February

  • এখনো পারনি

    অরুণাভ সরকার হয়তো তুমিই পার এই পৃথিবীকে বরফের মতো সাদা মানবতায় ঢেকে দিতে তখন জেএমবি সদস্যরা আর রক্তাক্ত করবে না উঠোন গঙ্গার প্রবাহ নিয়ে বিতন্ডা হবে না কাশ্মীরে হবে না কোনো রক্তপাত করাচিতে খুনোখুনি লেবাননে পড়বে না আর বোমা সমস্ত ট্রিগার থেকে ফিরে যাবে সন্ত্রাসী আঙুল কোনো নাইন ইলেভেন হবে না কোথাও বাগদাদে বন্ধ হবে…

  • অনস্বীকার্য

    আলোক সরকার কত সহজেই চোখে জল আসে। ছায়া সরে গিয়ে আর একটা ছায়া হয়েছে। ওর সারা গায়ে ছলছল চোখের জল, তুমি তা টের পেয়েছ, জামরুলগাছ? জামরুলগাছ কিছু বলে না, সে ধূসর হয়েছে – তার অাঁধার ঘরে ফেরার সময় হলো, সে ঘরে ফিরবে – ঘরে-ফেরা কত ঠান্ডা, কত বড় একটা ঝিমঝিম আস্তে-আস্তে অপ্রমাণ হওয়া। রাত্রি নামার…

  • অনিচ্ছুক লাশ

    শিহাব সরকার তিরিশে কে ডুবে যেতে চায় কে হারাতে চায় গনগনে আগুন-তিরিশে? কান পাতলেই সমুদ্র অথবা নারী আকাশে ওড়ে কত ঘুড়ি কত শালিক প্রিয় গানগুলো এখনো খুব শোনা যায়। তবু পাতাল থেকে কেউ ডাকে নিঃশব্দে ডুবতে থাকে তীব্র যুবকেরা, নদীতীরে ঝলমলে জামা, কলম-তুলি মধ্যরাতে ডাকবাংলোর দরজা খোলা যে গেছে সে আর ফিরবে না। তারপর? তারপরও…

  • অঘ্রান, ধান ও সিদ্ধ ডিম

    হাবীবুল্লাহ সিরাজী তখন অঘ্রান। সিদ্ধ হয় ধান খড়ির আগুনে ফোটে জালা গুঁজে দেয়া ডিমটিও ফোটে – নাকে ঘাম, ভেজা ধানে হাই ওঠে বাষ্পে-বাষ্পে সিদ্ধ হয় নতুন পরান আরো সিদ্ধ হাঁসেদের আনকোরা ডিম তখন অঘ্রান। আজও অঘ্রান। গুদামে ধানের ফুর্তি ইঁদুর ধরার কল আর নব্য খাড়ুমল ফষ্টিনষ্টি করে – সিদ্ধযন্ত্র বমি করে ভাতের সকাল হাতে-মুখে গন্ধ…

  • কবিতা ২০১২

    মাকিদ হায়দার (হাসান আজিজুল হক শ্রদ্ধাভাজনেষু) আমি যখন স্কুলছাত্র তখন একদিন ফুফুর বাড়িতে বেড়াইতে গিয়া শুনিলাম, পাড়ার হুজুর ফুফুকে বলিতেছেন, আপনার বাড়ির উঠানে জিনের ছায়া পড়িয়াছে। মা, বোনেরা সন্ধ্যার পরে যেন ঘরের বাহিরে না যায়, সকলেই যেন সাবধানে থাকে। ইহার কিছুদিন পরেই শুনিলাম ছোট ফুফুর মেয়ে হালিমা বুবু বাড়িতে নাই। তাহাকে নাকি জিনে লইয়া গিয়াছে।…

  • ঘনমানুষ

    খোন্দকার আশরাফ হোসেন আটটা তিরিশে ক্লাস, তিনটে পঁচিশে সভা সাতটা চল্লিশ ইন্তিরি বিন্তিরি ক্লাব ইশ্কাপনের বিবি আর তিন টেক্কা নয়টা পঁচিশে টিউটো, এগারোটায় রিয়েল শ্রেণির কক্ষ টালমাটাল জাহাজের পাল, বুড়ো নাবিকের রুখো চামড়া নিবদ্ধ কপিশ চোখ বাজাবে ছুটির ঘণ্টা বারোটায়, আবার রিয়েল থেইক্কা সাররিয়েলের নবযাত্রা, আবার ক্যাম্পাসের কাঁঠালিচাঁপার ডাল শিস দেয়, একটা তেত্রিশে উত্তরার বাস…

  • কে চলে যায়

    ইকবাল হাসান হঠাৎ দেখি আকাশ থেকে তাকিয়ে আছেন কেউ আকাশজুড়ে শীত বিকেলে অবাক মেঘের ঢেউ নিজের ভ্রমে নিজেই মরি তাকিয়ে নেই কেউ ঘরের ভেতর গানের পাখি বাইরে তুষার ঝড় কে চলে যায় আর কে থাকে আমার বুকের ’পর! থান্ডার বে, কানাডা ১৪.১২.১১

  • মল্লিকা

    বীথি চট্টোপাধ্যায় এরকম শাড়ি মল্লিকা খুব পরতো পাথরের মালা, কানে মিনে করা দুল, মল্লিকা সে কে? আমার কাছে কী ছিল ওর মৃতদেহে দিতে পারবো না ফুল। আমি পারবো না। যারা পারে তারা পারে ও আমার কে? যে এতোখানি জুড়ে থাকে, কেউ নয়, শুধু ওই এমন এক মেয়ে এখনো জমিয়ে রাখে এ জগৎটাকে। এখনো জমিয়ে বসে…

  • ফুরিয়ে যাওয়া গল্প

    সাজ্জাদ আরেফিন মুখোমুখি দূরত্বের অনেক বাইরে দুজন মুখোমুখি বসে – চায়ের কাপ শূন্য একটি মাছি বসতে বসতেও বসে না চোখে তাচ্ছিল্য ফুটিয়ে চলে যায় – দুজন মুখোমুখি এক ফুরিয়ে যাওয়া গল্প –

  • শিস

    শেলী নাজ প্রেমিক আঙুল ছিল পর্যটক আমার শরীরে কী প্রবল নেশা অথচ বারণ ক্ষীর জমে মন্থনের পর, চামড়ায় তীব্র শরে বৃত্তের বাইরে চাঁদ, গনগনে জোছনার ফেনা ডানায় পাথর বাঁধা, কলঘরে রাধা, দূরে বাঁশি ছারখার যে জাহাজঘাট তাতে মাস্ত্তলের প্ররোচনা থাকি আনতনয়না, অধোবদনের লজ্জামাখা গুটাচ্ছি পিরান, ভয়ে ফেরাই সংকেত সমাজে প্রহ্লাদশ্রেণি, নেশাভান্ড আম্রপালি ঢাকা জানালা গলিয়ে…

  • কুঁড়ে

    মোহর চট্টোপাধ্যায় যার যা ইচ্ছে বলুক মাটিতে ঝান্ডা পুঁতে সবচেয়ে আরাম লাগে খেতে আর একটু শুতে একলা খেলেই হবে? খামোখা ডাকবো কাকে? কুঁড়েরা এই দুনিয়া নিজেদের মুঠোয় রাখে। মুঠোতে হিসেবমতো পৃথিবী ঠিক ধরে যায়। বাইরে যাবার মতো আর আমার সময় কোথায়?

  • শ্রীমধুসূদন

    মাহমুদ কামাল আমার ভাষাকে নিয়ে ঘটে গেছে রক্তপাত রাজপথে। যখন তৈরি হয়নি সংজ্ঞা উত্তরাধুনিক তারও আগে শ্রীমধুসূদন আপনি আধুনিক আমাদের কণ্ঠশীলনে যে ধ্বনি উচ্চারিত তার ভিত, ‘হে বঙ্গ ভান্ডারে তব বিবিধ রতন।’ অসংকোচ প্রকাশের সৃষ্টিশীলতায় নবীকৃত ঈষিকার সৃজন-কৌশলে চিরন্তন ওই ভাষা প্রাণ পেয়ে জ্বলে ওঠে শব্দবিভূতি। অলোক-মৌলিক তৃণে হেঁটে এসে আমাদের আত্মানুসন্ধান শ্রীশ্রী দত্ত কবি…