December 2013

  • কলের গানে বাঙালির সাংস্কৃতিক ইতিহাস

    তপন বাগচী বাঙালির কলের গান আবুল আহসান চৌধুরী বেঙ্গল পাবলিকেশন্স ঢাকা, ২০১২ ৪৭৫ টাকা বাঙালির কলের গান বাঙালির সংগীতচর্চার ইতিহাস নিয়ে একটি অমূল্য গ্রন্থ। গ্রন্থটি যে-সকল কারণে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, ১. হারিয়ে যাওয়া প্রযুক্তির সন্ধান, ২. সংগীতের ঐতিহ্যের অন্বেষা, ৩. কলের গানের শিল্পীদের পরিচয়, ৪. দুষ্প্রাপ্য তথ্য-দলিল উদ্ঘাটন। আমরা জানি যে, দুষ্প্রাপ্য দলিল-দস্তাবেজ ঘেঁটে আমাদের…

  • কবির বিপন্নতা : অশ্রুময়ীর শব

    সনৎকুমার সাহা অশ্রুময়ীর শব মোহাম্মদ রফিক প্রথমা প্রকাশন ঢাকা, ২০১১ ১০০ টাকা একটা সময় ছিল, যখন মনে করা হতো, কবিতা লিখতে পারা এক বিরল প্রতিভা। সবাই পারে না; কিন্তু আকর্ষণ করতে পারে সবাইকে। বাল্মীকির কবি হবার কাহিনি অনেকের জানা। ক্রৌঞ্চ-বধের শোক থেকে যে-বাক্যস্রোত তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসে, তা তাঁর মনে হয় শ্লোক। ছন্দোবদ্ধ ও…

  • সৃষ্টির আনন্দে

    চঞ্চল শাহরিয়ার সৃষ্টির আনন্দে মেতে থাকি পুরোবৃষ্টির বিকেল গরম কফির কাপে ধোঁয়া ওড়ে কবিতার মতো। জীবনের দুর্বল মুহূর্তগুলোর ছুটি দিয়ে দিই অনুগতচিত্তে রংধনু আনে দুরন্ত প্রহর।   ভাঙনের পর নতুন জীবন আর দেখি নাই কতোকাল হলো সফলতা থেকে ছিটকে পড়েছি। সাধারণে মিশে আরো সাধারণ হয়ে গেছি কবে চাঁদের আলোর মতো স্নিগ্ধ দিন ভুলে গেছে তিথি।…

  • সব সন্ধ্যাই রাতের তলপেট নয়

    দ্রাবিড় সৈকত   এই বাতিকের কোনো উত্তর নেই রূপচাঁদা সময়ের পেট থেকে পিছলানো জমাট হীরক যাকে তুমি জেলি ভেবে দাঁত এবং চিবুক বসাও বিষুবরেখার প্ররোচনায় জানোই তো, পরিপাকে বেঁচে থাকে মাছের নিয়ম এই পরিপাক ধরে তোমার চলার পথে যারা হয়েছে উড়াল সড়ক তাদের ডানায় বসে আছে ঠিকাদার ঠিকুজি ঘুরিয়ে দেখার অবসরে তিনি অংক করেন তোমাদের…

  • দুটি কবিতা

    জাহিদ হায়দার ঘুমের কোনো ভবিষ্যৎ নেই কিছু নেই, ঘুমের উজ্জ্বল বর্তমানে জেগে আছ তুমি; জাগরণে তোমার ভেতর কবেকার এক স্বপ্নভোর পাখির ডানায় উড়ছে। ঘুমাবার জন্যে ফিরছো বাসায়। একটি চেনা মাধবীলতা শীতের বাতাসে অন্য কার্নিশে দুলছে, তুমি তার সঙ্গ খুঁজে রৌদ্রতে চঞ্চল, বৃষ্টিতে ছিলে অধিক নীল; মনে করা যাক, আকাশের সাবলীল থেকে ফিরে পাখিটার ঘুম পাচ্ছে।…

  • ঈর্ষা

    চাণক্য বাড়ৈ আমার প্রেমিকা, তবু রোজ সে ঘুমোতে যায় রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে, আমি ভাবি পরের জনমে তবে জমিদারই হবো। বনবাসে ধ্যানে যাই, তাতেও জন্মে না বিশ্বাস ধুলো পরিমাণ ‘জন্মান্তরবাদে’। সামান্য বালির কণা, তার কাছে হিমালয় খুব ক্ষুদ্র মনে হয়। উদয়াস্ত সমর্পিত রবীন্দ্রনাথে। তানপুরা কোলে নিলে পৃথিবীতে পাই না তাকে আর। ভাবি, পরের জনমে তবে অর্ফিয়াসই হবো। তবু…

  • শ্রাবণের পদাবলি

    কামরুল ইসলাম কখনো মনও ডুবে যায় শ্রাবণের সামন্ত জলে তখন তালগাছের মাথা বেয়ে নেমে আসে সন্ধ্যা নির্জন অাঁধারে ডুবে যায় পাঠশালা আর কাঁঠালপাতারা রাতভর পড়তে থাকে জলের নামতা এ-সময়ে কোনো সোনাব্যাঙের জলকেলির দিকে মুখস্থ ফুলেরা ফুটতেই পারে –   দুই জানালায় ঝুলে থাকা দুঃখগুলো লতিয়ে ওঠে মেঘের জাংলায় ভোরের অদূরে শববাহী মানুষেরা যেন সব কুয়াশা-পথিক…

  • প্রেমিক ও পতঙ্গ

    আহমেদ বাসার                                                               পোড়ার আগে পতঙ্গ শুধু আগুনের রূপই দেখে ফণা-তোলা লেলিহান অগ্নির নৃত্য-মুগ্ধ পতঙ্গ বহুদূর থেকে ছুটে আসে প্রাণপণ আত্মাহুতির আনন্দ যতক্ষণ না ভস্ম…

  • বুদ্ধ বললেন, তবু…

    সৌম্য সরকার একদিন ছিল যেদিন বুদ্ধের শরীরে দেশলাই ঠুকে দিলে জ্বলে উঠতো আগুন : কষ্টগুলো হামলে পড়লে কুঁকড়ে যেতেন তিনি, বেদনায় নীল, কামে-ঘামে বেগুনি হয়ে উঠতো শরীর – তারপর আবার একদিন অন্য এক আগুনে পুড়ে যখন শুদ্ধ হলেন তিনি, দীর্ঘ উপবাসের পর সুজাতার হাতে দগ্ধ একবাটি পায়েস খেয়ে প্রথম বললেন, ‘জগতের সব প্রাণী সুখী হোক’…

  • কমলকুমারের চিঠি

    স্নেহের সন্দীপন, তোমার চিঠি অনেকদিন পাইয়াছি, কিন্তু শারীরিক অসুস্থতাবশত উত্তর দেওয়া ঘটিয়া উঠে নাই। আর ইদানীং কলিকাতার তথা পূর্ববঙ্গের অবস্থা আমাকে একাধারে বিচলিত ও বিমর্ষ করিয়াছে; নিশ্চয় তোমাকেও স্তম্ভিত করিয়া থাকিবে। যদিও তুমি বা আমি কেহই বাঙাল নহি; এখন শহরের বাঙালত্ব জাগ্রত হইয়াছে, সকলেই বিশেষত পূর্ববঙ্গজরা এ হেন হতভাগ্য সময় লইয়া কিছু রোজগার করিতেছে :…

  • অন্ধ হতে পারিনি

    সোহরাব পাশা আমাকে বিশ্বাস করো কেবল তোমার জন্যে অন্ধ হতে পারিনি আজো বহুকাল আগেই পৃথিবী মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে আমার সকল নিঃস্ব জেনে ভালোবাসা যেখানে ব্যাকুল ডাকে একা অধিক উজ্জ্বল দিগন্তের শেষ প্রান্তে ঝরে প্রার্থনার শুদ্ধজল   আমি কোনো গ্রহবৃক্ষ নই ধু-ধু নির্জন ভাঙা সাঁকোর এপারে দাঁড়িয়ে আছি মাঝখানে ডেকে ওঠে দীর্ঘ ভয় অথই জলঘূর্ণি পেছনে…

  • দাঁড়াও পথিকবর

    বীথি চট্টোপাধ্যায় [ফ্রান্সের মার্সাই শহরে অভুক্ত থেকেছেন কবি মধুসূদন ও তাঁর সংসার]   এস্টেট থেকে টাকা আসছে না হাতে বাচ্চারা প্রায় কিছুই খায়নি রাতে, না-পেলে খাবে কী? শুধু কটা বাসি রুটি… পড়ে আছে দেখে, শুতে গেছে গুটিগুটি।   রাত শেষ হয়ে সূর্য ওঠার পরে কী করে উনুন জ্বলবে কবির ঘরে? তারা ঝিকমিক করে ফ্রান্সের রাতে…