কবিতা
-
ভুল হয়ে যাচ্ছে
দিলীপ কির্ত্তুনিয়া খুব সহজে কাছে পাওয়াটাই ভুল। যন্ত্রণা, চেষ্টা এসব যদি না থাকে তো ভুল। ভুল অ-কষ্টের ভেতর – বিনা শ্রমে পাওয়ার ভেতর ভুল পাথরসমান – ছোট-বড় ভুল। কামনা আর কাম্য বস্ত্ততে দূরত্ব স্বাভাবিক দুইটি দিবসের মধ্যে রাতের পারাপার এক পারে আমি – অন্য পারে তুমি মাঝখানে নদীর সাঁতার। অথচ এখন হয়েছে…
-
অতলান্তিকের পারে সন্ধ্যা
তমিজ উদদীন লোদী যতদূর চোখ যায় অনন্তবাউল যেন প্রণতি জানায় কী যেন নীলাভ আভা প্রতীক্ষার আগুনে রাঙায় যে-মায়া যে-বোধি বক্ষোলীন দৃষ্টির প্রদীপে উদ্ভাসিত হয়। সুন্দরের শৌর্য নামে সেই অন্তরীপে। অবোধ্য উল্লাসসম বিস্মৃতির আহত আঙুলে… কে দেয় দর্শন এই নিরুদ্ধ দুয়ার খুলে-খুলে চারদিকে তমিস্র সময় – গভীর জলের শিল্প বয় আনন্দপ্রবাহে। কী যেন চিহ্নিত…
-
অনুরোধ
চঞ্চল শাহরিয়ার গড়িমসি করে দিনগুলো পার করে দিও না কোয়েল নিজের কথাটা ভাবো, ভাবো মেঘনায় মেঘলা দুপুর স্বপ্নে-গড়া সুখপাখি যেন লালনের মুগ্ধ করা গান আর্ট গ্যালারিতে বৃষ্টিভেজা যুবকের বালিকা-বন্দনা। অভিমান করে দিনগুলো পার করে দিও না কোয়েল নিজেকে আবার তৈরি করো ঋতু আর রচনার মতো কেউ না থাকুক আমি থাকবো তোমার সব অবেলায়…
-
বৃষ্টি, ষাটের বাংলার উত্তম-সুচিত্রা জুটি
সেলিম মাহমুদ হৃষিকেশ দাস রোডে বৃষ্টি আবার হরিকিশোর রায় রোডে বৃষ্টি দুটি বৃষ্টি দুরকম ফোঁটায়-ফোঁটায়। হিজলের অন্ধকারে আবাসিক এলাকার বৃষ্টি আপন আপন বৃত্তে নৃত্যরত। বৃষ্টি, পাশের বাড়ির চুলখোলা ঘন মেঘরূপ মেয়েটির লীলা আর কাঁঠালের পাতায় পাতায় তার জলকেলি। বৃষ্টি মহল্লার ডিশতারে অনুভূত রোমান্টিক পিকচার; বৃষ্টি, ষাটের বাংলার উত্তম-সুচিত্রা জুটি সিনেমায়।
-
তুচ্ছ শহর
মনীন্দ্র গুপ্ত এ-শহরটা নাইরোবি, কেরমান বা বগোটার চেয়ে অনেক তুচ্ছ। স্টেশনের নাম লেখা ফলক ঝড়ে রৌদ্রে এমন জীর্ণ হয়েছে যে পড়া যায় না। প্রধান রাস্তাগুলি পাথরের – তেকোনা, চৌকোনা, ট্রাপিজয়েড পাথর – একটা রাস্তা শেষ হয়েছে পুরোনো দুর্গ বা জেলখানায়। আর একটা রাস্তা গেছে মরুভূমির দিকে। একদিন শহরসুদ্ধ লোক দরজা-জানলা বন্ধ করে গ্রীষ্মের এক…
-
বাবর
হাফিজ রশিদ খান বাবরের সঙ্গে আমি থেকেছি অনেক কাল মাতৃভূমিরক্ষার সংগ্রাম আর বিকশিত কাব্যগুণ : এই নিবিড় বিচারে জুড়ি নাই তার এও ভারসাম্য বইকি আমার জীবনে – বলেন মোগল অধিপতি হেসে কোমরবন্ধের তরোয়ালে ফুল্ল গোলাপের মুখ উঁকিঝুঁকি দেয় মুকুটমণিতে রৌদ্র জ্বলে দিগ্বিজয়ী সোয়ারির তকমায় প্রাসাদের বাইরে শত্রুর গান – বীভৎস যুদ্ধের…
-
সর্বনাশা বীজের বিস্তার
মৃণাল বসুচৌধুরী যেখানে পড়েনি রোদ সেখানেই ছায়াহীন তোমাদের শরীরী ভ্রমণ দূরত্বের মূল পটভূমি বারোমাস যেদিকে পড়ে না রোদ সেদিকেই রক্ত জমে ঘাসের ওপর আপাতবিরোধী কিছু তথ্য থেকে দক্ষ মানুষেরা রঙের প্রকৃতি নিয়ে কারিগরি বিবাদ ছড়ায় যেখানে থামেনি লোভ সেখানেই অশালীন হিসেবি উড়ান সেখানেই বিষদাঁত ধারালো গোপন সেখানেই সর্বনাশা বীজের বিস্তার
-
দুটি কবিতা
হুমায়ুন আজাদ পরিত্যক্ত কক্ষ দুঃখ পেয়ো না, কষ্ট পেয়ো না হে জীর্ণ পরিত্যক্ত কক্ষ, শান্ত হও, অধৈর্য হোয়ো না। একটা সময় ছিল যখন দরোজা ঠেলে ঢোকে নি ভেতরে সে, একটা সময় ছিলো যখন পায়ের শব্দে তার শিউরে ওঠো নি তুমি, একটা সময় ছিলো তুমি তার সুগন্ধ পাও নি। তারপর তুমি তাকে পেয়েছিলে, এটাই কি তোমার…
-
বসন্ত-গুঞ্জরন
পিয়াস মজিদ মরু থেকে মহাকাশে কলাবতী হিমের বিস্তার ইতিহাস-পুস্তক থেকে আমার নিভৃত প্রাণের পৃষ্ঠায় জায়মান শতসহস্র শীতমহল। ভাবছি, ক্ষতি কি! এক জীবন কুয়াশাকীর্ণ থেকে বাঁচিয়ে রাখি আসন্ন পৃথিবীর সমুদয় রৌদ্রপিপাসা…
-
জারুল : ১৯৫৮
সৌভিক রেজা এতোদিন পরে এসে জারুল তোমার ছায়া, ক্যামন-একটা মায়া ধরিয়ে দিয়ে নদীতে সাঁতার কেটে ভেসে গেলে দূরে, তুলসীগঙ্গার বুকে; আমার শুধু একা বসে থাকা, একা-একা বসে থাকা, একাই বসে থাকা; বিচিত্র কোনো বাসনা নেই, নেই কোনো তুচ্ছ বীতরাগ; শুধু অন্ধ-চোখ নিয়ে শুনি প্রতিধ্বনি, তুলসীগঙ্গার স্রোতের প্রতিধ্বনি; হে ধ্বনি-প্রতিধ্বনি থাকতো যদি একটু অলস-মায়া, ভালো লাগতো…
-
বঞ্চনা
কাজল চক্রবর্তী বৃক্ষ অনায়াসে নিতে পারে লতা-ফল ও পাখিদের ভার। সহ্য করে বাতাস ও বৃষ্টির ওঠা-নামা। মাটিকে আঁকড়ে ধরেই তাঁর যাবতীয় উত্থান। আকাশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছড়িয়ে দেয় রং আমাদের চারধারে। প্রয়োজনে ব্যবহার করি – খাঁচার পাখিদের মতো। অসহায় বৃক্ষেরা কাঁদে কেউ শুনতে পায়, কেউ বা শোনে না। কিন্তু পৃথিবীময় বৃক্ষের হাহাকারে এখন…
-
অর্ধসত্য
খালিদ আহসান চারদিক দুদ্দাড়, বুনো দস্যুতা সেরে বুকের কাছে এসে হেরে গেছি হারিয়ে যাওয়া বাদামি মা’কে মনে পড়ে গেলো। তুমি আমার ৫.২০-এর ট্রেন অপেক্ষার শেষ হুইসেল বেজে উঠেছে তুমি আমার শেষ বিকেলের রোদ অল্প শীতে মিষ্টি লাগছে মিষ্টি লাগছে ভুবন দিগন্তজোড়া চোখ হা-হা ড্যাব-ড্যাব পলকের ভার পৃথিবী ছুঁয়েছি সেই প্রথমবার …
