কবিতা
-
নদী বা নারী
বিশ্বজিৎ চৌধুরী নদী শাসনের নামে কী হাল করেছো! মানি, বালিকা দুরন্ত ছিলো সীমানা ভাসিয়ে দিতো জলে যারা সীমানা সীমানা বলে পাড়া মাতিয়েছো ভাবো নাই বিদ্যুতের জন্ম হতো প্রবাহ-চঞ্চলে। আজ নিয়ন্ত্রিত স্রোত দেখে বুক ভেঙে যায়… সেই দুঃখ ছড়িয়ে পড়েছে কিছু নদীলগ্ন গৃহস্থ বাড়িতে, কিছুবা দীর্ঘশ্বাস সূর্যাস্তে গাছের পাতায়। হিজাবের কালো…
-
দুটি কবিতা
মারুফুল ইসলাম পথ অমৃতের অন্বেষণে যাই আলো আর অন্ধকারের অরণ্যে দেহতত্ত্বে মুক্তি খুঁজি পাইনি কূল ওখানে নৌকোর মাস্ত্তলে নিঃসঙ্গ লণ্ঠন সারারাত জ্বলে জ্বলে অবসিত ভয় নেই চলায় পথ অচেনা বটে, তবে আমিও নাছোড় পথিক তুমি কোন উদ্যানে সুশোভন করতে চাও নিজেকে প্রশ্ন করে জেনে নাও এই বেলা কেননা পাথেয় ফুরিয়ে যায় কিন্তু ফুরায়…
-
শূন্যতায় শিল্প অবগাহন
কাইয়ুম চৌধুরী সবুজ পটভূমিতে উথাল-পাথাল সর্পিল সাদা ওয়াকওয়ে মনে হয় যেন বহমান নদী ওপরে উদার আসমান ছুঁয়ে। গাঢ় নীল সমুদ্রে নৃত্যরত সূর্যরশ্মি আকাশ অরণ্য সেরো সাগরে নেই জলযান নৌকো সাম্পান কী বিশাল অবকাশ অন্তর-মাঝারে। পাহাড়ে সবুজ ঢালে ধানের আবাদ ভূমিতে একফোঁটা জলের পতন মুক্তো আধারসম প্রার্থনাগৃহ ধ্যানরত মানুষের বিশাল সৃজন। ডিম্বাকৃতি…
-
দুটি কবিতা
মিনার মনসুর আমি শুধু তাহাদের যাওয়া-আসা দেখি মুখোমুখি বসে আছি। যেন কতো কাছে। শরতের সপ্রতিভ মেঘের মতো ওরা আসে। আপনমনে হাসে কদাচিৎ। ফের ভেসে যায়। তার অবাধ্য চুল এসে ডাকাতের মতো হামলে পড়ে কামরাঙা ঠোঁটে। চলে খুনসুটি। আমার ভারি ঈর্ষা হয়। একদা যার পদভারে প্রকম্পিত হতো বিশ্ববেহায়ার বুক – তাকেও হেঁটে যেতে দেখি টলোমলো পায়ে।…
-
একটু দেখার কথামালা
রবীন্দ্র গোপ কেমন আছ কবিতা? চোখের তলায় বিষাদ নদী? আছি কেমন, জান সবি-তা। কাঁদুক নদী কাঁদুক তবু বলি, চলার পথে ভাঙছো যে পার আষাঢ় নদী বাঁধ মানে না, হার মানে না, তাইতো ভাঙে পাড়। বুকে তোমার জোয়ার-ভাটা কখন আসে যায়? চোখের দেখা নয় সে শুধু মনের দেখা চায় মন কাঁদে বন কাঁদে কাঁদে প্রিয়…
-
পদ্য-গদ্য
রাতুল দেববর্মণ একটি পালক উড়ে এসে পড়ল পায়ের কাছে পায়ের তলায় হলুদ ঘাসে দগ্ধ পোড়া দাগ কে জ্বাললো কে জ্বেলেছে রাখবে খবর কে পালক কী তার দায় নিয়েছে দাগ সে দেবে মুছে পদ্মের পাতা ওড়ে না কখনো পদ্যের পাতা ওড়ে কীসের জোর দু-চার লাইনের শেকড়হীন দোলে জল ভাঙলেও জল সরে না শব্দ ভাঙলে…
-
স্বাগতবিদায় (খোন্দকার আশরাফ হোসেনের স্মৃতিতে)
পিয়াস মজিদ আর শোক নয় কেননা নোটনের জন্য অনেক শোক জমা করেছেন কবি। এবার একটা কুয়াশার তরু রোপণ করে চলি স্বপ্নের মাটিতে; সেখানেও তো দেখি ফুল নয়, ফল নয় ধরে থোকা থোকা মৃত্যুর মুশায়েরা। তিন রমণী কবিকে ক্বাসিদা শোনায়, সেই শ্রুতির অন্ধ-আলিম্পনের ভেতর পার্থকে দেখেছি তীরের তীব্রতায় জীবনকে পান করতে চুমুকে চুমুকে। ঠিকই তো,…
-
বইচোরের ডায়েরি
জয়ন্ত সরকার অনুমতি দাও, শক্তি সংগ্রহ করুক চোখ অনুমতি দাও, সূর্যঘড়ি লক্ষ করি অনুমতি দাও, পাথরের গ্রন্থে ফিরে যাই অনুমতি দিলে বিদ্যুতের প্রান্ত খুঁজে খুঁজে ব্লেক বলতেন : ‘মুঠোয় ধরো অসীম’ সীমাবদ্ধতা টের পাই এক অন্ধকার থেকে ক্রমে, অন্য অন্ধকারে ছড়িয়ে দিই স্তব্ধ পাখিটির ডাক, আবেগ ও অভিজ্ঞতা আর ঝুঁকি ছায়াপথে পাঠকের জুতোয়…
-
রক্তধারার ধারাপাত
বদিউজ্জামান নাসিম ধারাপাতের হিসাব-নিকাশ খুব সহজে বোঝেন তাইতো তিনি দিবানিশি সংখ্যাটিকে খোঁজেন; হতাহতের যেসব হিসাব দিচ্ছো সবাই মিলে থাকার কথা আরো ন’শো গুম করেছে চিলে!
-
দুচোখ যেদিকে যায়
পারভেজ চৌধুরী তোমাদের এ-শহর ছেড়ে চলে যাবো আমি, দুচোখ যেদিকে যায় আকাশ, দূর বনানীরেখা যেদিকে তাকাই চলে যেতে ইচ্ছে করে। তোমাদের চক্রান্ত, তোমাদের লোভ কিংবা নির্লজ্জ শরীরবাদী আলোচনা আমাকে দুঃখদগ্ধ কাতর হরিণীর মতো করে তোলে। মোতাদের এ-শহরে আমি নির্ঘুম থাকি, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় মনে হয় সারা শরীরে জড়িয়ে আছে মাকড়শার জাল আমার দম…
-
ফিরতি ট্রেনের গল্প-৩
শামসুল আরেফিন অগ্নিশালার একটি চুলের উপর দন্ডায়মান আমি পেন্ডুলামের মতো দুলছে আদালত কখনো ডান কখনো বাঁয়ে এখানে ভারসাম্যের কোনো অবস্থান নেই শরীরে, প্রিয়তমা আমার জিহবার হিসাব চাইতে এসেছে যে অডিটর জবাব তৈরির আগেই তারবার্তা চলে আসে প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অনুপুঙ্খ তালিকা প্রকাশের জারি হয় নির্দেশনামা মানুষ আমি একবার দুমড়ে ভেঙে আবার উঠে দাঁড়াই বোনাস জীবনের…
-
গেরো
জাহিদ হায়দার অনেক অনেক দিন আগে যখন রাত্রিরা সূর্যালোকে ফরসা হয়ে যেত, প্রহরগুলির নাম মানুষ তখনো রাখেনি, বলতো না : হয়েছে সকাল। দিন গাছের পাতায় আর ঊর্মিপথে ঘুরে দিন শেষে পাতাদের সবুজে, নদীবক্ষে কালো পাতা হয়ে শুয়ে পড়তো, মানুষরা বলতে শেখেনি : নামছে রাত। মেঘেরা পাহাড়ের মাথায় হেঁটে গেলে কেউ বলতো না…
