2018

  • না-স্বপ্ন না-স্মৃতির সারাজীবন

    না-স্বপ্ন না-স্মৃতির সারাজীবন

    এক জানালা দিয়ে তাকালে অনেক দূর অবধি দেখা যায় – দূরের বিমানবন্দর কি বায়ুযানের ওঠানামা। কাচের জানালাঘেরা দশতলার ঘর আমার পদধারীর জন্য। আগে এই ঘরে যার স্থান ছিল, তার জারগায় এখন আমি। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানের – নানা কারণে সকলে সম্মান করে, জানি কেবল পদমর্যাদার জন্যেই নয় – আমার অন্য কিছু পরিচয়ও আছে। তবুও সময়ে সবই…

  • শাঁখ-মাজা ডানা

    শাঁখ-মাজা ডানা

    শিহাবের এবারেরটা নিয়ে তৃতীয়বারের মতো কক্সবাজার যাওয়া। সে প্রথমবার এসেছিল তার বিয়ের পরপর। নতুন বউকে নিয়ে। সেই জার্নির প্রথম পর্বটা ছিল সারারাত ট্রেনে। ঢাকা-চট্টগ্রাম। পরে পাবলিক বাসে। তবে ব্যক্তিগত কারে আসা-যাওয়ার দলে সে কোনোদিন পড়েনি। দ্বিতীয়বার শিহাব এসেছিল অফিসিয়াল ট্যুরে। সরকারি খাদ্য অধিদপ্তরের অডিট টিমের সঙ্গে। তার সঙ্গে ছিল তার বস ঊর্ধ্বতন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। সর্বমোট…

  • স্বস্তি

    স্বস্তি

    সবকিছু বড় বেশি আকস্মিক হয়ে গেল। কিংবা সেটাও ঠিক নয়। কারণ এরকমই তো হবার কথা ছিল মনে হয়। সেই কত বছর ধরে একটু একটু করে আশাভঙ্গ, বিশ্বাসভঙ্গ, কারণে-অকারণে চতুরতা, কথার প্যাঁচ, দুটো দেশের ভেতরে প্রায় দুহাজার মাইলের তফাৎ, তার ভেতরে ছয় দফা, তার ভেতরে গণজাগরণ, তার ভেতরে পাকিস্তান জুড়ে সাধারণ নির্বাচন, সবকিছু মিলিয়ে এরকম যে…

  • রঙের অক্ষরের ছবি

    রঙের অক্ষরের ছবি

    সামাদিনের কাছে দূর-দূরান্তের পথ মানে বুনোফুলের গন্ধ। সেই পথে হাঁটলে গন্ধের ছবি আঁকা যায়। নিজের জীবনযাপনকে ও এভাবে সাজিয়ে নিয়েছে। যখন-তখন বেরিয়ে পড়ে বাড়ি থেকে। চলে যায় দূরে কোথাও। বন্ধুদের বলে, এভাবে আনন্দে দিন কাটাই। আমার আনন্দ তোদের মতো নয়। আমি আনন্দ খুঁজি পথে-প্রান্তরে। পথ-প্রান্তর আমাকে গন্ধের ছবি আঁকায় ভরিয়ে দেয়। বন্ধুরা ওর দিকে তাকিয়ে…

  • প্রিয়াগ্নি

    প্রিয়াগ্নি

    বুলবন ওসমান দরজায় অশোক গাড়ির ভেঁপু বাজিয়ে চলেছে। মমতা উষ্মা প্রকাশ করে, বাবা থাম! মানুষদুটোকে খাওয়া শেষ করতে দে! ফজল আর তপন মোটামুটি খাওয়া শেষ করেই এনেছিল। তপন স্ত্রীকে বলে, তুমি বাইরে গিয়ে অশোককে জানাও আমরা পাঁচ মিনিটের মধ্যেই হাজির হবো। মমতাকে বেরোতে হলো না। অশোকের শুভবুদ্ধি। ভেঁপুর নিরসন। আসলে বেলা বারোটায় ফাগুন মাসে আরামবাগ…

  • আবদুল আজিজের জয় বাংলা

    আবদুল আজিজের জয় বাংলা

    মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তার এই অবস্থা। মনটা সব সময় খারাপ।

  • শেষ ট্রেন

    শেষ ট্রেন

    আমি বৃষ্টির কথা ভাবি : বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি অনেকটা দুঃখের মতো আমাকে জড়িয়ে রাখে। আমি বৃষ্টির কথা ভাবতে ভাবতে দুঃখের কথা ভাবতে থাকি। দিনগুলো বদলে যায়, বদলায় না দুঃখ। অজ্ঞতার চেয়ে বেশি অন্ধকার কোথাও নেই। শেক্সপিয়র থেকে শিখেছি। হয়তো দুঃখের বদল হয় না। যে-দিনগুলো হারিয়ে যায় সেই দিনগুলোই বেঁচে থাকে। মানুষ খারাপ কাজ করে,…

  • বাংলাদেশের ছোটগল্প : ষাটের দশক

    বাংলাদেশের ছোটগল্প : ষাটের দশক

    বিশ্বজিৎ ঘোষ বিশ শতকের ষাটের দশক বাংলাদেশের ইতিহাসে এক উন্মাতাল সময়। আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কারণে এ-সময়ের বাংলাদেশ ছিল বিক্ষুব্ধ, আলোড়িত, আন্দোলিত এবং স্বাধিকার চেতনায় উন্মথিত। এই সময়খণ্ডে রচিত সাহিত্যে সংক্ষুব্ধ-উন্মথিত বাংলাদেশের নানামাত্রিক ছবি শিল্পিত হয়ে আছে। এ-কথা উক্ত কালপর্বে রচিত বাংলাদেশের ছোটগল্প সম্পর্কেও সমানভাবে প্রযোজ্য। দেশ বিভাগ-পরবর্তী বাংলাদেশের ছোটগল্পের উত্তরাধিকারকে আত্মস্থ করেও ষাটের ছোটগাল্পিকরা অঙ্গীকার করলেন নানামাত্রিক…

  • সূ চি প ত্র

    প্রবন্ধ – ৯ বাংলাদেশের ছোটগল্প : ষাটের দশক l বিশ্বজিৎ ঘোষ   ১২ শেষ ট্রেন l বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ১৬ আবদুল আজিজের জয় বাংলা l ইমদাদুল হক মিলন ২০ প্রিয়াগ্নি l বুলবন ওসমান ২৬ রঙের অক্ষরের ছবি l সেলিনা হোসেন ৩২ স্বস্তি l আনোয়ারা সৈয়দ হক ৩৮ বনপুষ্পীর অমত্মর্ধান l বিপ্রদাশ বড়ুয়া ৪৬ শাঁখ-মাজা ডানা l রেজাউর রহমান ৫২ না-স্বপ্ন না-স্মৃতির সারাজীবন l জ্যোতিপ্রকাশ…

  • সম্পাদকীয়

    রবীন্দ্রনাথ তাঁর রচিত ছোটগল্পে মননধর্মিতার সঙ্গে সাধারণ লোকজীবন-উপলব্ধিকে যে প্রসারিত চেতনায় বিস্তৃত করেছিলেন, তা বাংলা ছোটগল্পের ইতিহাসে অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে। তিনি বাংলা ছোটগল্পে প্রকরণ ও শৈলী নির্মাণেরও প্রধান পুরুষ। তাঁর মতো করে জীবনের বহু দিক তাঁর সমসাময়িকদের আর কেউ প্রতিফলিত করতে পারেননি। পরবর্তীকালে চল্লিশের দশকে রবীন্দ্রনাথের চেতনাধারায় স্নাত হয়ে গল্পের ভুবন আরো সমৃদ্ধ ও…

  • দখিনের জানালায় দীর্ঘশ্বাস

    দখিনের জানালায় দীর্ঘশ্বাস

    সাদা আর কমদামি বাল্বের আলোয় ভূতুড়ে চেহারা পায় বর্ণিল পর্দাগুলো।

  • শশশ…

    শশশ…

    প্রথমবার পাত্তা দিইনি, কাকতালীয় ব্যাপার ভেবেছি। কিন্তু একনাগাড়ে বারবার একই ব্যাপার দেখে অবাক হচ্ছি এখন।