সারমেয় কন্যা ‘নিশি’র সঙ্গে এই শ্রাবণে

ধারাজলে মুছে যায় জীবনের সকল সন্তাপ,

স্বজনেরা বহু আগে পরিত্যাগ করেছে আমাকে;

সারমেয় কন্যা এক জাগে রাত্রি আমার সপক্ষে!

টানা-বারান্দায় বসে নির্ঘুম রাত্রিটি কেটে যায় –

সে থাকে সর্বদা পাশে – থাবা দুটি তুলে দ্যায় কোলে,

আমার পায়ের কাছে লেজ নেড়ে দুঃখনিশি জাগে,

দুই চোখে ঝরে তার সান্ত্বনার অমিয় আদর –

শ্রাবণের ধারাপাত সে-ও শোনে সারারাত জেগে!

মনুষ্য-সন্তান জানি ক্ষমাহীন, বড়ই নিষ্ঠুর –

সতত আঘাত করা দায়িত্বের অংশ বলে ভাবে –

ভাগ্যাহত মানুষের অশ্রুজল ধারাজলে মেশে –

এই বঙ্গে ভাগ্যদোষে আমিও এমনই একজন।

বন্দনা করি না কেন এ-শ্রাবণে পালিত কন্যার –

আমার সময় কাটে কোনোমতে সাহচর্যে তার!