2016
-
সমুন্নত দুঃখগুলি
আলোময় বিশ্বাস সমুন্নত দুঃখগুলিই আমার চিত্রকলা। আমার সংগীত আর জঙ্গম-ঘূর্ণি আবেগ আমি তৈরি করি কিছু অনাকাঙিক্ষত ব্যথার সংশ্রবে। জীবনের সন্ধি-লগ্ন অসত্মগামী সূর্যের মতো ঝুলে আছে লাল সাগরের উপর, আমি কিছু অভিশাপ খুঁজে বেড়াচ্ছি দেখি আর কী নির্মাণ করতে পারি? এই সময়ে সুরধুনীর জল আর পারুলের গন্ধ নিয়ে কে আসে?
-
অফ দ্য রেকর্ড
টোকন ঠাকুর দুঃখকে বিড়াল বলে মনে হয়। কারণ, বস্তাবন্দি করে বিড়ালটিকে নদীর ওপারে রেখে আসার পরদিন সন্ধ্যায় দেখি, উঠোনের নিমগাছটা পেরিয়ে দুঃখবিড়াল ফের ঘরে উঠে পড়ছে। দুঃখকে আশ্রিত-আত্মীয়ার মতো লাগে। তার হয়তো যাওয়ার জায়গাই নেই! কে দায়িত্ব নেবে? সারাদিন, তার হয়তো কথা বলার লোকও নেই। এই অবস্থায় দূরাগত আত্মীয়া যাবেই বা কোথায়? কার কাছে…
-
সব কিছু ঠিক আছে?
নূহ-উল-আলম লেনিন সব কিছু বদলে যাবে, বদলে যাবে স্বপ্নালু পৃথিবীর সাবেকি স্বরূপ যারা ছিল নিচে, তারা আচম্বিতে উঠে যাবে সপ্তম আসমানে শাস্ত্রে সেসব কথা লেখা আছে স্বর্ণের অক্ষরে সব কিছু ঠিক ছিল, কেবল হতচ্ছাড়া ‘গর্বাচেভ’ (?) উল্টে দিলো পাশা। সব কিছু বদলে গেল, সমাজতন্ত্র মার্কসবাদ-লেনিনবাদ মাও চিন্তাধারা লাল চত্বরে ও শামিত্মর উদ্যানে লেনিন…
-
ছায়ালোক-৩
সৌভিক রেজা বেগুনি জারম্নল; এবার আর জারম্নলের কোনো গল্প নেই। যেন এক বরফযুগ। আর আমাদের নদীগুলো দুঃখ-অভিমুখী। কথাগুলো শুধু হেনাদিকেই বলি। বলি যে চারদিকে অন্ধকার। সবার হাত-চোখ-মুখ অন্ধকারে অন্ধকার হয়ে ওঠে। শুকনো ডালপালায় আগুন আর আগুন থেকে যে ধোঁয়া, তাতে নিজের ছায়াও ক্রমে-ক্রমে অন্ধকারে হারিয়ে যায়।
-
ভ্রামণিক
রাতুল দেব বর্মণ ভ্রমণবন্দনা যখন দরজায় এসে নাড়া দেয় শুদ্ধস্বরে ভ্রামণিক একা একা গান গেয়ে ওঠে, ভিতরে সাগরের উতাল সমত্মরণ পাহাড়ের হাতছানি ঝরনার গায়ে দেখে মেঘবতী হিমালয় নারী, কোথাও জঙ্গলপাঠ শেষে মহুয়াবনের নিচে একা হয়ে পান করে মহুয়া মাদল পানি, যেতে যেতে একদল ভ্রামণিক গেছে আজ তৃষ্ণাবনে যদি দেখা মেলে সবুজের ভিতর বসমত্মনারী,…
-
তিনি আছেন
ইকবাল আজিজ মহাকালের ওপার থেকে গান গেয়ে যান ভিন্ন স্বরে তিনি আছেন পথের ধুলোয় মনের বনে। মানুষ যখন ব্যসত্ম থাকে অনেক কাজে – তিনি থাকেন শামিত্ম হয়ে সবার মাঝে। তিনি আছেন দুঃখের মাঝে গরিবঘরে ভাগ্য যখন ভাঙতে থাকে সকল কথা আরো অনেক আকুলতা মনে পড়ে। বিশ্ব যখন শূন্যমাঝে লুপ্ত ছিল তিনি ছিলেন শূন্য…
-
অপরূপকথা : এক
সৌরভ দে গন্ধর্ব এবং গান্ধর্বী নভোভ্রমণে যেতে যেতে ইচ্ছাবিচ্ছেদ স্থির করলেন তাঁদের বিবাহও ছিল ইচ্ছাবিবাহ একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে গন্ধর্ব গেলেন রাজহংসীদের সরোবরে, গান্ধর্বী পৌঁছলেন জঙ্গলের গভীরে কাঠুরেদের গ্রামে গন্ধর্ব এক রাজহংসীর চোখের দিকে তাকিয়ে ভুলে গেলেন গান্ধর্বীর কথা গান্ধর্বী এক কাঠুরের পুরম্নষগন্ধে মুখ রেখে ভুলে গেলেন গন্ধর্বের কথা…
-
নদীভাঙা নদীর সন্তান
মাহবুব সাদিক সে কিছু শুনেছে বুঝি সংগোপন ঘুমের গভীরে মেঘ যেন ডাকে গুরম্ন-গুরম্ন – দক্ষিণের অন্ধকার থেকে উত্তরের দিগমত্মপ্রামেত্ম ফুটতে ফুটতে যায় শব্দের টাটকা খই – নাকি পরশু-র যাত্রাপালায় গহরজানের গানে জাদুতে-পাওয়া মৈজুদ্দির দশটি আঙুল তবলায় এখনো তোলে প্রাণকাড়া ধ্বনির লহর? গহরের গান আর তবলার বোলে সেরাতে আসর মাত – জীবনের প্রাপ্তিপাত্র কানায় কানায়…
-
অজানায়
কালীকৃষ্ণ গুহ খেলাঘর বাঁধছি ভাবো খেলাঘর ভাঙছি আবার কে যে আজ খেলার সাথি জানি না, কী-ইবা জানি – না-জানার নির্জনতার কত-যে জ্যোৎস্নাধারা কত-যে তমালতরম্ন নিহিত প্রেমকাহিনি। তবুও খেলছি জানি ভাঙছি এক খেলাঘর গড়ছি অন্য আরেক খেলছি আপনমনে এই তো খেলার নিয়ম – অপরূপ খেলার সাথি বহুদূরে তার বসবাস খেলছি ঘোর অজানায়।
-
রবীন্দ্রনাথের প্রতি
মোহাম্মদ সাদিক ব্যারিস্টার হবার বাসনা থেকে আপনার বিলেত ভ্রমণ ইউরোপের নারীরা আপনাকে ঘিরে ধামাইল গেয়েছে! ভানুসিংহ ঠাকুরের তখন প্রকৃত অর্থে কৃষ্ণ হবার জোগাড়। অবশেষে আপনি হলেন লালন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট। সিনিয়র প্রফেসর সৈয়দ শাহনুরের সাথে আপনার দেখা হয়নি। তাতে কীইবা আসে যায়? প্রাচীনকালে আর্যদের ধারণা ছিল বঙ্গের লোকজন পাখির ভাষায় কথা বলে মুঘলরা একসময় ভাবত বঙ্গে…
-
সৌভাগ্য
মোহাম্মদ রফিক অসমাপ্ত কাব্য ফেলে চলে যাওয়া মানব নিয়তি, দুর্ভাগ্যের অবসান কবে হবে জানে না তো ক্ষিতি; তবু-বা সৌভাগ্য এতটুকু, অবশেষ রইবে যা অমস্নান চিরায়ত কিছু নয় যা ধন বা মান কর্মের হবে না অপমান! অনিঃশেষ বেদনার দান করে গ্রহণ বর্জন মৃত্যুহীন নয় প্রাণ যেটুকু-বা রয়ে যাবে পদক্ষিপ শব্দে ও বাণীতে বিলায়…

