2017

  • ফাদার  দ্যতিয়েন : বাংলা গদ্যে  অনন্য ঝংকার

    কৃষ্ণা সেন ফাদার দ্যতিয়েন নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে শুভ্রবসনে শরীরমোড়া একজন মানুষ, যাঁর জীবনবোধের একাংশকে আচ্ছন্ন করে রাখে গির্জার শান্ত সমাহিত পরিবেশ। আমরা, যাঁরা ভিক্তর হুগোর লেখা ল্যে মিজেরাব্ল পড়েছি অনুবাদে বা মূলে, সেখানে পেয়েছি শান্ত, সৌম, স্থিতধী একজন যাজকের ছবি। দ্যতিয়েন সাহেবকে সেরূপে ভেবে নিতে পারলেই কল্পনা অন্তত একটা ভিত্তিভূমি পেয়ে যায়।…

  • লংকাপুরীর দিনরাত্রি

    নওশাদ জামিল কলম্বোতে যাঁরা বেড়াতে আসেন, তাঁদের জন্য গল ফেস সৈকতে যাওয়াটা ফরজ কাজ! কলম্বোর প্রাণকেন্দ্রে ফুরফুরে হাওয়া বিলিয়ে দিচ্ছে অনিন্দ্যসুন্দর এই সৈকত। পাশেই দাঁড়িয়ে কলম্বোর বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক এলাকা। ঠিক সামনেই পুরনো পার্লামেন্ট ভবন। খানিক এগোলেই সৈকতঘেঁষে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর বিখ্যাত গল ফেস হোটেল। কলম্বোর বেশকিছু দর্শনীয় জায়গা ঘুরে একদিন বিকেলে হাঁটতে-হাঁটতেই আমরা চলে আসি…

  • ঢাকায় ভারতের দুই তরুণ চিত্রকর

    জাহিদ মুস্তাফা বাংলাদেশ এবং ভারতের চারুশিল্প ও শিল্পীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সম্পর্কের দৃশ্যমান অগ্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি। ভারতে আমাদের শিল্পীরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ ও প্রদর্শনী করতে যাচ্ছেন, আবার সেদেশের শিল্পীরা একইভাবে একই প্রয়োজনে এদেশে আসছেন। ফলে অতীতের যে-কোনো সময়ের তুলনায় এ দুই মিত্ররাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে চারুশিল্পীরা অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করছেন। সম্প্রতি ঢাকায় প্রদর্শনী করতে এসেছিলেন ভারতের…

  • রোকেয়া সুলতানার অদৃশ্য শহর

    মূল : অদিতি গানীভ সাংওয়ান অনুবাদ : আদনান মনোয়ার হুসাইন সৃজনশীল অনুপ্রেরণায় ঋদ্ধ একজন শিল্পীই কেবল তাঁর সৃষ্টির নিত্য তাড়নার মধ্য দিয়ে কল্পনার কথা বলতে পারেন। চিত্রকর্ম তো কল্পনা, সৃষ্টি ও ছন্দের সম্মিলন, ভিন্ন-ভিন্ন মাধ্যমে নন্দনতাত্ত্বিক অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। সৃষ্টিশীলতার সার্বক্ষণিক তাড়নার সঙ্গে অপরিমেয়কে পরিমাপের প্যাশনের মিলন ঘটলেই তা মহৎ শিল্পের উৎস হয়ে ওঠে। রোকেয়া সুলতানার…

  • শিল্পের মহোৎসব

    মোবাশ্বির আলম মজুমদার বিশ্বশিল্পকলার সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্পকলার যোগসূত্র স্থাপনের ইতিহাস রচিত হয় বেশ আগেই। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের হাতে আবহমান বাংলার শিল্পকলার প্রাচুর্যপূর্ণ ভাণ্ডার বিশ্বশিল্পকলার সঙ্গে যুক্ত হতে থাকে। কারণ শিল্পাচার্য মনে করতেন, একটি মানবগোষ্ঠীর জীবনপ্রবাহ, আশা-আকাঙক্ষা, সভ্যতার ধারা ওই দেশের শিল্পকলার স্বকীয়তার মাঝে প্রতিফলিত হয়, পৃথিবীর তাবৎ শিল্পকর্মে এভাবেই নানান জনগোষ্ঠীর জীবনপ্রবাহ, আশা-আকাঙক্ষা, সমাজ, পরিবেশ,…

  • কুমকুম ভালো আছে

    জাহিদা হিনা অনুবাদ : বুলবুল আহমেদ   আমার আদরের দাদিমা। নমস্কার! আজ কয়েক সপ্তাহ পরে কাবুলে ফিরেছি, দেখছি তোমার লেখা চিঠি আমার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। তোমারটা ছাড়াও বাড়ি থেকে অনেকের চিঠি এসেছে : মা, ভাই, উমাদিদি এবং সুস্মিতা সকলের। কিন্তু তার মধ্যে, মধুরতম চিঠিটা তো তোমারই। আর এই চিঠিতে তুমি বেশ একটা বকুনি দিয়েছ আমাকে…

  • ওক্তাবিও পাসের কবিতা ‘অন্তরের বৃক্ষ’

    অনুবাদ : বিকাশ গণ চৌধুরী অন্তরের বৃক্ষ। এ-নামেই সূচিত ওক্তাবিও পাসের, যাঁর শেষ অধ্যায়ের জন্য তিনি ব্যবহার করেন সেই একই নাম, এক সম্পৃক্ত বুননের নিদর্শন হিসেবে। অন্তরের বৃক্ষ, ইস্পানি ভাষায় যা, Arbol adentro, ওক্তাবিও পাস তা রচনা করেন ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যবর্তী সময়ে এবং তা পুস্তকাকারে প্রকাশ পায় ১৯৮৭ সালে। এখানে প্রকাশিত পাঁচটি কবিতা…

  • জলিধান

    মাসুদ পথিক   আগাছার বিপরীতে যে হারানো শস্যের বিহবল মুখ তার নাম জলি, জলি চাষার মেজো মেয়ে   আমি চুপিচুপি দেখেছি তার মনোলোভা বুক পুষেছি তার গোপন অসুখ   ওগো ধান, ওরে জলি তুই মাঠের শেষ গান তবে কে আঙিনা মাড়িয়ে নিয়ে যায় তোর সোনা রূপ   আমি আজ মূক, আমি নয়তো মাঠের বিষণ্ণ মুখ

  • হয়তো

    পার্থ রায়   একদিন – পৃথিবীর সব ঘড়িগুলো থেমে যাবে, সব কোলাহল থমকে থাকবে নিথর দিশেহারায়; জেনে নিও – সমাজের কানুনি কিতাব খেই হারিয়ে গ্রন্থাগারের নীরবতাকে মেনে নেবে; তখন – তুমি মাথা রেখ আমার প্রাচীন কাঁধে, হয়তো – নিশুতি শীতের রাতে ঝরা পাতাদের সাথে একটা ছেঁড়া কবিতার পাতা দূত হবে ভালোবাসার বার্তা নিয়ে।

  • ভুবন বেদেনির পাড়া

    আহমেদ বাসার   এখনো নেভেনি আলো – আরো কিছুদূর হেঁটে যাও ভুবন বেদেনির পাড়া হতে কিছুটা পশ্চিমে হেলে যে-পথ চলে গেছে জীবন-মাঝির কুটির ঘেঁষে তার শেষপ্রান্তে ঝুলে আছে আদিম হারিকেন যদিও নিভুনিভু – হাতে তুলে নিয়ে কিছুটা উসকে দাও আলো, চড়া দামের কেরোসিন যদি সম্ভব হয় কিছুটা কিনে নিও প্রগতির দোকান থেকে সভ্যতার সমস্ত বাতি…

  • ওমরান দাকশিনের জন্য

    জোবায়ের মিলন   অবনত হও পৃথিবী দাম্ভিক অহমিকা থেকে নেমে এসে মিশে যাও পায়ের স্যান্ডেলে, ঝরা পাতার ধূলিকণায়, নগণ্য ভাগাড়ে। প্যাগোডা, গির্জা, মসজিদ, মন্দিরে মানায় না তোমায়। শিশুরক্তে রঞ্জিত তোমার হাত, দাঁত, লালসান্বিত চোখ।   ‘ভদ্র বিশ্ব’ বলে যাকে তুমি দাও সন্তান স্বীকৃতি তোমার সে-সন্তান বিকৃত লোভে বিনষ্ট বীজ তার থেকে জন্ম নিচ্ছে অযুত নিযুত…

  • অজ্ঞেয়

    সাবিনা ইয়াসমিন   কে জানত শুকিয়ে যাবে এইসব বিসত্মীর্ণ নদী মরে যাবে লাল চাঁদ এমনকি টইভুইজুড়ে জ্বলদর্চির মতো জ্যোৎস্নায় অপেক্ষারত অনড় অহল্যার শরীরে জন্ম নেবে দীঘল শষ্প আর, শীতঘুম ভেঙে কোনো এক ঘোরলাগা ভোরে কবি ফিরবেন বলে ওমে চোখ মেলবে আদুরী রোদ?   এও কি জ্ঞেয় ছিল ভালোবাসার চেয়েও বেশি কিছু জঙ্গম আছে সঞ্চারণশীল, প্রাণ…