মনি হায়দার

  • সৈয়দ হকের নির্মাণ ও সৌধ : মার্জিনে মন্তব্য

    মনি হায়দার বাংলাদেশের ও পৃথিবীর বাংলাভাষীরা প্রতিদিন বলবে, সৈয়দ হক ছিলেন গহিন পরানের মানুষ। বাঙালি জাতির পরানের গহিন মানুষ সৈয়দ শামসুল হক। একটি জাতির পরানের গহিন মানুষ হওয়া এতই সোজা? নিশ্চয়ই না। পথ বন্ধুর। দুর্গম তো বটেই। সেই বন্ধুর ও দুর্গম পথ হেঁটে হেঁটে কুড়িগ্রাম কিংবা জলেশ^রীর থেকে তিনি পৌঁছেছেন বাঙালির চেতনামার্গের গভীরতম সোপানে। একজন…

  • তিমিরের তীরে

    মনি হায়দার   আপনারা আসমান আলীকে চিনতে পারবেন না। না, আসমান আলী কোনো আশ্চর্য প্রদীপ পায়নি। কিংবা হয়নি কোনো মন্ত্রী-টন্ত্রী। মানুষ হিসেবে ঠিকই আছে। রক্ত, মাংস, কাম, ক্রোধ-রিপু মিলিয়ে আগের মতোই আসমান আলী আছে আসমান আলীর মতোই। প্রশ্ন হচ্ছে – কী এমন ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটল যে আমরা, পরিচিতজনেরা আজ আসমান আলীকে চিনতে পারছি না?…

  • অস্তিত্ব

    মনি হায়দার   এগারোজন মানুষ আগুনের নীরবতায় একে অপরকে সহ্য করছে। তিনজন নারী, বাকি আটজন পুরম্নষ। আটজন পুরম্নষের মধ্যে পাঁচজন সৈন্য। দুজন বেসামরিক নাগরিক। পাঁচজন সৈন্যের একজন ক্যাপ্টেন দিদার। সুন্দর গোলগাল মুখ। নাকের নিচে হালকা কালো গোঁফ। ছিমছাম পেটানো শরীর। হাতে একটা ছোট্ট কিন্তু সুদৃশ্য লাঠি। মাঝে মাঝে হাতের লাঠিটি নাড়ানোয় নিঃশব্দ ক্ষমতার একটা দাপট…

  • কালো মেঘ যখন গ্রাস করে সাদা চাঁদ

    মেয়েটি সুন্দরী? অবশ্যই সুন্দরী, অন্তত আমার চোখে। সৌন্দর্য তো একজন মানুষের কাছে একেক রকম। আমি যেটুকু সৌন্দর্য বুঝি, তাতে আমি মেয়েটিকে সুন্দরই মনে করি। নাম কী? তারানা। শুধুই তারানা? আমি তারানাই জানি। ওর বাবা-মা, ভাই-বোন এ নামেই ডাকে। আমিও ডাকি। আপনি চেনেন কীভাবে? তারানার বড় ভাই জাহিদ আমার ক্লাসফ্রেন্ড। আমরা একসঙ্গে ইউনিভার্সিটিতে পড়েছি। জাহিদের বাবা…

  • মন-সংক্রান্তি

    মনি হায়দার নাহার এমনিতেই সুন্দরী। অফিসে যাওয়ার সময় হালকা সাজলে চোখ ফেরানো কঠিন। সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে ড্রয়িংরুমে ঢোকে। ড্রয়িংরুমে নিবিড়মনে পত্রিকা পড়ছে খালেদ। হাতে সিগারেট। মুখে আর নাকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি। নাহারকে দেখে পত্রিকা থেকে চোখ তোলে – অফিসে যাচ্ছো? হ্যাঁ। তুমি কখন যাবে? যাবো একটু পর। খালেদের কথায় হাসে নাহার। তুমি হাসছো…

  • দশ জানুয়ারি ১৯৭২

    মনি হায়দার আফসানা খানম কাঁদছেন। সাত মাস ধরে তিনি নিয়মিত কাঁদছেন। না, তার কান্না কেউ শুনতে পাচ্ছে না। মনের ভেতরে গুমরে গুমরে কাঁদছেন। না কেঁদে উপায় কী? তার চারদিকে ভীষণ বিপদ। একমাত্র ছেলে বাড়ি নেই। স্বামী কোথায় আছে, কেমন আছে জানেন না। আদৌ বেঁচে আছে কি-না…। আর ভাবতে চাইছেন না। কিন্তু কোত্থেকে ভাবনা আর মনকান্না…