কবিতা
-
পীরবাড়ির মেয়েটি [কবি কাজল চক্রবর্তী বন্ধুবরেষু]
মাকিদ হায়দার তাকাইতেই পারিলাম না। তাকাইলেই তিনি যে আমাকে চিনিতেন, অথবা, চিনিতে পারিতেন এমন কথা বলা মোটেই যে সমীচীন নহে তাহা আমি জানিয়াও তাকাইয়া ছিলাম সেই আবাগীর মুখের দিকে। পীরবাড়ির মেয়েটির একটি না একটি সমস্যা লাগিয়াই আছে, তিনি ইচ্ছা করিলেও চক্ষু মেলিয়া কখনো আমাকে দেখিতে পারিবেন না। কেননা, তাহার পিতা আমাদের…
-
হৃদয়ের এপার-ওপার (রোকসানা বারীকে)
মাহবুব বারী এক আমাদের প্রেম ফুটে উঠেছিল ভোরের আলোর মতো আর তখনই কলঙ্কের ভয়ে তোমার চোখ বনের হরিণের মতো চঞ্চল হয়ে ওঠে, অস্থির হয়ো না বন্ধু, তুমি তো জানো প্রস্ফুটিত গোলাপ থাকে না আড়ালে কখনোই, কেউ বলে, কী সুন্দর! কেউ বলে, কাঁটার কথা! সব কথা থাকুক এসো প্রেমে আর প্রেমে মেতে উঠি, অন্ধ হই আর…
-
দুটি কবিতা
হাফিজ রশিদ খান ঝিরিগুলো শিশুগুলো ঝিরিগুলো সুন্দর সকালে জেগে-ওঠা হাসিমাখা শিশুদের মতো পাহাড়ের স্তনে মুখ গুঁজে আনন্দে হাসবে টলটলে জলে জুমিয়া মেয়ের চুলের বিন্যাসে রংদার ফুলের খুশবু ছড়াবে ঘরের মুখে ফেরার সময় হলে ওর ওই ঝিরিগুলো ওদের বুকের ঠান্ডা জলগুলো জলের ওপর শুয়ে থাকা নম্র ছায়াগুলো ঝোপের দারুণ নীরব মহল থেকে উড়ে আসা কালো লাল…
-
দুটি কবিতা
হাসান হাফিজ ডুবে গেছে কুসুমিত চাঁদ অনুরাগ কী সূক্ষ্ম কোনো ব্যথা? সুনিপুণ লতিয়ে সে ওঠে ভালোবেসে আষ্টেপৃষ্ঠে নিজেকে জড়ায় জাগরণ ভিন্ন কোনো গত্যন্তর নাই যে-ভুবনে ঘুমের বন্দর দূরে অত্যন্ত সুদূরে এ জীবনে ধারেকাছে পৌঁছানো দুষ্কর। অনুরাগে হয়তো কোনো লুকোনো চুরোনো পাপ স্মৃতিভ্রষ্ট ভাপও কিছু সংমিশ্রিত আছে ভালোবাসা পুণ্য জলে তাতে শুদ্ধ পরিস্রুত…
-
চেয়েছিলাম
শাহজাহান হাফিজ চেয়েছিলাম আলো, অনেক অনেক আলো! তার বদলে – আমাদের চারিদিকে এখন জমে উঠছে কেবলই অন্ধকার; বিশাল বিপুল অন্ধকার! এই কি আমাদের ভাগ্যলিপি, জন্মভূমি, জননী আমার? চেয়েছিলাম সুবজ শস্যভূমি, স্রোতময় বেগবতী নদী, উজ্জ্বল আলোকিত মানুষজন। তার বদলে – আমাদের চারিদিকে এখন শুধু শূন্য ফসলভূমি, জলহীন নদীহীন বিবর্ণ দেশ; বিপন্ন মানুষজন! এই…
-
লোনাজল
আলোক সরকার সাদা রঙের বড় ফুল। ভোরবেলায় শুরু করেছিল এখন তার কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। জনমানবহীন বাড়ি নিঃস্বতা বলছে। যাদের থাকার কথা ছিল তাদের থাকা অনাবশ্যক হলো। অনাবশ্যকতা প্রশ্ন হচ্ছে সাদা রঙের একটা ফুল আর সেই অজ্ঞানতা শূন্য ঊর্ধ্বমুখ হয়েছে। সে গ্রাস করতে চাইছে বৃক্ষ, তরুণ মেঘপুঞ্ছ। বারুকলা, কতটুকুইবা করবে। তার…
-
পতনের শব্দ মধুর
মিঠুন রাকসাম মাঝে মাঝে ওপর থেকে ছেড়ে দিতে হয় কাচের বাসন – ভরাট ব্যাংক দেখতে হয় কীভাবে ফাটে – কীভাবে ভাঙে শুনতে হয় ফাটার সুর – ভাঙার ছন্দ প্রিয় কোনো পাত্র হলে – পতন জমে ওঠে পাত্রের মালিক যেই হোক – জমে ওঠে চূর্ণপাত্রকণা কাচ বা মাটির পাত্র মেয়েদের প্রিয় সহজেই ফাটে বা…
-
একটা পথ শুধু চলে গেছে পপিফুলের
নভেরা হোসেন এক একটা পথ শুধু চলে গেছে পপিফুলের একটা ত্রিভুজ আয়না বাঁকা চাঁদ চোখদুটো বন্ধ, হাত দিগন্তে প্রসারিত শত শত প্রজাপতি শত শত ঘাসফড়িং বৃষ্টির পরের মাঠে তরঙ্গায়িত জল সময় বয়ে যাচ্ছে তোমরাও বয়ে যাচ্ছো সময়ের বিপরীতে দুই পেছন থেকে দেখা। দৌড়ে একটা বাস চার চাকার। পাশের সিটে বরাহনগরের ছেলে। কী এক…
-
ঘোড়া
সন্দীপ চক্রবর্তী যেখানে যা থাকার কথা থাকে না অন্ধিসন্ধি আনাচ-কানাচ ঘুরে নিজের কাছে দাঁড়িয়ে থাকি একা যে-নামে যার ডাকার কথা ডাকে না একটা জমাট অন্ধকার অন্ধ কয়েকজন পায়ের শব্দে জানতে চায় পিতৃপরিচয় কী করে বোঝাই আমার কোনো শেকড় নেই গড়ানে পাথর যেতে যেতে, দাঁড়াই কিছুক্ষণ যা কিছু ফুটে ওঠার কথা ফোটে না…
-
এলেংজানি নদী
শিহাব শাহরিয়ার এলেংজানি নদী বালুমুখে তুমি শুয়ে থাকো এইখানে এভাবেই শুয়ে থাকো শীতলপাটির শীতল-স্বরে অনুভবে তোমার পাশে জেগে আছে হিঙ্গানগর, মুর্তাবাগান সম্পাদক শামসুল হক তোরণের উদীপ্ত আয়োজন দ্বিতীয় দিনেও সন্ধ্যা নামে প্রথম অন্ধকারে জোনাকির মতো খুঁজি কুপিবাতি ধূপের ধোঁয়া পিসির হাসি অন্ধ উঠোনের কোনা রাতের পথে যারা ধূলির নিশানা খোঁজে আমরা…
-
সত্তরের বন্ধুদের প্রতি
আহমদ আজিজ পাতাঝরা প্রান্তরের মাঠে তুমুল ঘূর্ণির দিনে বিস্তারিত বৃক্ষের সারির দৃশ্যপটে নিশ্চুপ বৃক্ষের মতো আমিও ছিলাম – মনে পড়ে? আমাদের গেছে দিন একদিন শর্তহীনতায়। ভবঘুরে জীবনের মতো আমিও তো দাঁড়িয়েছিলাম একা অনির্দিষ্ট অপেক্ষার মতো কোনো সাধারণ অচেনা রাস্তার মোড়ে, ঝড়ো-জীবনের দিনে আমারও তো কেটেছে সময় ধোঁয়া আর ধুলা জমে-ওঠা অনর্থক অপেক্ষার চা-র…
-
অর্ঘ্য
(প্রয়াত বিজ্ঞানী অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে) শাহেদ রহমান যখন গেলেন চলে তিনি তার মুখখানি্ একখন্ড সোনার মতন জ্বলজ্বল করছিল সবুজসমৃদ্ধ চিরচেনা পাহাড়ের বুকে একটি বাড়িতে। যখন মানুষ পৃথিবীকে ফেলে চলে যায় ওপারে তারার জলসায়, যারা বেঁচে থাকে – বন্ধু ও স্বজন তারা সকলেই আসে আমন্ত্রণহীন – তারা আসে ছায়াঘেরা পথ…
