কবিতা

  • কামাখ্যা-নারীর পায়ে পায়ে

    শিহাব সরকার   অরণ্যেই যেতে হয় দীর্ঘ অবকাশে বৃক্ষ আমার মা, পাখিরা সব বোন অরণ্যে লালফৌজ, অ্যাম্বুশ তবু যাবো বনগহনে।   আমার ভেতর থেকে নেমেছে গুহাসিঁড়ি কাজের ফর্দ উড়ুক হাওয়ায়।   বনের ভগ্নাংশ আছে ইতি-উতি তারপর বনবাস, পালিয়ে থাকার পর্ব পাগলা ঝোরার নুড়ি, খোঁপাচ্যুত ফুল পাহাড়ে কামরূপ পুরনারীদের জাদুটোনা   হাইওয়ে-কিনারে শস্তা জমি, বাংলোতে লোচ্চামি।…

  • বিদেশে বর্ষায় : ডুসেলডর্ফের পথে বৃষ্টি

    ফারুক আলমগীর   নারীও বৃষ্টিতে ভিজে জার্মানির নগরে ও গ্রামে শহর ঢাকার ছাদে যেমন রমণীকুল সদা ভিজে বৃষ্টি এলে আকাশে বাড়িয়ে মুখ হা-করে! ডুসেলডর্পের পথে যেতে যেতে দিগন্তে নিসর্গজুড়ে গ্রামবাংলার মাঠ-প্রান্তর যেন জেগে ওঠে জলক্রীড়ায় মাতাল হয় দামাল শিশুর দল মায়েরা উঠোনে ভিজে নির্বিকার, তাদের নিটোল দেহ শাড়ির আড়ালে থাকা লুকোনো পদ্মকোরক আচানক দৃশ্যমান হয়ে…

  • সুবীর

    কাইয়ুম চৌধুরী   হৃদয় থেকে পাড়ি জমিয়েছো ক্যাঙারুর দেশ থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের লোনাজল ছুঁয়ে স্বাধীনতায় সম্মানিত মঙ্গলবার্তার চাক্ষুষ অধিগ্রহণ অন্তর থেকে তোমাকে এতটা পথ টেনে এনেছিল। যদিও ফিরে যেতে হবে আবার নতুন দেশে প্রিয়জন সান্নিধ্যে এক অযুত সময় আনন্দধারায় অবগাহন। ফিরে পাওয়া তারুণ্য যেন যৌবনের বেলাভূমিতে চিত্ররচনায় যুক্ত হবে নতুন উপাদান। উদগ্রীব ছিলাম – চোখে…

  • সভাঘর

    কালীকৃষ্ণ গুহ   তার কথা মনে পড়ে ভাসে তার মুখখানি লুকিয়ে চোখের জল সে মুছেছে আনমনে।   তার গানে ছিল ছায়া তার গানে অবসান আকাশে কী-এক আলো বিদায় নেবার দিনে।   দূরে যেতে গিয়ে দেখি হিম পড়া শুরু হলো – হিমের রাতের আকাশ মায়াবী পথের চলায়।   কালবৈশাখি আসে সময়ের এক বাঁকে তার কথা মনে…

  • একটি বিনতি

    অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত (গৌরীশংকর দে প্রিয়বরেষু)   চড়ুইভাতির ছলে আমাদের নিয়ে গিয়ে ডেকে নিভৃতে চিনিয়ে দিলে বেড়াচাঁপা চন্দ্রকেতুগড়, তখনও বুঝিনি কিন্তু আমাদের নিজস্ব শিকড় ছিন্ন করে দিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি নির্বিবেকে   আসলে কি এগিয়ে চলেছি, নাকি ধ্বংসের গরজে ভুলে গেছি আমাদের সমবেত আত্মপরিচিতি, হে বন্ধু, তোমাকে যারা সমীপে জেনেছে তারা বোঝে উত্তরাধিকার মানে আমাদেরই স্মৃতির…

  • ভূমিহীন চাষা

    মাসুদ পথিক   এই যে মাথায় বয়ে নেওয়া ধানের বোঝা আর সারিবদ্ধ চাষার সামনে দোলাচল আগামী যা আজ আর হয় না দেখা   আহা রে, বিরান করে মাঠ, চলে যায় চাষা অবসর-আক্রান্ত ক্ষেতে পড়ে থাকে, কূট – অংক ও পাখি আর কতো না অচেনা ক্ষুণ্ণিবালা কুড়ায় ঝরাধান   আমি ওদের শিশুকাল হতে চিনি অথবা চিনি…

  • মোহনায় খেলা করে

    প্রতিমা ভৌমিক   মোহনায় খেলা করে নিরুপায় স্রোত – মৌন ললাটে ভাসে পাললিক ক্ষয়,   ক্রমাগত এক নিদারুণ তৃষ্ণায় নোঙর গাঁথো তুমি অবুঝ শরীরে;   অলীক, তোমার পরিধি জুড়ে স্থায়ী হতে চাই   হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো অনেক তো হলো – তোমাকে শেখাবো আজ দেহজ সভ্যতা।

  • ভাসমান মেঘে

    আকমল হোসেন নিপু   সামনে খোলা দিগন্ত – শুনতে শুনতে বহুপথ চলে গেছে অচেনা নগরের দিকে পড়ে থাকে বাদামের খোসামাখা দুপুরের রোদ পুরনো ছায়ার থেকে নিঃস্ব হাওয়া শিস তুলে যায় দিগন্তের কুয়াশা কাটে না বলে ওপারের কিছুই হয় না দেখা, জাল বোনে বয়সী মাকড় –   কালের প্রান্তর দেখো ভাগ হয়ে এতো আলপথ কোনদিকে তোমার…

  • বিগত সন্ধ্যার পরে

    রাজীব   তখন নিশ্চুপ সন্ধ্যায় দূরসমুদ্রের মধ্যে ঢেউয়ের কলরব ছিল, তেমন লক্ষ করিনি। সেদিন ভীষণ মগ্ন ছিলাম ভিতরকে বাইরে টেনে আনবার আগ্রহে; তখন আকাশের নীল রংকে অযথা করেছি তোষামোদ এবং বিষণ্ণ বাতাসের গায়ে ছুড়ে দিয়েছি ভীষণ চিন্তামগ্ন মন্তব্যের সনদপত্র! তখন বোধহয় আটকে ছিলাম অহংবোধের রঙিন দেয়ালের খুপরিতে এক উনমাদনায়, নেশায় – তাই অযাচিত করুণা ও…

  • স্বপ্নমৃত্যু

    মাহমুদ পারভেজ   দু-চারটে স্বপ্ন মরে গেলে কি হয়!!! প্রতিদিনই মরে ভূত হয়ে যাচ্ছে কত-শত স্বপ্নবাজ মানুষ, হাজার হাজার মানুষের গল্প, অগণন স্বপ্ন কারিগর সেখানে গুটিকয়েক নগণ্য স্বপ্নের মৃত্যুতে এতো শোক কেন? এতো হাহাকার কেন? যেখানে নিত্য এদিকে-সেদিকে হঠাৎ করেই হাওয়া হয়ে যাচ্ছে, সমুদ্রজলে তলিয়ে যাচ্ছে, অট্টালিকার নিচে দেবে যাচ্ছে, ছুরির বুকে গেঁথে যাচ্ছে শত-শত…

  • চুম্বক-পরিধি

    রোকসানা আফরীন   যদি এভাবেই ছিন্ন-পাতার আগুনে পোড়াও পৃথিবী যদি এভাবেই আততায়ী সময় নিয়ে যায় নক্ষত্র-মদির রাতে যদি কখনো ফিরে আসি আবারো তোমার আঙিনায়, যমুনা-নদী-তীরে তবে তোমাকেও হতে হবে শব্দ-জুয়াড়ি খেলোয়াড় অথবা খিলাড়ি।   অজস্র জন্ম শুধু পথে পথে বিফলে কেটেছে অজস্র জন্ম শুধু ক্লান্তিহীন হেঁটে গেছি পৃথিবীর পথে ঈশ্বরের বাগানে আমি এসেছি বারবার ফিরে…

  • নীরবতা

    শংকর চক্রবর্তী   অনেক নীরবতা সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম তখনও হেমন্ত তেমনভাবে ঝাঁপিয়ে আসেনি বাস থেকে নামার সময় এক সহৃদয় কন্ডাক্টর টিকিটের বদলে আমার হাতে গুঁজে দিয়েছিল নতুন আকাশের খ’সে-পড়া অনেকখানি একাকিত্ব বাড়ির সামনে এসে থমকে দাঁড়াই কিছুক্ষণ আমার পায়ের কাছে কুলকুল করছে চাঁদের আলো আমি ঝুঁকে সামান্য ছুঁয়ে দেখলাম স্মৃতিহীনতার জ্বরে আমার শরীর পুড়ে…