কবিতা

  • তিনটি সনেট

    ফরিদ আহমদ দুলাল ক. প্রতিটি স্পর্শের আছে নিজস্ব অলীক অভিধান স্পর্শ-অভিঘাতে ভাঙে সকালের ক্ষোভ-অভিমান, আঙুলের ডগা থেকে স্পর্শ হেঁটে যায় করতলে চিবুক অধর কখনো সুগন্ধ ঘন কালো চুলে; বুদ্ধ-পূর্ণিমা জ্বালায় রাতে আকাশের বাতি চন্দ্রালোকে কনকচন্দ্রিমা উজ্জ্বল নক্ষত্র-স্বাতী, সুচারু চোখের সুনিপুণ কারুকাজে কী মুগ্ধতা খেলে অরণ্য সবুজ সমুদ্র মাতাল স্পর্শরা স্পর্শকে পেলে। স্পর্শ এবং স্পর্শরা হাঁটে…

  • মানুষজাতীয় পাখি

    মনিকা রহমান আমাকে বিধ্বস্ত করে, চলে যায় মানুষ জাতীয় পাখি। উড়াল দেয় স্বপ্নের গুচ্ছ, গুচ্ছ তরী। ভাঙা খেয়ায় বন্ধ হয়ে আসে – এক ভুতুম পেঁচা। আমার জগতের আনন্দের ঢেউ এটাই সব চাইতে বড় পাওনা। আমি ঘুম থেকে জেগে উঠে – দেখি সেই ভুতুম পেঁচাটি উড়াল দিয়েছে কখন। আমি তাই একা একা চোখ দুটো বুজে পড়ে…

  • পাখিদের নিয়ে বসো

    দুলাল সরকার পুরনো পাখিগুলোকে নিয়ে বসো – ওদের মনে আছে প্রাচীন ভোরের সব দৃশ্য, – পাহাড়ের গা-বেয়ে অলংকৃত আকাশের ক্রমশ পরিবর্তনের মধ্যে সূর্যোদয়ের সহিষ্ণু প্রস্তাব, সদ্য ফোটা পৃথিবীর প্রসূতি প্রসূতি গন্ধ প্রশস্ত কপাল থেকে সরিয়ে অজস্র অলক চূর্ণের চিহ্ন নিরীহ ঘুমের ভিতর হয়তো বা ফিরে পেতে পার হারানো মাদুলির স্মৃতিস্বর; পুরনো গল্পের ডালি বিস্মরিত অতীত…

  • আড়াল সৌন্দর্য

    মাহমুদ কামাল ছন্দকে সরিয়ে কিংবা বের করে দিলে কবিতাশরীর হয় আড়াল সৌন্দর্য ধ্বনিসাম্য ব্যতিরেকে অর্থহীন শব্দগুচ্ছ প্রায়োগিক প্রকৌশলে যতই নিপুণ হোক অরণ্যসংকুল পথে ঘটে বিড়ম্বনা। অস্থিতির স্থিতিস্থাপকতা টুকরো সুতোকে যদি প্রাকৃতদর্শন থেকে ছন্দের ভেতর বাড়ি স্রোতস্বিনী করে সংবিৎ প্রত্যয়সহ জীবনের গতি ও প্রগতি আড়ালকে উড়ালের সাথে নিয়ে যায় আকাশ-ভ্রমণে ছন্দহীন শব্দগুচ্ছ আর নয় কবিতা শরীরে।

  • আফ্রোদিতির খোলা জানালা

    শামসুল আরেফিন দেবীপাঠের আসক্তি আমাকে পুশ ইন করে দেয় রাহুল সাংকুত্যায়নের ভবঘুরে শাস্ত্রে তন্ত্রমন্ত্রে অশিক্ষিত প্রায় বর্বর আমি নিপতিত হই কৃষ্ণগহবরে – হকিংয়ের ডেরায় বিনা তদবিরে অর্জিত এই সিঙ্গেল খাটের বরাদ্দ নিরাময় কেন্দ্রই এখন আমার পার্মানেন্ট ঠিকানা ব্যবস্থাপত্রের কোথাও রোগের লক্ষণ আক্রান্তের উল্লেখ না করায় মহামতি ডাক্তার উপসর্গকে আমি নিশ্চিত চিহ্নিত করি হায়ারোগ্লিফির সঙ্গে অন্তত…

  • সে যেন

    সেলিম মাহমুদ নদী তুমি কোন গ্রামে যাও ভরা গাঙে খালি নায়ে কার বৈঠা বাও নদী তুমি ঢেউ ভেঙে ছলাৎ ছলাৎ কার মান ভাঙো এ-কূল ভেঙে ও-কূল গড়ে কী বাঁশি বাজাও নদী তুমি দেখা পেলে বলো তারে সে যেন ভুলে না আমারে! নদী তুমি উদয়াস্ত শহর-পল্লিতে কুপিবাতি আর বৈদ্যুতিক তারে বলো তারে রাত অন্ধকার হলে খেয়ালখুশিতে…

  • অন্ধকার

    বিষ্ণুপদ রায় পৃথিবীটা প্রতিদিন কী এমন অপরাধ করে বাড়ি ফেরে যে প্রতি রাতে তুমি তার মুখে কালি লেপে দাও এমন করে যে তাকে বারবার রং বদলাতে হয় আমিও তোমার শরীর ধরে গিরগিটির মতো নিচে নামি, গভীরে উষ্ণায়নের পাতালে সেখানে কালো আর আলো সমার্থক বলে মনে হয় যেখানে ঝঞ্ঝাবিধ্বস্ত সমুদ্রযাত্রায় নাবিক ঘরে ফেরার স্বপ্ন দেখে মৃত্যুর…

  • নীল ওড়নার ঘ্রাণ

    চঞ্চল শাহরিয়ার সোনাবউ বলে ডাক দিলে আর ফিরে আসছে না অদিতির বোন। অপেক্ষার পথ মাড়িয়ে আমিও চলে যাচ্ছি শিমুদের বাড়ি। শিমু ভোরের শিউলি কুড়ানো বালিকা শিমু অনন্ত প্রেমের মন হারানোর সাঁকো মুগ্ধকরা রাতের আশ্রয়। সোনাবউ বলে ডাক দিলে আজ শুধু শিমু হাওয়ায় উড়ছে কেবল নীল ওড়নার ঘ্রাণ।

  • এক আকাশ কবিতা লিখব

    নাসরীন নঈম একলা যখন বসে থাকি আপনমনে ভাবতে থাকি তোমার কথা বাবার কথা যখন দেখি আকাশজুড়ে মেঘের ঘটা। মেঘবালিকা কোথায় তুমি ভেবেছিলাম আকাশজুড়ে লিখব আমি আমার যত মনের কথা – মেঘটা হঠাৎ কেমন যেন রাগ করেই কি উড়ে গেল, তবু ভালো। বরফকুচি বৃষ্টি মাথায় ছাদের ওপর হাঁটতে থাকি – হলুদ বাড়ির জানলা থেকে কে যেন…

  • রবীন্দ্র জপমন্ত্র

    মুহম্মদ নূরুল হুদা ঘুরতে ঘুরতে রবীন্দ্রনাথ খুঁড়তে খুঁড়তে রবীন্দ্রনাথ উড়তে উড়তে রবীন্দ্রনাথ সরতে সরতে রবীন্দ্রনাথ ধরতে ধরতে রবীন্দ্রনাথ পড়তে পড়তে রবীন্দ্রনাথ জানতে জানতে রবীন্দ্রনাথ মানতে মানতে রবীন্দ্রনাথ ভাঙতে ভাঙতে রবীন্দ্রনাথ প্রথম দিনের রবীন্দ্রনাথ মধ্যদিনের রবীন্দ্রনাথ শেষের দিনের রবীন্দ্রনাথ বাবা-কাকার রবীন্দ্রনাথ সাকার যত রবীন্দ্রনাথ আকার ভেঙে রবীন্দ্রনাথ শিখছি আমি রবীন্দ্রনাথ লিখছি আমি রবীন্দ্রনাথ ছিঁড়ছি আমি রবীন্দ্রনাথ…

  • ব্রততী তোমার হাত

    নাজিম শাহ্রীয়ার শব্দগুলি যাচ্ছে হারিয়ে আদর্শলিপির ওষ্ঠে অনল! ব্রততী, হাতটা শক্ত করে ধরে রাখো কিচ্ছু করতে পারবে না কেউ নষ্ট ফুলগুলি ফেলে দাও আমি নতুন মালা এনে খোঁপায় পরাবো পচা ভাত ফেলে দাও, আবারও ফলবে শস্য ফরমালিনমুক্ত ভালোবাসা দেবো, সুস্বাদু মৎস্য। এটা কোনো দহন-পতন নয়, পালাবদলমাত্র। তুমি ভয় পেয়ো না, পাখিরা আবারও আসবে, তোমাকে জ্যোৎস্নায়…

  • হরিণের রক্তমাংস

    বিশ্বজিৎ মন্ডল অবাধ্য শিকারির শীতঘুম বলে কিছু নেই ক্লেভিয়াস জোনে দাঁড়িয়ে আজও খোঁজে সেমিকোলনের পরের লাইন সারবেঁধে অরণ্যের অলিন্দে ছুটে যায় ক্যামোফ্লাজ হরিণের দল রক্তাল্পতায় ভুগে কবেই শুকিয়ে গেছে রক্তচন্দনের বন দুমুঠো আয়োজন সাজিয়ে গড়ে ওঠে শিকারির সকাল ক্রমশ ভিজে যাচ্ছে পথ, ক্রিমেটোরিয়াম, উৎসবমুখর সেই কার্নিভাল ওই তো, হরিণদের সর্বস্ব নিয়ে ছুটে যাচ্ছে শূন্য দশকের…