কবিতা

  • এক দার্শনিকের মুখোমুখি

    রেজাউদ্দিন স্টালিন ‘নিজেকে জানো’ বলতে-বলতে ঘেন্না ধরে গেছে, এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন।   আত্মা কী, ঈশ্বর কোথায়? ভাবতে-ভাবতে উই ধরেছে জঙ্ঘায়। পৃথিবী কবে থেকে সূর্যের চারদিকে ঘুরতে শুরু করলো তা স্রষ্টা ছাড়া কেউ জানে না। তপোবনে এইসব বিজ্ঞানীকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারতেন ঋত্বিক বিশ্বামিত্র, কিন্তু তিনি ব্যস্ত ব্রাহ্মণ হতে।   দেখুন – একই নদীতে…

  • তোমাকে বিদায়

    রাতুল দেববর্মণ   আয়নায় ছায়া ফেলে কখন যে চলে গেল হৃদয়ে আকাশ মুদ্রণ করে ফেলে রেখে দীর্ঘশ্বাস বিদায় বিদায়   ধীরে বয়ে চলে চাঁদ বাতাসের ধ্বনি নারী একাকিনী ললাটের বিন্যস্ত চুল অনন্ত স্বপ্নে লুটোপুটি খায় বিদায় বিদায়   ফিরে যে চলে যায় তার গান শুনি দূরের হাওয়ায় যেভাবে নদীতরঙ্গের কল্লোল ভাটিয়ালি সুরে বেসে যায় বিদায়…

  • নবপ্রলয়

    কাদের মাহমুদ   চীন দেশে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে সব শাদা ধন কিছুটা ভারতে, ব্রাজিলে খানিক, অন্যত্র ছিটেফোঁটা তাতেই চিৎপাত পাশ্চাত্যের কল, দক্ষ লোকবল একদা যা ছিলো প্রবল জিডিপি গোত্তা খেয়ে নেবেছে শূন্যমন্ডলে যেন কোনো ব্ল্যাকহোলের সমীপে।   মাও সে তুংয়ের ছবির নিচে ব’সে বেজিংয়ে কমিউনিস্ট পার্টি কিনেছে ট্রিলিয়ন ডলার আমেরিকানি সরকারি বন্ড – যেন…

  • পরাজয়ের ফেরিওলা

    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় খুঁটির গায়ে পা বাঁধা রয়, নাচতে গিয়ে শেষে হেরেই গেলো, হারলো সেধে-সেধে ভাঁড়ের হাসির পোশাক রাখলে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে। বিদঘুটে বাজপাখির ডানায় সমব্যথার ধূলি সঙ্গে তাদের ওই উড়ে যায় কাতর আর্তিগুলি। যেন একটা চলচ্চিত্র : অশ্বারোহীর দল, ছোটো বন্দুক ছুড়ছে গুলি, একের পর এক, তীব্র, প্রবল, তাগ নির্ভুল, ঠিক লাগে সব চাঁদমারিতে কেউ জানে…

  • শোকগাথা

    তারিক সুজাত   এক ঘুম ও জাগরণের মাঝে দূরত্ব কতোটুকু? কেউ বলবে এক চুলও না, আমি জানি মহাদেশ! – আমরা কি জেগে আছি?   দুই পতাকায় আচ্ছাদিত মুখ, অজস্র কণ্ঠে একই গান তবু কেন আত্মায় মর্মরিত সুরে তোমাকে পাই না দেশ! তোমার শিয়রে এই পোড়া দেহখানি রাখি।   এইমাত্র আগুনে পুড়েছে যে সে তো তোমারই…

  • উত্তরের হাওয়া

    টোকন ঠাকুর   কার কথা কীভাবে বলব আমি? বন থেকে প্রকাশিত দৈনিক ঝরাপাতা কারা তাতে লেখে আর কারাই বা পাঠক-পাঠিকা? কার কাছে বলা যায় উত্তরের হাওয়া আসে গুপ্তচর হয়ে? সন্ধে থেকেই ওঁৎ পেতে বসে আছে আততায়ী ঘ্রাণ, চন্দ্রমল্লিকার! মনে হয়, ভাবনা সম্প্রচার কেন্দ্রের আজ রজতজয়ন্তী, তুমুল ভাবনাসূচি : ভাবনাকে দেখতে আসে বুদ্বুদ, দোস্তে দোস্তে জুয়া…

  • নিশীথ নিশীথ

    শুভাশিস সিনহা   (বাবাকে)   নিশীথ নিশীথ!   শুনল না কেউ নিশীথ বাড়িতে নেই অন্ধ বন্ধ মনের ভিতর মন্ত্রে মন্ত্রে যাত্রাপথ খুলে বাঁশপাতি সাপের মতো সে ঢুকে গেছে মহাগোধূলির ঘরে   ঘরে তোর বউ বাচ্চা মাটিতে লুটিয়ে কাঁদে আলোর সোনার ফুল গাছে গাছে কামনা জাগায়   ঘোর হতে চাওয়া তিথি পায়ের ঘুঙুর খুলে ফাঁস নেবে,…

  • অযান্ত্রিক ছেলেবেলা

    ওবায়েদ আকাশ   অযান্ত্রিক ছেলেবেলাগুলো ছায়াবাতাসের গ্রীবায় মুহূর্তে উড়ে যায় তার এক পালক তোমার আর অবশিষ্টগুলো আমাদের নস্টালজিয়া-সমগ্র ১, ২, ৩…   আমরা যেদিন থেকে নস্টালজিক হতে শিখেছি পুকুরের মাছ ধরে এনে পরিপালন করছি কবুতরের খাঁচায় ইচ্ছে হলে ভোরবেলার দরজা খুলে সারামাঠ ঘুরিয়ে এনে ঠিক আবার পৌঁছে দিচ্ছি বনবেড়াল, বুনোখরগোশের জন্য সুনির্দিষ্ট খোঁয়াড়ের ভেতর  …

  • যন্ত্রঘর

    তুষার কবির   নৈঃশব্দ্যের ফেলে দেয়া আধুলি কুড়িয়ে ফিরে যাচ্ছে সংগীতের মৌন পুরোহিত; মন্দ্রিত মূর্ছনা আর ভগ্ন উপাখ্যান রচনার শেষ দিনে সে কুড়িয়ে কুড়িয়ে জড়ো করে নিচ্ছে যতো ছায়াচেরা গান আর স্তব্ধতার স্বরলিপি – ধ্বনিময় পৃথিবীর টানে আর শূন্যতার অনিঃসীম গানে সে ফিরে যাচ্ছে তার সুরমগ্ন যন্ত্রঘরে –   দ্যাখে বেহালাটা আর আগের জায়গায় নেই;…

  • বালিকাবন্ধু

    মাহবুব বারী   এক বালিকাবন্ধু আমার, তোমাকে দেবো কল্পনার উড়ন্ত ডানা সমুদ্রের স্বপ্ন দেবো গান দেবো আকাশের প্রেম দেবো নানা রঙের, আর দেবো তারা-ভরা রাতের আলো জোছনার চাঁদ; আমাকে শুধু সঙ্গে নিয়ো আর কিছু তো নাই যে আমার সাধ।   দুই স্বপ্ন নেই কোনো তবু স্বপ্ন দেখি বালিকার মুখখানি দেখে, কোথায় গন্তব্য তোমার, কোথায় রেখেছ…

  • বৌদ্ধবিহার

    হাফিজ রশিদ খান   আমি অক্লান্ত বৌদ্ধবিহার সময়ের সোপানে-সোপানে গেঁথে রেখেছি হাজার বছরের চিহ্ন   মুক্তিকামী আমার উড়াল আকাশে-আকাশে নাদব্রহ্মে করি বিচরণ নক্ষত্রখচিত রাতে পর্বতমালার চূড়ায়-চূড়ায় মায়াভরা মাটিতে সবুজ ঘাসের ডগায় প্রব্রজ্যা বাতাস – জগতের প্রাণী, আমাকে তো চেনো সকলেই…   বাসনার জটিল জাজিম ঘেরা এই বসুন্ধরা বীরভোগ্যা বলে নিত্য কুরুক্ষেত্র প্রণয়ন করি তাই স্থিতিস্থাপকতার…

  • মুসাফির

    রোকসানা আফরীন   পরমের হাতছানি পরমের আলো এই তো জীবন সখা, এই পরাজয়   কারাগার থেকে কারাগারে ছিন্ন হতচ্ছিন্ন আলো আমাকে বন্দি করে, বন্দি করে রাখে   আমার জন্মের ঋণ এইটুকু রেখে যেতে চাই নির্বাণ লাভের ভুলে আমাকেই ডুবে যেতে হবে একা একা   কসমিক অন্ধকারে ব্ল্যাকহোল কসমিকে আলোর উদ্দেশে মহাজাগতিক মুসাফির হয়ে…