তারাপদ রায়

  • একটি কবিতা

    এবার একটি কবিতা দিতে একটু দেরি হল। খুব দেরি হয়তো নয়,                       তবুও তো। আসলে আমার কোনো দোষ নেই। কবিতাটি এসে গিয়েছিল,                আশেপাশেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। কখনো পাখির পালকের মতো উড়তে উড়তে, কখনো ঝিঁঝির ডাকের মতো ক্রমাগত, কখনো জানলার খড়খড়ির ফাঁকে আলো, কবিতাটি এদিক ওদিক ঘুরপাক খাচ্ছিল। এর মধ্যে কয়েকদিন খুব ঠান্ডা পড়ল, একদিন…

  • হচ্ছে-হবে

    বিষে বিষক্ষয়গল্পটা ফরাসি দেশীয়। বছর চল্লিশ আগের খুশবন্ত সিংহ-সম্পাদিত বিশালাকার ইলাস্ট্রেটেড উইকলি অফ ইন্ডিয়াতে পড়েছিলাম (পাঠক-পাঠিকা জেনে আশ্বস্ত হবেন যে আমার বিদ্যের দৌড় ওই পর্যন্তই)। সে যা হোক, আমার যা নীতি, ‘যদ্দৃষ্টং তল্লিখিতং’ অর্থাৎ যা দেখি তাই লিখি, সেই নীতি-অনুসারে গল্পটা বাংলায় লিখে ফেললাম তখনকার বাগবাজারের যুগান্তর-গোষ্ঠির অমৃত সাপ্তাহিকে আমার ‘কথায়-কথায়’ কলমে। গল্পটা স্বামী-স্ত্রীর বাঁকাচোরা…

  • হচ্ছে-হবে

    হচ্ছে-হবে

    মদ ও গঙ্গারাম গঙ্গারাম আমার বৃদ্ধকালের অসমবয়সী বন্ধু। বুঝে না বুঝে, সে আমাকে অনেক সময়েই সাহায্য করে, আমার রচনার রসদ যোগায়। কালি ও কলমের পাঠক-পাঠিকারা গঙ্গারামকে চেনেন না। সে আমার মতো ওপারের লোক নয়, সে খাঁটি এপারের লোক, রাঢ়ভূমির নৈকষ্যকুলীন ঘটি। এখন অবশ্য ‘ঘটি’ কথাটা প্রায় উঠেই গেছে, ঘটি-বাঙালের ভেদাভেদ এখন আর নেই। কিন্তু গঙ্গারাম…

  • চলছে-চলবে

    চলছে-চলবে

    জানা-অজানা দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্কে ‘মৌচাক’ নামে বিখ্যাত একটি মিষ্টির দোকান আছে। এই দোকানের ওপরেই সপ্তর্ষি হোটেল। ছিমছাম এবং অভিজাত। এই হোটেলেরই দোতলায় সমকাল আর্ট গ্যালারি। সেখানে প্রায় নিয়মিত চিত্রপ্রদর্শনীর সঙ্গে কবিতাপাঠের আসর বসছে। সেই আসরে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত, নবনীতা দেব সেন থেকে শুরু করে আরো অনেকেই যোগদান করেন। আমিও যাই। ‘মৌচাক’ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের কর্মকর্তা…

  • হচ্ছে-হবে

    হচ্ছে-হবে

     বেড়াল অথবা বিড়াল যা বিড়াল তাই বেড়াল। স্থানভেদে, জিহ্বাভেদে বেড়াল বিড়াল হয়ে যায়। কোথাও-কোথাও এই বিড়াল ভাষাতত্ত্বের রহস্যময় কারণে বিলাই নামে পরিচিত। এর চেয়েও বড় কথা, খাঁটি বাঙাল দেশে এই বেড়াল কিংবা বিড়াল কী করে মেকুর হয়েছিল? অনেকদিন আগে আমি একটা গল্প বলেছিলাম আপনাদের, মনে আছে কি-না বলতে পারব না, সেই জন্যে আপনাদের অনুমতি নিয়েই…

  • হচ্ছে-হবে

    হচ্ছে-হবে

    মুখবন্ধ হচ্ছে-হবে। হচ্ছে এবং হবে, হচ্ছে ও হবে, হচ্ছে কিংবা হবে। চমৎকার দ্বন্দ¡ সমাস। আমার অভিমত শুনে ব্যাকরণবিদ ভ্রƒকুঞ্চন করলেন। আমি বাধ্য হয়ে বললাম, ‘তাহলে তোমাদের এখনকার কালের ভঙ্গিতে বলা যেতে পারে, ‘ব্যতিক্রমী দ্বন্দ¡ সমাস। যেমন, চলছে-চলবে।’ ব্যাকরণবিদ বললেন, ‘চলছে-চলবে চলবে না।’ ‘চলবে না, মানে? তুমি কি কোনো কল-কারখানার মালিকানা নিয়েছ? শ্রমিক-আন্দোলনের ভয়ে আছো?’            …

  • একটি কবিতা

    এবার একটি কবিতা দিতে একটু দেরি হল। খুব দেরি হয়তো নয়,                     তবুও তো। আসলে আমার কোনো দোষ নেই। কবিতাটি এসে গিয়েছিল,            আশেপাশেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। কখনো পাখির পালকের মতো উড়তে উড়তে, কখনো ঝিঁঝির ডাকের মতো ক্রমাগত, কখনো জানালার খড়খড়ির ফাঁকে আলো, কবিতাটি এদিক ওদিক ঘুরপাক খাচ্ছিল। এর মধ্যে কয়েকদিন খুব ঠান্ডা পড়ল, একদিন ভীষণ…