2016

  • অশামিত্ব

    দেবজ্যোতি মুখোপাধ্যায় টাকা তুমি তুমি টাকা – মনে হলো আজ কেন মনে হলো? এমন নিষ্ঠুর হলো কেন প্রিয় মন?   চারশো টাকা দিয়ে থাকি জামা ও কাপড় যাতে ধবধবে উজ্জ্বল সাদা হয়ে উঠতে পারে নেটের খরচ সাড়ে চারশো টাকা, ইস্ত্রি দুশো টাকা প্রতি রবিবার বাড়ি আসে মহান সাহিত্যপত্র – রঙিন তোড়ায় বাঁধা ফিচারগুচ্ছেরা সে-বাবদ প্রতি…

  • সাদামাটা কথা

    ইকবাল হাসান   তোমার সবই আছে। ঠোঁট, নাক, গোলাকৃত নাভিপদ্ম উদ্ধত বুক ও চিবুক। আছে একফালি চাঁদ ভ্রম্ন ও ভ্রম্নভঙ্গি। যোনি ও জঙ্ঘা জানুসন্ধির অপার মহিমা আছে ফাঁদ, আছে আগুনের শিখা মাঝে-মাঝে জ্বলে-ওঠা অলৌকিক আলোর ইশারা মানুষেরা বুঁদ হ’য়ে থাকে আর দিনশেষে ঘুরেফিরে যেসব পোকা উড়ে আসে, নিশ্চিত জেনো মৃত্যুকে তারা কভু পরোয়া করে না।

  • আমাদের প্রয়োজন এখন

    রবিউল হুসাইন   আমাদের প্রয়োজন এখন নিজের মুখ দিয়ে কথা বলা নিজের ফুসফুস দিয়ে নিশ্বাস নেওয়া নিজের পায়ে হাঁটা নিজের হাত দিয়ে কাজ করা নিজের চোখ দিয়ে দেখা   নিজের কানে শোনা নিজের নাক দিয়ে ঘ্রাণ নেওয়া নিজের জিহবার সাহায্যে স্বাদ নেওয়া নিজের শরীর দিয়ে স্পর্শ নেওয়া নিজের মন দিয়ে বুঝতে শেখা নিজের হৃদয় দিয়ে…

  • দেমাকি মেয়ে

    ক্লারিস লিস্পেক্টরস (ব্রাজিল) অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যেক ভোরবেলাতে একই জিনিস বারে-বারে নতুন হয়ে আসে : জেগে উঠতে হবে এটা এমন একটা জিনিস যেটা শস্নথ, মন্থর, প্রসারিত, বিশাল। বিশাল তো বটেই, মেয়েটি তার চোখদুটি খোলে। মেয়েটির বয়স পনেরো আর সে দেখতেও খুব একটা সুন্দর নয়। কিন্তু তার ভেতরটায় রোগাটে ভাবটা বজায় থাকে প্রায় তার রাজকীয়…

  • অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না

    রবিশংকর বল বাবা বলেছিল, তারা একদিন আমাদের এখানে আসবে। তারা, পাঁচজন অদৃষ্টবাদী। তারা আসবে এক অন্ধকার রাতে – প্রবল বৃষ্টি আর হাওয়ার রাত – শুনতে পাবে কাছে-দূরে বড়-বড় গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ, নদীর গর্জন একেবারে ঘরের ভেতরে এসে লেজ আছড়াতে থাকবে। আর তারপর ভোরের দিকে সব শান্ত হয়ে আসবে, কিন্তু সূর্য উঠবে না, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন…

  • পরিমলের বাবা

    শাহাবুদ্দীন নাগরী চোদ্দ বছরের পরিমল বুঝে যায় ও আর বাবাকে নিয়ে বাসায় ফিরতে পারবে না। কেন যে ওরা বেরিয়েছিল? মা পথ আটকে বলেছিল, ‘না গেলে কি হয় না?’ পরিমলের বাবা সরকারি অফিসে ছোট একটা পদে চাকরি করত। টেকনিক্যাল পোস্টের চাকরিতে এ-যাবত মাত্র একটা প্রমোশন পেয়েছিল, ভবিষ্যতে পেত কিনা পরের কথা। তার মধ্যেই দেশে অসহযোগ আন্দোলন…

  • অপাপবিদ্ধা

    অমর মিত্র ছিট মদনাকুড়ির পরে বাংলাদেশ। মদনাকুড়ির আগে বাংলাদেশ। যুদ্ধে তারা বেঁচে গিয়েছিল। কী করে বাঁচল তাই-ই রহস্য। হেরাতুন বেওয়া বলে, যে করেই হোক আমরা ইন্ডিয়া, ভারত, আমরা বাংলাদেশ না, মহারাজার পোজা ছিলাম, তাঁর খাজনা দিতাম, তাই আমরা ইন্ডিয়া, কোচবিয়ার মুদের সদর, ইটা ফরেন না। ফরেন মানে বাংলাদেশ। ওই দেশের দুই নাম, যেমন ইন্ডিয়ার দুই…

  • এই দাহ

    ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ বৈশাখের এক ঝিমধরা তপ্ত দুপুরে ফ্ল্যাটবাড়িটি একেবারে নিঝুম হয়ে আছে। সবার চোখে নেমেছে ভাতঘুম। রান্নাঘর থেকে নীলুর মায়েরও কোনো কাজের আওয়াজ নেই। মাধবী নিঃসাড়ে ঘুমচ্ছে। মাথার ওপরে চক্রের মতো ফ্যান ঘুরছে, তাতে দাবদাহ মোটেও কমছে না। মাধবীর কপালে, গলার খাঁজে বিনবিনে ঘাম। ফ্যানের হাওয়ায়ও যেন গরম ভাপ। অসোয়াস্তিতে বিছানা ছেড়ে রুদ্রনীল চেয়ারে…

  • ‘একদিন কবিতায় কবিদের নাম থাকবে না – পাঠককে চিনে নিতে হবে’- অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত

    সাক্ষাৎকার গ্রহণ : দীপকরঞ্জন ভট্টাচার্য   ‘এ যেন গুল্মের ডাল, আর আমি একটি বউল,/ তার বেশি নই’, যৌবনবাউল কাব্যগ্রন্থের এই শিশির-ভেজা উচ্চারণ পেরিয়ে তাঁর কবিতায় একদিন জায়গা করে নিল ‘পথে পড়ে থাকে শ্মশান, কুকুর, মানুষ ও বসুমতী/ ছুঁয়ে উড়ে যায় একফোঁটা প্রজাপতি’ তাঁর গিলোটিনে আলপনার ‘ভিয়েৎনাম্নী’ কবিতাটিতে এবং পরে আরো-আরো পথ খরায়-বন্যায় হেঁটে শেষে তাঁকে…

  • আসহাবউদ্দীন আহমদ : ক্রোধ ও কৌতুকের শিল্পী

    আহমেদ মাওলা দৃঢ়চেতা রাজনীতিক, সমাজসচেতন লেখক, চিরসংগ্রামী কর্মীপুরুষ ইত্যাদি নানা পরিচয়ে অধ্যাপক আসহাবউদ্দীন আহমদকে (১৯১৪-৯৪) শনাক্ত করা যায়। কিন্তু আমার কাছে ‘ক্রোধ ও কৌতুকে’র নিপুণ শিল্পী হিসেবে তাঁর ভূমিকাকে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। কায়েমি স্বার্থবাদী বুর্জোয়া রাজনীতি, প্রচলিত সমাজকাঠামোর প্রতি আসহাবউদ্দীন আহমদের ছিল প্রচ- ক্রোধ এবং ক্ষোভ। ব্যক্তির সঙ্গে সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক, রাষ্ট্রব্যবস্থার নানা…

  • বাংলাদেশের ছোটগল্পে মুক্তিযুদ্ধ

    মাহবুবুল হক অশ্রম্ন ও শোণিত ভেজা এবং অঙ্গীকার ও সংগ্রামের অগ্নিগর্ভ দ্যোতনায় ভাস্বর মুক্তিযুদ্ধের আশ্চর্য অনুভূতি, অভাবিত প্রেরণা এবং অকুতোভয় আত্মত্যাগের নানা ঘটনা, অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির বহুমাত্রিক রূপায়ণ ঘটেছে বাংলাদেশের ছোটগল্পে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পর থেকে অতিক্রান্ত চার দশকেরও বেশি সময়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা হয়েছে অগণিত গল্প, প্রকাশিত হয়েছে কয়েকটি গল্পসংকলন এবং বেশ কয়েকটি গল্পগ্রন্থ। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক…

  • জীবনানন্দ দাশের ‘শিকার’

    সরকার আবদুল মান্নান সম্ভবত ১৯২৯ সালের কোনো এক সময়ে জীবনানন্দ দাশ ‘শিকার’ নামে কবিতাটি লিখেছেন। সংলাপ ও কথোপকথন নিয়ে দীর্ঘ কবিতা। সংলাপের ভেতরে অনেক সংলাপ এবং কথার ভেতরে অনেক কথার কোলাহল। কিংবা সংলাপের মধ্যে কোনো সংলাপ নেই। কথার মধ্যে নেই শব্দময়তা। অবচেতনের স্রোত প্রবাহিত হয় সংলাপহীনতায়, নিঃশব্দতায়। কবিতাটিতে চরিত্র আছে কয়েকজন। তাদের কোনো নাম নেই।…