, চাঁদের আলো, থরোথরো মধ্যরাত চমকালো বিপর্যয় উঠে আসে বুকের ওপর বিদ্যুতে বর্ষণে তারাভরা কত আদর এত সাহস; ভেঙে পড়ে গেল সমাজ বড় বড় দুর্যোগে প্রেমের তো এটাই…

  • কেঁপে-ওঠা

    অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত   শেষ-মিনিট-টিকিট পকেটে অদূর পাল্লার প্লেনে যেতে-না-যেতেই অকল্যাণের শব্দে কেঁপে উঠি।   যেই গেছি গোরখপুর থেকে বারাণসী শুভার্থীর ছদ্মবেশে আমায় অস্পষ্ট লোক দুটি ডেকে বলল মহম্মদ রফি আর নেই।   একবার ভিয়েনা থেকে ডালহৌসি স্কোয়ারে ফিরে আসবার মুখে শোকসভা ভেসেছে জোয়ারে, পরলোকে সুরশিল্পী হারবার্ট ফন কারায়ান।   ঘরকুনো আছি তাই। নিতান্ত যেতেই যদি…

  • শূন্য অতীত শুধু ঝুলে থাকে –

    সিরাজুল ইসলাম   চলতি পথের পাশেই ডুমুরের এক ডালে কবেকার কোন এক পাগল ফেলে রেখে জামাকাপড়ের বোঝা – নিতান্ত অবহেলায় চলে গেছে সে অজানার পথে, উলঙ্গ শরীরে সামান্য কদিনের স্মৃতিটুকু তার ঝুলে আছে ডুমুরের ডালে।   কালের অতল গহবরে প্রতিনিয়ত বিলীন হয়ে যায় কতকিছু নতুনের আবাহনে জেগে ওঠে ঝরাগাছে আবারো নতুন কচিপাতা। আলোকবর্ষের কোনো এক…

  • এখানে রবীন্দ্রনাথ

    সমীর ভট্টাচার্য   এখানে রবীন্দ্রনাথ সকাল সমুদ্র আনে ভোরের সামর্থ্য নিয়ে অক্ষরে অক্ষরে শৈশব আসে অশৌচান্তের কালবেলা ভেদ করে… উঠোনে পড়ে থাকে জল কাদা উৎসর্গিত রামধনু গল্পকথা অনুজ সংবাদ এখানে মাঠে মাঠে প্রসারিত ভালোবাসা খুলে যায় মুখ অাঁটা খাম থেকে সবুজ হৃদয়ে ফোটে আলোর গণিতমালা

  • মননে মুক্তিযুদ্ধ

    রেজাউল করিম   মুক্তিযুদ্ধ মননে নিয়ে অফুরন্ত রোদেলা আকাশের সুদীর্ঘ সকালে হেঁটে বেড়াই প্রফুল্লচিত্তে হাঁটতেই ভালোবাসি আমি। অফুরন্ত রোদে ঘেমে-নেয়ে বেহদ্দ হাঁটি এ-কোন কালে! হেঁটে বেড়াই অবরোধ-হরতালে –   শান্তিপূর্ণ সুন্দর আগামীর পথে পথে সংঘাত আর বিভেদের গন্ডিরেখায় গণজাগরণ শাহবাগে শান্তিমিছিল, রাজাকারের ফাঁসি   শুধু হাঁটতেই ভালোবাসি আকাশের পর আকাশে বাতাসে বাতাসে ঘুরে বেড়াই আর…

  • দেহান্তর

    বিশ্বজিৎ মন্ডল   নিবিষ্ট সোপানে শুয়ে শুনেছি – করাতকলের কান্না তারপর পরাজিতের মতো ভুলে গেছি – চিত্রার্পিতের উচ্চারণ একদিন জঙ্গলমহলে জেগে ছিলাম, অহংকারী মহীরুহ ক্রমশ প্রলোভনের প্রদোষকালে সর্বস্ব খুইয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে অাঁকি, গয়াসুরের ঘুম…   দিয়ে তো দিয়েছি পুরোমাত্রিক আড়ালে-আবডালে পড়ে নেই, প্রতিবেশীদের ফিসফাস গুঞ্জন ওঠার আগেই এই তো দ্যাখ – ফালাফালা করে দিচ্ছে…

  • যুদ্ধ

    জাহিদ হায়দার   তোমার যৌবন, ধরা যাক, মান্য হবে আর বছর পাঁচেক; যদিও আমরা জানি, সকল শৃঙ্খলা বাঁচে তোমার করণে; বপনে বীজের সাথি, প্রিয়তমা শস্য তোলো তীব্র আলিঙ্গনে।   হাতে জাল, গভীর সমুদ্রে তোমার পুরুষ, বাঁকানো চাঁদের লাফ দেওয়া মাছের ধরন, হঠাৎ উধাও নৌকার গ্রীবায়। অপেক্ষার প্রতিমা সুন্দর, রাত্রি আর দিনের শ্রমিকতায়   উঠোনের রুগ্ণ…

  • বৃষ্টির বিবিধ গল্প

    সোহরাব পাশা পাখির কী কষ্ট পাঠসূত্র নেই মেঘলা আকাশে, মহাকালের নির্বোধ ঘড়ি, কীর্তিমান কোনো শিল্পী – ভীমসেন যোশী স্বীকৃতি রাখেনি তার বৃষ্টির ক্ল্যাসিকে, দীর্ঘ রাত্রি ভেজা পাখিরাই জানে বৃষ্টির দহন, আর বৃক্ষনিধনের শব্দ জানে, কীভাবে হঠাৎ ভেঙে যায় উড়ালের ভাষা কতটা বর্ষণে শাবকের ডানা থেকে ছিঁড়ে যায় ভোর; ঐশ্বর্য হারানো মানুষের থাকে বৃষ্টির বিবিধ পাতা…