February 2004
-

পাবলো নেরুদার কবিতা
বলা হয়, পৃথিবীতে পাবলো নেরুদার কবিতাই সবচেয়ে বেশি অনূদিত হয়েছে। এখানে যেসব কবিতা আলেস্টার রিডের ইংরেজি অনুবাদ থেকে বাংলায় পুনরনুবাদে দেওয়া হলো, সমস্ত কবিতাই আলেস্টার রিডের মূল স্প্যানিশ থেকে ইংরেজি ‘Isla Negra’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া। একশ কবিতার এই কাব্যগ্রন্থটি আত্মজীবনীমূলক। গদ্যে রচিত নেরুদার ‘মেমোয়ার্স’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৪ সালে কবির মৃত্যুর পরে। স্বীকারোক্তিমূলক সেই গদ্যরচনা তখন…
-

‘সে যে বেঁচে ছিলো, সেটা কবুল করেছে’
পাবলো নেরুদার কবিতার মতোই তাঁর জীবনটাও যে কত অদ্ভুত আর উদ্ভটকে বুকে আঁকড়ে ধরেছে তার কোনো ইয়ত্তাই বুঝি নেই। জন্মেছিলেন ১২ জুলাই ১৯০৪, • দক্ষিণ চিলে-র একেবারে সীমান্ত ঘেঁসে বৃষ্টিভেজা এক শহরে, আর তাঁর বাবা ছিলেন রেলের কর্মী। মাকে তিনি প্রায় চোখেই দ্যাখেননি, তাঁর যখন দু’মাস বয়েস তখন তাঁর মা মারা যান। আর যখন তিনি…
-

প্রেরণা কী, জানি না। লিখবার ইচ্ছে ছিল সর্বক্ষণ, তাই লিখেছিলাম : রশীদ করীম
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : হামিদ কায়সার আশি ছুইছুই বয়সে এসেও রশীদ করীম—সত্য বটে, অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে সেই ১৯৯২ সাল থেকে গৃহবন্দি, হারিয়েছেন বই পড়ার ক্ষমতা, লেখার শক্তি—তারচেয়েও গভীর সত্য, তিনি এখনো জীবনমুখী; জীবনকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। তাঁর ইন্দ্রিয় এখনো যথেষ্ট সচল, উপলব্ধি গভীর, পর্যবেক্ষণ তীক্ষ্ণ। চারদেয়ালের ভেতরেই হৃদয় দিয়ে মন্থন করেন বাইরের জগৎ, এমনকী বিশ্বলোকও। ধানমণ্ডির বাসায়…
-
ফ্র্যাঙ্ক ম্যাককোর্টের স্মৃতিকথা
একজনের হাতে প্রথম খণ্ড, Angela’s Ashes পাঠিয়ে দিয়ে বইটি পড়তে বলেছিল আমার মেয়ে। নাম শুনে আমার মনে প্রশ্ন উঠেছিল, কে এই ফ্র্যাঙ্ক ম্যাককোর্ট? এঁর স্মৃতিকথা, তা সে দুখণ্ডেই হোক আর দশ খণ্ডেই হোক, তা পড়তে হবে কেন ? পৃথিবীতে মানুষের হাতে সময় কম, আর সে তুলনায় নিত্যনতুন বইয়ের সংখ্যা অজস্র। কাজেই একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির জীবনী…
-

পিশাচ
স্যার, আমি পিশাচ-সাধনা করি। আমি কৌতূহল নিয়ে পিশাচ- সাধকের দিকে তাকালাম। মামুলি চেহারা। মুখভর্তি খোঁচা খোঁচা দাড়ি। মাথায় চুল নেই। শরীরের তুলনায় মাথা বেশ ছোট। সেই মাথা শারীরিক কোনো অসুবিধার কারণেই হয়তো সারাক্ষণ বামদিকে ঝুঁকে আছে। তার হাতে কালো কাপড়ে ঢাকা একটা পাখির খাঁচা। খাঁচায় যে পাখিটা আছে সেটা খুব সম্ভব কাক। পা ছাড়া পাখিটার…
-
জাহানারা নওশীনের উপন্যাস
বেশ কয়েক বছর হলো আমরা জাহানারা নওশীনের লেখার সঙ্গে পরিচিত। তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘বৃক্ষে বৃক্ষে বিষকরবী’ সাহিত্য সমালোচনামূলক গ্রন্থ। সাহিত্যের সামাজিক দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত তাঁর বিশ্বাস ও আবেগ যেমন পাঠকদের তখন স্পর্শ করেছিল, তেমনি তাঁর তীক্ষ্ণধী বিশ্লেষণ সকলের প্রশংসাও অর্জন করেছিল। তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থ – বহে না যে নদী তাঁর লেখা গল্পের সংকলনে যেন প্রথম গ্রন্থে…
-

জীবনানন্দ দাশের অপ্রকাশিত কবিতা
অঘ্রাণ আমি এই অঘ্রাণেরে ভালোবাসি হাতে তার পাণ্ডুর ধানের ছড়া ছড়াবার শব্দ শুধু পৃথিবীতে এনেছে সে বিবর্ণ নীড়ের খড় খসাবার ধ্বনি পাখিদের পালকের বিবর্ণতা পুরোনো আশার শেষ পুরোনো প্রেমের ওইসব নীরবতা। অঘ্রাণের মাঠে মাঠে গভীর স্তব্ধতা এই তারই সুরে পাখিরা-নদীর—মুখ—কীট-ঘাস- বিকাল -কুয়াশা শব্দ ক’রে চলে যেন পৃথিবীতে আর কোনও ধ্বনি যেন কোনওদিন ছিল নাক’ কোনওদিন…
-
বুদ্ধিজীবিতা যখন দৃষ্টান্তস্বরূপ
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী কেমন প্রবন্ধ লেখেন? তাঁর নির্বাচিত প্রবন্ধ (আগামী প্রকাশনী, ১৯৯৯) পড়তে বসে চকিতে গত প্রায় সিকি শতাব্দীর পরিসরে প্রকাশিত স্বতন্ত্র প্রবন্ধ-গ্রন্থগুলোর শিরোনাম মনে করে দেখি চমৎকার নাম- আমার পিতার মুখ (১৯৮০), তাকিয়ে দেখি (১৯৭৪), বৃত্তের ভাঙাগড়া (১৯৮৯), আরণ্যক দৃশ্যাবলী (১৯৭৫), উদ্যানে এবং উদ্যানের বাইরে (১৯৯২), অনতিক্রান্ত বৃত্ত (১৯৭৭), বেকনের মৌমাছিরা (১৯৮৫), নিরাশ্রয় গৃহী…
-

পিঞ্জর
শেষ পর্যন্ত বাঁকড়ো সদর থেকেই রুপোর খাঁচাটা করিয়ে নিয়ে যাই। কাছে-পিঠে করালেও হতো। শালতোড়া কি আর তেমন অজ গাঁ? কিন্তু ওই যে বলে মনের খুঁতখুঁতুনি। সবচেয়ে ভালোটা না হলে মন উঠতে চায় না। বাঁকড়োর ছিনাথ স্বর্ণকারের এই নাম তো সেই নাম। রুপোও গড়েন। দুটি ছেলেই তাঁর মুম্বাইয়ের জাভেরি বাজারে কারিগরের কাজে পুঁটলি-ভর্তি টাকা কামাচ্ছে। তাই,…
-
নিউইয়র্ক থেকে এক বছরের সেরা বই
আটলান্টিকের এপার বা ওপার যেখানেই হোক না কেন, ২০০৩ সালের সেরা বইয়ের তালিকায় একজন বাঙালি লেখিকার নাম অনিবার্যভাবে উপস্থিত। তিনি মণিকা আলি। তার প্রথম উপন্যাস ব্রিক লেন নিউইয়র্ক টাইমসের সেরা বইয়ের তালিকায় যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকার তালিকায়। আবার ২০০৪ সালের প্রথম যে বেস্ট সেলারের তালিকা, তাতেও দেখছি একজন বাঙালি লেখিকা : ঝুম্পা…
-

মম আসেনি
কথা ছিল, কার্জন হলের সামনের চতুরে অপেক্ষা করবে। সময় জানিয়েছিল এগারোটা। সাজিদ কথামতো ঠিক সময়ই এসেছে। এবং তারপর থেকে অপেক্ষা করছে। কিছুক্ষণ সদ্য চারা গজানো ফুলের বেডগুলো দেখে, তারপর দেখে মাঝারি সাইজের মেহগিনি গাছের সারি। ডালে ডালে নোনা ফলের সাইজের ফল ধরেছে। কিছুটা আগাম হলেও অশোক গাছের ডালে একটা দুটো লাল রঙের ফলের থোকাও চোখে…
-

ক্ষমার প্রাচ্য
এ নাট্য দর্শনান্তে ক্ষমা ও প্রাচ্য দুটি ভিন্ন শব্দ পারস্পরিক বৈশিষ্ট্যপ্রাপ্ত হয়ে দর্শকের মনে সমান্তরাল হয়ে যায়। ক্ষমা মানবের বিবিধ বৈশিষ্ট্যের একটি আর প্রাচ্য ভৌগোলিক সীমানার দিকনির্দেশক। কিন্তু সেলিম আল দীন রচিত ‘প্রাচ্য’ নাটকে এ দুটি শব্দ একে অন্যের যথার্থ বিকল্পরূপে সমার্থক শব্দমালায় অঙ্গীভূত হয়। প্রাচ্য মূলত একটি ভৌগোলিক ধারণা, এর বিপরীত ধারণা হলো পাশ্চাত্য।…
