কবিতা
-
বক্ষ্যমাণ অংশটুকু
হারিসুল হক বক্ষ্যমাণ অংশটুকু হাওয়া থেকে পাওয়া হঠাৎ বৃষ্টিতে বোধ যে-প্রকারে হয় সচেতন কিছুটা সেভাবে কিছুটা স্বভাববশে একাকী বারান্দায় অস্পন্দ দোতারা কোলে বসি তন্ময় অতিশয় সতর্কতায় পাতি উদ্গ্রীব কান অই বুঝি বেজে ওঠে গেরুয়ার প্রাণছোঁয়া তান বক্ষ্যমাণ অংশটুকু বন থেকে পাওয়া মৌয়ালিরা বন থেকে মৌচাক কাটে যে-কৌশলে দার্শনিক প্রজাপতি ফুল থেকে মধু টানে যে-প্রকারে…
-
ফাটল
জরিনা আখতার অকস্মাৎ দেয়ালের ফাটলটি প্রথম দেখে আমি অাঁতকে উঠেছিলাম – কেননা, নিয়ম অনুযায়ী ফাটলটি আরো বৃদ্ধি পাবে, একসময় খসে পড়তে থাকবে দু-একটি করে ইট, তারপর দেয়ালের বৃহৎ অংশ ধসে পড়বে সশব্দে – তাহলে তো উন্মুক্ত হয়ে যাবে, আমার সবকিছু, আমার দীর্ণ জীবন, জীর্ণশীর্ণ সংসার, হতদরিদ্র ঘর-গৃহস্থালি সবার চোখে ধরা পড়ে যাবে, আমার সমূহ…
-
জানি
আশিস সান্যাল এখন ঝড়ের রাত চারদিকে প্রবাহিত হাওয়া। কোনখানে আছ তুমি? হলো না তোমার কাছে আর ফিরে যাওয়া। এরপর জানি তুমি বন্ধ করে দেবে সব প্রান্তিক জানালা ছড়াবে ধূসর শুধু বুকের ভেতরে ক্রমে তীব্র হবে দূরত্বের জ্বালা। জীবনের সব কথা কে কবে জেনেছে অনেক গোপন কথা যায় না তো বলা পড়ে থাকে অন্ধকারে।…
-
না-ছুঁয়ে বলা
অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত থাকে শুধুই আকাশি দূর – যে-নারী তার শাঁখাসিঁদুর নবোঢ়া নাম ঘুচিয়ে দিয়ে ছুঁল আমার কাঁধ, কনুই, কী করে তাকে আমিও ছুঁই! তাকে না ছুঁয়ে বলেছিলাম : থাকে শুধু এ হৃদয় জুড়ে আকাশি দূর বোরোবুদুর যেখানে কিনা একের পরে আরেকজন বুদ্ধ এসে কী ভালোবেসে ওষ্ঠাধরে জ্যোৎস্না জ্বেলে শূন্যতার আরতি করে তার…
-
যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে ভেবে
আহমেদ মুনির এক যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে ভেবে কতকাল আগে গান গেয়ে উঠেছিল পাখি মাটি খুঁড়ে দেখি তার তীরবিদ্ধ শরীরে এখনো রয়ে গেছে সুরের বেদনা। এই বেদনার পথ ধরে হেঁটে গেছে দেশান্তরী মানুষের দল এক যুদ্ধ থেকে আরো এক যুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে ভেবে। স্মৃতির আপেল তার বীজ ছড়িয়েছে ঝিরির কিনারে ঝিরির…
-
নিরাভরণ
দুলাল সরকার তুমি পুষবে আগুনছানা টাপুর, টুপুর – আমি খুঁজব জলের পরাগ ভরা দুপুর; তুমি চাইবে মালাবদল ঘরের নিশ্চিত আমি খুলব রোদের অাঁচল হাতের নূপুর, তুমি চাইবে পরাগায়ণ পতঙ্গমুখ – আমি বলব আকাশভরা অতিথিপাখি জলের পুকুর, তুমি চাইবে সদলবলে দেহপূজা আমি চাইব অন্তরাত্মা, পাখির বাসা অরণ্য নীল; তুমি চাইবে মেঘের পাশে চাঁদের…
-
বল কে হই আমি
কিংশুক চট্টোপাধ্যায় ঠোঁটে শিসের মতন জিভে বিষের পালক ধানে দুধের শরীর খিদে জমাক হাওয়া দেখা ফ্যানায় ফ্যানায় আলো টিপের উপর একা পেছল মানুষ দোলে ম্যাজিক নদী হাওয়া কেমন কেমন ফাটে আদর কুসুম গিলে ফেলুক শরীর কিছু জ্যান্ত আকাশ তোর চুলের ভেতর বুনো ফুলের বাগান ছুঁয়ে দেখার চোখেও শুয়ে তরল কাজল। …
-
পাহাড়ি নির্বাচনের রাত
আসমা বীথি মাঘ-নিশীথে চু’য়ের পাত্র হাতে বিষণ্ণ বসে আছে এ-পাড়ার কারবারি লং টয়। সামনে ন-ইঞ্চি টেলিভিশনের পর্দায় চলছে ধর্মীয় সিনেমা; যেখানে ডিম হতে ফুটে বেরুবে মানুষের ছানা। উদগ্রীব-উৎকণ্ঠিত শিশু-বুড়োর চোখগুলো সব স্থির সেখানে। অস্থির কেবল টয়। শুধু ঠকে যেতে হয়, ঠকানো হয়! এ-অপমানে বাকিটা চু নিঃশেষ করে তাকায় আমাদের দিকে – ‘ওরা কেন্দ্রটি সরিয়ে নিল,…
-
ভুল হয়ে যাচ্ছে
দিলীপ কির্ত্তুনিয়া খুব সহজে কাছে পাওয়াটাই ভুল। যন্ত্রণা, চেষ্টা এসব যদি না থাকে তো ভুল। ভুল অ-কষ্টের ভেতর – বিনা শ্রমে পাওয়ার ভেতর ভুল পাথরসমান – ছোট-বড় ভুল। কামনা আর কাম্য বস্ত্ততে দূরত্ব স্বাভাবিক দুইটি দিবসের মধ্যে রাতের পারাপার এক পারে আমি – অন্য পারে তুমি মাঝখানে নদীর সাঁতার। অথচ এখন হয়েছে…
-
অতলান্তিকের পারে সন্ধ্যা
তমিজ উদদীন লোদী যতদূর চোখ যায় অনন্তবাউল যেন প্রণতি জানায় কী যেন নীলাভ আভা প্রতীক্ষার আগুনে রাঙায় যে-মায়া যে-বোধি বক্ষোলীন দৃষ্টির প্রদীপে উদ্ভাসিত হয়। সুন্দরের শৌর্য নামে সেই অন্তরীপে। অবোধ্য উল্লাসসম বিস্মৃতির আহত আঙুলে… কে দেয় দর্শন এই নিরুদ্ধ দুয়ার খুলে-খুলে চারদিকে তমিস্র সময় – গভীর জলের শিল্প বয় আনন্দপ্রবাহে। কী যেন চিহ্নিত…
-
অনুরোধ
চঞ্চল শাহরিয়ার গড়িমসি করে দিনগুলো পার করে দিও না কোয়েল নিজের কথাটা ভাবো, ভাবো মেঘনায় মেঘলা দুপুর স্বপ্নে-গড়া সুখপাখি যেন লালনের মুগ্ধ করা গান আর্ট গ্যালারিতে বৃষ্টিভেজা যুবকের বালিকা-বন্দনা। অভিমান করে দিনগুলো পার করে দিও না কোয়েল নিজেকে আবার তৈরি করো ঋতু আর রচনার মতো কেউ না থাকুক আমি থাকবো তোমার সব অবেলায়…
-
বৃষ্টি, ষাটের বাংলার উত্তম-সুচিত্রা জুটি
সেলিম মাহমুদ হৃষিকেশ দাস রোডে বৃষ্টি আবার হরিকিশোর রায় রোডে বৃষ্টি দুটি বৃষ্টি দুরকম ফোঁটায়-ফোঁটায়। হিজলের অন্ধকারে আবাসিক এলাকার বৃষ্টি আপন আপন বৃত্তে নৃত্যরত। বৃষ্টি, পাশের বাড়ির চুলখোলা ঘন মেঘরূপ মেয়েটির লীলা আর কাঁঠালের পাতায় পাতায় তার জলকেলি। বৃষ্টি মহল্লার ডিশতারে অনুভূত রোমান্টিক পিকচার; বৃষ্টি, ষাটের বাংলার উত্তম-সুচিত্রা জুটি সিনেমায়।
