March
-

প্রকৃতির রংছবি
দলবেঁধে কোথাও যাওয়া আনন্দের উৎসব। একা একা ঘুরে বেড়ানো উৎসব হয় না। তখন বিচ্ছিন্ন জীবনের আর্তনাদ ধ্বনিত হয় বুকের ভেতর। ভালো লাগার আনন্দ নষ্ট হয়। সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া বুনোপাখিও আনন্দের জোয়ারে ভাসায় না। সেজন্য আশিকা কোথাও একা যাওয়ার প্রোগ্রাম মেনে নেয় না। গাছের নিচে চুপ করে বসে থাকলে বুকের ভেতরটা জমাট হয়ে যায়। পাথরের…
-

বঙ্গবন্ধুর চলচ্চিত্রপ্রীতি প্রসঙ্গে
সংস্কৃতিবান মানুষ হিসেবে শুধু চলচ্চিত্রশিল্প নয়, শিল্পের সকল শাখার প্রতিই বঙ্গবন্ধুর উৎসাহ ছিল। তবে বর্তমান রচনায় শুধু তাঁর চলচ্চিত্রপ্রীতি নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কিছুটা ধারাবাহিকভাবে তাঁর চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টতা অনুধাবন করার চেষ্টা করেছি। শুরুতেই বলা দরকার যে, বক্ষ্যমাণ রচনার বেশিরভাগ অংশই আমার প্রকাশিতব্য গ্রন্থ বঙ্গবন্ধুর সংস্কৃতি ভাবনা, পূর্বে প্রকাশিত কয়েকটি বঙ্গবন্ধুর চলচ্চিত্রভাবনা বিষয়ক প্রবন্ধ ও অন্য…
-

পেনসিলে লেখা খবর
এখন আমি ঘরবন্দি। মশারির ভেতরেই যেন বন্দি। এই শহর, এই রাজ্য, এই দেশ, প্রবাস সবই যেন আমার ছ-সাত বছর বয়সে মশারির ভিতরের দিনযাপনে ফিরে গেছে। আমি ছোটবেলায় ম্যালেরিয়ায় ভুগেছিলাম কি না মনে নেই, টাইফয়েডে দু-তিন মাস, কারবঙ্কলে অমন দুই মাস, আর বসন্ত তো ছিলই। জলবসন্তে মশারির ভেতরে থাকা দিনের পর দিন। তখন পেনসিল আর কাগজ…
-

জলময় মধ্যবঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যাত্রাপথ শত বৎসর পরে অনুসরণ
(প্রথম পর্ব) পূর্বকথন ‘মহাজ্ঞানী মহাজন যে পথে করে গমন হয়েছেন প্রাতঃস্মরণীয়’ বহুলপঠিত এই আপ্তবাক্যটিতে যে-অর্থে ‘মহাজনের পথ’ ব্যবহৃত, তা তো পষ্টত ‘জীবনাদর্শে’র পথ। কিন্তু প্রাত্যহিক জীবনযাপনে এমতো মহাজন ব্যক্তিদেরও তো সাধারণ অর্থের পথে নামতে হয়? আর এমন প্রতিটি যাত্রার জন্য পূর্বনির্দিষ্ট থাকে অন্তত একটি উদ্দেশ্য – যার কেন্দ্রে থাকে হয় ‘সম্পদ’ (অর্জন বা সুরক্ষয়) নয়…
-

ডেজিরের শিশু
অনুবাদ : মেহবুব আহমেদ একটি সুন্দর দিনে মাদাম ভ্যালমন্ড ডেজিরে আর শিশুটিকে দেখতে লা’আব্রি গেলেন। ‘ডেজিরের শিশু’ – ভেবে হাসলেন তিনি। এই তো মাত্র সেদিন ডেজিরে নিজেই শিশুর চেয়ে সামান্য বড় ছিল। ভ্যালমন্ডের প্রধান দরোজা দিয়ে ঢুকছিলেন অশ্বারোহী মঁসিয়ে ভ্যালমন্ড, দেখলেন দরোজার প্রস্তর থামের ছায়ায় একটি বাচ্চা শুয়ে ঘুমিয়ে আছে। বাচ্চাটি তার কোলে জেগে উঠে…
-

আমাদের মিয়াভাই
আমাদের নয় ভাইবোনের মধ্যে রবিউল ভাই ছিলেন সবার বড়। আমরা সবাই তাঁকে ‘মিয়াভাই’ বলে ডাকতাম। তিনি ছিলেন আমাদের প্রাণভোমরা। তাঁর মধ্যেই ছিল যেন আমাদের সকলের জীবনীশক্তি। আজ তিনি নেই, তাই আমরা যেন এখন জীবন্মৃত। মনে হয় জীবনের সবকিছু অর্থহীন হয়ে গেছে, যেন সব শেষ হয়ে গেছে। তাঁর প্রতি ছিল আমাদের অগাধ ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।…
-

যামিনী রায় ও বাংলার চিত্রকলার ঐতিহ্য
অনুবাদ : আখতার হোসেন খান [সুধীন্দ্রনাথ দত্তের ‘যামিনী রয় অ্যান্ড দি ট্রাডিশন অব পেইন্টিং ইন বেঙ্গল’ নামে ইংরেজি প্রবন্ধটি লেখা ১৯৩৯ সালে। এর প্রথম প্রকাশ ১৯৪৩ সালে লংম্যান্স মিসসেলানিতে সংক্ষিপ্তাকারে। সুধীন দত্তের মৃত্যুর দশ বছর পরে পুরো প্রবন্ধটির স্থান হয় এডওয়ার্ড শিলস-সম্পাদিত ১৯৭০ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস-প্রকাশিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী-সংবলিত দ্য ওয়ার্ল্ড অব টোয়াইলাইট গ্রন্থে। প্রবন্ধটি…
-

বাংলাদেশের চিত্রশিল্পে মোহাম্মদ কিবরিয়া
বাংলাদেশের শিল্পক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিমূর্ত ধারার অন্যতম পথিকৃৎ মোহাম্মদ কিবরিয়া; যাঁর সমান অবদান রয়েছে চিত্রশিল্প ও ছাপচিত্রশিল্পে। তাঁর আগেও অন্য শিল্পীরা বিমূর্ততার চর্চা করেছেন। তবে তিনি সেই ধারাকে তাঁর অগ্রজ, অনুজ এবং শিল্পক্ষেত্রে বিশুদ্ধভাবে সবার গ্রহণযোগ্যতার চূড়ায় নিয়ে গেছেন। শিল্পীসত্তার শীর্ষে আরোহণ করেই চিরপ্রস্থান করলেন তিনি। তাই বলতে হয় – ‘এ তো চলে যাওয়া নয়, সৃষ্টির…
-

সারা আমেরিকায় আগুন জ্বলছে কেন?
অনুবাদ : আশফাক স্বপন সারা আমেরিকা ক্রোধে ফুঁসছে। ১৪০টির বেশি শহরে বিক্ষোভ। দেশ অস্থির, জনতা ক্ষিপ্ত। এর কারণ বুঝতে হলে এদেশে কালোদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের পেছনে আমেরিকার দীর্ঘদিনের কলংকময় বর্ণবাদী নিপীড়নের ইতিহাস সম্বন্ধে জানতে হবে। ক্ষুরধার বিশ্লেষণী আফ্রিকান-আমেরিকান লেখক জেমস বল্ডউইনের। ১৯৬২ সালে দ্য নিউ ইয়র্কার সাময়িকীতে তাঁর একটি কুড়ি হাজার শব্দের প্রবন্ধ ছাপা হয়।…
-

-

জন্মশতবর্ষের শ্রদ্ধা-স্মরণ মোহিনী চৌধুরী : প্রণয় বিরহ মুক্তি জাগরণের গীতিকবি
একসময়ে গ্রামোফোন রেকর্ডের জন্যে যাঁরা গান লিখতেন বা সুর করতেন, রেকর্ড লেবেলে তাঁদের নাম ছাপা হতো না। তিরিশের দশক থেকে ধীরে ধীরে এই নিয়মের পরিবর্তন ঘটে, শিল্পীর পাশাপাশি গীতিকার-সুরকার উভয়ের নামই রেকর্ডে উল্লেখ পেতে থাকে। তখন থেকে জানা সম্ভব ও সহজ হয় গীতিকারের নাম। কাজী নজরুল ইসলামের পর আধুনিক বাংলা গানের পর্ব শুরু হলো। কথা,…
-

চাঁদ-কাস্তে ও কাস্তের কবিতা, গান
কাস্তে-হাতুড়ির সমন্বিত প্রতীকে মার্কস-এঙ্গেলসের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক দর্শনের লক্ষ্য ছিল শ্রেণিশোষণ ও শ্রেণিবৈষম্যের অবসান ঘটাতে শ্রেণিসংগ্রামী বিপ্লবের মাধ্যমে শ্রমিক-কৃষক-জনতার মুক্তি, সেইসঙ্গে সমাজবদল, সংস্কৃতির চরিত্রবদল ঘটানো। উনিশ শতক (১৮৪৮) থেকে এ-আহ্বান বিশ্ব-সাহিত্য-সংস্কৃতির বুদ্ধিজীবী সমাজে বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগায়। ইউরোপ থেকে এশিয়ায়, এবং বিশ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশের বঙ্গীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির পরিম-লে। তিরিশের দশকে প্রগতি সাহিত্যের সূচনায় মার্কসবাদী দর্শনের নান্দনিক প্রতীকগুলো ক্রমান্বয়ে…
