সংগীত
-
গুরু, আমার উপায় করো না পিপাসার্ত এক যোগ্যতাহীনের কথা
উনিশ শো পঞ্চাশে আমার পিতৃবিয়োগ হয়। তিনি বিচিত্রগামী প্রতিভার মানুষ ছিলেন। পণ্ডিত মানুষ, দ্বিজাতিতত্ত্বে তাঁর বিশ্বাস থাকবার মোটেই কোনো কথা ছিল না। তবু ছেচল্লিশের হিন্দু-পাকিস্তান-নির্ধারণী নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে ঢাকার নবাবকে হারিয়ে বঙ্গীয় আইন পরিষদে নির্বাচিত। ওই নির্বাচনকে কলাগাছ-নির্বাচনও বলা হতো। জিন্নাহ সাহেব মুসলমানদের বলেছিলেন তাঁর প্রার্থী কলাগাছ হলেও তাকে ভোট দিতে। বাবা মোটেও কলাগাছ…
-
গুরু, আমার উপায় করো না পিপাসার্ত এক যোগ্যতাহীনের কথা
গানে যেন অচিন পাখির দেখা পাওয়া যাবে। সেই পাখির সন্ধানে লেগেছিলাম প্রথম কৈশোরে। পরিবারের প্রভাব, গানেতে অর্থকড়ি-সমস্যায় হিল্লার সম্ভাবনা, লেগে থাকতে পারলে যশ-প্রতিপত্তি-লাভের সুযোগ, এই মতো কোনো কিছু তো আমাকে গানে টানেনি। যাকে জানি না, অথচ ঠিক জানি সে সুন্দর, জাগতিক সব ক্ষুদ্র স্বার্থ-আবেগ-উদ্বেগের ঊর্ধ্বে এবং পবিত্র, তাকে যেমন করে হোক ঝলকমাত্রের জন্যে হলেও, আমার…
-
গুরু, আমার উপায় করো না পিপাসার্ত এক যোগ্যতাহীনের কথা
সঙ্গীতের বিষয়ে আমার প্রায় কারো সঙ্গেই মেলে না। আমি গীত-রচক নই, মেলে না ওদের সঙ্গে। নই সুরকার, তাদের মতো হতে পারি না, যতই না চাই তাদের কীর্তির পেছনের মানুষটিকে ধরতে। এবং নই রবীন্দ্রনাথ-আদি পঞ্চকবি, যাঁরা বাংলা গানের একটি ধ্রুপদী যুগ, ধ্রুপদী একটি শৈলীই নির্মাণ করেছেন নিজেদের লেখা গানে নিজেরা সুর করে, তাঁদেরও কোনো অক্ষম পদাঙ্ক-অনুসারী।…
-

কলের গানের গল্প
স নাতন ধর্ম বলে নাদই ব্রহ্ম : জগজ্জীবন শুরু হয়েছে শব্দে, শেষও হবে শব্দে। মানুষও জন্মমাত্র শব্দই করে প্রথমে। অথচ শব্দধারণ করতে শিখেছে সে মাত্র শতাধিক বছর পূর্বে। তাই সার্ধশতাধিক বছর আগের নিধুবাবু-দাশুরায়দের গাওয়া গান আমরা তাঁদের কণ্ঠস্বরে শুনতে পাই না। কিন্তু বহুশত বছর আগের লেখকদের লেখা আমরা তাঁদের হস্তলিপিতে পড়তে পাই। কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের…
-

কী প্রয়োজন সঙ্গীতের, যে আয়োজন থাকতে হবে
আমাদের দেশে সঙ্গীত নিয়ে বেশ একটা অরাজক আছে। আমাদের দেশটা এক্ষেত্রে কোন দেশ? আমাদের সঙ্গীতদেশ তো ভারতবর্ষীয় উপমহাদেশ, বিশেষ করে হিন্দুস্তানি সঙ্গীতের দেশ, উত্তরাবর্ত। দক্ষিণ দেশ, কর্ণাটক সঙ্গীতের দেশ, সাক্ষাৎভাবে আমাদের সঙ্গীতদেশ না হলে একেবারে বিদেশ নয় মোটেও। তারও দক্ষিণে শ্রীলঙ্কা। তার সিংহলি ভাষা যেমন নয় তামিলের ভগিনী, তেমনি তার সঙ্গীত খেয়াল করে গুনলে বাঙালির…
-

রজনীকান্তের গান
প্রায় একশ বছর হয়ে এলো রজনীকান্ত সেনের দেহাবসান হয়েছে। তাঁর জীবৎকাল (১৮৬৫-১৯১০) মাত্র পঁয়তাল্লিশ বছর বিস্তৃত। বয়সের বিবেচনায় তিনি পরিণত জীবনে উপনীত হতে পারেননি, যদিও তাঁর কাছ থেকে আমরা পরিণত সংগীতরাগ পেয়েছি বেশ কিছু। সমকাল রজনীকান্তকে সমাদৃত করেছে, অবহেলা পেয়েছেন তিনি উত্তরকালে, আজকাল তো রজনীকান্তের গান গাইতে প্রায় শোনাই যায় না। অথচ এমন হবার তো…
-

সংগীতহীন অন্ধকারে চলেছে যে পথিকেরা
ঢাকায় আমরা সত্যেন বোস-কাজী | মোতাহারদের গানের আড্ডার কালটি | পাইনি। কিন্তু পেয়েছি তার স্মৃতি। এই আড্ডার কথা জেনেছিলাম স্বয়ং আড্ডার আড়তদারের মুখেই। একষট্টি সন। কর্ণফুলির ইসমাইল সাহেব মেলা টাকা দিয়েছেন ছায়ানটকে, স্কুল আরম্ভ করবার জন্যে। ছয় হাজার টাকা! স্থির করলাম আমরা যন্ত্রপাতি যতীন থেকেই নেব। যতদূর মনে পড়ে সনজীদা তাঁর বাবা কাজী মোতাহার হোসেন…
