March

  • ডুয়েট অন্তর

    রাজু আলীম     এখন বিমান চোখ উড়ে যায় হেলিপোর্ট বাড়ি রোমান্স রাতের আহবানে ডাকে পরিণীতা নারী।   রূপসি আনন্দ প্রাণে দোলা দেয় অলৌকিক সুখ হাত পেতে চাই প্রেম-প্রিয়তমা নেচে উঠে বুক।   ফ্লায়িং আশাগুলো সব পোস্ট অফিসে অন্ধকার ভয়ার্ত বিড়ালী কাঁদে মধ্যরাতে সুরমন্ত্রকার।   সুপারসনিক লাফ দিয়ে যাবো প্রেম সীমান্তর ভবিষ্যৎ বীজ বোনে আমাদের…

  • মাঠের ওপারে

    শাহজাদী আঞ্জুমান আরা   আবেগের স্তর আছে। উঠোন পেরিয়ে পথ পথ ডিঙিয়ে হাওয়া হাওয়ার ওপারেই মাঠ – ক্রমশ মেলাতে থাকে। মেলাতে মেলাতে শূন্যে…   বাক্স-পেটরা যেখানে যেমন থাকার কথা পড়ে থাকে সেভাবেই। শব্দহীন নূপুর উপুড় হয়ে আবেগের পলেস্তারা ধীরে ধীরে খসে যায় –   এক, দুই, তিন, প্রতিদিন, প্রতিদিন… তারচেয়ে ভালো গুটিয়ে নেয়াই অবশিষ্ট কী…

  • সোনালু

    কাজী রোজী   সোনালু একটি ঘরের নাম। একটি ওয়াশরুম। একটি ডবল খাট আর একটি সিঙ্গেল খাট। ছোট সাইড টেবিল – তাতে একটি জগ – মামের বোতল একটি-দুটি গ্লাস, সবটাই জল-পূর্ণ। মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে ওটা দেখা যায়।   ঘরটায় দিন-রাত নেই – সারাক্ষণ অন্ধকার। সুইচ আছে – বাল্ব নেই। ফ্যান ঘোরে সারাক্ষণ। কে বা কারা…

  • সুসময়

    অলোক বন্দ্যোপাধ্যায়   মাঝে মাঝে সুসময় এসে কড়া নাড়ে ঘরের দুয়ারে মাঝে মাঝে বালিহাঁস ভেসে চলে নিঝুম দুপুরে মাঝে মাঝে মনে হয় ঘাড়ে যে প্রচন্ড ব্যথা মেরুদন্ডে বরফের হিম শৈত্যপ্রবাহের সাথে আমাদের ভুল আলিঙ্গন একদিন প্রশমন বয়ে আনবে এই খর ঊষর শরীরে   নারী কি কেবলি স্মৃতি-ইন্দ্রিয় বিলাসমাত্র – রতি সম্মোহন অথবা অন্তর থেকে ভেসে…

  • এক দার্শনিকের মুখোমুখি

    রেজাউদ্দিন স্টালিন ‘নিজেকে জানো’ বলতে-বলতে ঘেন্না ধরে গেছে, এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন।   আত্মা কী, ঈশ্বর কোথায়? ভাবতে-ভাবতে উই ধরেছে জঙ্ঘায়। পৃথিবী কবে থেকে সূর্যের চারদিকে ঘুরতে শুরু করলো তা স্রষ্টা ছাড়া কেউ জানে না। তপোবনে এইসব বিজ্ঞানীকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারতেন ঋত্বিক বিশ্বামিত্র, কিন্তু তিনি ব্যস্ত ব্রাহ্মণ হতে।   দেখুন – একই নদীতে…

  • তোমাকে বিদায়

    রাতুল দেববর্মণ   আয়নায় ছায়া ফেলে কখন যে চলে গেল হৃদয়ে আকাশ মুদ্রণ করে ফেলে রেখে দীর্ঘশ্বাস বিদায় বিদায়   ধীরে বয়ে চলে চাঁদ বাতাসের ধ্বনি নারী একাকিনী ললাটের বিন্যস্ত চুল অনন্ত স্বপ্নে লুটোপুটি খায় বিদায় বিদায়   ফিরে যে চলে যায় তার গান শুনি দূরের হাওয়ায় যেভাবে নদীতরঙ্গের কল্লোল ভাটিয়ালি সুরে বেসে যায় বিদায়…

  • নবপ্রলয়

    কাদের মাহমুদ   চীন দেশে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে সব শাদা ধন কিছুটা ভারতে, ব্রাজিলে খানিক, অন্যত্র ছিটেফোঁটা তাতেই চিৎপাত পাশ্চাত্যের কল, দক্ষ লোকবল একদা যা ছিলো প্রবল জিডিপি গোত্তা খেয়ে নেবেছে শূন্যমন্ডলে যেন কোনো ব্ল্যাকহোলের সমীপে।   মাও সে তুংয়ের ছবির নিচে ব’সে বেজিংয়ে কমিউনিস্ট পার্টি কিনেছে ট্রিলিয়ন ডলার আমেরিকানি সরকারি বন্ড – যেন…

  • পরাজয়ের ফেরিওলা

    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় খুঁটির গায়ে পা বাঁধা রয়, নাচতে গিয়ে শেষে হেরেই গেলো, হারলো সেধে-সেধে ভাঁড়ের হাসির পোশাক রাখলে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে। বিদঘুটে বাজপাখির ডানায় সমব্যথার ধূলি সঙ্গে তাদের ওই উড়ে যায় কাতর আর্তিগুলি। যেন একটা চলচ্চিত্র : অশ্বারোহীর দল, ছোটো বন্দুক ছুড়ছে গুলি, একের পর এক, তীব্র, প্রবল, তাগ নির্ভুল, ঠিক লাগে সব চাঁদমারিতে কেউ জানে…

  • ছুঁচোর কেত্তন

    নীহারুল ইসলাম স্বাভাবিক নিয়মেই আমার মৃত্যু হয়েছিল। তবে আমার ইচ্ছানুসারে আমাকে দাহ করা হয়নি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতিসাধনে মেডিক্যাল কলেজে আমার দেহটা উৎসর্গ করা হয়েছিল। তারপর কত দিন! কত রাত! কত অন্ধকার পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ছুঁচো জন্ম পেয়েছি। নিজেকে ধন্য মনে করেছি। যদিও নিজেকে ধন্য মনে করার পেছনে আরেকটা কারণ আছে, ছুঁচো জন্ম পেলেও আমার অবস্থান হয়েছে…

  • বইপোকা

    কানাই কুন্ডু অঞ্জনকে সবাই বইপোকা বলে। কিন্তু অঞ্জন বই খায় না, পড়ে। মানুষের নানা অভ্যাস থাকে। কেউ ঘুড়ি ওড়ায়, গান গায়। নাচে, কেউ গপ্পো-কবিতা লেখে, নাটক করে। কেউ অভিনেতা, পরিচালক, আবার কেউ গুছিয়ে ঘর-সংসার করে। অঞ্জন এসব করে না। পড়ে। যত পুরনো, ততো আগ্রহ। এই অভ্যেসে সে বাংলাবাজারের পুরনো বইপাড়ায় ঘোরে। ইউনিভার্সিটির চত্বরে, আড়ংয়ের ফুটপাতে…

  • ক্যালোট্রপিস জায়গানটিয়া

    বুলবন ওসমান কদিন থেকে সকালটা খুব ফাঁকা যাচ্ছে রাশেদের। কাজের ছেলেটা আসবে আটটার দিকে। বিদুষী স্ত্রী গেছে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট করতে যুক্তরাজ্য। এই মাঝবয়সে একা একা নিঃশব্দ ঘরে বেশ অস্বস্তি বোধ করে। মেয়েটাও গেল হোস্টেলে। স্থাপত্যবিদ্যার মডেল করতে দিন-রাত লেগে যায়। ফলে সে গৃহত্যাগী। মা নেই, মেয়ে নেই, কাজের ছেলেটা নেই, আছে শুধু সে একা, সকালের…

  • মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

    আনিসুজ্জামান খবরটা, মনে হয়, পড়েছিলাম মর্নিং নিউজে। রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনে কারাবাসের দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের সদ্যনিযুক্ত প্রভাষক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নিয়োগ বাতিল হয়ে গেছে। তিনি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহদ্বারে বুকে ট্রে ঝুলিয়ে সিগারেট বিক্রি করছেন এবং এই চলমান দোকানের নাম দিয়েছেন ‘শেলী’জ ওন শপ’। প্রায় সন্ধের দিকে দৃশ্যটা দেখতে গেলাম। কলাভবনের গেটের সামনে তাঁর চারপাশে ছোটোখাটো জটলা।…