June 2014
-
চুম্বক-পরিধি
রোকসানা আফরীন যদি এভাবেই ছিন্ন-পাতার আগুনে পোড়াও পৃথিবী যদি এভাবেই আততায়ী সময় নিয়ে যায় নক্ষত্র-মদির রাতে যদি কখনো ফিরে আসি আবারো তোমার আঙিনায়, যমুনা-নদী-তীরে তবে তোমাকেও হতে হবে শব্দ-জুয়াড়ি খেলোয়াড় অথবা খিলাড়ি। অজস্র জন্ম শুধু পথে পথে বিফলে কেটেছে অজস্র জন্ম শুধু ক্লান্তিহীন হেঁটে গেছি পৃথিবীর পথে ঈশ্বরের বাগানে আমি এসেছি বারবার ফিরে…
-
নীরবতা
শংকর চক্রবর্তী অনেক নীরবতা সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম তখনও হেমন্ত তেমনভাবে ঝাঁপিয়ে আসেনি বাস থেকে নামার সময় এক সহৃদয় কন্ডাক্টর টিকিটের বদলে আমার হাতে গুঁজে দিয়েছিল নতুন আকাশের খ’সে-পড়া অনেকখানি একাকিত্ব বাড়ির সামনে এসে থমকে দাঁড়াই কিছুক্ষণ আমার পায়ের কাছে কুলকুল করছে চাঁদের আলো আমি ঝুঁকে সামান্য ছুঁয়ে দেখলাম স্মৃতিহীনতার জ্বরে আমার শরীর পুড়ে…
-
পীরবাড়ির মেয়েটি [কবি কাজল চক্রবর্তী বন্ধুবরেষু]
মাকিদ হায়দার তাকাইতেই পারিলাম না। তাকাইলেই তিনি যে আমাকে চিনিতেন, অথবা, চিনিতে পারিতেন এমন কথা বলা মোটেই যে সমীচীন নহে তাহা আমি জানিয়াও তাকাইয়া ছিলাম সেই আবাগীর মুখের দিকে। পীরবাড়ির মেয়েটির একটি না একটি সমস্যা লাগিয়াই আছে, তিনি ইচ্ছা করিলেও চক্ষু মেলিয়া কখনো আমাকে দেখিতে পারিবেন না। কেননা, তাহার পিতা আমাদের…
-
হৃদয়ের এপার-ওপার (রোকসানা বারীকে)
মাহবুব বারী এক আমাদের প্রেম ফুটে উঠেছিল ভোরের আলোর মতো আর তখনই কলঙ্কের ভয়ে তোমার চোখ বনের হরিণের মতো চঞ্চল হয়ে ওঠে, অস্থির হয়ো না বন্ধু, তুমি তো জানো প্রস্ফুটিত গোলাপ থাকে না আড়ালে কখনোই, কেউ বলে, কী সুন্দর! কেউ বলে, কাঁটার কথা! সব কথা থাকুক এসো প্রেমে আর প্রেমে মেতে উঠি, অন্ধ হই আর…
-
দুটি কবিতা
হাফিজ রশিদ খান ঝিরিগুলো শিশুগুলো ঝিরিগুলো সুন্দর সকালে জেগে-ওঠা হাসিমাখা শিশুদের মতো পাহাড়ের স্তনে মুখ গুঁজে আনন্দে হাসবে টলটলে জলে জুমিয়া মেয়ের চুলের বিন্যাসে রংদার ফুলের খুশবু ছড়াবে ঘরের মুখে ফেরার সময় হলে ওর ওই ঝিরিগুলো ওদের বুকের ঠান্ডা জলগুলো জলের ওপর শুয়ে থাকা নম্র ছায়াগুলো ঝোপের দারুণ নীরব মহল থেকে উড়ে আসা কালো লাল…
-
দুটি কবিতা
হাসান হাফিজ ডুবে গেছে কুসুমিত চাঁদ অনুরাগ কী সূক্ষ্ম কোনো ব্যথা? সুনিপুণ লতিয়ে সে ওঠে ভালোবেসে আষ্টেপৃষ্ঠে নিজেকে জড়ায় জাগরণ ভিন্ন কোনো গত্যন্তর নাই যে-ভুবনে ঘুমের বন্দর দূরে অত্যন্ত সুদূরে এ জীবনে ধারেকাছে পৌঁছানো দুষ্কর। অনুরাগে হয়তো কোনো লুকোনো চুরোনো পাপ স্মৃতিভ্রষ্ট ভাপও কিছু সংমিশ্রিত আছে ভালোবাসা পুণ্য জলে তাতে শুদ্ধ পরিস্রুত…
-
চেয়েছিলাম
শাহজাহান হাফিজ চেয়েছিলাম আলো, অনেক অনেক আলো! তার বদলে – আমাদের চারিদিকে এখন জমে উঠছে কেবলই অন্ধকার; বিশাল বিপুল অন্ধকার! এই কি আমাদের ভাগ্যলিপি, জন্মভূমি, জননী আমার? চেয়েছিলাম সুবজ শস্যভূমি, স্রোতময় বেগবতী নদী, উজ্জ্বল আলোকিত মানুষজন। তার বদলে – আমাদের চারিদিকে এখন শুধু শূন্য ফসলভূমি, জলহীন নদীহীন বিবর্ণ দেশ; বিপন্ন মানুষজন! এই…
-
লোনাজল
আলোক সরকার সাদা রঙের বড় ফুল। ভোরবেলায় শুরু করেছিল এখন তার কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। জনমানবহীন বাড়ি নিঃস্বতা বলছে। যাদের থাকার কথা ছিল তাদের থাকা অনাবশ্যক হলো। অনাবশ্যকতা প্রশ্ন হচ্ছে সাদা রঙের একটা ফুল আর সেই অজ্ঞানতা শূন্য ঊর্ধ্বমুখ হয়েছে। সে গ্রাস করতে চাইছে বৃক্ষ, তরুণ মেঘপুঞ্ছ। বারুকলা, কতটুকুইবা করবে। তার…
-
আলো নেই
মোহাম্মদ ইরফান ছাত্রাবাস থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত হেঁটে এসে ক্লান্ত ছেলেটি বাসে উঠেই ধপাস করে বসে পড়ে তার জানালার ধারের সিটে। কাঁধের ব্যাগটি কোলের ওপর নামিয়ে রাখে আপাতত। ছেলেটি বসে যেতেই হন্তদন্ত হয়ে পাশের আসনে এসে বসে একজন ভদ্রলোক। বসার সঙ্গে সঙ্গেই আবার উঠে পড়ে ভদ্রলোক। ছেলেটির কোল থেকে হাতব্যাগটি তুলে নেয়। বিস্মিত ছেলেটিকে কিছু বলার…
-
শ্মশানবন্ধু
মণীশ রায় সহসা চারপাশের শব্দগুলো থমকে দাঁড়ায়। কতগুলো পরিচিত-অপরিচিত মুখাবয়বের অন্তহীন পুতুলনাচ মুখ থুবড়ে পড়ে; শব্দহীন। কালো ভূতের মতো ঠ্যাং-ওলা ক্যামেরাকটি হঠাৎ স্থির হয়ে যায়; মাথার ওপর চুন-সুড়কির ছাদ ফুঁড়ে যে-রংচটা ফ্যানটা ঘরঘর শব্দে অবিরাম ঘুরছিল একটু আগে, আপাতত সেটিও মুখবন্ধ কয়েদির মতো বাতাসে কিছু নিঃশব্দ আঁকিবুকি ছাড়া আর কিছুই করছে না; চারপাশ জুড়ে এবড়ো-খেবড়ো…
-
প্রাচ্য-চিত্রকলার অভিযাত্রা
জাহিদ মুস্তাফা সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে প্রাচ্যকলার এক গুরুত্ববহ যৌথ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পধারাকে তার সীমিত পরিসর অর্থাৎ ফুল-পাখি-লতা-পাতা আর রমণী-অবয়বের বৃত্ত থেকে বের করে মননশীল আধুনিক নিরীক্ষায় তুলে আনতে তৎপর হয়েছেন প্রাচ্য ঘরানার শিল্পী-শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাঁরা গড়ে তুলেছেন ওরিয়েন্টাল পেইন্টিং স্টাডি গ্রুপ। তাঁদেরই চতুর্থ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন বাইশজন শিল্পী। প্রদর্শনীর…
-
একটি প্রদর্শনী সম্পর্কিত কিছু বাস্তবতা
জাফরিন গুলশান বাংলাদেশের সমসাময়িক শিল্পচর্চার ধারাবাহিকতায় নানা দিক থেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রদর্শনী শিল্পকলা একাডেমিতে হয়ে গেল। সম্ভবত সর্বশেষ ১৯৮২ সালের পর ২০১৪-তে জাতীয় ভাস্কর্য-প্রদর্শনী আয়োজিত হলো গত ১১ থেকে ২০ মে পর্যন্ত। প্রায় দুই দশকে আর কোনো ভাস্কর্য-প্রদর্শনী জাতীয়ভাবে আয়োজিত হয়নি। এত বছর পর এ-উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো – এ-বিষয়ে সকলের জিজ্ঞাসা জাগা খুব…
