কবিতা
-
জীবন আমার
রাতুল দেববর্মণ রুমাল চুরির খেলার সময় কিশোর বয়স, কীর্তিগাথা নেশায় ভ্রমণ, জল থইথই পাখি ভাসে অতল জলে জলের ভিতর তোমায় ভাঙি জলের ঢলে, আবার ফিরি স্বাধীন হাওয়ায় আবার ফিরি সাইট্যা চালের ভালোবাসায়, বুকের ভেতর আউলা ঝংকার উথাল-পাথাল হেই-হুই ওই নৌকা যায় আমার আবার ফিরে আসা পুকুরপাড়ের বাঁশের ঝোপে টিলার গায়ে; তবু ডাকে এখনো ডাকে…
-
মেঘের জলছাদ
রাহমান ওয়াহিদ আমাদের বলতে শুধু ওই মেঘের জলছাদটুকুই – যার করতলে নিজস্ব রোদ্দুর মেলে দিয়ে ক্ষরিত জোছনার পাখনা ছড়িয়ে অন্তত বলা যায় – আছে আমাদের, আছে একচিলতে ক্ষয়িষ্ণু মনোভূমি। চৌদিকে যে স্বপ্ন প্লাবন, যে নক্ষত্র প্রেম, যে ভ্রূণ শস্যদানা – তার কিছুই এই প্রান্তিক আমাদের হয়ে ওঠে না। আমাদের ধারণ সীমাবদ্ধতায় দেখি যে অরণ্য…
-
নিউ দিল্লি টাইমস
বীথি চট্টোপাধ্যায় চিরদুঃখিত ভারতের ছোট গ্রাম মেয়েটাকে নিয়ে তারাও স্বপ্ন দেখে, বিদ্যুৎ নেই, কলে জল নেই তবু তাদের মেয়েটা পাশ করে একে একে। কোনোদিন রাতে জোটে শুধু বাসি রুটি বান্ধবীদের দ্রুত বিয়ে হয়ে যায়… আমাদের মেয়ে তবু তার মতে স্থির একটা বদল আনবে ব্যবস্থায়। হঠাৎ খরায় ফসলের ক্ষতি হয় বন্যা মানে তো গ্রাম…
-
জলের দাগের ক্রিমিন্যাল
কাজী রোজী জলের দাগের ভিতরটা জুড়ে ক্রিমিন্যাল লুকিয়ে থাকে। দাগি আসামির মতো চলনে-বলনে রাখে নিজস্ব গতিধারা। নিদারুণ শঠতার বেড়াজালে উদ্বিগ্নতার আশ্রয় বিছিয়ে রাখে। জলের দাগ মোছা যায়, অপস্রিত করা যায় না – রয়ে যায় সুনিবিড় প্রার্থনার মতো… একনিষ্ঠ সাধকের অবয়ব নিয়ে। জলের দাগ যখন থোকা থোকা হয়ে ডুমুরের ফুলের মতো ভাসমান থাকে বোঝা…
-
ফেব্রুয়ারি, ‘প্রজন্ম চত্বর’
পিনাকী ঠাকুর হারিয়ে যাওয়া গানের খাতা ঝড় তুলেছে ‘প্রজন্ম চত্বর’ ফিরে যাবার রাস্তা বন্ধ রাত্রি নামছে বিপজ্জনক প্রশ্ন আর বিক্ষোভে ভরা সোনার বাংলা সুর ধরেছে – ‘রক্তঋণ শোধ করো বিচার চাই, বিচার চাই’ শহর, বাজার, অন্ধিগলি মেঘের ’পরে রঙিন মেঘ হারিয়ে যাওয়া গানের খাতা বৃষ্টি নামাও!
-
যথার্থ
আলোক সরকার প্রজাপতি সারাবাগান ঘুরে-ঘুরে খোঁজ নিচ্ছে কোন ফুলে মধু উপচে পড়ছে। একটা দরজা পার হয়ে আর একটা দরজার সামনে দাঁড়াই। কোন দরজার কড়া নাড়ব? কোন দরজার ভিতরে আয়োজন সম্পূর্ণ হয়েছে? খুঁজতে খুঁজতে বেলা যায়। দিন শেষের আলোয় হঠাৎ টের পাই ডাল ভর্তি নীল কান্না, সাদা কান্না। কার হাতে কোন রঙের প্রত্যাখ্যান যথার্থ হবে?
-
শর্শদি
কাইয়ুম চৌধুরী কখন যে মুছে গেছে দুচোখ থেকে জননীর মুখ – হারিয়ে গেছে পিতার হস্তলিপি দেরাজে রাখা চিরুনি হাতে সহোদরার স্নেহ সম্বোধন আহবান সহোদরের সূর্যনগরীর গুপ্তধন। স্মৃতির আঙিনায় হলুদ পাখিটি দেখি গোধূলিবেলায় – সদর দুয়ারে গোলাপি সাদা জামরুল তারার মতো সবুজ বৃক্ষে শৈশব থেকে হঠাৎ উড়াল তৃষিত চক্ষে। বড় কাচারি, দরদালান ওয়াসিল পুকুরে ভাসমান কলার…
-
এভাবেই গল্পের শুরু
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর এভাবেই গল্পের শুরু যখন বাতাস স্পর্শ করো পানি স্পর্শ করো তখন একসঙ্গে পাখিগুলি জেগে ওঠে। দিনটা আস্তে আস্তে অন্ধকারের দিকে যায় তারপর সন্ধ্যা তারপর রাত। অন্ধকারের শিল্প যারা করেছেন তাদের অন্যতম রামব্রান্ডট আমি রামব্রান্ডটের কাজ ভাবতে ভাবতে তোমার কথা ভাবি। এভাবেই শুরু হয় ভালোবাসার গল্প গাংচিল সমুদ্রের দিকে…
-
বসন্ত রজনীতে বসিয়া রচিত কবিতা
টোকন ঠাকুর নিষ্প্রয়োজনে আমি ছোট নাম লেখাতে গেছি কবির খাতায় নিজ প্রয়োজনে আমি নক্ষত্রের দেনা নিয়েছি মাথায় বিষ-প্রয়োজনে আমি সাপ ও বেদেনি চেয়েছি দুটোয় দুহাতে দুধের ছানা, বেপরোয়া মুঠোয় মুঠোয় সম্পূর্ণ ফুটেও নারী ক্লাসিক্যালি অস্ফুট সুতরাং, আজ আমাকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হলো – আমি কি কবি ছিলাম? সাপুড়ে ছিলাম? নাকি ছিলাম যা, তাই? শিস প্রয়োজনে…
-
যেন কাঠকয়লা যেন তুষের অনল
তমিজ উদ্দীন লোদী যেন কাঠকয়লা যেন তুষের অনল-অগ্ন্যুৎপাত নয় যেন জলকণা যেন বৃষ্টি-জলোচ্ছ্বাস নয় যেন লাভা যেন সুপ্ত আগ্নেয়গিরি-বিস্ফোরণ নয়। তবু কীভাবে যেন অগ্ন্যুৎপাতে জলোচ্ছ্বাসে বিস্ফোরণে ফেটে পড়ছে। ফেটে পড়ছে তরুণ-তরুণী-যুবক-বৃদ্ধ আপামর – মানুষের অভীপ্সার সমান্তরালে ভেসে যাচ্ছে খড়কুটোর মতো ভীরুতা ও কৌটিল্য। পুঞ্জীভূত ক্রোধ পুঞ্জীভুত ঘৃণা একটি অহিংস অবয়বে তারুণ্য কী প্রজন্মের হাত ধরে…
-
বাংলাভাষা
কাজল চক্রবর্তী স্বরের ব্যঞ্জনে যা উঠে এলো দুহাতে সেইটুকু অর্জন আমার সংগ্রহে থাক জলাধারের একপ্রান্তে বকের প্রতীক্ষায় এবার ছুড়ে দেবো উদ্দাম শ্রীচরণ প্রতীক্ষা জুড়ে জেগে উঠবে প্রাপ্তিবিম্ব আর সেই বিম্ব জুড়ে থাকবে আমার পৌরুষ মেঘের পাহাড়ে জেগে থাকবে ভেজা চাঁদ আমার আলোয় আলোকিত সেই চাঁদে একবার উপরে উঠবো, তারপরে নিচে বাতাসে ভাসবে ক্রমশ উজাড় করা…
-
দুটি কবিতা
দিলারা হাফিজ মেয়ে তুমি বড় হচ্ছো এতোটা বয়স হয়নি মেয়ের এখনো বোঝে না সে যে কি কথা যায় না বলা তার স্বরে কী কথা বলতে হবে কানে কানে এখনো বোঝে না সে যে ভাইটি কেন বা হিসি করে রোজ উঠানে দাঁড়িয়ে মা তাকে কেন যে বাধ্য করেন আড়ালেতে গিয়ে শিশিরের মতো নিঃশব্দ ত্যাগে এখনো বোঝে…
