কবিতা

  • বৃষ্টিস্নানে বসুন্ধরা

    শামসুল ফয়েজ   সড়কদ্বীপের ঘাসের দঙ্গল, পথের পাশের তরুবীথি, ছাদবাগানের টগরবেলির পুষ্পকলি; লোহার রেলিং জাপটে-ধরা কুঞ্জলতা হঠাৎ সুখের বৃষ্টিস্নানে আত্মহারা।   লাউয়ের জাংলায় উন্মথিত তানপুরাটায় খুশির দোলে বিপুল সাড়া। ঝর্ণাজলে আনন্দিত ঝুলবারান্দা, দালানকোঠা, ধুলার বহর, ধুঁকতে থাকা গরম শহর, পিপাসার্ত বসুন্ধরা।   জলের ফোঁটায় হয় কুপোকাত কণ্ঠনালি রুদ্ধ করা রুদ্র খরা। মুখ খুলে খায়, হৃদয়…

  • বানরের পিঠেভাগ

    মোহাম্মদ আবদুল মাননান   বানরের পিঠেভাগ গল্পের এক জাদুবাস্তবতায় মুখোমুখি বসে আছি। কেউ কেউ পিঠার খন্ডিতাংশ খেতে নিরন্তর ব্যস্ত। ডারউনের বিবর্তনতত্ত্ব মানছি কিংবা মানছি না – এসব বিতর্ক ছাড়াই আমরা বানরপ্রিয় পিঠে ভাগাভাগি প্রায় মুখস্ত করে চলেছি।   বিজয় দিবসে মাঠের অনুষ্ঠান থেকে বলছি, এখানে কেউ আছেন, কেউ নাই। যারা আছেন – তাদের অনেককে গত…

  • নয়ন-পরম্পরা

    দিলারা হাফিজ   তোমার মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নিত্য চরাচর; চোখের ভেতর এতোটা জল নয়ন পরম্পর   ঋষির মতন জীবন কাটে শূন্য চারণভূমি তুল্যমূল্য-জ্ঞানের প্রদীপ সবচেয়ে আজ দামি;   প্রতীক্ষাতে নেই তো মানা অশ্বত্থ বটমূলে নদীর কাছে নদের গল্প উভয় কূলে, কূলে;   নিজের ভেতর অধরা এক; নিজেকে না চেনে; বিষাদগুলো যেমন তেমন হৃদয় মস্ত বেনে;  …

  • ভালোবাসা ও শিল্প এক, উল্লেখ নেই নন্দনশাস্ত্রে

    রবিউল হুসাইন   বিবরে দৃশ্যমান তীব্র প্রহর বরফের স্পর্শ-ছোঁয়ায় মোম-সরোবর চারিদিকে স্পষ্ট হিমেল প্রভাত আজো কি ঘটবে সেই অগ্ন্যুৎপাত   সুদূর সাক্ষাতে কেন মনে পড়াপড়ি এখনো সচল সেই অচল ঘড়ি আয়ত গবাক্ষের গরাদ ধরে অন্যের অশ্রুতে চোখটি ভরে   উদাস নয়নে নিঃশূন্য দাঁড়িয়ে মনের ভাবনাগুলি গিয়েছে ছাড়িয়ে আমিই একমাত্র ভাগ্যবান চাষি আজো কেউ বলেনি আমি…

  • সন্ধিক্ষণ

    রেজাউদ্দিন স্টালিন   যার আসবার কথা ছিলো সে আসেনি আসবে কি না জানি না আমার মন বলছে সে আসবে এখন আমি ইচ্ছাশক্তির কাছে সম্পূর্ণ সমর্পিত কিন্তু এমন উন্মূল সময়ে কোন মানুষ সমর্পণ সহ্য করবে যার মধ্যে ব্যক্তিত্বের বিন্দুমাত্র আছে   একবার মনে হলো আজ কেউ আসবে না একথা ভাবতেও কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে আমার বাইরে…

  • লিখে রাখো আমার এ-স্বীকারোক্তি

    ইকবাল আজিজ   এই দ্যাখো সাঁঝ নামে বঙ্গদেশে শহরে বন্দরে গাঁয়ে – তুমি লিখে রাখো আমার এ-স্বীকারোক্তি, আমি চিরকালের বাঙালি জন্মেছি এ-বঙ্গে – পদ্মা মেঘনা যমুনা আমার ঠিকানা। নদীপথ বলে দেয় – নদী দিন যাপনের গান শেখায় আশ্চর্য কলকল স্বরে; রক্তিম স্বপ্নের ইতিহাস ঘণ্টাধ্বনি মনে পড়ে। অঙ্গ বঙ্গ পুন্ড্র সমতট রাঢ় হরিকেল যে-নামে যেখান থেকে…

  • পিপাসা ও পরম্পরা

    হাসান হাফিজ   পলেস্তারা খসে পড়ছে ঝুরঝুর গোপনে ধরেছে ক্ষয়, নড়বড়ে ভিতর-কাঠামো ঘুণপোকা শব্দ তোলে কিরি-কিরি অবিশ্রাম গর্ত খুঁড়ে চলে… স্রোতস্বিনী নদী ছিল অহংকৃত বহমান তন্বীদেহ ছন্দেলয়ে সাবলীল কথা কইতো মূর্ছনায় ছলোছল আকাশে উড্ডীন মৃদু মেঘমালা নম্রতা নিঝুম কষ্টে হতো আরো একা সেই নদী তলপেটে অসহবিসহ ব্যথা অনুতাপ কর্কট রোগের ক্লান্তি দুঃখধস বুকে নিয়ে সহ্য…

  • আগুনপ্রেমিক

    রাতুল দেববর্মণ   প্রাত্যহিকতার থেকে দূরে সরে এসে ভোর হলো আজ কীর্তনখোলার জলে, জীবনানন্দ যে-লয়ে ধানসিড়ি পার হতেন ভোঁ-শব্দে থেমে গেছে ভৈরোঁ সুর, এখন কুশায়া নেই, জলে ভাসে শুধু তনদ্রাহারা ঢুলুঢুলু পাখি শঙ্কা ফেলে দূরে, কেবিনের জানালা দিয়ে দেখি শূন্য নগরী সূর্যের আলো কাঁপে নীল ঢাকা মেখলায়, দূরে সবুজ ধানের গন্ধ আসে, হাতছানি দেয় হৃদয়ের…

  • দুটি কবিতা

    মাহবুব সাদিক   হৃদয়ে বসন্ত আজ আজ এই বিলম্বিত বেতালা শরতে কুয়াশামাখা মাঘের হাওয়ারা ছোবল মারছে হালকা পোশাকের তলে গায়ের ছাল-চামড়ায় – কংক্রিটের বিকট-দর্শন শহরের এই সরু গলি-ঘুপচিতে ঘূর্ণি তুলছে সাইবেরিয়ার শীত, নাকি কারাকোরামের পাতী অরণ্য থেকে পর্বত পেরিয়ে এলো কুয়াশামাখা হিম হাওয়া? আমি কাঁপছি অকালের এই বৈরী বাতাসে – বাংলায় অচেনা এই শীতে আমার…

  • ব্যস্ত হয়ে পড়েছি খুব

    মাহমুদ পারভেজ   ব্যস্ত হয়ে পড়েছি খুব। তোদের ভেতর যেসব জোছনা জমেছে যেসব মেঘ জমেছে মাথার ঘিলুতে যেসব বঞ্চনার রোদ মেখেছে বিস্তৃত বুকের পাঁজর সেসব জোছনা, মেঘ আর রোদ গায় মেখে অকালে যেসব পাখি যাচ্ছে নিরুদ্দেশ যেসব হাওয়া নিচ্ছে দম যেসব ফুলেরা দিচ্ছে ছুট তাদের দেখভাল করতে গিয়ে বেমালুম কালের গর্তে ঢুকে পড়ছে সময়।  …

  • ও বালিকা

    চঞ্চল শাহরিয়ার   এনার্জি পিরিয়ডে ফোন দিও দুমদাম কথা হবে। কিশোরীরা হইচই করে শপিং সেন্টারের চলন্ত সিঁড়িতে পা রাখবে। ঠোঁটে লিপস্টিক মুছে দারুণ চুষবে ঈগলু আইসক্রিম। সমুদ্রে বেড়াতে যাবার সময় খালি থাকবে অনেকগুলো সিএনজি অটোরিকশা।   এনার্জি পিরিয়ডে ফোন দিলে শুকিয়ে যাওয়া রজনীগন্ধা নববর্ষের ভোরবেলাটুকু মনে করিয়ে দেবে আবার।   হারিয়ে যাওয়া কবিতার কথা তড়তড়িয়ে…

  • ছিন্নস্মৃতি

    আহমদ আজিজ   ছিন্নস্মৃতি তবু রক্তক্ষরণের মতো মাংসময় যেন কাটা মাংসের উত্তাপ লেগে আছে মৃতদেহে; অকালমৃত্যুর মতো কতদিন আগে ঝরে গেছে তরুণ বৃক্ষের অভিলাষীপাতা – আজো জেগে আছে নীরব ক্রন্দন তার হলুদশিরায়; কতদিন আগে ডুবে গেছে সূর্য – আজো তার রক্তিম বাসনা খেলা করে সমুদ্রের জলে পরিত্যক্ত বেলাভূমে : ছিন্নস্মৃতি তবু রক্তক্ষরণের মতো মাংসময়।