March 2013
-
একটি মেয়ে
আফসার আমেদ ॥ ২৫ ॥ একদল সন্ন্যাসিনীর সঙ্গে সে চলেছে সমাজসেবা করতে গ্রাম-গ্রামান্তর পেরিয়ে। একইরকম শাড়ি পরেছে তারা। কণ্ঠে সুন্দর একটা গান গাইছে। পথশ্রমে ক্লান্ত হচ্ছে না। খালি পা, িস্নগ্ধ নিসর্গ। মানবসেবার গান। কে যেন তাকে বিরক্ত করে। তার সঙ্গে কথা বলতে চায়। গা ধরে নাড়ায়। ‘দিদি, দিদি।’ বুঝতে পারে সেঁজুতি, সে ঘুমিয়ে আছে। কে…
-
নদী কারো নয়
সৈয়দ শামসুল হক ॥ ২৪ ॥ চা আনতে কন্ট্রাক্টর সাইদুর রহমানের সমুখ থেকে উঠে যায় কুসমি। – আপনে বইসেন খানিক, চা নিয়া আসি। বিস্কুট কি দেমো? তিনি হাত নেড়ে অস্পষ্ট একটা ভঙ্গি করেন, যার অর্থ দিতেও পারো, নাও পারো। সাইদুর রহমানকে আজ গল্পে পেয়েছে। কুসমি তাঁর দিকে খানিক নজর ফেলে দেখে নেয়। মনে হয় অনেকক্ষণ…
-
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের অজ্ঞাতবাস
শহীদ ইকবাল আমাদের অন্যতম কথাশিল্পী কায়েস আহমেদ মত দেন : ‘অভিজ্ঞতা রূপান্তরিত হয় উপলব্ধির সারাৎসারে, উপলব্ধি লেখকের চেতনায় আনে নৈর্ব্যক্তিকতা, এই নৈর্ব্যক্তিকতাই বাস্তবের উপরকার সমস্ত বায়বীয় আবরণকে ছিন্ন করে দেয়।’ আর উল্ফ লেখেন ‘the proper stuff of fiction’ does not exist; everything is the proper stuff of fiction, every feeling, every thought; every quality of…
-
ক্যারল অ্যান ডাফির কবিতা
তিতাশ চৌধুরী ক্যারল অ্যান ডাফি এক ভিন্ন মেজাজের কবি। তাঁর অধিকাংশ কবিতাই সহজ, কিন্তু হৃদয়ঙ্গম কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে ই ই কামিংস অপেক্ষাও জটিল ও দুরূহ মনে হয়। আসলে তাঁর কবিতা উপলব্ধি কিংবা অনুভূতিজাত; ব্যাখ্যা করে বোঝানো যায় না। ডাফির কবিতার একটি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি আছে, যা তাঁর সমসাময়িক কবি থেকে তাঁকে পৃথক করেছে। তিনি মূলত আলাদা…
-
নির্বস্তুকতার ভিতর-বাহির
আবুল মনসুর বিংশ শতকের ত্রয়োদশ বছরে এসে আমরা এমন প্রত্যয়ের দিকে ঝুঁকছি যে, সৃজনকলার সকল শাখায় এ-শতাব্দী ভরপুর থাকবে বহুবাচনিক বিবিধ ক্রিয়াকলাপে। দৃশ্যকলার জগতে বিগত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকেই চেতনাগত রূপান্তরের যে-প্রক্রিয়া সূচিত হয়েছে তাতে এটি প্রতীয়মান যে, প্রতিনিধিত্বশীল একটি শিল্পধারার মাধ্যমে কোনো একটি সময়খণ্ডকে চিহ্নিত করার দিন অবসিত হয়েছে। তবে এর ফলে ‘যে-কোনো কিছুই…
-
অলিম্পিকের পথে
সপ্তর্ষি হোড় চোখ দুটো সুখপানিতে থইথই করছে মুমুতাজের। ভারতে ক্রীড়াজগতের প্রশিক্ষকদের সেরা সম্মান দ্রোণাচার্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ডক্টর সাবির আলি খান মাত্র দেড় হাত দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছেন! তাঁর তীক্ষè চোখ দুটো থেকে জ্যোতি বেরিয়ে এসে মুমুতাজের পায়ের ক্ষতে আরোগ্যের প্রলেপ লেপে দিয়েছিল। তেজি ঘোড়ার চিঁহির মতো তীব্র ও বিদ্যুতের তরবারির মতো ধারালো তাঁর কণ্ঠস্বর মুমুতাজের চেতনাকে সম্পূর্ণ…
-
বেড়া
মোহাম্মদ ইরফান তোক কইছি লালীর ন্যাজে ন্যাজে থাকপি। তুই ওক পানিত নামালি কেন হারামজাদি। আমি এখন কেঙ্কা করি? এত টাকা দিয়া কিনলু? ওর দুধ বেচি আমরা খাই, কিনার টাকা শোধ দিই। এহন আমি কী করি?’ করিমের চিৎকারে ছুটে আসে নসিমন। মেয়ে করিমনের চুলের মুঠি ধরা করিমের হাতে। একনাগাড়ে বকাবকি করে যাচ্ছে করিম। করিমনের পাংশু মুখ…
-
জলভাজা উপাখ্যান
শ্যামল ভট্টাচার্য কাঁঠালগাছের তলা অবধি হেঁটে এসে দেখি ভবানন্দ আর নেই। এ কী অবাস্তব ব্যাপার! নিরূপমা চোখ কচলান। জ্বলজ্যান্ত মানুষটা হাঁটুর ওপর ওঠানো ধুতি আর ওঁর পছন্দের আকাশি রঙের ফতুয়া গায়ে হেঁটে আসতে আসতে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেন! আগের দিন বিকেলে গোবর ও আঠামাটি দিয়ে লেপা ঘরের দাওয়া তখনো শুকোয়নি। অথচ পিঁপড়েরা ইতোমধ্যেই সারি-সারি ব্যস্তসমস্ত। লাল-লাল,…
-
একজন নির্গুণ মানুষের গল্প
আহমদ বুলবুল ইসলাম প্রতিদিনের ভোর আমার একইরকম। কর্কশ আর নিরানন্দ। জীবনধারণের গ্লানি আর দুর্ভাবনায় ভরা। তবু ভোর আসেই শান্ত-সজীবতায়। আহা বেঁচে থাকা! ক্লান্ত, ক্লিষ্ট ভোর। তবু কী মধুর! দুঃখের দিনার দিয়ে গাঁথা, ঠুনকো সুতোয় তারা ঝুলে থাকে। বাড়িওয়ালার গম্ভীর, ক্রুদ্ধ মুখ, সহকর্মীদের ধূর্ত চোখ ব্যঙ্গে বাঁকা, পাওনাদারদের বিদ্রুপ ভরা রাগী চেহারা আমার প্রতিদিনের পাথেয়। তবু…
-
নতুনের ঘ্রাণ
শামস আল মমীন দিনের আলোতে সবকিছু দেখা যায়, এতেই আমার যতো ভয়। একবার এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে মুখ ফসকে বলেই ফেলি, আমি তোকে খুন করতে এসেছি, তারপর হাসতে হাসতে আমরা আবার বন্ধু হয়ে যাই। কিন্তু ওসবে আমার কিছু যায় আসে না। বরং চিরকালীন অভ্যাসে চিড় ধরে মানুষেরা চিরহরিতের গন্ধ নেবে এটাই স্বাভাবিক। গাছেরা সর্বত্র আকাশমুখী;…
-
আদিম কোরাস
সুজন হাজারী নদী জলে নেমেও ছোঁবে না জল একাদিক্রমে পার হবে নদীমাতৃক স্বদেশে প্রবাহিত জলধারা, এ কেমন প্রতারণা! জলের প্লাবনে ভাসবে ক্ষেতের ফসল গরুছাগল সাংসারিক যাবতীয় পণ্যাদি খড়কুটোসমেত মড়ালাশ। জনারণ্যের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে নিরপেক্ষতার বারুদকাঠি জ্বেলে রেখে জেদবশে বড় বেশি মূর্খ, ভণ্ড কাপালিক। নিজেকে ধোয়া তুলসীপাতার আড়ালে পরিমাপক পারদের তলদেশ ছোঁয়া, ভনিতাশ্রয়ী নিরেট সাক্ষী গোপাল।…
-
দুজন সুবর্ণ আত্মঘাতী
জাহিদ হায়দার ‘মেয়েটি কি নেমে যাবে পরের স্টেশনে?’ ‘ছেলেটি কি নেমে যাবে পরের স্টেশনে?’ ‘নামলো না, কতদূর যাবে?’ ‘ভালো লাগলো, ছেলেটি নামলো না।’ ‘ও কি দেখছে চলিষ্ণু গ্রাম, মৃত নদী?’ ‘ও কি দেখছে আকাশ, হেমন্তের শূন্য মাঠ?’ ‘ওর কি প্রেমিক নেই? প্রেম ছাড়া সুন্দর কখনো থাকে একা?’ ‘ওর কি প্রেমিকা আছে? মনে হয় আছে।’ ‘বই…
