November 2013

  • জীবনানন্দ

    সরকার মাসুদ চিল নয় জীবনানন্দ উড়ে যাচ্ছে সাঁকো পার হয়ে সাঁকোর তলপেটে শ্যাওলাফাটল! আমি রেটিনার অন্ধকারে আয়না মেলে ধরি বাতাসের ঝিলমিল ঢেউয়ে জীবনানন্দ ভাসে শূন্য নীল বহুরূপী সুদূর আকাশে ব্রিজের দৃশ্যের দিকে খোলা জানালাটি বন্ধ হলে পড়ন্ত আলোর শোভা শুষে নেয় মাটি!   উঠের পিঠের মতো সাঁকো মনে রাখে মানুষের ভাঙাচোরা মুখ ভেতরের চোখ গভীর…

  • তোমাকে ঘিরেই

    দুলাল সরকার   তোমাকে ঘিরেই যত স্বপ্ন জীব অগ্নি ঘুম, ক্লান্তিহীন পথহাঁটা তোমাকে ঘিরেই এতো জীবনের প্রতি নিবিড় আকর্ষণ, যত মেধাবী মনের ফোটা – সোহাগী রোদের গান, চাদর-জড়ানো ওম যত ঝর্ণার স্বর, পাহাড়ি পাখির উদ্দাম ওড়াউড়ি তোমাকে ঘিরেই যত হরিণীর চিত্রল বনচর অর্জিত সফলতা, যত পাল তোলা নায়ের বাদাম যত স্বপ্ন দেখা, যত তারা ফোটা…

  • একদিন যাবো

    মৃণাল বসুচৌধুরী ইতিহাসে অবিশ্বাসী নতুন প্রজন্ম এসে ডেকে গেল আবিরখেলায় পাখিদের অসম উড়াল ঋতুচক্রে অন্তহীন নিঃসঙ্গ ভ্রমণ অভিজ্ঞান পরিদের মায়াময় হাসির মুগ্ধতা শরীরের আদিম সৌরভ ঘুমের ওষুধ কিংবা সামুদ্রিক লোভ সমস্ত সরিয়ে রেখে যাবো বলে পা বাড়াতেই ছুটে আসে কলাবতী সাপ বেজে ওঠে সুরেলা নূপুর   যাবো অলৌকিক নৃত্যকলা উন্মুখ সাঁতার অসমাপ্ত কান্না আর স্বপ্নের…

  • বাংলাদেশ

    শামস আল মমীন যদি তুমি কুমিরের সাথে বসে নাওয়া-খাওয়া করো, সাবধান! শেষে তার খাবার না হয়ে যাও। এই ভয়ে, মোহে ও সংশয়ে ডুবে আছো তুমি; হাতে সমৃদ্ধির হাতকড়া। মুনাফার ভারে কুঁজো বহুজাতিক সংস্থার মনভোলা বিজ্ঞাপন, ঘাম ও সংগ্রাম রঙিন প্রচ্ছদে লোভনীয় আরো… বিলবোর্ডে পারদের মতো পিচ্ছিল অক্ষরগুলো, জ্বলে-নেভে কখনো নীলাভ তার আলো কখনো শঙ্কিত লাল…

  • অবাক! অবাক!!

    অরুণাভ সরকার পৃথিবী বিস্ময়ে ভরা ব্যাবিলনের বাগান আর মস্কোর ঘণ্টা মিশরের পিরামিড মমি করা সুন্দরীর দেহ সবই খুব বিস্ময় জাগায় বিস্ময় জাগায় নদী সাগর, পাহাড়, বনভূমি সমস্ত পৃথিবী ভরা এরকম অপার বিস্ময় তবু প্রশ্ন উঠেছিল, আপনার বিস্ময়ে কীসে? যুধিষ্ঠির বলেছিলেন, মরণশীল মানুষও নিজের মৃত্যুর কথা ভাবে না কখনো। অনেকেই ভাবে না, সত্য কিন্তু কেউ কেউ…

  • শুধু একজন জানে

    এই বাড়িতে দুটো পুজোর ঘর আছে, একটা বছরের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। শুধু ওপার বাংলার দিদা এসে এই বাড়িতে থাকলে সেটা খোলা হয়। সেই ঘরটাতে কোরান রাখা থাকে বারোমাস, ওইপারের দিদা ঠাট্টা করে বলে, ‘এ কি নারায়ণশিলা যে তুলে নিয়ে যাবো আবার না থাকলে ফেলে রাখা যাবে না।’ আজ সেই বিখ্যাত গায়ক মানুষটি মারা গেছেন,…

  • সহমরণ

    সুশান্ত মজুমদার  রোজ একঘেয়ে কয়েক কিসিমের কাজ সেরে ঘুণ-জর্জর শরীর টেনে ছলেমান টিনের ছাপরায় যখন ফেরে, হাঁটুর জোর তখন নস্যাৎ হওয়ার উপক্রম। পেরেশানের চাপে হুমড়ি খেয়ে পড়ে মুহূর্তে যেন গুঁড়ো হবে সে। কাঁহাতক আর সহ্য হয়, দুদন্ড জিরিয়ে নেওয়ার ফুরসত কই! সময়-অসময় নেই, দৌড়াও বাজারে, ব্যাপার কী, মাছ-গোশত-তরকারি হেন কিছু বাকি নেই, সদ্য সে কিনে…

  • দেশে বিদেশি

    সুদর্শন সাহা  একটা আধবুড়ো লোক, মাথায় কাঁচা-পাকা চুল, গায়ে চাদর জড়ানো, জবুথবু হয়ে পুলুর সামনে দাঁড়িয়ে। ওকে দেখে কেমন চেনা চেনা মনে হচ্ছে, আমি পুলুকে বললাম, হ্যাঁ রে, ও দয়াল না? পুলু অবাক হয়ে বলল, হ্যাঁ, তুই কী করে চিনলি? আমি বললাম, কেন চিনব না, ওকে তোদের বাড়িতে এতো দেখেছি, তখন ও হাফপ্যান্ট পরত, সদ্য…

  • ধনেখালিতে একদিন

    বুলবন ওসমান  আচ্ছা, সাহানার বর্তমান চেহারাটা কেমন হবে? কিছুতে মিলিয়ে উঠতে পারে না ফজল। ওকে শেষ দেখেছে সেই মুক্তিযুদ্ধের কালে, ১৯৭১ সালে যখন ইয়াহিয়ার গণহত্যার তাড়া খেয়ে ওরা হুড়মুড় করে এক কোটি শরণার্থী পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের অন্যান্য রাজ্যে প্রবেশ করেছিল। বড়খালার ছেলেমেয়েরা তখন প্রায় সবাই বড়। সাহানাটা সবার ছোট, স্কুলে পড়ছিল। তখন কত হবে ওর…

  • গল্পের কবি জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত

    কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত কায়মনোবাক্যে গল্পকার, – গল্প বিনে তাঁর আর আরাধনা নেই। সেই মানুষটি এখন ৭৫-এর কাছাকাছি চলে এসেছেন, জন্ম তাঁর ১৯৩৯-এ! তিনি গল্পসৃজনে মত্ত হন ষাটের দশকের একবারে গোড়া থেকেই, – দুর্বিনীত কাল (১৯৬৫), বহে না সুবাতাস (১৯৬৫), সীতাংশু, তোর সমস্ত কথা (১৯৬৯) নামের গল্পগ্রন্থ তখনই প্রকাশ করেন। তারপর লেখাজোখা থেকে তিনি দুই…

  • রশীদ করীমের একটি অপ্রকাশিত চিঠি, উত্তম পুরুষ এবং এক দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের আখ্যান

    হামিদ কায়সার চিঠিটাই আগে পড়ে নেওয়া যাক, তারপরই না হয় প্রাসঙ্গিক কথা হবে। যে-চিঠির কথা বলছি, তা লেখা হয়েছিল ১৯৫৮ সালে, ঢাকা থেকে। আর পৌঁছেছিল কলকাতা। যিনি লিখেছিলেন, সেই রশীদ করীম আজ আর আমাদের মাঝে নেই। এই নভেম্বরের ২৬ তারিখে তাঁর মৃত্যুর দুবছর পূর্ণ হবে। আর কালের খেয়ালেই কিনা, চিঠিটা যাকে পাঠানো হয়েছিল, সেই সুস্মিতা…

  • রশীদ করীমের ছোটগল্প : একটি সাধারণ বিবেচনা

    সৌভিক রেজা একটিমাত্র ছোটগল্প-গ্রন্থ, আর তারই ভূমিকায় রশীদ করীম তাঁর গল্প-রচনার নেপথ্যের অনুপ্রেরণা হিসেবে এক সুন্দরী ‘বাল্যসখীর’ কথা উল্লেখ করে জানিয়েছিলেন, ‘যদ্দুর মনে করতে পারি, বড়দের জন্য আমার প্রথম গল্পটি ছাপার অক্ষরে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে সওগাত পত্রিকায়।… পূর্বাশা, সাপ্তাহিক মোহাম্মদী – এইসব পত্র-পত্রিকায় আমার গল্প বের হচ্ছে।… ‘একটি মেয়ের আত্মকাহিনী’ – সেই একটি…