2016
-
আমার প্রিয় সাহিত্যকৃতি
সুরজিৎ দাশগুপ্ত স্কুলবেলাতে অন্নদাশঙ্কর রায়ের একটি উপন্যাস পড়েছিলাম। আগুন নিয়ে খেলা। যেটা অবাক করেছিল সেটা লেখার কায়দা। একদিন গল্প শুরু হয়েছে। তারপর গল্প পেছিয়ে গেছে একদিন একদিন করে। এইভাবে ছদিনের কাহিনি। আধুনিক প্রজন্ম, মানে যারা বর্তমানের ভালোলাগাতেই বিশ্বাস করে, সম্পর্কের স্থায়িত্বে বিশ্বাস করে না, তেমন দুটি তরুণ-তরুণীর যৌবনোচ্ছল জীবনের একখ–র কাহিনি। কী ঝরঝরে লেখা! লেখার…
-
প্রচ্ছদ-পরিচিতি
প্রতিবাদ কাইয়ুম চৌধুরী দীর্ঘ ষাট বছরের চিত্র-সাধনা ও চর্চার মধ্য দিয়ে স্বাতন্ত্র্যে উজ্জ্বল এক চিত্রশৈলী নির্মাণ এবং বিষয়ের গুণে নিজস্ব ভুবন সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছিলেন। এই সৃজনে ধরা আছে বাংলা ও বাঙালির সংগ্রাম, মানুষের মর্মযাতনা, দুঃখকষ্ট এবং ঐতিহ্যিক প্রবাহ। তিনি বিগত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে মৃত্যুকাল পর্যন্ত লব্ধজ্ঞান, অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে এদেশের গ্রন্থের প্রচ্ছদ,…
-
সূ চি প ত্র
প্র ব ন্ধ ১৫ জীবনানন্দ দাশের ‘শিকার’ সরকার আবদুল মান্নান ২৩ মহাশ্বেতার গোড়ার কথা : সিপাহি বিপস্নবের সমাজ-সচেতন ইতিহাস অংকুর সাহা ২৭ বাংলাদেশের ছোটগল্পে মুক্তিযুদ্ধ মাহবুবুল হক ৮৪ আসহাবউদ্দীন আহমদ : ক্রোধ ও কৌতুকের শিল্পী আহমেদ মাওলা সা ক্ষা ৎ কা র ৩২ ‘একদিন কবিতায় কবিদের নাম থাকবে না – পাঠককে…
-
ভারতবর্ষের সংগীতজগতে বাঙালির অবদান
সারোয়ার জামীল ভারতবর্ষে সংগীত ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাঙালির অবদান সুবিদিত। দর্শন, সাহিত্য, শিল্পকলা এসব বিষয়ে বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ) সব সময়েই অগ্রগামী ছিল। ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো সর্বপ্রথম এই অঞ্চল দিয়ে ভারতবর্ষে অনুপ্রবেশের ফলে পাশ্চাত্যের শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রভাবে এই অগ্রগতি আরো ত্বরান্বিত হয়। এ-কারণেই বোধহয় ভারতের প্রবীণ রাজনীতিবিদ গোখলে বলেছিলেন, ‘বাংলা আজ…
-
বাবার শেষ দিনগুলি, রাতগুলি
ইন্দ্রাণী গুহরায় ৩০ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে কবি ভূমেন্দ্র গুহ’র কবিতা দুই খ– প্রকাশিত হয়। কবি ভূমেন্দ্র গুহ, ডা. বি.এন. গুহরায়, আমার বাবা। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রাহুল পুরকায়স্থ আন্তরিক ও নিরলস প্রচেষ্টায় এবং বাবার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসায় তাঁর সমস্ত কবিতা ও প্রাসঙ্গিক রচনা জোগাড় করেছেন। আমার বাবার কাছে তাঁর নিজের লেখা অধিকাংশ কবিতার বই-ই…
-
দুটি কবিতা
শামীম হোসেন ব্যাকরণ ভাষার অধীনে যাই – করি কার শরীর-বন্দনা! পাতায় লুকিয়ে রেখে কাঁচুলির ঘ্রাণ ভ্রূণপিঠে হেঁটে যায় – পিঁপড়ের সারি… অনুবাদে মিলে যায় শাড়ির দু’ভাঁজ! যাত্রা পাহাড়ে ওঠার আগে জঙ্গলে যেতে হয় হেঁটে হেঁটে ঝোপঝাড়ের পাতা সরিয়ে ক্লান্ত শরীরে কি ছুঁয়ে আসা যায় – চুড়ো…? …
-
ধ্রুপদ
পিয়াস মজিদ বেঁচে থাকার শীতার্ত সরণিতে ফুটে আছি একা কুয়াশাকুসুম। রূপে-রূপে মালঞ্চে মৃত্যুই পলস্নবিত – জীবন যেন। জীবন তো ওই দূরে বনভূমির সবুজ রান্না আর অনন্ত যত পিয়া বসন্ত। তবু তোমার টাইমলাইনে শীতবসন্তের অর্কেস্ট্রা হয়ে আমি নামের ঋতুহীন কেউ মৃত্যু ও জীবনের সীমান্ত ফুরোতে থাকি।
-
দুটি কবিতা
টোকন ঠাকুর কেমন যেন লাগে যে কারণে শীতকে বউ, বসন্তকে শালি ভাবতে ভালস্নাগে কেমন যেন লাগে আমার কেমন যেন লাগে এই ঋতুতেই হরিণীকে স্যালুট করে চুমু খেতে চায় বাঘে দুদিন পরই পৌষ ছাড়িয়ে দেহ পড়বে মাঘে ভাবলেই, কেমন যেন লাগে আমার কেমন যেন লাগে পরিস্থিতি সুন্দর একটি বাগান দেখলে…
-
বিভ্রম
মাহবুব বারী শান-বাঁধানো ঘাটে বসে আছে একজন। দৃষ্টি নিবদ্ধ পুকুরের জলে। আমরা চারজন দূর থেকে দেখছি – জল কেমন করে জলের সাথে মিশে আছে! মানুষ কেন পারে না? – এই কথাই ভেবে যাচ্ছে শুধু – একজন বলে উঠল। অন্যজন বলল, এমন হতে পারে ব্যর্থ প্রেমিক কোনো, হৃদয়ের ক্ষত যদি দূর হয় এইখানে বসে…
-
প্রতিবিম্বে পাওয়া মায়ের মুখ
ওবায়েদ আকাশ গাছের বাকল ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে শৈশব কিন্তু আজ সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে কী করে মায়ের কাছে যাবো? মা এখনো আগের মতোই স্বজাত রাঁধুনি আমার হাতের শিকারের পাখির আশায় দিনের পর দিন উনুনে আগুন জ্বালিয়ে রাখেন সশব্দ জাহাজ ভেড়ার শব্দ উড়ে এলো সেখান থেকে হুড়মুড় করে লাফিয়ে পড়ল প্রসিদ্ধ রান্নার মসলা…
-
কোয়াসিমাদোর বিলাপ
আহমেদ মুনির কত দূরে ওই স্মৃতির নোতরদাম তবু তার ঘণ্টাধ্বনি শুনে এসমেরালদা তোমাকেই মনে পড়ে। জলা আর জঙ্গলের এই প্রাগৈতিহাসিক দেশে তোমাকে ভিখুর মতো কাঁধে নিয়ে হাঁটি। না, তোমাকে নয় সে এক অনড় মাংসপি- জন্মকুঁজ দেহের ভেতরে তবু দেহের অধিক। কবরেও যেন যাবে একসঙ্গে যেন মালিকের সঙ্গপ্রিয় পোষা পাখি। নাকি এই কুঁজ বিস্মৃতির ধুলো…
-
আড্ডা
চঞ্চল শাহরিয়ার দিলীপের চায়ের দোকানে আড্ডা আমাদের প্রতি মুহূর্তের অহংকার, ফেসবুকে চ্যাট করা, নতুন কবিতা পাঠে মনোযোগ মানুষের কোলাহল, ঈদের বাজার শাড়ির দোকানে উপচেপড়া ভিড় শিউলি কুড়ানো ভোর শরতের মেঘমালা ক্যাটরিনা কাইফের হাসি-হাসি মুখ সব যেন স্বপ্নমাখা সমুদ্রের, উন্মাদনা। দিলীপের চায়ের দোকান সারাক্ষণ উৎসবে ভরপুর। দুঃখ নিয়ে তাই কবিতা লেখার সময় পাই…
