প্রবন্ধ

  • বুলবুল- স্মরণ : শতবর্ষে সঞ্জীবিত   

    বুলবুল- স্মরণ : শতবর্ষে সঞ্জীবিত   

    জন্মের শতবর্ষ উদ্যাপনের চলমানতায় পরিবর্তনের স্রোতে ভেসে চলা বর্তমান বিশ্বে বুলবুলের জীবন, তাঁর স্বপ্ন, সাধনা ও কৃতি এক হিমালয়-বিস্ময়ের সামনে আমাদের দাঁড় করিয়ে দিতে সমর্থ, এখনো। সম্ভ্রান্ত, শিক্ষিত এবং সরকারি চাকরিজীবী পিতার ঘরে জন্ম তাঁকে এক গ-গ্রামের (চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার চুনতি গ্রাম) গ– থেকে মুক্তি দিয়েছে বটে; কিন্তু রাজদরবারের বা দেবমন্দিরের কোনো নর্তকীর নূপুরনিক্কণ রূপকথার গল্পচ্ছলেও…

  • একুশ শতকে কবিতার আমি-সত্তা

    একুশ শতকে কবিতার আমি-সত্তা

    কবির ‘আমি-সত্তা’র বহুবিধ রূপান্তর/ প্রতিসরণ ঘটায় কবিতার ডিকশন। তখন সেটি হয় কবিতার পারসোনা। এই ‘আমি-সত্তা’ ক্লাসিক জগতে ছিল নৈর্ব্যক্তিক, গ্রন্থিক বা নিছক অলংকারপ্রণেতা-রূপে। কিন্তু ইয়োরোপীয় রেনেসাঁসসঞ্জাত ‘আমিত্ব’ বোধই হয়ে উঠল – আজ পর্যন্ত, কবিতার সংতত্ত্ব বা প্যারাডাইম। এই আমি-সত্তা রোম্যান্টিক পর্বে বৈপস্নবিক ও তুঙ্গ রূপ নেয়, কবিতার পারসোনা হয়ে সরাসরি কবিতায় প্রোথিত হয়, দৃশ্যমান হয়।…

  • রূপের যে তার নেই কো শেষ : জীবনানন্দের কাব্যে রূপ  দর্শন ও চিত্রকল্প

    রূপের যে তার নেই কো শেষ : জীবনানন্দের কাব্যে রূপ দর্শন ও চিত্রকল্প

    বিশ্ব কবির ‘সোনার বাংলা’, নজরুলের বাংলাদেশ, জীবনানন্দের ‘রূপসী বাংলা’, রূপের যে তার নেই কো শেষ। এই গান গেয়ে রণাঙ্গনে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা। এখনো সে-দেশের আকাশ-বাতাসে ভাসে এই গানের সুর। রূপ সৃষ্টি, চিত্রকল্প তুলে ধরায় জীবনানন্দ ছিলেন অনবদ্য। রবীন্দ্রনাথ বিশেষভাবে তাঁর চিত্রকল্পের প্রশংসা করেছিলেন। জীবনানন্দের কবিতায় রূপকথা, মিথ, ইতিহাস, পুরাতত্ত্ব সবই মিলত। থরে থরে সাজানো রূপের…

  • অনুবাদ-কলা : দুটি সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা

    অনুবাদ-কলা : দুটি সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা

    এক বাংলার বাইরে কবি হিসেবে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় প্রধানত তাঁর নিজের করা ইংরেজি অনুবাদের জন্য। যে সরল ও নিরাভরণ ইংরেজি কবিতা পাঠের পর ইয়েটস একসময় তাঁর গীতাঞ্জলির পা-ুলিপি হাতে নিয়ে উদ্ভ্রামেত্মর মতো ঘুরে বেড়িয়েছেন, সেই তিনিই পরবর্তীকালে ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ইংরেজি জানেন না। শুধু রবীন্দ্রনাথ কেন, কোনো ভারতীয়ই ইংরেজি জানে না। বিশ শতকের আরেক কবি…

  • সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র  কাঁদো নদী কাঁদো এবং বাংলা  কথাসাহিত্যে নতুন ধারা   

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র কাঁদো নদী কাঁদো এবং বাংলা কথাসাহিত্যে নতুন ধারা   

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এমন এক প্রতিভাবান কথাশিল্পী যিনি যুগপৎ বিষয় ও আঙ্গিকে তাঁর সমকালীন তথা প্রচলিত বৈশিষ্ট্যকে অতিক্রম করে এমন এক শিল্পরীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি সমৃদ্ধ মাত্রার সংযোজন করেছেন যা অভিনব ও স্বতন্ত্র, সর্বোপরি তা বাংলা কথাসাহিত্যে নতুন ধারা হিসেবে গৃহীত এবং বলিষ্ঠ ধারায় বহমান। দীর্ঘ কুড়ি বছরে তিনি মূলত তিনটি উপন্যাস লিখেছেন (লালসালু ১৯৪৮, চাঁদের অমাবস্যা…

  • হাসান আজিজুল হকের গদ্য :  বিষয় ও রচনাকৌশল

    হাসান আজিজুল হকের গদ্য : বিষয় ও রচনাকৌশল

    একজন সৃজনশীল মানুষকে নিয়ে লিখতে গিয়ে স্বভাবতই তাঁর সৃজনশীল রচনার কথাই সবার আগে মনে পড়বে। পাঠকের বেলায়ও বিষয়টি সত্য। বিশেষত যাকে আমরা প্রচলিত ধারার কবিতা গল্প উপন্যাস বলি, তার প্রতি সবার আগ্রহ বেশি থাকে। তবে কবি বা লেখকের রচনার ক্ষেত্রে তাঁর কোন রচনা সৃজনশীল নয়, তা বলা রীতিমতো দুঃসাধ্য। সে-চেষ্টা অবশ্য না করাই উচিত। কারণ…

  • রবীন্দ্র-নজরুল সম্পর্ক এবং তার পরে

    রবীন্দ্র-নজরুল সম্পর্ক এবং তার পরে

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) মহৎ কবি, বাংলার কবিদের ভেতর তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ, বিশ্বসাহিত্যে গীতিকবিতার ক্ষেত্রে এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী, তাঁর সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের (১৮৯৯-১৯৭৬) তুলনার কোনো প্রশ্নই ওঠে না; তবে লক্ষ্য করবার ব্যাপার থাকে যে নজরুলও মহৎ এবং বাংলা কবিতার ইতিহাসে প্রতিভা ও অর্জনের দিক থেকে রবীন্দ্রনাথের পরেই তাঁর স্থান। প্রথম ও দ্বিতীয়র মধ্যে দূরত্ব অবশ্য দুর্লঙ্ঘ্য। কিন্তু…

  • ইতিহাসের নির্মাণ থেকে বিনির্মাণে ফণীশ্বরনাথ ‘রেণু’

    ইতিহাসের নির্মাণ থেকে বিনির্মাণে ফণীশ্বরনাথ ‘রেণু’

    পেস্নটো অনুকরণকে Eikastika ও Phanatastika – এই দুভাগে ভাগ করে সত্য অনুকরণকে নীতির দিক থেকে গ্রহণীয় বলে ঘোষণা করলেন। তিনি শিল্পকে ‘অনুকরণ’ বললেও শিল্পের প্রেরণা অবশ্যই খুঁজেছিলেন দৈব ইচ্ছা বা কৃপার মধ্যে। তাঁর মতে, কবিরা কাব্য রচনা করেন (in a state of divine insanity) দৈব-উন্মাদনায় বা দৈব-প্রেরণায়। মূর্খ কবিরাও যে সুন্দর সুন্দর কাব্য সৃষ্টি করেন…

  • ঠাকুরবাড়ির মহাতীর্থে  কবি জসীম উদ্দীন

    ঠাকুরবাড়ির মহাতীর্থে কবি জসীম উদ্দীন

    কবির আহবান : শিল্পীর আতিথ্য   – তুমি শান্তিনিকেতনে এসে থাকো। – আমি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম. এ. পড়ছি। – শান্তিনিকেতন থেকে প্রাইভেটে এম. এ. পরীক্ষা দিতে পারবে। – ভালো করে ভেবে আপনাকে জানাবো। এই কথোপকথনের সময় ছিল সম্ভবত ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ। তখন কবির বয়স প্রায় ৭০ বছর। বৃদ্ধ কবির আন্তরিক আহবান এলেও ভরসা করতে পারেননি নবীন…

  • ফিরে আসা : সুলেখা সান্যাল ও তাঁর নারীভুবন

    ফিরে আসা : সুলেখা সান্যাল ও তাঁর নারীভুবন

    পূরবী বসু ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ভারত উপমহাদেশে নারীর আত্মপ্রতিষ্ঠা ও সমঅধিকারের আন্দোলনে যে দুটি উপাদান সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে তা হলো – ১) স্ত্রী-শিক্ষা ও ২) বাম ও স্বদেশি রাজনৈতিক আন্দোলনে নারীর সম্পৃক্ততা। এই দুই উপকরণ আত্মস্থ করার মধ্য দিয়েই সুলেখা সান্যালের মতো সাহসী নারীরা ঘর…

  • অমিয়ভূষণের মহিষকুড়ার উপকথা :  সাব-অলটার্ন তত্ত্বের আলোকে

    অমিয়ভূষণের মহিষকুড়ার উপকথা : সাব-অলটার্ন তত্ত্বের আলোকে

    মিশরের শ্রেষ্ঠ পিরামিড-নির্মাতা সম্রাট খুফু নাকি প্রতিদিন তাঁর ছেলেদের নিজের সিংহাসনের পাশে বসিয়ে পুরনো জাদুকরদের সম্পর্কে একটি গল্প শোনাতে বলতেন। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র খাফ্রি – যাঁর রাজত্বকাল প্রায় চার হাজার নয়শো খ্রিষ্টপূর্বাব্দেরও আগে বলে জানা যায় – একবার এই সূত্রে একটি গল্প বলেছিলেন। খাফ্রির বলা সেই গল্পই নাকি পৃথিবীর আদিমতম গল্পের একমাত্র প্রামাণিক উৎস। এরপর…

  • প্রমদাচরণ সেন : বাংলা শিশুসাহিত্যের মহৎপ্রাণ পথিকৃৎ

    খুব সাম্প্রতিককালে প্রমদাচরণ সেনের (১৮৫৮-৮৫) মতো নিবেদিতপ্রাণ শিশুসাহিত্যিকের নাম মাঝেমধ্যে উল্লিখিত হয় তাঁর সম্পাদিত ছোটদের পত্রিকা সখা সূত্রে। বলা হয়, সখা ছোটদের একটি ভালো পত্রিকা ছিল। কিন্তু সেই সূত্রেও তাঁর দেশপ্রেম, তাঁর স্বাপ্নিকতা, তাঁর শিশুপ্রেম – সর্বোপরি তাঁর মানবিকতা নিয়ে হয়নি বিস্তারিত অবহিতির কোনো বড় আয়োজন। জানা যায়, তাঁর একটি ছোট জীবনীও প্রকাশিত হয়েছিল; কিন্তু…