February 2015
-
রূপে তোমায় ভোলাবো না
সৈয়দ আনওয়ারুল হাফিজ ডাক্তার শহীদ তাঁর চশমার ওপর দিয়ে একবার চেয়ে বললো, ‘চাচা আপনাকে আজ আসতে বলেছিলাম। কিন্তু আপনার বায়োপসি রিপোর্টটা তো এখনো পাইনি। আচ্ছা দাঁড়ান, আমি টেলিফোন করে দেখছি ওটা কোথায় আটকে আছে।’ টেলিফোন করতে করতে টেবিলের উলটো দিকে সুফীর দিকে চেয়ে আবার বললো, ‘এরা যে কেন ওদের কথা রাখতে পারে না বুঝি না।……
-
অতল জলের আয়না
বিপ্রদাশ বড়ুয়া প্রথম অধ্যায় স্বপ্নের মধ্যেই রোহণের যৌবন উন্মেষের দিনগুলো কেটে গেল। নিজেকে চেনার আগেই এক নারীর মনো-দৈহিক কুহেলি টানাপোড়েন দেখল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল বাস্তবতার রহস্য-রোমাঞ্চকর সেই জগতে। নিজের সেই জীবনকে সে বলল – আমি নই, সেই নারী নয়, আমরা কেউ কাউকে প্রকাশ্যে ও অন্তরে দোষ দিতে পারি না। ওর…
-
বেগম আখতার ফিরায়ে দিয়ো না মোরে শূন্য হাতে
আবুল আহসান চৌধুরী চলচ্চিত্র ও সংগীতে উত্তরকালে খ্যাতির শীর্ষ স্পর্শ করেছেন – যেমন পৃথ্বিরাজ কাপুর, কুন্দনলাল সায়গল, আখতারি বাই, রাজকাপুর, তালাত মাহমুদ কিংবা অমিতাভ বচ্চন – কলকাতা ছিল বাংলা মুলুকের বাইরে থেকে আসা এইসব শিল্পীর প্রেরণার মরমি ধাত্রী। এঁদের পাশাপাশি ভারতীয় মার্গসংগীতের কিছু প্রসিদ্ধ কলাবতের নামও স্মরণ করতে হয়। কেউ এসেছিলেন জীবিকার সন্ধানে, কেউ…
-
সাহিত্য ও চিত্রশিল্পী রানী চন্দ
মৃণাল ঘোষ রানী চন্দ (১৯১২-৯৭) রবীন্দ্রসান্নিধ্যের এক গৌরবময়ী ব্যক্তিত্ব। মোটামুটি ১৯২৮ থেকে ১৯৪১-এ কবির প্রয়াণের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি তাঁর কাছাকাছি ছিলেন। কবির দেখাশোনা করেছেন। সেবা ও শুশ্রূষা করেছেন। লেখায় ও ছবি অাঁকায় প্রতিনিয়ত সাহায্য করেছেন। কবির শেষ পর্বের বেশকিছু লেখা রানীর অনুলিখনে লিখিত। এটা তাঁর গেŠরবের একটা দিক মাত্র। এর বাইরে তিনি আপন সৃজনশীলতায় অত্যন্ত…
-
ফাদার দ্যতিয়েন : তাঁর গদ্য
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায় ফাদার দ্যতিয়েন সদ্য একানববইতে পড়লেন গত ৩০.১২.২০১৪তে। এই বয়সেও তিনি দ্রুতগতিতে হাঁটেন, পরোটাসহ খাসি হজম করেন, খালিচোখে লেখাপড়া করেন। না, কস্মিনকালেও শরীরচর্চা করেননি, আর খেলাধুলোও তাঁর জীবনযাপনের অঙ্গ ছিল না কোনোদিন। এসবের কারণ জানতে চাইলে তিনি নিজেই আশ্চর্য হয়ে গিয়ে উত্তর দেন, ‘আশ্চর্য!’ নববই-পেরোনো সক্রিয় মানুষ দেখার অভিজ্ঞতা তো আছেই আমাদের,…
-
গল্পের অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ফেরদৌস আরা আলীম তাঁর হাতে হাত রেখে দাঁড়ানোর পর তাঁরই হাত ধরে বিশ্বভ্রমণের যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলা ছোটগল্প। আমাদের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির সকল ক্ষেত্রে প্রথম সূর্য তো তিনিই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর সমকালের কিছুটা সময় এবং পরবর্তীকালের দু-চার দশকে বাংলা সাহিত্যে বিশ্বমানের ঋদ্ধ ছোটগল্পের একটি ঐতিহ্যিক ভুবন যাঁরা নির্মাণ করে গেছেন, অদ্বৈত মল্লবর্মণ তাঁদেরই একজন। তাঁর…
-
গ্রাম-শহরের বৃত্তান্ত
সনৎকুমার সাহা আমরা জানি, বঙ্গভূমি পৃথিবীর বৃহত্তর ব-দ্বীপ। হাজার হাজার বছর ধরে এর গড়ে ওঠা।১ এখনো বিরাম নেই। তবে বিপরীত দিক থেকে একটা হুমকিও তৈরি হচ্ছে। গোটা বিশ্বে কল-কারখানায় কার্বন নিঃসরণের মাত্রা অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাতে সমুদ্রতল আর স্থিতিশীল থাকছে না। একটু একটু করে উঁচু হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত…
-
ক্যামুর সাহিত্য ও সমাজ-রাজনীতি
আহমদ রফিক খ্রিষ্টাব্দ ১৯৬০-এর ৪ জানুয়ারি। সাহিত্য অঙ্গন, বিশেষ ফরাসি সাহিত্যের জন্যে এ-দিনটি সত্যিই দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছিল। স্বনামখ্যাত ফরাসি কথাশিল্পী আলবের ক্যামুর জন্যে ঘটনাটি বুঝি তাঁর জীবননাট্যের এক অবাঞ্ছিত উপহাস। তা না হলে প্যারিসগামী ট্রেনের টিকিট কাটার পরও প্রকাশক-বন্ধুর আমন্ত্রণে তাঁর সঙ্গে মোটরযাত্রায় শরিক হলেন কেন ক্যামু? পরিণামে সড়ক দুর্ঘটনায় লেখক, প্রকাশক দুজনেরই মৃত্যু!…
-
মর্মর
তুষার কবির শীতঘুমে পাতা ঝরে; আরো ঝরে মর্মরের ধ্বনি – ভেজা কোরকের ঘ্রাণ ভাসে কৌমুদিনী স্বরে – বিকল পালক ওড়ে চারিদিকে – খড়ের গাদার পাশে শুয়ে থাকে শাদা কাকাতুয়া – কুয়াশার ক্যারাভানে চড়ে হারিয়ে ফেলেছে সে তার পীতাভ-পিঙ্গল ডেরা! তুমি চেয়েছিলে আজ শুধু কথা বলে যেতে – ভেতরের চাপা রাখা কথার বুদ্বুদ সব বের করে…
-
বিবাহিত শিক্ষয়িত্রী
মাসুদ পথিক এই যে ভূগোল, অতিসুন্দর! ক্লাশের পেছন থেকে দেখতে বিবাহিত শিক্ষয়িত্রীর গলায় দ’মগ্ন, বর্ণমালা একী! নেই কোনো প্রসাধন যার বাহিরে, ভেতরে একরোখা আলো হ্যাঁ, ভূগোল ক্লাশে থাকে রহস্য টিলা, দুটি অক্ষরের কোমলভারা দুঃখ ঊরুসন্ধির বারান্দায় আমি ফেল করা ছাত্র এক, আর বন্ধুরা লুকিয়ে তাকিয়ে থেকে থেকে আলোতে গেছে মারা, পালিত লাশের উজ্জ্বলতায়…
-
অর্কেস্ট্রায়ন
পিয়াস মজিদ জীবন চলে যায় চলে যেতে থাকে শারদীয় পঙ্ক ও পূর্ণিমায়; স্বপ্ন ও ক্ষুধাকল্পনায় দানা বাঁধে যত হেমন্তরুধির কিংবা কালপুরুষের কারুকাজ। বিগত বর্ষার মরচেপড়া মেঘদূত চেয়ে চেয়ে দেখে পাখাহীন আমি তোমার দিগন্তে কেমন প্রজাপ্রতিপ্রোজ্জ্বল! আর প্রেমবর্ণ হিম মুছে দেয় ঋতুদের বিধিবদ্ধ ছয়রঙা বাহার।
-
সততার সতী
সালেম সুলেরী কতো ঘর গড়বর, কতো গুম নির্ঘুম জাগে, কতো গতি দুর্গতি, কতো বাঁক নির্বাক থামে। কতো নাম দুর্নাম, কতো সুর অমধুর রাগে কতো ঠাঁট বিভ্রাট, কতো গীতি বিকৃতি ঘামে… কতো স্বাদ বিস্বাদ, কতো দম উদ্যম নেভে কতো তেজ নিস্তেজ, কতো বল দুর্বল খেলা – কতো গুণ নির্গুণ, কতো ভার নির্ভার ভেবে কতো…
