কবিতা

  • বিচ্ছেদের কবিতা

    সরকার মাসুদ   সন্ধ্যার আল্পনা শেষ জঙ্গলবাড়ির ঢালে ঝলমল করছে আলোপোকা! শেয়ালেরা বালাজন নদীর চড়ায়। মনে-মনে ওই পোকাদের ডাকো, সূর্যোদয়ে বটপাতার ঝিলিমিলি আর চাবির গোছার মতো ধানশীষে অকালশিশির দেখে নির্বিকার থাকো। তেঁতুলতলায় ভাঙা নৌকার পাটাতনে মনউদাস থাকো। রাতের খোঁপা থেকে ঝরে যাবে কালো সৌরভ অতনু বকুল ফুটবে ভোরবেলা তোমার অনুভবে ছিলে তোমার ভেতর শুধুই তোমার,…

  • প্রকৃত শ্রাবণে

    হারিসুল হক   এখন সকাল তবু মনে হয় জেগে আছি অশেষ রাত্রির ভিতর। যেন ঘুম নয় যেন তন্দ্রাচ্ছন্ন বোধের ভিতর ডনরন্তর হেঁটে যাচ্ছি ছায়াময় আমি দ্বিতীয় আমার সাথে   তবে কি মৃত আমি বেঁচে আছি এই ছলনায় মেলাচ্ছি সম্মোহিত পা প্রীত-জনপদে   আমি কি কারুর প্রেত নাকি আমার শরীরেরও কোনো ভিন্নরূপ আছে আলো কিংবা বর্ধিষ্ণু…

  • পিঠার খোলায় ভেজে ওঠা

    হেনরী স্বপন   পিঁপড়েও পিঠা খেতে আসবে না, মুষ্টি তুলে ভরা কলসিতে রাখা চালের গুঁড়োয় মায়ের হাতের গন্ধ নেই। ডানায় পালক নেই; উড়ে আসবো কী করে? গালিচায় আলাদিনের জাদু নেই; আকাশের মাপে মাপে শুধু অন্ধকার লেগে আছে খড়ের আগুনে পুড়ে গেছে পুচ্ছ কোনো আওয়াজ নেই; কাহারবা পেখম মেলব এসে আগুনের পাশে বসবো – পিঠার ছাঁচে…

  • বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, শুনুন তবে

    হাফিজ রশিদ খান   গাজা উপত্যকার শিশুরা আমার কেউ না ওদের হাসির লোভে চকোলেট নিয়ে যাওয়া কোনো আত্মীয়ও আমি নই   ওদের একশজনে বিশজন শিশু ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতাক্ত-রক্তাক্ত হয়ে ঝরে যাচ্ছে – ছাদে পোষা কবুতরে দানা খাওয়াতে গিয়ে দুদিন আগে আরো তিনজন   বোঝা গেল : দখলদারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো তেজস্বী মা ও বাবার খুদে কিন্তু…

  • আড়াল-সৌন্দর্য

    মাহমুদ কামাল   ছন্দকে সরিয়ে কিংবা বের করে দিলে কবিতা শরীর হয় আড়াল সৌন্দর্য ধ্বনিসাম্য ব্যতিরেকে অর্থহীন শব্দগুচ্ছ প্রায়োগিক প্রকৌশলে যতই নিপুণ হোক অরণ্যসংকুল পথে ঘটে বিড়ম্বনা। অস্থিতির স্থিতিস্থাপকতা টুকরো সুতোকে যদি প্রাকৃতদর্শন থেকে ছন্দের ভেতর বাড়ি স্রোতস্বিনী করে সংবিৎ প্রত্যয়সহ জীবনের গতি ও প্রগতি আড়ালকে উড়ালের সাথে নিয়ে যায় আকাশভ্রমণে   ছন্দহীন শব্দগুচ্ছ আর…

  • ঝরাপাতার অন্তিমযাত্রা

    শামসুল ফয়েজ   ঝরাপাতার শুকনা শবে ধুলার দলে পরায় কাফন; পথের পাশে গোরস্তানে অচিহ্নিত নীরব দাফন। ক্ষণিক শোকে মৌন থাকে দন্ডায়মান বৃক্ষসারি; হাওয়ার করুণ ভায়োলিনে থমকে দাঁড়ায় পথচারী। আগুনচুলা বিবর্ণ-ম্লান – দীর্ণ কায়ার দুঃখ নেভায়; ঝরাপাতার যাত্রা শুভ অন্তবিহীন কালের খেয়ায়।  

  • ও বালিকা

    চঞ্চল শাহরিয়ার   এনার্জি পিরিয়ডে ফোন দিও দুমদাম কথা হবে। কিশোরীরা হইচই করে শপিং সেন্টারের চলন্ত সিঁড়িতে পা রাখবে। ঠোঁটে লিপস্টিক মুছে দারুণ চুষবে ঈগলু আইসক্রিম। সমুদ্রে বেড়াতে যাবার সময় খালি থাকবে অনেকগুলো সিএনজি অটোরিকশা।   এনার্জি পিরিয়ডে ফোন দিলে শুকিয়ে যাওয়া রজনীগন্ধা নববর্ষের ভোরবেলাটুকু মনে করিয়ে দেবে আবার।   হারিয়ে যাওয়া কবিতার কথা তড়তড়িয়ে…

  • চিত্রকল্পের ঘুম

    ওবায়েদ আকাশ   ক. ভিক্ষাবৃত্তি খয়েরি আলোর ঠোঁটে নির্বিঘ্নে জ্বলছে তোমার বুক   শখ করে কিনে আনা মাটির হাঁড়িতে লেগে ছিল খয়েরি চাঁদমুখ   ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে গেছে কুমোরের প্রাজ্ঞ দুটি হাত সেই থেকে গোলাপি চাঁদের দিকে চেয়ে আছে বাড়ি   আজ আবার দড়ি টানো, বাঁধ ভেঙে জল টেনে আনো সাগরে জলের প্রযত্ন থেকে কেড়ে…

  • স্বপ্নহীনতার দিনলিপি

    জাহিদ হায়দার   আমি দেখেছি, জন্মান্ধরাই রূপকথা আর রৌদ্রের কবি। আমাকে বলেছে, মেঘেরা মলন দেয় নীলের শস্যকে; ভোরের নদীরা জানে, প্রথম স্বপ্নের জন্মদিন কবে।   তোমাকে না দেখেই কেবল অন্য মুখে শুনে, তোমার পুরাণ সারাদিন বলে গেল তারা।   কে প্রথম স্বপ্ন দেখেছিল, নারী, না পুরুষ? নাকি এক সাপ? স্বপ্নকথা বলেছিল ঘুম ভেঙে গেলে, হয়তো…

  • এ-মাটি ভেজাব ফের

    ফারুক মাহমুদ   প্রতিটি বৃক্ষের সঙ্গে একটি করে মানুষ থাকেন পুরুষ-প্রকৃতি নয়, নারী-শিশু ভবঘুরে নয় নয় সে রাজার দম্ভ, প্রজা বটে-খুব সাধারণ সোনার শৃঙ্খল রাখো, ভালোবাসো রৌদ্র-বৃষ্টি ঘাস সহজ চিন্তার মতো কেউ যদি মহত্ব অাঁকেন সে হবে স্বপ্নের চুড়ো যথাযথ সুখের সময় প্রতিটি শিশিরবিন্দু হয়ে যাবে অপার আকাশ গৌরবে জানানো যাবে প্রশান্তির শুভ জন্মক্ষণ  …

  • পথ হারাইয়াছ

    দুলাল সরকার   বৃষ্টি তুমি কি পথ হারাইয়াছ এখানে তো আউশক্ষেত ছিল?   শিউলি তুমি? তোমারও কি সঞ্চয় শেষ হলুদ বোঁটার সঙ্গে সাদা পেখমের স্মিত মগ্নতা মনে নেই?   স্বর্ণ আমন সুপুষ্ট অধর অগ্রহায়ণের অনুভূতি তারপর বিষণ্ণ বিষাদ খরের নির্জন   ভুলে গেছ উত্তুরে হাওয়ার চন্দন চন্দন ঘ্রাণ শীতের হেমাঙ্গ শীর্ণ গৃহী-সন্ন্যাসিনীর দেহের গোধূলি  …

  • হাতির জীবন

    শ্যামলকান্তি দাশ   এ-জীবন নারীঘেঁষা, কালো আর লম্বা হাতি, সারাদিন গাছপালা ভাঙে। ভেঙে ভেঙে পেটপুরে খায়।   তোমার মাটির বাড়ি শুঁড়তোলা, একা আর সাবধানি, ভোরবেলা তোমাকেও কী ভীষণ ভেঙে ফেলে – হাতির জীবনে কোনো হাতি নেই, থেমে থেমে ঢোলক বাজায়!