কবিতা
-
মা
মারুফুল ইসলাম তিন রাত ধরে ঘুমোয়নি মা একবারও তিনদিন মুখে দেয়নি একনলা ভাত আহা রে তার নাড়িছেঁড়া কলিজার টুকরা মাটির নিচে একা একা কী জানি কী করে তার কি আর নাওয়া-খাওয়া-ঘুম আছে নয়নমণি ছেলেকে অন্ধকারে অভুক্ত রেখে দুঃখিনী মার গলা দিয়ে কী করে নামবে ভাতের দলা শহরে যেতে চাইত না ছেলেটা ছোটবেলায় বাপ…
-
নদী হত্যাকারী
গোলাম কিবরিয়া পিনু নদীও যখন শুকিয়ে যায় মদনের লোভে – তখন ধাতুনির্মিত রক্ষাকবচে কী হবে? নিমগাছের পাতা নেই কারও শরীরে – নদীবিধৌত মানুষেরও ত্বক তৈরি সজারু ও গণ্ডারের চামড়ায়! কী আশ্চর্য কাল এসে যায় লঞ্চ ও নৌকায় চড়ে আছে নদী হত্যাকারী! কোকিলের স্বর ভূত-পেত্নির স্বরগ্রামে আটকা – অন্নদাতা আর দীক্ষাদাতা আমলকী বনে…
-
ছন্দ
মাহমুদ কামাল ছন্দ আমাকে দেখিয়েছে আলো-পথ পথের মধ্যে ছিল না পাথরকুচি খোলা দরোজায় ছিল না নিষেধ রেখা একজীবনেই জেগে ওঠে স্বকীয়তা। ছন্দ আমাকে নিয়মের মাঝে রেখে জানিয়ে দিয়েছে এভাবেই শুচি রতি ছোট এ-জীবনে কেন যে হুলস্থূল! অনতিক্রান্ত বৃত্তের মাঝে থেকে। ছন্দ আমাকে ঢেউ হয়ে কাছে ডাকে মিথুন মুদ্রায় চলমান ছবিগুলো রক্তে রক্তে…
-
দুটি কবিতা
নাসির আহমেদ অসহ্য সুন্দর ঘ্রাণ দীর্ঘাঙ্গী সুন্দর তুমি চলে গেলে ঘরময় তীব্র ঘ্রাণ রেখে সেই গন্ধে জেগে থাকে বিনিদ্র কবিতা সারারাত ঘরময় পায়চারি করে এক শিল্পছায়া যেন কিবরিয়ার ষাটের দশকে আঁকা আশ্চর্যসুন্দর নগ্ন নীল বিমূর্ততা। নিভৃতে তোমার সঙ্গে মুগ্ধতায় জেগে থাকে অস্থির শব্দেরা আসলে তুমি তো নও, তোমার ঘ্রাণের সঙ্গে, তোমার প্রাণের…
-
তিনি বলতেন
(বেলাল চৌধুরী বরাবর) রবিউল হুসাইন তিনি বলতেন মানুষ প্রধানত দুই ধরনের – একদল ক্ষণজন্মা আরেক দল কেনজন্মা আমি ওই কেনজন্মা দলের তিনি শুধু দিতে জানতেন নিতে জানতেন না মানুষের ভালোটাই দেখতেন এবং কীভাবে প্রশংসা করতে হয় সেটা জানতেন খুব ভালো করে প্রশংসা করতে করতে বিরল দক্ষতায় সমালোচনা করতেন এবং তা ছিল গড়ন-গঠনের…
-
মৃত্যুই অনিবার্য সত্য
শাহাজাদা বসুনিয়া বুড়িয়ে যাওয়া যদি নিশ্চিত সত্য হয়, তাহলে তোমার পাকা কেশ ছিল অনিবার্য সত্য। তোমার রূপ ছিল ফুলেল চন্দন আগর, বিচিত্র বেণী ছিল অপূর্ব শোভিত, আসমুদ্র মুকুলিত কেশসম্ভারে তুমি ছিলে দীর্ঘ কেশী কৃশাঙ্গী আপাদ লম্বিত কেশের শোভায় তোমার বিনোদীয় বেণী ছিল আখ্যানকাব্য। নির্মল শ্যামল অঙ্গচরণে প্রণয় সম্ভারসম তোমার কেশ যেন বাহুতে ঘন ফুলফলা…
-
মায়ের নাকফুল
সুজন হাজারী মাটির চুমুতে শোভা উঠোনে ঘাসফুল উনুনে পোড়া দীর্ঘশ্বাসের ঘ্রাণ মুখলজ্জা নয় আদিম এক অসুখ মা-র মুখে শুনিনি আজো বাবার নাম। স্বামীর আগে ভাত বেনেবউ তোলেনি মুখে ক্ষুধায় মরা পেটে বাঁধে বাবার মুখ-মোছা গামছা দীর্ঘায়ু কামনায় অক্ষর ওজনের এ-কথা সত্য বাবার জুতায় মায়ের কল্যাণ নিহিত। মায়ের নাকফুল আলোহীন গুহায় শোকচিত্র বাবার…
-
সুপাতলা
তমিজ উদ্দীন লোদী আমি হাঁটি আর ভাবি ওইসব টিলা কই? ছড়ার দুপাশে বৃক্ষ, বানরের লাফালাফি, ঝাঁকঝাঁক পাখি কই? মানুষ নামিয়ে দিয়েছে সব সমতলে। সারি সারি কমলা, লটকান, আম ও কাঁঠালগাছগুলো নেই ইট, কাঠ, লোহার আধিপত্যে ওরা সব পালিয়ে বেঁচেছে। শুধু আছে কোদাল ও কুঠার। যন্ত্রের দাপট। বদলে গেছে বনরাজিনীলা বুজে…
-
দুটি কবিতা
অতনু ভট্টাচার্য্য কৃষ্ণ সত্মব্ধতার মাথায় উঠে কাঁপে। তাল সুরের সাথে নাচবে তাই এটুকু দেখভাল। আঁচলে গিঁট দিয়েছে আর মনের ধুকপুক হাস্নুহানা গন্ধ-মাখা সোনারসিন্দুক! এবং যদি তাকিয়ে চোখ, পলকে-অপলকে গুপ্তধন মিলতে পারে অশ্রুবিভালোকে। সত্মব্ধতাও রমণী হয়! কাজল পরা চোখ চাইছো যদি কৃষ্ণ হওয়া – সামান্য দুর্ভোগ! ঢেউ সেই অজানা দ্বীপে যেতে হবেই…
-
কোথাও একজন কেউ অপেক্ষায় থাকুক
সাজেদুল আউয়াল হতে পারে ভুবনডাঙার মোড় অথবা উধাও হয়ে যাওয়া তিন প্রহরের প্রান্তর; না-হয় নিতাইগঞ্জের বাসস্টপই হোক, নতুবা ময়নাপাড়ার উঠান – কেউ একজন থাকুক দাঁড়িয়ে কোথাও। পরনে থাক নলসোঁদার শাড়ি, কপালে খয়েরি টিপ, মুখখানা না-হয় দেখাক কিছুটা মলিন। না-হয় রয় যেন দাঁড়িয়ে ডুমুরিয়া নদীর বাঁকটি এসে মিশেছে যেখানে খালমনার সাথে, সেখানে; অথবা অভয়দাস…
-
প্রকৃতি
কাজলেন্দু দে ক্রমে বইমেলা ঘুরে ঘরে ফিরে আসি। এই ঘরে নীড়হারা পাখির উড়াল আর বিধবা সকালের স্বপ্ন মিলেমিশে থাকে – এককোণে পথ থেকে তুলে আনা দীর্ঘশ্বাসও থাকে। চৌকাঠ পেরোলে মাঠ, দূরে নদী, হাওয়ার চিৎকার। হাওয়া জানে কেন আমি মাঝে মাঝে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতাম। এভাবেই ক্রমশ নিজের কাছে ফিরে আসা, রহস্যকে ভালোবাসা আর পরাবাস্তবের…
