2012
-
এ-কালের মহীরুহ
রবিউল হুসাইন বাংলাদেশের চিত্রশিল্পজগতের আধুনিক পথের অন্যতম পথিকৃৎ শিল্পী সফিউদ্দীন আহমেদ আজ আমাদের মাঝে অনুপস্থিত কালের নিয়মে। আমাদের যে-দেশে শিশুমৃত্যু এবং মানুষের গড় আয়ুর হার আশঙ্কাজনকভাবে কম, যেখানে তাঁর মতো দীর্ঘায়ু হওয়া অবশ্যই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই শালপ্রাংশু নিবেদিতপ্রাণ, একান্তভাবে প্রচারবিমুখ এবং একধরনের নৈর্ব্যক্তিক সন্ন্যাসব্রত অনুসারী মানুষটি মধুর ব্যবহার, স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি ও নিপাট ভদ্র শিষ্টাচারের…
-
রেনেসাঁস-মানব সফিউদ্দীন
শামসুল ওয়ারেস ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে শিল্পী সফিউদ্দীন আহমেদের পিতামহ শিক্ষিত ও বনেদি এক মুসলিম পরিবারের সন্তান ডা. আমিনউদ্দীন আহমেদ কলকাতার অভিজাত আবাসিক এলাকা ভবানীপুরে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাপেশায় নিয়োজিত হন। ভবানীপুরের এ-বাড়িতেই ১৯২২ সালের ২৩ জুন সফিউদ্দীন আহমেদের জন্ম। শিক্ষিত, রুচিশীল ডা. আমিনউদ্দীন আহমেদপাড়ায় বেচু ডাক্তার নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন…
-
শিল্পের অনন্য সাধক
রফিকুন নবী চল্লিশের দশকের শেষ নাগাদ (১৯৪৮) ঢাকায় একটি চারুকলা শিক্ষার প্রতিষ্ঠান স্থাপনে (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) এবং নিজেদের সৃষ্টিশীল শিল্পকলাচর্চাকে আন্দোলনে রূপান্তরিত করে দেশের জন্যে যে-চারজন শিল্পী নান্দনিক রুচিবোধ সঞ্চারণের মতো মহৎ কর্ম সাধন করেছিলেন তাঁদের অগ্রতম মহান শিল্পী সফিউদ্দীন আহমেদও চলে গেলেন প্রায় নববই বছর পূর্তির কাছাকাছিতে। তাঁর প্রয়াণে আমরা শিল্পকলা-জগতের সর্বশেষ…
-
সফিউদ্দীনকে নিয়ে আমার প্রথম লেখা
বুলবন ওসমান বাংলাদেশের পথিকৃৎ শিল্পীদের সবাইকে নিয়ে লিখেছি। লিখেছি তার পরের প্রজন্মের অনেককে নিয়েও, অথচ অন্যতম গুরু সফিউদ্দীনকে নিয়ে একটি লেখাও হয়নি। এর একটা ছোট পটভূমি আছে। আমি ১৯৬৬ সালের মার্চ মাসে ঢাকা চারুকলা মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দিই। পাঠদানের বিষয় : সমাজতত্ত্ব শিল্প-সম্পর্কিত – অর্থাৎ সোসিওলজি অব আর্ট। এই বিষয়ের পাঠ্যক্রম বা সিলেবাস তৈরিতে সাহায্য…
-
অনন্য শিল্পী
হাশেম খান একটি নিসর্গচিত্র – হার্ডবোর্ডের ওপর তেলরঙে অাঁকা। ছবির মাপ : উচ্চতায় দুই ফুট এবং পাশে তিন ফুট। ১৯৬০ সাল থেকে যথাসম্ভব যত্ন নিয়ে নিজের কাছেই রেখেছি ছবিটি। কয়েকবার ছবির সংগ্রাহকরা ভালো অর্থের বিনিময়ে ছবিটি তাদের সংগ্রহে নিয়ে যেতে চেয়েছেন। নানা কারণ দেখিয়ে চিত্রটি কিছুতেই হাতছাড়া করিনি। চিত্রটি বিশেষ কিছু কারণে আমার কাছে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।…
-
শিল্পী সফিউদ্দীন আহমেদ
অমিতাভ সেনগুপ্ত চিত্ররচনায় আর শৈল্পিক চিন্তায় সমাজকে আলোকিত করে, ক্লান্ত সফিউদ্দীন বিদায় নিলেন – যেন প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম মেনে। চল্লিশ দশকে যে কয়জন বিশিষ্ট বাঙালি শিল্পী কলকাতা ছেড়ে ঢাকায় শিল্পচর্চার নতুন কর্মকান্ড রচনা করলেন, সফিউদ্দীন তাঁদেরই একজন এবং বাংলাদেশ পর্বে তাঁরা যে-রেখাপথ রচনা করেছেন, তা এখন শিল্পধারায় বিস্তৃত। জয়নুল আবেদিন, সফিউদ্দীন বা কিবরিয়ার মতো শিল্পীরা…
-
তাঁর ছবিতে চোখ
আব্দুল মতিন সরকার জানি আমি জানি সখী যদি আমাদের দোঁহে হয় চোখাচোখি সেই পরজন্ম পথে দাঁড়াব থমকি১ কবির সারাজীবনের সাধনার ধন, তাঁর মানসপ্রিয়া যদি পরজন্মেও মূর্তিমতি হয়ে উপস্থিত হয়, লক্ষ-কোটি মানুষের মাঝেও কেবল দুটি চোখ দেখেই তাকে চিনতে সমর্থ হবেন। কী তীক্ষ্ণ, তীব্র, অন্তর্ভেদী এ-চোখের দৃষ্টি। আর কি আকর্ষণীয়, জাদুভরা কবির ‘মানসসুন্দরী’র মনোহারিণী চোখ –…
-
শিল্পগুরু ও তাঁর ব্যক্তিসত্তা
সমরজিৎ রায় চৌধুরী ১৯৫৫ সালে গভর্নমেন্ট. ইনস্টিটিউট অব আর্টসে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার পর শিল্পগুরুর দর্শন লাভ করি। অতি সুদর্শন ও দীর্ঘদেহের অধিকারী শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদ ছিলেন সে-সময়ে বয়সে যুবক। চলনে-বলনে গুরুগম্ভীর ভাব ছিল তাঁর সর্বাঙ্গে। অসাধারণ ব্যক্তিত্বের জন্যে তিনি ছিলেন অনন্য। আমি যখনই যেখানে তাঁকে দেখেছি, আমার কাছে মনে হয়েছে – এক অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন…
-
দেবতুল্য শিল্পীর মহাপ্রয়াণ
সৈয়দ জাহাঙ্গীর সফিউদ্দীন আহমেদ ছিলেন একজন ব্যতিক্রমধর্মী শিল্পী। যেমন কথায় তেমনি শরীরে, তেমনি কাজে। আশপাশের সব শিল্পী থেকে একেবারে পৃথক। বেশভূষায় যেমন অতুলনীয় পরিপাটি, তেমনি পরিপাটি তাঁর কাজ। তিনি ছিলেন যাকে বলে একজন পারফেকশনিস্ট। কোনো প্রকার অসংগতি বা অসম্পূর্ণতা তিনি কখনই বরদাস্ত করতেন না। আসা যাক স্যারের সঙ্গে পরিচয়ের কথা। আর্ট স্কুলে ভর্তি হতে গেলাম…
-
তাঁর চলে যাবার পর
সৈয়দ শামসুল হক একজন তাঁর বিভামন্ডিত সৃজন-জগৎটি আমাদের জন্যে রেখে সদ্যই যখন চলে যান – সৃজনের পাশাপাশি নিভৃতিও যাঁর সাধনা ছিল জীবনভর, তবুও যে তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছি কী কাজে কী ব্যক্তিসংস্পর্শে – তাঁকে নিয়ে লেখার মুহূর্তে কাজ নয়, কীর্তি নয়, তাঁর মুখখানাই চোখে ভাসে। এখনো আমার চোখ থেকে অপসৃত হয়ে যায়নি, হবারও নয়, তাঁর সেই…
-
একটি ছবি কখনো শেষ হয় না
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর বিদ্যাসাগর থেকে বিষ্ণু দে থেকে জয়নুল আবেদিন থেকে সফিউদ্দীন পর্যন্ত সবাই কলোনির কলকাতা ছেড়ে সাঁওতাল পরগনায় পালিয়েছেন। সমাজ-সংস্কারক বিদ্যাসাগর কি সমাজ সংস্কারের অর্থহীনতায় ক্লান্ত বোধ করেছেন? মার্কসিস্ট বিষ্ণু দের বিশ্ববীক্ষায় কি ঘুণ করেছিল? মানবতাবাদী জয়নুল আবেদিন কি কলোনির জীবনযাত্রায় অবসন্নবোধ করেছেন? সফিউদ্দীন কি কলোনির ধনতন্ত্রে উদ্ভ্রান্ত হয়েছেন? সেজন্যে কি তাঁরা সবাই জীবনের…
-
সফিউদ্দীন আহমেদ ও বাংলার শিল্পে ‘আধুনিকতা’র সমস্যা
প্রণবরঞ্জন রায় তাঁর শিল্পকৃতির পরিচয় পাবার আগেই, তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয়ের আগে তো বটেই, সফিউদ্দীন আহমেদ সাহেবের নাম শুনি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সোমনাথ হোর বাংলাদেশে তাঁর শৈশব-যৌবন, আর কলকাতার সরকারি চারু ও কারুকলা বিদ্যালয়ে তাঁর ছাত্র-জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জয়নুল আবেদিনের অনুপ্রেরণা আর সফিউদ্দীন সাহেবের শিক্ষণের কথা বলেছিলেন। পরবর্তীকালে বাংলাদেশের দৃশ্য-শিল্পকলা কর্মকান্ডের এ-দুই কান্ডারীকেই অবশ্য…
