February
-
জেগে থাকে অপ্রতিরোধ্য শাহবাগ
ফারুক আলমগীর তোমাদের যাত্রা শুভ হোক প্রতিদিন প্রতিক্ষণ হেমন্তে বসন্তে শীতে কী বর্ষার জলে থইথই রৌদ্রকরোজ্জ্বল শরৎ কী গ্রীষ্মের নিদাঘ দুপুরে তোমরা রচনা করো দৃঢ়-প্রতিরোধ প্রতিটি ঋতুতে তোমরাই আমাদের স্বপ্নে সুপ্তিতে সতত তোমরাই আমাদের মৃত্তিকার আকাশে বাতাস তোমরাই আমাদের চন্দ্র-সূর্য নক্ষত্রের আলো তোমরাই আমাদের সপ্তর্ষিমন্ডল ধ্রুবতারা তোমরাই আমাদের দিবানিশির দিকদর্শন তোমরাই আমাদের ভালোবাসার…
-
হাঁস চলার পথ
উৎপলকুমার বসু ভুলে যাই নিজের ঠিকানা। ছোট একটা বাড়ি ছিল। কিছু দূরে নীলকুঠি। গুটিকয় তালগাছ আর কিছু লতাপাতা জড়িয়ে আমার স্থাপত্যের সামান্য ঘোষণা। ছিল হাঁস। বাল্যের পাঠ্যবই থেকে নেমে আসা উট ও বিদেশি গাধার দলে আমি একা ক্রীতদাস – আপাতত স্থলপদ্মের বনে ঘুমিয়ে রয়েছ।
-
এটাও একটা প্রেমের গল্প
আনিসুল হক হিমেল আশরাফ এসএমএস করেছে। স্যার, আমি আপনার রুমে। আমি সম্পাদক সাহেবের সামনে বসে আছি। আমাদের অফিসের তিন তলায়। জরুরি মিটিং হচ্ছে। এর মধ্যে এই এসএমএস। আমি মোবাইল ফোনটা টেবিলের নিচে নামিয়ে সবার অগোচরে এসএমএস করি : ১০টা মিনিট বসো। আসতেছি। তারপর বেমালুম ভুলে যাই হিমেলের কথা। মিটিং থেকে বেরোই দেড় ঘণ্টা পরে। রুমে…
-
অন্ধ-পাখি উড়ুক
অমর মিত্র স্ট্রেইট আইল্যান্ড থেকে লোকটা একটি পানসি করে আর কয়েকজন গ্রেট আন্দামানি কিংবা জারোয়া উপজাতির সঙ্গে কি এই লঞ্চে এসে উঠেছিল? লঞ্চ উপজাতিদের সেই দ্বীপে নোঙর করেনি। অনেক দূরে সমুদ্রের ভিতরে দাঁড়িয়েছিল। প্রশাসন বিলুপ্তপ্রায় ওই জনজাতির কাছে আমাদের নিয়ে যেতে চায় না। স্ট্রেইট আইল্যান্ড থেকে মানুষ তুলে এবং ওখানে মানুষ পাঠিয়ে দিয়ে যাত্রা করতেই…
-
বৃষ্টির ছাট
মঈনুল আহসান সাবের মৃণ্ময়ী খুব অবাক হয়ে গেল যখন সাহান বলল রতন আদনানকে সে চেনে। সাহান অবশ্য নিজেও অবাক, সে বলল – গড, আমার এতো সময় কেন লাগল! সে বলল – মৃ, তুমি এক কাজ করো, তুমি চাকরিটা ছেড়ে দাও। রতন আদনান সাহানের সম্পর্কের মামা শহীদ রেজা টুকলুর বন্ধু। সাহান লোকটাকে দেখেছেও বারদুই। হয়তো কথাও…
-
ভুবনায়নের এক অজানা কাহিনি
কার্তিক লাহিড়ী অনীশ শুরুই করতে পারছে না কোনো লেখা, মাথায় গিসগিস করছে একগাদা প্লট, বিষয়, চরিত্র, ঘটনা, কাকে ধরে কাকে ছাড়বে, একটাকে ধরতে গেলে আরেকটা টপকে চলে আসে সামনে, সেটাকে কব্জা করতে গেলে আরেকটা, অনীশ নাজেহাল হয়ে যাচ্ছে, তাকে তো লিখতে হবে অন্তত দু-তিনটে, কিন্তু করবে কী? এই যদি অবস্থা হয় তখন হাল দেওয়া ছাড়া…
-
অমিয় চক্রবর্তীর চিঠি : নরেশ গুহকে
পূর্বলেখ ও টীকা : ভূঁইয়া ইকবাল বিশ শতকের তিরিশোত্তর আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-৮৬) ও পঞ্চাশের দশকের দুরন্ত দুপুরের কবি নরেশ গুহর (১৯২৩-২০০৯) মধ্যে পত্রালাপের সূচনা ১৯৪২-এ। তাঁকে লেখা অমিয় চক্রবর্তীর চিঠি সম্পর্কে নরেশ গুহ নিজেই জানিয়েছেন, ‘‘১৯৪২ থেকে শুরু করে ১৯৮৬ সালে তাঁর প্রয়াণকাল পর্যন্ত কবি অমিয় চক্রবর্তী আমাকে দুই…
-
নজরুল-প্রসঙ্গে শওকত ওসমান একটি অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার
আবুল আহসান চৌধুরী কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) মেজাজে-মননে ছিলেন উদার-আন্তরিক-মজলিশি চেতনার সক্রিয় সামাজিক মানুষ। তাঁর ব্যক্তিত্বের সম্মোহনে সাহিত্য-সংস্কৃতি-সংগীত-রাজনীতি ও অন্যান্য পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর অন্তরঙ্গ সম্পর্ক রচিত হয়। সহজেই মানুষকে আপন করে নেওয়ার এক সহজাত প্রবৃত্তি ও অসামান্য ক্ষমতা ছিল নজরুলের। তাঁর ভক্ত-অনুরাগী-সুহৃদ-শুভার্থীর সংখ্যা ছিল অগণন। এই নজরুল-মন্ডলীর সঙ্গে যেমন নজরুলের জ্যেষ্ঠ ও সমবয়সীরা যুক্ত…
-
কাছের মানুষ অন্নদাশঙ্কর
সুরজিৎ দাশগুপ্ত আমার তখন সেই বয়স যখন নরনারীর রহস্যময় সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল জাগতে শুরু করে। পড়ি জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে। হাতে আসে অন্নদাশঙ্কর রায়ের আগুন নিয়ে খেলা। পড়ে তাঁর আরো বই পড়ার জন্য উৎসুক হই। সহপাঠী গোপাল চক্রবর্তীর বাড়িতেই ছিল তেলিপাড়া লাইব্রেরি। গোপাল এনে দিলো অন্নদাশঙ্করের দুখানি বই, জীবনশিল্পী ও পথে প্রবাসে। উপন্যাস নয়, একটি প্রবন্ধের…
-
জাদুকরের সিন্দুক
ভগীরথ মিশ্র পঞ্চমীর বিকেলে লোকজন ও মালপত্তরের বিশাল সম্ভার নিয়ে পাঁচবিবির গড়ে পা রাখে জাদুকর হৃদয়নাথ। তখন গড়ের সদর মহলের টানা বারান্দার থাম ও পিলপাগুলোর শরীরের দিনের আলো ফিকে হতে শুরু করেছে। আর কিছুক্ষণ বাদেই ওই ফিকে জায়গাগুলোতে অাঁধারের ছোপ পড়তে শুরু করবে। আর সূর্যাস্তের পর ওই অাঁধার আরো নাছোড় হয়ে লেপ্টে যাবে থামগুলোর গায়ে।…
-
আত্মপ্রতিকৃতি : স্মৃতির মানচিত্র
সৈয়দ জাহাঙ্গীর শৈশব-কৈশোর মায়ের কাছে শুনেছি আমরা ছিলাম চার ভাই আর এক বোন। বোনটা মারা যায় মাত্র ১২ বছর বয়সে। ওর মুখে একটা ফোঁড়া হয়েছিল। কুলগাছের একটা কাঁটা লেগে ফোঁড়াটা ছিঁড়ে গেলে টিটেনাস হয়ে সে মারা যায়। সে-সময় টিটেনাসের লাগসই চিকিৎসা ছিল না। এক ভাই মারা যায় দু-তিন বছর বয়সের সময়। আমরা তিন ভাইয়ের মধ্যে…
-
শান্ত শান্তি
আলোক সরকার একটা আলো একেবারে অন্য রঙের আলো। এইরকম মাঝে-মাঝে হয়। নারকেলগাছের পিছনের আলো জামরুলগাছের মাথার উপরের আলো – কতবার একেবারে অন্যরকম। সেই অন্যরকম তা আছে, চারদিক ভরে আছে। পথ চলতে চলতে ভাবি কতদিনের পথ-চলা। ধুলো হঠাৎ অন্য আলোর ধুলো। হাওয়া হঠাৎ অন্য আলোর হাওয়া। এমন একটা অন্যরকম প্রশ্নই…
