কবিতা
-
অধস্তন
শঙ্খ ঘোষ স্বপ্নই দেখেছি তবে। বাস্তবে তো এমন হবে না! অধস্তন দিনগুলি হঠাৎ উড়েছে ডানা মেলে তোমার পায়ের কাছে সমর্পণে, নিরহংকারে – তুমি আছো মেঘেরই মতন আসন্নবর্ষণ, ঘন। কখনো-বা স্নান দেবে তারই প্রতীক্ষায় থেকে থেকে জড়িয়ে নিয়েছে তার সমস্ত পুরোনো অবসাদ সব গ্লানি, মনোভার, শরীরের সব ক্ষতজ্বালা। তোমার পায়ের কাছে উড়ে গিয়ে বলেছে সে :…
-
বিষয়বদল
অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত শিল্পসরস্বতীর নির্দেশে ঝাউ জোনাকিদের নিয়ে সেমিনারের তোড়জোর চলছে এমন সময় অদূর ধুবুলিয়ার ক্যাম্পে মোকাম্মেল তানভীর আর এপার-বাংলা থেকে তাঁর সহযোগী সুশীল সাহা এসে হাজির তাঁরা তুলে রাখছেন দেশবদলের শামিল মানুষজনের কান্না এই মুহূর্তে শাশবতের প্রকল্পে ঘোষিত জোনাকিদের আমি কিছুতেই অন্তর্গত করে নিতে পারি না জোনাকিরা এখনো দারুণ…
-
অপ্রকাশিত জীবনানন্দ দাশ
ভূমেন্দ্র গুহের সৌজন্যে ৩৪-সংখ্যক কবিতার পান্ডুলিপির খাতা থেকে ৩৪/৬৮ ভোরের বেলা এই সাগরের নিঃশব্দ বাতাসে দু’-একটা শুকতারা মর্মর পাথরের মত হয়ে আসে মুছে যায় আকাশের থেকে এখানে ভোরের স্পষ্টতায় সব উঁচু গাছ নিজেদের শান্ত ছায়া দেখে নয় মাইল সান্ত্বনার কথা বলে যে যাহার পাশে সে-সব গাছের দেহ পৃথিবীতে ম’রে গিয়ে আজ…
-
স্মৃতি, স্মৃতি, শুধুই স্মৃতি
সাঈদা কামাল ফের ভুল করি – স্নান করি চাঁদের রুপোলি জলে উন্মাতাল বসন্তের রাতে ভুলের বাঁধনে জড়াই – অলীক ভালোবাসার অদৃশ্য ফাঁস পরাই অসম্ভবের পায়ে। দিন যায় – চোখের জলের মতো, ভেঙে ভেঙে অনির্দিষ্ট তার যাওয়া। চোখ ফিরিয়ে থাকি ভুলে থাকি ভোরের সোনালি রোদ্দুর মায়াময় বিকেল, ভরা চাঁদ ছায়া ফেলে হলুদ পদ্মের…
-
এপিটাফ অথবা চুক্তিপত্র
চাণক্য বাড়ৈ হয়তো এভাবে একদিন অনূদিত হবে শতাব্দীর নীরবতা – মৌনতা নামে তোমাদের ভাষাবিজ্ঞানে যুক্ত হলো নতুন অধ্যায় – আমি ওই শ্যাওলা-সবুজ সমাধিতে ঘুমিয়ে গেলে তোমরা উদ্ধার করো তারাদের স্বরলিপি। আর আমার এপিটাফে জুড়ে দিয়ো একটি নমিত সুর – যার নিমজ্জন পাহাড়ে – নির্জনতার নিটোল নিস্তব্ধতায়। যে-জীবন পেরিয়ে এলাম, শৈশব কৈশোর যৌবন বার্ধক্য এসব বাহারি…
-
উত্তরের পথ
সুজন হাজারী আগুন আছে বাহে, বিড়িটা হামার ধরাও। ট্যাঁকে গোঁজা দেশলাই ঠুকে বিড়ির মুখে আগুন দিয়ে ধুমছে মারে সুখটান। নিকোটিন তৃষ্ণায় ভিজে সুহৃদের মন-স্বজনপ্রীতিতে প্যারালাল বন্ধু দুজন। গ্রামের আবাল কাঁচা সড়ক অভিজাত হাইওয়ের পিঠে চড়ে জাহাজ কোম্পানির মোড়ে উঠে যায়। ধুলো-কাদামাখা নাবালক রাখাল গরুপাল লয়ে যায় মাঠে, সরু পুলের হাত ধরে নদীপার, হাঁপাতে-হাঁপাতে…
-
বঞ্চিতদের দলে
শ্যামসুন্দর কুন্ডু কাল যে আকাশ ছিল আকাশের মতো। কাল যে রাত ছিল রাতের মতো। গৃহদ্বারে ছিল সাজসজ্জা অভ্যন্তরে অভিজাত অতিথি। আলোকসজ্জা আর খাবারের সমারোহ প্রাচুর্যের অতিশয়োক্তি ছিল সবখানে। কোথাও কোনোখানে ছিল না ঘাটতি। শেষ রক্ষা হলো ঠিক তবু কারা যেন জেনে গেল সব। গোল বাধল বাইরে। বাতাসে বাতাসে ছড়িয়ে এসব কিছু অতিথিদের গায়ের…
-
মানুষের মুখ
তমিজ উদদীন লোদী আমাকে মানুষের মুখ অাঁকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আমি অাঁকতে গিয়ে টের পাই পৃথিবীর অন্যতম কঠিন একটি কাজে আমার অজান্তেই আমি হাত দিয়ে ফেলেছি। বরং শৈত্যপ্রবাহের ভেতরে বরফ কুড়ানো কিংবা মরুভূর তপ্ত বালির ওপর হাঁটা ঢের ঢের সহজ কাজ। কপোল, চোখ ও থুঁতনি অাঁকতে গিয় টের পাই এদের নানা ভঙ্গি ও অভিব্যক্তি –…
-
গাছির গান
সায়ীদ আবুবকর জিড়ন রসের মতো তোমার যৌবন, যূথীমালা; তোমার খেজুরগাছে আজ আমি দিনান্তের গাছি, কাটবো পৌরুষ দিয়ে তোমার দুচোখে যত জ্বালা, তারপর রস দিও, বসতে দেবো না কোনো মাছি ছ-কুড়োর মাঠে আজো ছোলার কি-চমৎকার চাষ, সেই ছোলাগাছ তুলে পোড়াবো উঠানে মাঝরাতে; তারপর তোমার ঘরে হালাকুর চলবে সন্ত্রাস, পৌষের পবন আর স্তব্ধ রাত্রি কেঁপে…
-
পসরা
অর্পিতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ভিতরে বাজার বসে রোজ জমজমাট কেনা-বেচার ভিড় অনেক কিছুর সঙ্গে বিক্রি হতে থাকি আমিও একটু একটু রোজ প্রচলিত বেঁচে থাকা ব্রণ-ওঠা আধখানা মুখ বিক্রি হয়েছে কোন কালে! কবে কোন ফুটের দোকান থেকে কেনা হলো ছেঁড়া পাতা রবিঠাকুরের গান দোকানি মূল্য নিল অকীক পাথর তারপর কত কাল কত ফুটপাত আমার ভিতরে আমি…
