2014
-
অমিয় চক্রবর্তীর চিঠি : নরেশ গুহকে
পূর্বলেখ ও টীকা : ভূঁইয়া ইকবাল বিশ শতকের তিরিশোত্তর আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-৮৬) ও পঞ্চাশের দশকের দুরন্ত দুপুরের কবি নরেশ গুহর (১৯২৩-২০০৯) মধ্যে পত্রালাপের সূচনা ১৯৪২-এ। তাঁকে লেখা অমিয় চক্রবর্তীর চিঠি সম্পর্কে নরেশ গুহ নিজেই জানিয়েছেন, ‘‘১৯৪২ থেকে শুরু করে ১৯৮৬ সালে তাঁর প্রয়াণকাল পর্যন্ত কবি অমিয় চক্রবর্তী আমাকে দুই…
-
নজরুল-প্রসঙ্গে শওকত ওসমান একটি অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার
আবুল আহসান চৌধুরী কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) মেজাজে-মননে ছিলেন উদার-আন্তরিক-মজলিশি চেতনার সক্রিয় সামাজিক মানুষ। তাঁর ব্যক্তিত্বের সম্মোহনে সাহিত্য-সংস্কৃতি-সংগীত-রাজনীতি ও অন্যান্য পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর অন্তরঙ্গ সম্পর্ক রচিত হয়। সহজেই মানুষকে আপন করে নেওয়ার এক সহজাত প্রবৃত্তি ও অসামান্য ক্ষমতা ছিল নজরুলের। তাঁর ভক্ত-অনুরাগী-সুহৃদ-শুভার্থীর সংখ্যা ছিল অগণন। এই নজরুল-মন্ডলীর সঙ্গে যেমন নজরুলের জ্যেষ্ঠ ও সমবয়সীরা যুক্ত…
-
কাছের মানুষ অন্নদাশঙ্কর
সুরজিৎ দাশগুপ্ত আমার তখন সেই বয়স যখন নরনারীর রহস্যময় সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল জাগতে শুরু করে। পড়ি জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে। হাতে আসে অন্নদাশঙ্কর রায়ের আগুন নিয়ে খেলা। পড়ে তাঁর আরো বই পড়ার জন্য উৎসুক হই। সহপাঠী গোপাল চক্রবর্তীর বাড়িতেই ছিল তেলিপাড়া লাইব্রেরি। গোপাল এনে দিলো অন্নদাশঙ্করের দুখানি বই, জীবনশিল্পী ও পথে প্রবাসে। উপন্যাস নয়, একটি প্রবন্ধের…
-
জাদুকরের সিন্দুক
ভগীরথ মিশ্র পঞ্চমীর বিকেলে লোকজন ও মালপত্তরের বিশাল সম্ভার নিয়ে পাঁচবিবির গড়ে পা রাখে জাদুকর হৃদয়নাথ। তখন গড়ের সদর মহলের টানা বারান্দার থাম ও পিলপাগুলোর শরীরের দিনের আলো ফিকে হতে শুরু করেছে। আর কিছুক্ষণ বাদেই ওই ফিকে জায়গাগুলোতে অাঁধারের ছোপ পড়তে শুরু করবে। আর সূর্যাস্তের পর ওই অাঁধার আরো নাছোড় হয়ে লেপ্টে যাবে থামগুলোর গায়ে।…
-
আত্মপ্রতিকৃতি : স্মৃতির মানচিত্র
সৈয়দ জাহাঙ্গীর শৈশব-কৈশোর মায়ের কাছে শুনেছি আমরা ছিলাম চার ভাই আর এক বোন। বোনটা মারা যায় মাত্র ১২ বছর বয়সে। ওর মুখে একটা ফোঁড়া হয়েছিল। কুলগাছের একটা কাঁটা লেগে ফোঁড়াটা ছিঁড়ে গেলে টিটেনাস হয়ে সে মারা যায়। সে-সময় টিটেনাসের লাগসই চিকিৎসা ছিল না। এক ভাই মারা যায় দু-তিন বছর বয়সের সময়। আমরা তিন ভাইয়ের মধ্যে…
-
শান্ত শান্তি
আলোক সরকার একটা আলো একেবারে অন্য রঙের আলো। এইরকম মাঝে-মাঝে হয়। নারকেলগাছের পিছনের আলো জামরুলগাছের মাথার উপরের আলো – কতবার একেবারে অন্যরকম। সেই অন্যরকম তা আছে, চারদিক ভরে আছে। পথ চলতে চলতে ভাবি কতদিনের পথ-চলা। ধুলো হঠাৎ অন্য আলোর ধুলো। হাওয়া হঠাৎ অন্য আলোর হাওয়া। এমন একটা অন্যরকম প্রশ্নই…
-
ছায়া-অপচ্ছায়া
মোহাম্মদ রফিক সীমা, মুক্তা, মিলি, রণি; এরা হারিয়েই যায়, ওরা আসে ঢাকার সহরে, ভিড় করে, কাজ নেয় এ-বাড়ি ও-বাড়ি বড়োজোর সিউইং মেশিনে; ওদের কান্নার দাম অন্ধকার যতটা-বা বোঝে বোঝে না সময়, দৃষ্টিহীন চোখগুলি ঝলকে ওঠে অন্যায় অশুদ্ধ ব্যবহারে, দু-একটা চড় বা থাপ্পড় জোটে কপোলের ভাঁজে; অবশেষে ফিরে যায় বরিশাল-বরগুনার প্রত্যন্ত অঞ্চলে, মিশে…
-
দশটি প্রদীপ জ্বালো
আসাদ চৌধুরী কোলে-কাঁখে কখনো দেখিনি চার চরণের ব্যবহারও নেই, উল্লসিত মাতৃকুল চোখ ঠেরে বলেননি ‘ও রে ভাঁদর ফিরে চা।’ শুরু থেকে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটা দিগন্তের দিকে। আগে-পিছে নার্সিসাস হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে। কোরাসের দলে নেই, শুধু মেঘ একাই বলেছে দগ্ধ দেহে প্রতিধ্বনি গুনগুন করে, ‘যাব, যাব’। লাঠি ফেলে, ঘৃত ঢেলে, সোনার মেয়েরা দশটি…
-
তোমার নাগকেশর
অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত অনেক খুঁজে ফুটপাতের দোকানে পেয়ে যাই তোমার ‘নাগকেশর’ জীর্ণ মলাট, উইপোকারা এসে আমার প্রিয় কবিতাগুলি থেকে মুছে দিয়েছে দু-তিনটি অক্ষর ঠাকুর দেখতে গিয়েছে কারা সপ্তমীতে শ্রাবণধারায় ভেসে – অন্যদিকে কবিরা আজ ব্যস্ত আছে তোমার অনুল্লেখে একমাত্তর আমিই বুঝি পিছুটানের অাঁজলকাজল মেঘে তোমার বেঁচে-থাকার পথের স্টেশনগুলো গুনতে-গুনতে চলি; নদীয়া আর বরানগর, বনহুগলি, হিন্দুস্থান পার্ক…
-
কুবো
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী একটা পাখি ডেকে যাচ্ছে ভরদুপুরে আজ অদূরে কোথাও, অবিরাম। আর সে যতই ডাকে, ততই আমার চেতনায় আবছা হয়ে আসতে থাকে ট্রাম, বাস, জগঝম্প আর সাততলা-আটতলা হাইরাইজ বিলডিং নিয়ে কলকাতা শহর। ডাক শুনেই বুঝতে পারি, এ আমার চেনা জলচর কুবো পাখি। অজপাড়াগাঁয় গেরস্তবাড়ির যৎসামান্য দূরে হাজামজা ডোবার কিনারে ঠায় নিরঞ্জন দুপুরবেলায় নিরালা একাকী…
-
চিনতে নারি
আল মাহমুদ কোথায় কারা ডাক দিয়েছে হাঁক দিয়েছে আমার নাম হঠাৎ আমি দাঁড়াই ঘুরে বলি শুনুন, আছ ছালাম। আমার নামে পক্ষি উড়ে আকাশজুড়ে তারার ঢেউ তারায় তারায় পথ হারিয়ে একলা চলি নেই তো কেউ। একলা আমি অগ্রগামী কোথায় থামি কোথায় ঘর ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে ওই চিনতে নারি আপন-পর।
-
রোগী লেসলি স্টুয়ার্ট
আনোয়ারা সৈয়দ হক ডাক্তার অজিত কুমার ব্রাহামা যখন রেগে যান, সে এক দেখার মতো দৃশ্য। বিশেষ করে হাসপাতালের সাপ্তাহিক ওয়ার্ড রাউন্ড দিতে বসলে তিনি কোনো না কোনো সময় একবার রাগবেনই। ডাক্তার ব্রাহামা লন্ডনের একটি অতিব্যস্ত জেনারেল হাসপাতালের মানসিক বিভাগের প্রধান। মানসিক ব্যাধিগ্রস্ত রোগীদের জন্যে ওয়ার্ড রাউন্ড একটু ভিন্ন ধরনের হয়। শারীরিক ব্যাধিগ্রস্তদের মতো খোলা ওয়ার্ডের…
