কবিতা
-
তুচ্ছ শহর
মনীন্দ্র গুপ্ত এ-শহরটা নাইরোবি, কেরমান বা বগোটার চেয়ে অনেক তুচ্ছ। স্টেশনের নাম লেখা ফলক ঝড়ে রৌদ্রে এমন জীর্ণ হয়েছে যে পড়া যায় না। প্রধান রাস্তাগুলি পাথরের – তেকোনা, চৌকোনা, ট্রাপিজয়েড পাথর – একটা রাস্তা শেষ হয়েছে পুরোনো দুর্গ বা জেলখানায়। আর একটা রাস্তা গেছে মরুভূমির দিকে। একদিন শহরসুদ্ধ লোক দরজা-জানলা বন্ধ করে গ্রীষ্মের এক…
-
বাবর
হাফিজ রশিদ খান বাবরের সঙ্গে আমি থেকেছি অনেক কাল মাতৃভূমিরক্ষার সংগ্রাম আর বিকশিত কাব্যগুণ : এই নিবিড় বিচারে জুড়ি নাই তার এও ভারসাম্য বইকি আমার জীবনে – বলেন মোগল অধিপতি হেসে কোমরবন্ধের তরোয়ালে ফুল্ল গোলাপের মুখ উঁকিঝুঁকি দেয় মুকুটমণিতে রৌদ্র জ্বলে দিগ্বিজয়ী সোয়ারির তকমায় প্রাসাদের বাইরে শত্রুর গান – বীভৎস যুদ্ধের…
-
সর্বনাশা বীজের বিস্তার
মৃণাল বসুচৌধুরী যেখানে পড়েনি রোদ সেখানেই ছায়াহীন তোমাদের শরীরী ভ্রমণ দূরত্বের মূল পটভূমি বারোমাস যেদিকে পড়ে না রোদ সেদিকেই রক্ত জমে ঘাসের ওপর আপাতবিরোধী কিছু তথ্য থেকে দক্ষ মানুষেরা রঙের প্রকৃতি নিয়ে কারিগরি বিবাদ ছড়ায় যেখানে থামেনি লোভ সেখানেই অশালীন হিসেবি উড়ান সেখানেই বিষদাঁত ধারালো গোপন সেখানেই সর্বনাশা বীজের বিস্তার
-
দুটি কবিতা
হুমায়ুন আজাদ পরিত্যক্ত কক্ষ দুঃখ পেয়ো না, কষ্ট পেয়ো না হে জীর্ণ পরিত্যক্ত কক্ষ, শান্ত হও, অধৈর্য হোয়ো না। একটা সময় ছিল যখন দরোজা ঠেলে ঢোকে নি ভেতরে সে, একটা সময় ছিলো যখন পায়ের শব্দে তার শিউরে ওঠো নি তুমি, একটা সময় ছিলো তুমি তার সুগন্ধ পাও নি। তারপর তুমি তাকে পেয়েছিলে, এটাই কি তোমার…
-
বসন্ত-গুঞ্জরন
পিয়াস মজিদ মরু থেকে মহাকাশে কলাবতী হিমের বিস্তার ইতিহাস-পুস্তক থেকে আমার নিভৃত প্রাণের পৃষ্ঠায় জায়মান শতসহস্র শীতমহল। ভাবছি, ক্ষতি কি! এক জীবন কুয়াশাকীর্ণ থেকে বাঁচিয়ে রাখি আসন্ন পৃথিবীর সমুদয় রৌদ্রপিপাসা…
-
জারুল : ১৯৫৮
সৌভিক রেজা এতোদিন পরে এসে জারুল তোমার ছায়া, ক্যামন-একটা মায়া ধরিয়ে দিয়ে নদীতে সাঁতার কেটে ভেসে গেলে দূরে, তুলসীগঙ্গার বুকে; আমার শুধু একা বসে থাকা, একা-একা বসে থাকা, একাই বসে থাকা; বিচিত্র কোনো বাসনা নেই, নেই কোনো তুচ্ছ বীতরাগ; শুধু অন্ধ-চোখ নিয়ে শুনি প্রতিধ্বনি, তুলসীগঙ্গার স্রোতের প্রতিধ্বনি; হে ধ্বনি-প্রতিধ্বনি থাকতো যদি একটু অলস-মায়া, ভালো লাগতো…
-
বঞ্চনা
কাজল চক্রবর্তী বৃক্ষ অনায়াসে নিতে পারে লতা-ফল ও পাখিদের ভার। সহ্য করে বাতাস ও বৃষ্টির ওঠা-নামা। মাটিকে আঁকড়ে ধরেই তাঁর যাবতীয় উত্থান। আকাশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছড়িয়ে দেয় রং আমাদের চারধারে। প্রয়োজনে ব্যবহার করি – খাঁচার পাখিদের মতো। অসহায় বৃক্ষেরা কাঁদে কেউ শুনতে পায়, কেউ বা শোনে না। কিন্তু পৃথিবীময় বৃক্ষের হাহাকারে এখন…
-
অর্ধসত্য
খালিদ আহসান চারদিক দুদ্দাড়, বুনো দস্যুতা সেরে বুকের কাছে এসে হেরে গেছি হারিয়ে যাওয়া বাদামি মা’কে মনে পড়ে গেলো। তুমি আমার ৫.২০-এর ট্রেন অপেক্ষার শেষ হুইসেল বেজে উঠেছে তুমি আমার শেষ বিকেলের রোদ অল্প শীতে মিষ্টি লাগছে মিষ্টি লাগছে ভুবন দিগন্তজোড়া চোখ হা-হা ড্যাব-ড্যাব পলকের ভার পৃথিবী ছুঁয়েছি সেই প্রথমবার …
-
ডুয়েট অন্তর
রাজু আলীম এখন বিমান চোখ উড়ে যায় হেলিপোর্ট বাড়ি রোমান্স রাতের আহবানে ডাকে পরিণীতা নারী। রূপসি আনন্দ প্রাণে দোলা দেয় অলৌকিক সুখ হাত পেতে চাই প্রেম-প্রিয়তমা নেচে উঠে বুক। ফ্লায়িং আশাগুলো সব পোস্ট অফিসে অন্ধকার ভয়ার্ত বিড়ালী কাঁদে মধ্যরাতে সুরমন্ত্রকার। সুপারসনিক লাফ দিয়ে যাবো প্রেম সীমান্তর ভবিষ্যৎ বীজ বোনে আমাদের…
-
মাঠের ওপারে
শাহজাদী আঞ্জুমান আরা আবেগের স্তর আছে। উঠোন পেরিয়ে পথ পথ ডিঙিয়ে হাওয়া হাওয়ার ওপারেই মাঠ – ক্রমশ মেলাতে থাকে। মেলাতে মেলাতে শূন্যে… বাক্স-পেটরা যেখানে যেমন থাকার কথা পড়ে থাকে সেভাবেই। শব্দহীন নূপুর উপুড় হয়ে আবেগের পলেস্তারা ধীরে ধীরে খসে যায় – এক, দুই, তিন, প্রতিদিন, প্রতিদিন… তারচেয়ে ভালো গুটিয়ে নেয়াই অবশিষ্ট কী…
-
সোনালু
কাজী রোজী সোনালু একটি ঘরের নাম। একটি ওয়াশরুম। একটি ডবল খাট আর একটি সিঙ্গেল খাট। ছোট সাইড টেবিল – তাতে একটি জগ – মামের বোতল একটি-দুটি গ্লাস, সবটাই জল-পূর্ণ। মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে ওটা দেখা যায়। ঘরটায় দিন-রাত নেই – সারাক্ষণ অন্ধকার। সুইচ আছে – বাল্ব নেই। ফ্যান ঘোরে সারাক্ষণ। কে বা কারা…
-
সুসময়
অলোক বন্দ্যোপাধ্যায় মাঝে মাঝে সুসময় এসে কড়া নাড়ে ঘরের দুয়ারে মাঝে মাঝে বালিহাঁস ভেসে চলে নিঝুম দুপুরে মাঝে মাঝে মনে হয় ঘাড়ে যে প্রচন্ড ব্যথা মেরুদন্ডে বরফের হিম শৈত্যপ্রবাহের সাথে আমাদের ভুল আলিঙ্গন একদিন প্রশমন বয়ে আনবে এই খর ঊষর শরীরে নারী কি কেবলি স্মৃতি-ইন্দ্রিয় বিলাসমাত্র – রতি সম্মোহন অথবা অন্তর থেকে ভেসে…
