নীলকণ্ঠলতা

লেখক: মঈনুল হাসান

বেঁটে-কালো নীলকান্তবাবুর স্বভাব অটল পাহাড়ের মতো। চলাফেরায় যেমন ধীরস্থির, কথাও বলেন তেমনি নিচু স্বরে, থেমে থেমে – অনেক মেপে, তবে বেশ গুছিয়ে। তার আচরণ বা চারিত্রিক বিন্যাসের পারিপাট্য তার পেশাগত কাজের সঙ্গে মানানসই নয় – পরিচিত মহলে এমন ধারণা চাউর হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। গলার স্বরে সংগীতের রাগিণীর মতো আশ্চর্য এক মাদকতা রয়েছে তার। সারাক্ষণই তিনি কীসব যেন ভাবেন। আর ভাবনার অতলে একবার ডুব দিলে আরো শান্ত হয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যান তিনি।

জ্বলজ্বলে গভীর চোখের নীলকান্তবাবু যখন নিশ্চুপ বসে থাকেন, কারো সঙ্গে কথা বলেন না, আর বলবেনই বা কার সঙ্গে? শরীরের সীমানা থেকে হাত বাড়িয়ে কাউকে ছুঁতে বা খুঁজতে গেলে তার স্ত্রী নীলাম্বরী দেবী এসে ঠিক হাজির হয়ে যান। প্রায় চার দশকের ওপরে যার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে পথচলা শুরু করেছিলেন, একদিন সেই মানুষটাকে তিনি নিজের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নীলা দেবী ভাবতেই পছন্দ করেন বেশি। তার সঙ্গেই তো জীবনের বাকিটা পথ অবিরাম অগ্নিরথ ছুটিয়ে অজানালোকের শেষ ঠিকানা পর্যন্ত পাড়ি জমাবেন বলে মনস্থ করে আছেন আজো। এমন অটুট ভাবনা সমান ও সমান্তরালভাবেই জিইয়ে আছে দুজনের মনে।

নীলকান্তবাবুর আসল নামটি এমন নয়, অন্তত কোষ্ঠীতে তো নয়ই। হঠাৎ করে ঠিক কবে কখন থেকে নীলের প্রতি তার ভালোবাসা প্রগাঢ় হয়ে উঠল আজ এতো বছর পরে এটা তার মনে থাকার কথা নয়। মনেও নেই অবশ্য। তবে তার মণিকান্ত সিংহ নামটি ওলটপালট করে নিজের নাম নীলকান্তমণি রেখে দেওয়ার পেছনে তার ছোটখাটো প্রণিধানযোগ্য একটা বক্তব্য আছে। আর তা হলো, তিনি নিজে সিংহ রাশির জাতক হলেও তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে সিংহের ক্ষিপ্রতা বা দুর্ধর্ষতার ছাপ লেশমাত্র নেই। আবার আকারে ছোটখাটো গড়নের বলেই স্বভাব-আচরণে শান্তভাব এসেছে এমনটি তার নিজের ধারণা। তিনি নিজে তাই সে-দুর্বলতা অনুভব করে সিংহ শব্দটি ছেঁটে ফেলতে চান বা ফেলেওছেন। আর ওদিকে নীলকান্তমণি ঠোঁটের আগায় উঠে এসে ডাকতেও নাকি বেশ সুবিধা হয়। সেই থেকে মিনগ্রামের মিতভাষী ও খ্যাতনামা উকিল
 মণিকান্ত সিংহ সকলের কাছে হয়ে গেলেন নীলকান্তমণি বা শুধু নীলকান্তবাবু।

রতিকান্ত সিংহের মতো আইনের একটা খটমটে পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পিতার সঙ্গে তার চরিত্রের সবচেয়ে বড় অমিল হলো তিনি খুব বিষয়াশ্রয়ী নন। অসামান্য ওকালতি দক্ষতা বা এক্ষেত্রে পারঙ্গমতা থাকলেও দেখেশুনে মামলা বাছাই করেন অর্থাৎ লড়েন কম – তার পরিমিত স্বভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। যদিও সবকিছুর একমাত্র উত্তরপুরুষ তিনি, তাই নিজ হাতে গড়েছেন খুব সামান্য – শুধুই দেখভাল করেছেন সাধ্যমতো।

নীলকান্তবাবুর ভিন্ন একটা জগৎ রয়েছে। একজন সৌখিন নিসর্গপ্রেমী মানুষ হিসেবে তার যথেষ্ট খাতির রয়েছে আপন বন্ধুমহলে। মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণের প্রতিও যে মানুষের ভালোবাসার নৈকট্য ও যত্ন থাকা প্রয়োজন তা কেবল বৃক্ষরাজির প্রতি তার নিখাদ প্রেম আর তীব্র আকর্ষণ দেখলে সহজে অনুধাবন করা যায়। গাছের প্রতি তার এ-প্রচ- দুর্বলতা বা মমত্ববোধের দীক্ষা তার স্বর্গীয় পিতা রতিকামেত্মর কাছ থেকে শৈশবের সেই দিনগুলো থেকে পাওয়া। সন্তান হিসেবে শত সীমাবদ্ধতার মধ্যে পিতার গুণগুলো সব আত্মস্থ করতে না পারলেও এই একটি ব্যাপারে তিনি বেশ গর্ব অনুভব করেন। আবার কখনো মনে করেন পিতাকেও হয়তো ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

দুই

পিতা রতিকান্ত সিংহ ছিলেন জজকোর্টের মুহুরি। ঢ্যাঙা লম্বামতো একজন মানুষ কেমন লাফিয়ে লাফিয়ে হাঁটতেন আদালত চত্বরের ভিড়ে। শারীরিক গড়ন বাদে স্বভাব-চরিত্রেও তিনি ছিলেন নীলকান্তবাবুর ঠিক উলটো। আর মুহুরিদের চলন-বলনে একটু চটপটে না হলে মোকদ্দমা হাতিয়ে নেওয়া কিংবা মক্কেল ঠেকাতে গলদঘর্মই হতে হতো নিশ্চিত। এদিক থেকে রতিবাবুর জুড়ি মেলা ভার। কারণ দেওয়ানি মোকদ্দমার বিষয়গুলোতে তার জ্ঞান-বুদ্ধি ছিল বেজায় টনটনে। তাছাড়া সরকারি মোকদ্দমায় সহযোগিতা করতেন বলে আদালতপাড়ায় তার একটা কদরও ছিল বরাবর।

আদালত চত্বরের কাজশেষে বাড়ি ফিরে এসেই তিনি বলতেন, কই গেলি রে নীলু? দেখ তো দেখি এটা কী গাছ? পথের ধারে কুড়িয়ে পেলাম। কে বা কারা যেন উপড়ে ফেলে গেছে। কাজের হলে লাগিয়ে রাখ তো উঠোন বা বাড়ির এক কোণে কোথাও। স্বগতোক্তির মতো তারপর বলে যেতেন, ‘একটা জীবন বলে কথা, আহা কত কষ্টই না পেয়েছে গাছটা! জল-হাওয়া ঢেলে কষ্টের যদি সামান্য উপশম করা যায় তবে নিশ্চয়ই একদিন কাজে দেবে রে নীলু।’

বাবার কথাগুলো খুব মন দিয়ে শুনত কিশোর নীলকান্ত। আর তখনই দৌড়ে গিয়ে শাবল এনে মাটি খুঁচিয়ে গাছটা লাগিয়ে তবেই অন্য কাজে মন দিত সে। এভাবে আস্তে আস্তে বাবা বা তার নিজ হাতে লাগানো গাছগুলোর প্রতি নিজের সন্তানের মতো একটা প্রবল টান জন্মে গিয়েছিল নীলকান্তবাবুর। ভালোবাসার সেই সুপ্ত টানটা এখনো দারুণভাবে রয়ে গেছে তার মনে। তাছাড়া বাবার আদরমাখা সে নীলু ডাক শুনতে শুনতে তিনিও হয়ে উঠলেন সিংহবিহীন নীলকান্তমণি। সেখানেই শেষ নয়, বৃক্ষের প্রতি ভালোবাসা কিংবা নীলু নামটার কারণে নীল রংটাও তার খুব প্রিয় রং হয়ে উঠতে থাকে ধীরে ধীরে।

পিতা রতিকান্তবাবু এবং মাতা সারদা দেবী গত হয়েছেন বহুকাল আগে। তাছাড়া তারা কেউ এ-গল্পের মুখ্য চরিত্রও নন। 

গল্পের আবর্তন মূলত নীলকান্তবাবুকে ঘিরে। আজকাল তার পরম আস্থা ও নির্ভরতার একমাত্র জায়গা স্ত্রী নীলাম্বরী দেবী, যাকে আমরা প্রথমে নীলা দেবী বলে চিনেছি। এই একটিমাত্র মানুষের প্রতি তার আবেগ-অনুযোগ-মনোযোগ সব অক্ষত আছে অনাদিকাল ধরে।

স্ত্রী নীলা দেবীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ ও সম্বন্ধের ক্ষেত্রেও এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছিল নীলকান্তবাবুর যৌবনের সময়টিতে। নীলা দেবী দেখতে কেমন সে-বিবেচনা না করে শুধু নাম শুনেই নীলকান্তবাবু এ-সম্বন্ধে রাজি হয়েছিলেন প্রথমে। অনেকে বলে থাকেন, নীল নাকি বেদনার অনুষঙ্গ – কষ্টের রং। অথচ অথই সমুদ্র বা নিঃসীম আকাশের রংও তো নীল বই অন্য কিছু নয়। তিনি তাই ভেবে পান না যে রঙে এমন অসীম গভীরতা আছে কিংবা যেখানে এতো উদার আহবানের ছড়াছড়ি তা কী করে বেদনার ভাষা প্রকাশ করে? উদার গভীরতায় কি বিষণ্ণ নিঃসঙ্গতা লুকিয়ে থাকতে পারে? নীলকান্তবাবু একদমই তা ভেবে পান না। তাই বিবাহের সম্বন্ধে পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যখন সামান্য দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল, নীলকান্তবাবু দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন – পাত্রী মানানসই হোক বা না হোক, নীলা দেবীকেই স্ত্রী হিসেবে চান তিনি। তার অন্য কোনো পছন্দ নেই, তিনি এখানেই বিবাহ করবেন। এটা শুধু সম্ভব হয়েছিল পাত্রীর নাম নীলা দেবী দেখে।

দীর্ঘদিনের জোড়বাঁধা সংসারের দুই অবলম্বন দুই ছেলেও এখন মানুষ হয়ে গেছে। নিজে সিংহ ছেঁটে ফেললেও ছেলেদের বানিয়েছেন সিংহপুরুষরূপে। নীলাম্বর সিংহ আর নীলরতন সিংহ। স্ত্রী আর নিজের নামের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে এ-নাম নির্বাচন তিনি নিজেই করেছেন। কিন্তু ছেলেদুটোর কেউই আর তার মতো নয়। সাবেকি আমলের অমন গালভরা ভারিক্কি নাম নিয়ে চলতে-ফিরতে তাদের কষ্টই পোহাতে হয়। ওসব গুরুগম্ভীর নাম বাদ দিয়ে তাই নীলা দেবী তাদের একসঙ্গে ডাকেন নীল-রতন নামে। সেখানেই তাদের স্বাচ্ছন্দ্য।

নীল আর রতন। পিঠাপিঠি দুই ভাই। স্বভূমের মায়া কাটিয়ে অনেকটা নাড়ি ছিন্ন করে তারা দুজন যখন সংসার সাজাল ভিনদেশে তখন থেকেই একটু একটু করে সাংসারিক শূন্যতার অবিচ্ছিন্ন কষ্টের একটা নীলাভ প্রতিবিম্ব তিনি খুঁজে পেলেন তার যত্নহীন শরীরের অন্দরে; পরিচর্যাহীন উঠান-বাগানে, শূন্য ঘরের কোনায় কোনায়, এমনকি জীবনের নির্ভরতার সকল ক্ষেত্রেও। সন্তানদের প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি কিংবা তার স্ত্রী নীলা দেবী মোটামুটি নিরুত্তর ছিলেন শুরু থেকেই। কেননা, তার বা তাদের শেকড় সাবেকি আমলের কোনো জমিদারবাড়ির বিত্ত-বৈভবের ঐশ্বর্যে মোড়া ভরপুর কোনো অঙ্গনে বিসত্মৃত ছিল না; বরং মিনগ্রামের কাছে অসংখ্য বট-পাকুড় ও অজানা লতাগুল্মের আড়ালে পিতা রতিকান্ত মুহুরির ফি বছর লিজ নেওয়া জিরজিরে প্রাচীন দোতলা বাড়িটির মাঝে দুজন মানুষের অস্তিত্ব কোনোরকম টিকে ছিল অবহেলাভরে।

তিন

ষাটোর্ধ্ব নীলকান্তবাবুর এখনো অল্পবিস্তর পসার রয়েছে। জজকোর্টের কাছাকাছি রাসত্মার উত্তর ধারে দাঁড়ানো জেলা পরিষদের এক জরাজীর্ণ মার্কেট। তারই দোতলার এক কোণে ছোট্ট করে চেম্বার সাজিয়েছেন তিনি। সাবেত নামে এক ছিঁচকে ছোকরা এখন তার মুহুরির কাজ করে। উকিলবাবুর মাসিক মোকদ্দমাগুলোর দিন-তারিখের হিসাব রাখা, মক্কেলদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পরবর্তী ধার্য তারিখ জানিয়ে দেওয়া, মোটকথা, মামলার কার্যক্রম প্রয়োজনের গতিতে এগিয়ে নেওয়াই মূলত তার কাজ। যেহেতু তিনি খুব বেশি কথা বলেন না তাই মুখে তুবড়ি ছোটানো এ-ছেলেটা সবকিছুতে তার মুখপাত্র হয়ে কাজ করে। মোটামুটি মুহুরিগিরির ভেতর-বাহিরসহ সবকিছুই ঠিক রাখার চেষ্টা করে এই একনিষ্ঠ ও সদাতৎপর সাবেত আলী।

শহরের গা লাগোয়া মিনগ্রাম নামে গ্রাম হলেও আসলে রতিকান্ত মুহুরির বাড়িটি ছিল পৌরসভার একেবারে শেষপ্রামেত্ম। রতিকান্তবাবু একসময় যখন সরকারি ভিপি কৌঁসুলি বাতেন সাহেবের মুহুরি হিসেবে এদিক-ওদিকে দাপিয়ে বেড়িয়েছিলেন, ঠিক তখনই জেলা রাজস্ব শাখার সহকারীকে হাত করে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে কীভাবে যেন হাতিয়ে নিয়েছিলেন মিনগ্রামের ওই ভগ্ন জরাগ্রস্ত দোতলা বাড়িটি। ফি বছর বাড়িটার জীর্ণ দেয়ালের গায়ে রং লেপে, একটু-আধটু সংস্কার করে মোটামুটি মানানসই একটা আবাসে পরিণত করেছিলেন তিনি। তার সেই আপ্রাণ চেষ্টার ফলাফলে অবশেষে জাত-কুল-মান সবই পেয়েছিল বাড়িটা। আর এখন? রতিকান্ত মুহুরির বাড়ি বললে লোকে একনামে চেনে – আঙুল উঁচিয়ে শেষে দেখিয়ে দেয় পর্যন্ত।

নীলকান্তবাবু সেদিন বিকেলে হাঁটতে হাঁটতে চেম্বার থেকে বেরিয়ে কী একটা কাজে যেন জজকোর্টের চত্বরের দিকে ঢুকে পড়েছিলেন। তার আগে ডিসি কোর্টের রাজস্ব-সংক্রান্ত আপিল মোকদ্দমাগুলো উলটেপালটে দেখে সেদিনকার মতো শেষ করছিলেন দুপুরের আহার বিরতির ফাঁকে। জজকোর্টের দেওয়ানি মোকদ্দমাগুলোর তেমন কোনো মক্কেলও ছিল না আজ। এদিকে আকাশটাও মেঘলা হয়ে থম ধরে আছে। শীতল হাওয়া বইছে অনেকক্ষণ ধরে। সেটা গায়ে মেখে চত্বরের ভেতর পা দিয়ে স্তব্ধ বাকরুদ্ধ হয়ে রইলেন বেশ কিছুক্ষণ। আশ্চর্য সবুজ এক লতা গুল্ম কিছুটা অবহেলায় বাগানের একেবারে পশ্চিম কোণে এক শুকনো ডালের গা-বেয়ে মাথা তুলে উঠেছে। চিকন পাতার ঝাড়টিতে ভারি নজরকাড়া ফুলের সমারোহ। গাঢ় নীলের বুকে হালকা হলুদের ছিটা। তিনি কালবিলম্ব না করে ইতিউতি খুঁজতে থাকেন কী যেন!

স্যার কিছু লাগবে? কোত্থেকে যেন দৌড়ে এসে সঙ্গে সঙ্গে হাজির হয় সাবেত আলী।

কাছাকাছিই কোথাও হয়তো ছিল। কিন্তু নীলকান্তবাবু একদমই তাকে খেয়াল করেননি। স্বভাবসুলভ নরম ভঙ্গিতেই বললেন, তুমি থাকো কোথায়? একটু তো প্রয়োজন ছিল। আজ কাজশেষে আমার সঙ্গে বাড়ির দিকে যাবে। তবে তার আগে … বলে কিছুটা ইতস্তত করতে থাকেন তিনি।

আমাকে বলেন, স্যার। কেউ তো নাই এদিকে।

নাই মানে … ওই যে ওখান থেকে …

বাকিটা আর সাবেতকে বলে দিতে হয় না। কারণ সে জানে নীলকান্তবাবু তার স্বর্গীয় পিতার স্বভাব পেয়েছেন। আজীবন উকিলগিরি করলেও কীভাবে যে প্রকৃতিপ্রেমের নেশায় ডুবেছেন কেউ না জানলেও সাবেত অন্তত বিষয়টি জানে। সে তাই তার মনিবের ইশারামতো একটা শক্ত ডাল ভেঙে নিয়ে আসে ওখান থেকে।

মেঘাচ্ছন্ন বিকেলে নীলকান্তবাবুর অন্ধকার কালো মুখেও একটা খুশির ঝলক ওঠে। তাড়া দিয়ে তারপরই বলে ওঠেন, চলো, এবার বাড়ি ফিরে যাই। আর কোথাও যাব না। চেম্বারে তালা দিয়েছ?

তবে যে স্যার বলছিলেন, কোর্ট ভবনের দিকে জরুরি কাজ আছে। মুহুরিগিরির দায়িত্ব নিয়ে সাবেত তার কর্তব্যের বাকি অংশটুকু স্মরণ করিয়ে দেয়।

আহা, আজ নয়। দেখছ না সাবেত। একটা প্রাণকে ভেঙে হাতে নিয়েছি। ডালের ফুল-পাতাগুলো কষ্ট পাচ্ছে। এ ভারি অন্যায়। আর কোথাও নয়। বাড়ি যাই আগে। তুমিও চলো সঙ্গে …

কথা না বাড়িয়ে সাবেত আলী নীলকান্তবাবুকে অনুসরণ করে চলে। আর সামনে থেকে স্বগতোক্তির মতো একজন নির্মল মনের মানুষ একা বিড়বিড় করে চলেন, একটা জীবন … ইস কেন যে ভেঙে নিলাম … গাছটাকে বাঁচাতেই হবে। আচ্ছা, নাম কী গাছটার? ফুলগুলো কি বেদনায় এমন কাতর হলো?

নেমে আসা অন্ধকারের কারণে সাবেত পেছন থেকে নীলকান্তবাবুর সাদা প্যান্ট ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না। তবে সন্ধ্যার সে আগ সময়টায় চারদিকে মিশমিশে কালো অন্ধকার নেমে ছোটখাটো মানুষটার সারাদেহে শুধু মিশে যেতে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে সাবেত তাই তৃতীয় চোখ দিয়েই উপলব্ধি করে যায় পুরো মানুষটাকে – যতটুকু তাকে চেনে।

চার

দোতলার টানা ঝুলবারান্দার পুরোটা জুড়ে সাদা-কালো মোজাইকের অপূর্ব জাফরিকাটা – ছাদের প্রান্ত ধরেও নকশাকাটা টিনের ঝালর। লম্বা বারান্দার এক প্রামেত্ম লোহার রেলিংয়ের ধারে বসে নীলা দেবী স্থির শূন্য চোখে চেয়ে থাকেন নিচের দিকে। অনেক বছর হলো বাড়িটির মেরামত হয়নি। রংটাও ধসে গেছে নোনা ধরে। চুনসুরকির ফাঁকে বাড়ি মেরামতের কাজের মধ্যে নীলকণ্ঠলতার গাছটা মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আজো।

প্রধান ফটকের একপাশ আগলে সেই কবে থেকে এ-বাড়ির এক কোণজুড়ে কেমন নাড়ি পেতে রেখেছে গাছটি। নীল রঙের বাহারি গেটের ধারে লতার ঝাড়টি কেমন সমানে সমান মানিয়ে গেছে একেবারে। নীলা দেবীর হঠাৎ মনে হয়, দুই ছেলের কেউই শেকড় গেড়ে মায়া ছড়িয়ে সন্তান-সন্ততিসহ এভাবে থাকতে পারল না। অথচ গাছটা? ছিমছাম এ-দোতলা বাড়ির মায়া আগলে এখনো বেঁচে আছে কী আশ্চর্য রকমভাবে! এতগুলো বছর মায়া নিয়ে আর ছায়া দিয়ে ঠিক দাঁড়িয়ে রইল একই রকমভাবে। বড় মায়াবী, বড় মনকাড়া।

নীলা দেবীর একসময় মনে হয় তার স্বর্গীয় শ্বশুর রতিকান্ত সিংহের কথা। যার স্মৃতি মাখা আছে বাড়িটির আনাচ-কানাচ পর্যন্ত। তার নামেই তো তাদের পরিচয় এখন এবং তিনি না হলে হয়তো … দুচোখের আয়না দিয়ে নীলা দেবী তখন জীর্ণ মায়াবী বাড়িটার উঠান-পুকুর-বাগানে ভ্রমণ করে নেন একবার।

এ-কথা ঠিক যে এ-বাড়ি তাদের নয়। এটাও সাবেকি আমলের কোনো জমিদারের নায়েব বাড়ি হবে হয়তো। আজ তাদের কোনো চিহ্ন নেই, নেই কোনো উত্তরাধিকার। কিন্তু তাদের মায়ার অজস্র স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে এখনো বাড়িটিকে প্রহরা দিয়ে যাচ্ছে অতিকায়
আম-কাঁঠালের গাছগুলো; কিংবা বাড়ির পেছনে পুকুরঘাটের কাছে সুউচ্চ তাল-নারকেলের সারি। মানুষ শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকে না, টিকে থাকে তাদের রেখে যাওয়া চিহ্ন নিয়ে পুরনো গাছগুলো। ওখানেও প্রাণ আছে। প্রাণ দিয়ে ভাষাহীন প্রাণ টিকিয়ে রাখার অবিরাম অশেষ চেষ্টা মানুষই কেবল করে।

নীলা দেবী তার চারপাশের সব জমাট হাওয়া এক নিশ্বাসে বুকে ভরে নিয়ে একবার আছড়ে ফেলেন চারদিকে। বারান্দা থেকে আবারো চোখ যায় নীলকণ্ঠের গাঢ় ঝোপের দিকে। বড় অস্থির সময়ের সাক্ষ্য দিয়ে যাচ্ছে বুঝি ঝাড়টা।

নীল আর রতনের কথা মনে হতেই বিষাদের নীল অভিমান ভর করে আসে তার বুকে। কতদিন ছেলেদের সঙ্গে কথা হয় না, সাক্ষাৎ তো নয়ই। ছেলেগুলোও কেমন ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে আর দেখতে আসে না শহরতলির এ-মানুষগুলোকে। সারাজীবন ধরে যে-মায়ার জাল বিছিয়েছিলেন যত্ন করে তার বাঁধনগুলো আলগা হতে হতে অদৃশ্য হয়ে গেছে বোধহয়। পুরনো সেসব কথা মনে করে অজামেত্মই জল উপচে আসে নীলা দেবীর চোখে।

সপ্তাহখানেক আগে ফটকের কাছে মেরামত করতে গিয়ে মুহুরিবাড়ির বাঁধা রাজমিস্ত্রি দুলাল এসে বলল, কাকিমা, গেট
আর মেরামতযোগ্য নয়। ওটা ভেঙে উঁচু করতে গেলে আরো মাটি দিতে হবে।

মাটি লাগলে আরো এনে দাও। ঠাকুরঘরের পেছনে যথেষ্ট মাটি গাদি করা আছে। তাই এনে দাও।

তবে মাটি দেওয়ার আগে তো এ জংলি গাছ কাটতে হবে। এটা বাধা সৃষ্টি …

খবরদার … কখ্খনো না, ভুলেও না। নীলা দেবী আঁতকে চেঁচিয়ে ওঠেন। যেন এ-গাছের নিচে অসুস্থ নীলকান্তবাবুর প্রাণভোমরা লুকিয়ে ছিল।

এ তো অকাজের গাছ মনে হয় কাকি … দুলাল গোঁ ধরে বসে থাকে।

গাছ আবার অকাজের হয় নাকি? দেখো না কেমন ফুল ফুটে আছে! সামনে ঝাড় আলো করে আরো ফুল আসবে। তাছাড়া বাড়ির কর্তা নিজ হাতে লাগিয়েছিলেন এ-গাছটা। গাছ কাটা কখনো হওয়ার নয়।

তবে যে মাটি দিলে গাছ চাপা পড়বে।

সে যা হয় হোক। এতো বছর ধরে নিজ সন্তানের চাইতেও বেশি যত্নে আগলে রেখেছি গাছটাকে। তোমার অত কথায় কাজ নেই বাপু। দেয়াল মেরামতেরও কোনো প্রয়োজন নেই তবে …

অগত্যা গাছ বাঁচিয়ে ফটকের কাজ বাকি রেখেই কাজ শেষ করে দুলাল মিস্ত্রি। আর ওদিকে সত্যিই বেঁচে রইল নীলকান্তবাবুর
পিতৃছায়ায় লালিত প্রিয় সে-সন্তানটি।

নীলকণ্ঠলতা গাছটি নীলকান্তবাবুর হাত ধরে সেই শৈশবে এসেছিল মুহুরি বাড়ির অঙ্গনে – প্রধান ফটকের কাছে। তারপর শৈশব ছাড়িয়ে যৌবনে পা দিয়ে পরিপূর্ণ যৌবনবতী হয়ে বহু বছর যাবৎ টিকে আছে জীর্ণ বাড়িটার কোণে। হ্যাঁ, নীলকণ্ঠলতা। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে বহু বছর আগে একদিন জজকোর্টের এক কোণে পড়ে থাকা জংলাময় চত্বর থেকে দারুণ আবেগে ভেঙে আনা সেই গাছটির কথা। গত এক যুগ ধরে তা ডালপালা ছড়িয়ে আরো সতেজ হয়ে সাজিয়ে রেখেছিল শ্যাওলাময় বাড়িটিকে। কী তার রং, কী তার শোভা। সে-সময় দারুণ শঙ্কায় একটা মরামতো বাগানবিলাসের ডালের সঙ্গে বেঁধে গেটের দিকে ডালগুলো ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন

এ- বাড়ির প্রধানতম কর্তা। তিনি আজ ভালো নেই – নানান জরা-ব্যাধির ভারে ক্লান্ত-বিপর্যস্ত সেই নিঃসঙ্গ মানুষটি।

পাঁচ 

অনেকটাকাল মানসিক নানা টানাপড়েন আর ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে জীবন সামলে আজকাল বেশ হাঁপিয়েও উঠেছেন নীলাম্বরী দেবী। নীলকান্তবাবুও ঠিক তাই। উকিলগিরি ছেড়ে দিয়েছেন অনেক বছর হলো। সাবেত আলী তার গোছানো চেম্বার দখল করে নিয়ে পেশার উত্তরাধিকারী হয়েছে। এতগুলো বছর ছায়ার মতো লেগে থেকে ছিল নীলকান্তবাবুর সঙ্গে। নিজ সন্তানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় বলে এ-সুযোগটা তারই প্রাপ্য। নির্জন বাড়ির অচল মানুষগুলোকে ভক্তিমান্য করে দায়িত্ব আর মায়া দিয়ে আগলে রেখেছে ছেলেটা।

পুরনো মুহুরিবাড়ির মানুষগুলো যেখানে কালের দীঘলে হারিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনতে থাকে, সেখানে ঝোপালো নীলকণ্ঠের ঝাড় ফটক ছাপিয়ে দিনব্যাপী আলোকিত করে রাখে ছায়াচ্ছন্ন বাড়ির বাইরের চেহারাটা। গাঢ় নীলের আভা নিয়ে যেন সেজে আছে মুহুরিবাড়ির প্রধান মুখ। বাড়ির মুখটি তবে কি ভেতরের কোনো মলিনতা নিয়ে এভাবে একাকী বিষণ্ণ দাঁড়িয়ে? এদিকে ছেলে নীল বা রতন শেষ কবে তাদের পিতৃ-মাতৃদেবের খোঁজ নিয়েছে এমন কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না বাড়ির অন্দরমহল থেকে। তবে তাদের হৃদয়ের অমত্মঃপুরে প্রকৃত সত্যটা ঠিকই অনুরণিত হয়। 

দীর্ঘদিন ধরে নীলকান্তবাবু শয্যাশায়ী। গত পূজার সময়ে মাঝখানে কয়েকটা দিন সুস্থ থাকলেও শরীরটা দিন দিন আবারো কেমন যেন রক্তশূন্য-নীল ফ্যাকাসে হয়ে উঠছে। মিতভাষী মানুষটার, কথা বলার সময় বুকের ভেতর থেকে চিঁচিঁ ডাক আসে। পূজাশেষে কার্তিকের শুরুতেই ঠান্ডা বাসা বেঁধেছে বুকে পোক্ত করে। কামারশালার হাঁপরের মতো সারাক্ষণ ওঠানামা করে অপ্রশস্ত দুর্বল বুক। প্রবল শ্বাসকষ্টের কারণে কথা বলা প্রায় বন্ধ করে ফ্যালফ্যাল করে শুধু চেয়ে থাকেন চারদিকে। এতোটাই নিস্তব্ধ থাকেন যেন তাকে ঘিরে অপেক্ষমাণ বাতাসেও কোনো কম্পন সৃষ্টি না হয়। বাতাস একদম নিষ্কম্প – তার চেয়েও কঠিন স্থিরতায় পাথরের চোখ নিয়ে নিশ্চুপ চেয়ে থাকেন তিনি।

নীলা দেবী উৎকণ্ঠা আর চরম উদ্বিগ্নতায় নীলকান্তবাবুর কপালে হাত রাখেন। সাবেতকে ডেকে আনেন তার খাটের কাছে। উকিল পরিবারের একমাত্র অভিভাবকের মতো সাবেতও কর্তব্যহীন ঠায় দাঁড়িয়ে বোবার মতো চেয়ে থাকে সেদিকে। শুয়ে থাকা মানুষটার রুগ্ণ শরীর দেখে ভাবে যেন সবকিছু শেষ হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। অভিশপ্ত এক ছায়া বুঝি গভীর বিষাদের করুণ সুর তুলে আস্তে আস্তে ধেয়ে আসছে এ প্রাচীন বাড়িটার দিকে – নীলকান্তবাবুর ঘরে।

তুমি কি বারান্দায় যাবে? চেয়ে দেখবে একবার তোমার প্রিয় গাছের দিকে?

নীলা দেবীর কথার প্রত্যুত্তরে তিনি আঙুল ইশারা করে কী যেন দেখিয়ে দেন। তারপর তারা দুজনে মিলে ক্লান্ত ও দুর্বল নীলকান্তবাবুকে ধরাধরি করে বারান্দার কাছে নিয়ে আসেন যেখান থেকে ফুলের ঝাড় স্পষ্ট দেখা যায়। তিনি বারান্দা থেকে চেয়ে থাকেন বাইরে। বিকেলের হালকা ফুরফুরে হাওয়ায় তার ভালোই লাগে। হাওয়ার গন্ধটাও ভেজা-বুনো, সেখানে একটা নিরাময়ের গন্ধ মিশে থাকে মহৌষধের মতো। ভেতরের প্রাণবায়ুকে এই ভেজা গন্ধের হাওয়া দিয়ে একটু সজীব করে তোলার প্রাণপণ চেষ্টা করেন তিনি। বুকে হঠাৎ পরম প্রশামিত্ম লাভ করেন যখন দেখেন নীলে নীলে ভরে উঠেছে লতার সারা দেহ। এমন সময়ে বাতাসে হালকা পুষ্পিত গন্ধও ভেসে আসে কোত্থেকে যেন। এটা কি নীলকণ্ঠের? কিন্তু সে তো গন্ধহীন। এ-গন্ধ তার মস্তিষ্কের ভেতরে নয় তো?

গাছে ফুল ফুটে ওঠার চাইতেও গাছটির ফুল ফোটানোর কৃত্যকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেন তিনি। তিনিও তো ওই নীলকণ্ঠের মতো আপ্রাণ চেষ্টা-যত্নে দুটি ফুল ফুটিয়েছিলেন জীবনে। কোথায় তারা আজ? সন্তানের ঝাপসা মুখ কল্পনা করতে গিয়ে তিনি আরো ক্লান্ত হয়ে ওঠেন। অথচ কত আলো, কত ঝড়-জল-হাওয়া মাথায় নিয়ে সদর ফটকের ধারে ঠিক টিকে আছে গাছটি। বাতাসে নুয়ে পড়ে আবার লতার হাত বাড়িয়ে নিজেকে সামলে নেয় সে। মাটির রস নিয়ে ভেতরের পুষ্টি দিয়ে নিজেকে পুষ্ট করেছে সূর্যকে অবিরাম মাথায় ধারণ করে। পাতার প্রতিটি শিরা-উপশিরায় বেঁচে থাকার যে নিপুণ প্রচেষ্টা সে তো তারই প্রতিরূপ – পার্থক্য শুধু লতাবৃক্ষের সে-আকুতি শুনতে পায় না কেউ। আজ তিনি সামান্য এ-গাছটির কাছেও হেরে গেছেন। এখন শুধু নীলকণ্ঠের মতো বেদনার নীল বুকে বয়ে পরাজিতের মতো বেঁচে থাকবেন তিনি। 

অনেকদিন পর নীলা দেবীর হাত ধরে বারান্দায় এসে সব যেন বুঝতে পারেন প্রৌঢ় নীলকান্তবাবু। বিকেলের শেষ আলোয় পাতায় পাতায় যে চমকানো আশ্বাস খেলে বেড়ায় তা তাকে পরিতৃপ্ত করে প্রথম যৌবনের মতো। চারদিকের সুনসান প্রকৃতির মায়া তাকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে মন্ত্রমুগ্ধ মানুষের মতো অনেকক্ষণ। নীলকান্তবাবুর জীবনে যেমন বেদনার নীল শূন্যতা আছে, তেমনি বিশ্বাসে ছায়া ফেলে আছে নীল সমুদ্দুরের উদার-উদাত্ত আহবান। অটুট সে-বিশ্বাসে মনে মনে সাড়া দিয়ে তিনি আবার সাহস নিয়ে উঠে দাঁড়াতে চান আগের মতো। নীলা দেবীর হাত ধরে বাকশূন্য নীলকান্তবাবুর ঠিক তখনই অথই জলের নীল সমুদ্দুরে অবগাহন করার ঐকামিত্মক ইচ্ছাটা জাগে। তিনি তখন বারান্দার রেলিংয়ের গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে বাঁ-হাতের মুঠোয় আরো দৃঢ় শক্তভাবে নীলা দেবীর ডান হাতটা চেপে ধরেন। তার ক্লান্ত চোখদুটোতে মুহূর্তে যে-আশ্চর্য পরম নির্ভরতা খেলে যায় এবার তা ছড়িয়ে যায় সামনের নীলকণ্ঠ ঝোপের এক টুকরো নীল শরীরের সৌন্দর্যের মাঝে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: