চাণক্য বাড়ৈ

  • প্রশ্নান্তরে

    জীবন থেকে পালিয়ে কত দূর যাওয়া যায়? ওইখানে, ঘটে কি আবির্ভাব কোনো মোহন দৃশ্যের? নিরালায় কখানো কি বাজে লোকান্তরের গান – বিশ্রুত সুরে? পেয়েছ কি তবে প্রান্তরব্যাপী শ্রেণিকক্ষের খোঁজ? তাহলে কোথায় দিয়েছ ডুব? কোন অদেখা ভুবনের আলো মেখে নিচ্ছ গায়ে? এখানে, ফিসফাস করে আনমনা হেমন্তের হাওয়া ইতস্তত জ্বলে ওঠে গুচ্ছ গুচ্ছ স্মৃতির জোনাকি অনন্ত অভিমানে…

  • রক্তপ্রবাহ 

    কতদিন এভাবে রক্ত-তখতের ওপর বসে রব – দাও ডালিম ও দ্রাক্ষার রস – কর্পূরের সুগন্ধে কী ভাষা থাকে, গোলাপের পাপড়িতে থাকে কোন কোন অনুপলব্ধ অভিমান? রঙের মধ্যে কে সেরা, তা নিয়ে কি ঈর্ষাযুদ্ধ চলে রঙধনুর শিরা-উপশিরায়? মরূদ্যান থেকে ফিরে ওসব নিয়ে ভাবব না হয় – এই রক্তপ্রবাহ নিষ্ঠুর, প্রাণঘাতী – এবার বিনোদ বৃষ্টি চাই – …

  • পরিত্যক্ত গিটারের গান

    ক্ষমা করুন, মায়েস্ত্রো – শম ও সংগীত নিয়ে আমি কোনো নিবন্ধ লিখিনি – এখানে হরফেরাও বুঁদ হয়ে আছে – দুর্ভেদ্য সংকেতে ভারাক্রান্ত এই লিপি – আমার গৃহকাতরতা নেই, নেই বিট কয়েন – আছে এক ছিন্ন ও চিহ্নময় পাণ্ডুলিপি, আর আছে পরিত্যক্ত গিটারের গান – এখানে সন্ধ্যা সরল ও স্বতন্ত্র – সে কখনো ধরে না কলাবিশারদের…

  • কুহক সমাচার

    চোখ রাখো গূঢ় সংকেতের দিকে – ভূ-রাজনীতির মতো পাঠ করতে থাকো এই ইঙ্গিত, দুষ্পাঠ্য সময়ের ইশারা – ওই দূরে লাল-নীল যত আলোর গুঞ্জরণ, লিখে রাখো – লিখে রাখো যাবতীয় কুহক সমাচার – ম্যান্ডোলিন বাজাচ্ছে কেউ – তার মাথায় নেই রাজমুকুট, নেই দোলনচাঁপার কলি – শুধু আকাশে আকাশে রং, ফেনার প্রবাহের মতো নেমে আসছে সমুচ্চ সুরের…

  • অনিবেদিত প্রেম

    দাও তোমার অগ্রন্থিত সমস্ত কবিতা – জোনাকির ম্লান আলোয় পড়ে ফেলি আমাকে লেখা তোমার যাবতীয় বসন্তবাসনা – আমাকে শোনাও তোমার অপ্রকাশিত কবিতাসমগ্র – যার প্রতিটি পঙ্ক্তি তোমারই হৃদয়ের যথার্থ অনুবাদ – প্রতিটি উপমান একেকটি বাঁশপাতার চেয়েও দামি – ঘাসের ডগায় চিকচিক করা একবিন্দু শিশিরের চেয়েও ভারী, প্রকাণ্ড – মনে পড়ে হ্রস্ব দিন, ভাবতীর্থের দিঘি –…

  • রাত্রিভ্রমণের পর

    ভোর হলো, এই উন্মার্গগামী পথের কিনারে – সম্মুখে বিস্তৃত পটভূমি নিয়ে ছড়িয়ে আছে আরক্ত সূর্যসম্ভাষণ – হাওয়ায় দুলছে একগুচ্ছ মান্দারের ফুল – আরো কিছু সমুদ্র-পলাশ এইমাত্র চুষে নিল রাত্রিভ্রমণের সমস্ত ক্লান্তি – এ কাদের দেশ – কেবলই ফুল আর পাখিদের মেলা, সর্বত্র শূন্যতা ও সমুদ্রগর্জন – স্তনবতী রমণীর কাঁখে রুপোর গাগরি – আসমুদ্র তার পবিত্র…

  • আমার কথাগুলো

    জানি, তোমরা কেউ আমার কথাগুলো পৌঁছে দেবে না বজ্রবিদ্যুৎভরা মেঘেদের কানে – একটি ফণাতোলা গোখরার কাছে কতটা প্রার্থিত ছিল মধু অথবা ফণিমনসার কাছে চেয়েছিলাম তরতাজা রক্তগোলাপ – সবই অনুক্ত থেকে যাবে – আমি তাই আমার কথাগুলো রেখে যাব পাখিদের ঠোঁটে – নদীটারও কথা ছিল – রোদ্দুর ছড়ানো দিনে উগরে দিয়েছিল তাই কথার বুদবুদ – ধুলোর…

  • দীপ্র অক্ষরেরা

    চাণক্য বাড়ৈ অক্ষরেরা আসে ÑÑ অসংখ্য অনাহূত তীব্র অক্ষর আসে আমার ঘরে Ñ ঘরময় করে ওড়াউড়ি Ñ তবে কি হলুদ পাতার চিঠিতে অনুদ্ঘাটিত কোনো অবচেতনে নিমন্ত্রণ পাঠিয়েছিলাম কোনোদিন Ñ যেভাবে মৌমাছি আসে, মধুচক্রে Ñ সেইভাবে নেচে নেচে, গান গেয়ে গেয়ে আসে একেকটি অতিথি-অক্ষর Ñ যখন পাশাপাশি আসে, কী অদ্ভুত শব্দের মূর্ছনা হয়ে যায় ওরা, আমি…

  • বিষণ্ণ মুহূর্তের গল্প

    চাণক্য বাড়ৈ কারা আসছে নিষিদ্ধ ভায়োলিন বাজিয়ে – তাদের কাছে গিয়ে বলি, উজ্জ্বল হও, বের হয়ে এসো এই ঘোরগ্রস্ততা থেকে – এতদিন তীরবিদ্ধ ছিলে, এখন পান করো এই সুর – কথার নির্যাস – কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে তোমরা শুনতে চাও মৃত মানুষের গান – অথচ, মাথার ওপর যুদ্ধবিমান উড়িয়ে দিয়ে সারাক্ষণ বিরক্ত করো…

  • ঈর্ষা

    চাণক্য বাড়ৈ আমার প্রেমিকা, তবু রোজ সে ঘুমোতে যায় রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে, আমি ভাবি পরের জনমে তবে জমিদারই হবো। বনবাসে ধ্যানে যাই, তাতেও জন্মে না বিশ্বাস ধুলো পরিমাণ ‘জন্মান্তরবাদে’। সামান্য বালির কণা, তার কাছে হিমালয় খুব ক্ষুদ্র মনে হয়। উদয়াস্ত সমর্পিত রবীন্দ্রনাথে। তানপুরা কোলে নিলে পৃথিবীতে পাই না তাকে আর। ভাবি, পরের জনমে তবে অর্ফিয়াসই হবো। তবু…

  • সহোদরা

    চাণক্য বাড়ৈ আমার যমজ বোন – সে থাকে মালতীনগর – আমি তাকে জ্যোৎস্নািলপি ডাকি। আমাদের আয়না ছিল না কোনোদিন – নিজেকে দেখতে হলে আমাকেই দেখে নিত সে – আমিও তার মুখ দেখে মিটিয়েছি আয়নার দায় – সে পোষে সাদা রাজহাঁস – আমি কবুতর -অথচ অভিন্ন প্রেমিক নিয়ে ছাড়াছাড়ি হলো – সে থাকে মালতীনগর – আমি…