কবিতা
-
ঝুড়ি
সমরেশ মুখোপাধ্যায় ভাঙা কাচের টুকরো বিঁধে আছে যেদিকেই ফিরি রক্তের ঝরনারা নুড়ি-পাথর ধুয়ে ধুয়ে জমাট বাঁধে কালো কালো সুতোয় জড়ানো রাত্রি এত্ত বড় ভবিষ্যতের ঝুড়ি… একের পর এক ডিম ফাটাই ডিম ফাটাই রোজ…
-
মন পবনের ঢেউ
মাহবুব বারী ১. দিনের বেলার ম্লান শাপলা তুমি রাতের বেলা পাপড়ি মেলে ফুটেছ। ২. আমাকে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম স্থানে নির্বাসন দাও, হে পরওয়ারদিগার না হলে লোহার কোনো কুঠুরিতে আটকে রাখো, এমন কোনো নিরাপদ স্থানে যেখানে প্রেমের বিকিরণ কোনোদিন স্পর্শ করতে পারে না। ৩. তোমার মধ্যে কোনো ভাব নেই তোমার মধ্যে কোনো ভালোবাসাও…
-
দুটি কবিতা
মারুফ রায়হান ফ্ল্যাটের বিড়াল স্বজন স্বজাতি থেকে বিচ্ছিন্ন বিদগ্ধ এক প্রাণ বসে থাকে দিনভর সূর্যের থাবায় পিঠ দিয়ে ভঙ্গিটি আয়েশি নয়, ঋজু, উৎসুক, গভীর চিন্তাশীল নিজ শব্দ নেই কোনো, সাড়া নেই সশব্দ সংস্রবে তার চোখদুটো দেখি – নিপাট বিড়াল-চোখ এই গ্রহ ভেদ করে দূর কোনো নির্জন নক্ষত্রে ছড়িয়ে পড়েছে দৃষ্টি, সেখানে রয়েছে বুঝি কাক্সিক্ষত…
-
হাজার বছর (প্রিয়জন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম)
মাকিদ হায়দার ইচ্ছে করে হাজার বছর বেঁচে থাকি। ইচ্ছেটুকু পূরণ হলে লিখব না আর পত্র-চিঠি তাহার বাড়ির ভুল ঠিকানায় মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে মেঘের সাথে ভেসে বেড়াই, সময় পেলে রাখব ঢেকে দহন আমার, তাহার বাড়ির শিউলিতলায়। পরশু রাতে ঠিক করেছি পুড়ব না আর জোছনা-রোদে, ইচ্ছে তবু জেগে থাকে একটি মুখ দেখার…
-
তখন ছদ্মবেশ পরতে হয় (বেলাল চৌধুরীকে)
শিহাব সরকার সকলেই নিশুতি রাত্রির কথা বলে নিঃশব্দে হতে থাকে অর্চনা রাত্রির। অন্ধকার তার দরজা খুলে রাখে, তারপর কুহেলির কাছে নেমে যাওয়া ধ্রুবকথা এই যে, তুমি রাত্রির মুখোশে তবু দ্যাখোনি অন্ধকারের পিত্ত, আমার সব গদ্যকথা, বলি যা ধূলিবালি অনেক জানালার কিছু কিছু খোলা থাকে তখন ছদ্মবেশ পরতে হয়, নারীরা সব কবিতা রেশমি…
-
এই আমি চেয়েছিলাম
মাহবুব সাদিক ঝরনার কাছে ঘাসজমি জলের কল্লোল আকাশনীলের তলে কাঠকুটো আর ঘাসে ছাওয়া চারদিক খোলা অবারিত ছোটো বাড়ি – সারাদিন হাওয়া দেবে হানা সারারাত শিশিরের ধ্বনি নিঃশব্দ শীতের কড়া নাড়া – এই আমি চেয়েছিলাম – শুধু এই; সংক্ষুব্ধ জীবন স্বপ্নের কপাট খুলে বারবার দেখে নেয় দ্যোতনাময় আলো ও আঁধার চেতনার আনাচেকানাচে তারা কোথায় করেছে…
-
তোমার জন্যে
দিলারা হাফিজ তোমার জন্যে আকাশ বাড়ি, কবর-ঘাস, পাতালজলে নিমজ্জিত সব কবরের খবর রাখি, মাটির মতো ঠুনকো এমন মরণবানেও জীবন বাজি তোমার জন্যে এখনো আমি যখন-তখন মরতে পারি; তোমার জন্যে অপেক্ষাতুর বৃক্ষটিকে গভীরভাবে ভালোবাসি তোমার জন্যে ধারাপাতের মরণবিলাস কালের-পাতায় যুক্ত করি তোমার জন্যে সান্ধ্য-ভাষায় এখনো আমি দহন-জ্বালায় চিতায় জ্বলি; তোমার জন্যে, শুধু তোমারই জন্যে…
-
আফসোস
অলোক সেন লোকটা খিঁচিয়ে উঠল – কেন যে লেখেন? ধ্যাবড়া এরকম মতিচ্ছন্ন রাগ? ‘কেন’ – , ওই শব্দটির উৎসমুখ খুঁজতে গিয়ে – আঃ যমুনার সে কি কুলুকুলু… নৌকা সেই যে ডুবল, কালিদাস একটুও মুচকি হাসলেন না, জয়দেবও লুকোলেন না মুখ চণ্ডীদাস হাসতে হাসতে নেড়ে দিলেন পঞ্চবি ডাল। বিস্ময় যখন ফাটোফাটো সন্ন্যাসী…
-
বেলাল চৌধুরী শ্রদ্ধাস্পদেষু
আইউব সৈয়দ ক. সমৃদ্ধিকরণের কৌতূহলী সাড়া, পদধ্বনির স্বাক্ষরে বৈচিত্র্যময় নাড়া। শৈল্পিক-ঐশ্বর্যে ভরা, সাহিত্যের ‘ফানুস’, বেলাল চৌধুরী চিরশাশ্বত – উজ্জ্বল মানুষ। খ. মুক্ত হাওয়ার বাউ-ুলে জীবন, অন্তর ফুঁড়ানো বোধের উন্মোচন। পতাকাবাহী প্রান্তরে উড়ান ঘুড়ি, নিয়মের ব্যতিক্রমী – কবি বেলাল চৌধুরী। গ. সবকিছুতেই আলাদা-ভিন্ন রূপের ভক্তি, দিব্যদৃষ্টির উচ্চারক আহা! অস্তিত্ব দর্শনের…
-
বিদায় বেলালভাই
পিয়াস মজিদ মানুষের পৃথিবীতে কতদূর এগোল কুমিরের চাষ, মনের সমুদ্রে ধরা গেল কী আকাক্সক্ষার রূপারং মাছ? এইসব গূঢ় প্রশ্নে নিতান্তই নিরুত্তর কফিহাউস বসে থাকে শুধু তোমার অপেক্ষায় – সুনীল স্বপ্ন নিয়ে, শক্তি কক্সবাজার, তিন পাপীর শ্যামল-স্বর্গ, তুষারের শেষ নৌকা আর সন্দীপনের দিবানিশির কলকাতা। অন্তর্জালের এই আকালে খুঁজে ফেরা আমাদের অন্তর্জলী যাত্রা – এক জীবনের সাধের…
-
সমর্পণ
দুলাল সরকার আর কোনো বিষয়ের কাছে নিজেকে সমর্পণ করো হতে পারে কৃষকের ইচ্ছের কাছে – হতে পারে সে কোনো প্রবল বৃষ্টি গুচ্ছ গুচ্ছ লতার ভেতর ধুলামুক্ত নির্মল বায়ুস্তরের কাছে বৃক্ষের প্রশান্তি। হতে পারে শ্বাসরোধী সীসামুক্ত মানুষের দীর্ঘশ্বাসহীন নির্মল শূন্যের মধ্যে বহুদূরে উঁচুতে উঁচুতে আকাশের টলটলায়মান পৃথিবীকে ঘিরে থাকা অকপট আকাশের বিশুদ্ধ গন্ধের মধ্যে…
-
নীরব অন্ধকারে
খোরশেদ বাহার তিনি হাঁটতেন অন্ধকারে জ্যোতিষ্মান এক স্বাপ্নিক পুরুষ তার হাওয়াই শার্টের আস্তিনে ভাঁজ করা নিঃসীম অন্ধকার স্নিগ্ধ পরশমাখা, নির্বাক চেয়ে থাকা এক অপার বিস্ময়। সময়ের সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে এখন তা লুটিয়েছে ধুলায়। পড়শির দরজায় কড়া নেড়ে জেনেছি এ বাড়িতে ও নামের আজ আর কেউ থাকে না জানালায় উঁকি মেরে দেখেছি সবকিছু ঝকঝক…
