ধারাবাহিক উপন্যাস
-
কিস্সা বলেন শেহ্রজাদে
রবিশংকর বল \ ৫ \ এই মনোরম মনোটোনাস শহরে অনেকদিন পর আজ সুন্দর বৃষ্টি হল। জানালার পাশে বসে বৃষ্টি দেখতে-দেখতে… বৃষ্টিধারা দেখে ক্লান্ত হতে-হতে বাক্যটি মনে পড়ে গেল রঘুপতির। মনোরম মনোটোনাস শহর… তিনটি শটে একটা শহরের ছবি ফ্রেমবন্দি হয়ে যায়। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’ গল্পের শুরু হয়েছিল ওই বাক্যটি দিয়ে। মনোরম আর মনোটোনাস, মনোরম আর…
-
স্মৃতির ছায়াপাত
শাহীন আখতার । ২। চিঠিতে মা আরো লিখেছেন – ছেলেটা এত কম কথা বলত! একদিন তা শুধোতেই নিরো বলে – ‘ওর বাড়ি ত্রিপুরা জেলায় (বর্তমান কুমিল্লা), মা। কথায় বাঙাল টান তো, তাই তোমার সামনে মুখ খুলছে না।’ তাতে সম্ভবত শ্লাঘা বোধই করেছিলেন আমার মা লীলাবতী। যে-ছেলে কলকাতায় ডাক্তারি পড়ে, কদিন পর আইএমএফ ডাক্তার হবে, সে…
-
কিস্সা বলেন শেহ্রজাদে
রবিশংকর বল \ ২ \ এ-শহরে এখন আর কেউ আকাশ দেখে না। হয় সবাই ছুটছে, না-হলে কানে লাগানো ইয়ারফোনে কথা বলে যাচ্ছে, দেখে মনে হয়, মঞ্চে সে স্বগতোক্তি বলে চলেছে বা গান করছে, এমনকি কেউ-কেউ হাঁটতে-হাঁটতেই মোবাইলে গেম খেলে যাচ্ছে। বাসে-ট্রামে-মেট্রোতে কেউ কারোর দিকে তাকায় না, তাকাবার অবসরই নেই, মোবাইল থেকে তার জানার বাইরে কিছু…
-
স্মৃতির ছায়াপাত
শাহীন আখতার মাঝে মাঝে আমার মনে হতো এসব সুখী মুহূর্তের স্মৃতিচিহ্ন নয়, আমার আত্মায় বয়ে যাওয়া ঝড়ের স্পর্শময় অমূল্য ধ্বংসাবশেষ। – ওরহান পামুক সেকেন্ডহ্যান্ড বই তখনো ট্রেন ছাড়তে মিনিটদশেক দেরি। একশ টাকায় সানগস্নাস কিনে সাবিনা যখন আরো সস্তার জিনিস খুঁজছে, তখন পাশের বুকস্ট্যান্ডের সংকীর্ণ তাকে অনিতা সেনের স্মৃতিকথা নজরে পড়ে। বাদামি মলাটের সাদামাটা…
-
কিস্সা বলেন শেহ্রজাদে
রবিশংকর বল সোফি অ্যান্ডারসনের আঁকা ছবিটার দিকে তাকিয়ে এখন মন খারাপ হয়ে যায় শেহ্রজাদের। উনিশ শতকের মাঝামাঝি কোনো সময়ে সোফি তাঁর ছবিটা এঁকেছিলেন। ছবিটা দেখতে ইচ্ছে না-করলেও বারবার শেহ্রজাদেকে টানে। ওই যৌবন আর সৌন্দর্য, নিজেকে ভুলে যাওয়ার মুহূর্তে দুই চোখ যেমন দিশাহীন নৌকার মতো ভেসে থাকে মাঝনদীতে, অমন দৃষ্টি আর কখনো ফিরে পাবেন না তিনি।…
-
পটেশ্বরী
শঙ্করলাল ভট্টাচার্য তৃতীয় অ্যালবাম এক অনেকগুলো চিঠি তো লেখা হলো অ্যাদ্দিনে। সারাক্ষণ মনটা কু গায় মারি আঁতোয়ানেতের। শেষ অবধি মেয়েটাকে খুনই করল ভিক্টর! আমি প্রথম দিন থেকে রুখে দিতে চেয়েছিলাম ওদের ঢলাঢলি। কই পারলাম? কী না কী সম্বন্ধ দেখেছি মেয়ের! একটাও মানল? সেই জোর করে ওই চাল নেই, চুলো নেই ভিখিরি ডাক্তারটাকেই ধরে রইল। এত…
-
পটেশ্বরী
শঙ্করলাল ভট্টাচার্য দ্বাদশ কিস্তি পনেরো আমার মৃত্যুর খবরে জওহরলালের মনের কী অবস্থা হলো তা তো আমার জানার সুযোগ হলো না। কালে-কালে তোরা জানতে পারবি, ইন্দু। তখন আমার আত্মপ্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে বলিস; দেখব কীরকম লাগে শুনতে সেসব। হাসছিস? জীবনটা কিন্তু এরকমই, ইন্দু। আমরা সবচেয়ে বেশি জীবনের কথা বলি যখন, তখনই হয়তো মৃত্যু…
-
পটেশ্বরী
শঙ্করলাল ভট্টাচার্য দশম কিস্তি ও যত বলছে ‘আমি ক্ষত রেখে যাব’ আমি হাসছি। সেই ক্ষতেরই যেন আভাস এর পরে পরেই ইন্দুকে লেখা আমার চিঠিতে… একটি অতি অসাধারণ ইংরেজের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। মা হয়তো ওর বিষয়ে তোকে লিখেছে, যাতে কিনা ওর সম্পর্কে তোর ভয়ানক ভুল কিছু ধারণাও গজিয়েছে। সত্যি বলতে কী, ওরকম অপূর্ব, মনে…
-
নদী কারো নয়
সৈয়দ শামসুল হক \ ৪৫ \ হরিচরণ নামে যে কেউ একজন জলেশ^রীতে এতকাল ছিল, মানুষেরা যেন ভুলেই ছিল, আজ তার মৃত্যু-সংবাদ পেয়ে সবাই হঠাৎ জেগে ওঠে। হরিচরণের বিষয়ে বাজারে কাছারির মাঠে ইস্টিশানের আড্ডায় কত কথাই না গল্পের ফুলঝুরি হয়ে ওঠে। প্রাচীন কেউ-কেউ বিশেষ একটি কথা স্মরণ করে ওঠে হরিচরণের বাবা রাধাচরণের বিষয়ে। সে-কথা…
-
নদী কারো নয়
সৈয়দ শামসুল হক \ ৪৩ \ কুসমিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে দেখে সোলেমান বলে, কেয়ারটেকার বুঝিলেন তো? বোঝেন নাই? সরকার, সরকার, যাকে কয়। কোম্পানিতে যাকে ম্যানেজার বোলায়। এসবের একবর্ণ আর কানে যায় নাই কুসমির। সোলেমান বকবক করে বকেই চলে। – দ্যাখেন তো, দিদি, কপাল ফিরি গেলো তোমার। আর কোনো ভয়চিমত্মা নাই। তোমার ভালোমন্দ সব…
