July

  • শিরোনামহীন

    শিরোনামহীন

    শিল্পী আবু তাহের বিগত শতাব্দীর ষাটের দশকের মধ্য পর্যায় থেকে এ-দেশের শিল্পাঙ্গনে বিচরণ করেন। নিরলস ও ঐকান্তিক চিত্রসাধনার মধ্য দিয়ে তিনি চিত্র-সৃজনে এক বৈশিষ্ট্য অর্জন করেন। তাঁর রেখা বেশ শক্তিশালী। বিমূর্ত চিত্ররীতিতে তিনি সিদ্ধহস্ত। মধ্য ষাট ও সত্তরের দশকে এই ধারার চিত্র রচনার মধ্য দিয়ে অনেকেরই চিত্রভাষা ও ভুবন নির্মিত হয়েছে। অনেকেই এই ধারার চিত্র-সৃজনের…

  • উনিশ শতকের মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য

    উনিশ শতকের মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য

    শিরোনামের ‘মুসলিম’ শব্দটির ব্যাপারে প্রথমেই টীকা দিয়ে রাখা দরকার। ‘বাংলা সাহিত্য’ কথাটার উপস্থিতিতে এ-ধরনের অনুমান হওয়া সম্ভব যে, এখানে বাংলাভাষী মুসলমানের কথাই বলা হচ্ছে। কিন্তু বাংলা অঞ্চলে অবাঙালি মুসলমানের সংখ্যা ছিল প্রচুর এবং তারাই ছিল প্রভাবশালী। উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্য নিয়ে আলাপ তুললে আলোচনার কেন্দ্র হিসেবে কলকাতার কথা মনে না এসে উপায় থাকে না। তখন…

  • সুধীন্দ্রনাথ দত্তের মধুসূদন : সমালোচনার তাৎপর্য

    সুধীন্দ্রনাথ দত্তের মধুসূদন : সমালোচনার তাৎপর্য

    সুধীন্দ্রনাথ দত্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে কবি-সমালোচক বুদ্ধদেব বসু একবার বলেছিলেন, তিনি ছিলেন, ‘বিশ শতকের একজন শ্রেষ্ঠ বাঙালি’। নিজের বক্তব্যকে খানিকটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বুদ্ধদেব জানিয়েছিলেন, সুধীন্দ্রনাথের ‘মতো নানা গুণসমন্বিত পুরুষ রবীন্দ্রনাথের পরে আমি অন্য কাউকে দেখিনি।’ আমরা যেন মনে রাখি যে, সুধীন্দ্রনাথের কথা বিবেচনা করতে গিয়েই বুদ্ধদেব বসুর মধ্যে ওই প্রশ্নটি জেগেছিল যে, ‘যাকে…

  • পটভূমি হংকং

    পটভূমি হংকং

    ভিক্টোরিয়া চূড়া থেকে ঝুঁকে নিচের দিকে তাকাতেই সমস্ত শরীর যেন শিরশির করে উঠল আকাশের। অনেক নিচে যতদূর দৃষ্টি যায় কিছুটা আবছা ধূসর বিশাল একটা ছবির মতো হংকং শহরটা ভেসে উঠল চোখের সামনে। তার একদিকের অনেকটা জুড়ে ভিক্টোরিয়া হারবারের নীল জল ঘিরে আছে। দুপাশে কাউলুন আর হংকং – পুরনো আর নতুন শহর। বিশাল বিশাল আকাশছোঁয়া স্কাইস্ক্র্যাপার…

  • সরদার ফজলুল করিম : আমি মানুষ

    সরদার ফজলুল করিম : আমি মানুষ

    একালের এক প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ছিলেন সরদার ফজলুল করিম (১৯২৫-২০১৪)। তিনি তাঁর আমি মানুষ বইটির ভূমিকায় লিখেছেন, ‘আমি কি মানুষ?’ যখন এ-প্রশ্নের আমি কোনো জবাব দিতে পারছিলাম না, সেই লা-জবাবের কারণে, নিজেই হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছিলাম, তখন আমার এক স্নেহাস্পদ কয়েকটি শিরোনামের মুদ্রণ আমার চোখের সামনে রেখে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই শিরোনামগুলোকে আপনি কি স্বীকার করেন না?’…

  • হোগলার বনে

    হোগলার বনে

    শীতল বাতাসটা মাঠ থেকে এসে থেকে থেকে ঝটকা মারে। গাছের মগডালে পাখির ডাক মনটাকে উত্তুঙ্গ হাওয়ায় দোলাতে দোলাতে কোথায় যেন নিয়ে যেতে চায়। এমন সময় হারানো স্মৃতিরা ফিরে আসে। গ্রামে তাদের প্রতিপত্তি নেই বললেই চলে। পাড়ার মেয়েদের সঙ্গে হেসেখেলে বেড়ে ওঠা। স্কুলে যাওয়ার বালাই ছিল না। মায়ের জোড়াজুড়িতে পাড়ার মক্তবে আমসিপারা পড়েছে কিছুদিন। তাও বেশিদিন…

  • ক্ষিতিমোহন সেনের দুনিয়া

    ক্ষিতিমোহন সেনের দুনিয়া

    রবীন্দ্রনাথের কালে ভারতবর্ষকে, ভারতবর্ষীয় ভাবদর্শন ও সংস্কৃতিকে যিনি সবচেয়ে ভালোভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পেরেছিলেন, তিনি ভারতপথিক আচার্য ক্ষিতিমোহন সেন শাস্ত্রী। তিনি জন্মেছিলেন ১৮৮০ সালের ২রা ডিসেম্বর, বাংলাদেশের বিক্রমপুরের সোনারং গ্রামে। তাঁর পিতামহ পণ্ডিত রামমণি শিরোমণি ছিলেন বহুশাস্ত্রবিদ, অধ্যাপক ও কবিরাজ। বাহাত্তর বছর বয়সে তিনি কাশীতে গিয়ে বসবাস করবেন বলে মনস্থির করেন। একদিন নিজগ্রাম ছেড়ে নদীপথে যাত্রা…

  • মঞ্জু সরকারের গল্পের সৌরভ

    মঞ্জু সরকারের গল্পের সৌরভ

    বেশ বিচিত্র তাঁর জীবন। রংপুরে কলেজজীবনের পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে, স্বজন-পরিজন ত্যাগ করে,উন্মূল-উদ্বাস্তুর বেশে পাড়ি জমান ঢাকায়, ১৯৭২ সালের আগস্ট মাসে। উদ্দেশ্য লেখক হওয়া। পথে নেমে পথ খুঁজতে গিয়ে রাত কাটাতে হয়েছে পথেঘাটে; এমনকি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্রাঙ্গণেও। ক্ষুধার অন্ন জোগাতে কৃপাপ্রার্থী হতে হয়েছে নানা জনের। তবে লেখক হওয়ার বাসনা থেকে…

  • নির্বাসিত, তবুও অপরাজিত

    নির্বাসিত, তবুও অপরাজিত

    দেশে মেধার নিশ্চয়ই অভাব রয়েছে, কিন্তু তার অপচয়টা বড়ই মর্মান্তিক। এদেশের সম্পদ বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া কেবল একালের ঘটনা নয়, বহুকালের; তবে একালে সেটা মর্মান্তিক, প্রায় অবিশ্বাস্য আকার ধারণ করেছে। মেধা অবশ্যই জাতীয় সম্পদ; এবং সেটাও সমানে পাচার হয়ে যাচ্ছে, নানাভাবে। দাউদ হায়দারের মৃত্যুসংবাদে ব্যক্তিগত ভাবে যে অত্যন্ত পীড়িত হয়েছি সেই সত্যের সঙ্গে সমষ্টিগত ক্ষতির…

  • ডিডেলাস মিথ কিংবা অজগর বুড়ো

    ডিডেলাস মিথ কিংবা অজগর বুড়ো

    তিরিশটি বছর পার হয়ে গেল। তিনটি দশক! জীবনের ভেতরে আরেকটি জীবনের মতো সময়কাল। তিরিশ বছর আগে এক দগ্ধ দিনে শিকার করতে বের হয়ে খড়ম-পেয়ে বুড়োর দেখা পেয়েছিলাম। তারপর তিরিশটি বছর সেই বুড়ো আমার বুকের মধ্যে হেঁটে বেড়িয়েছে। আমার করোটির ভেতরে এঁকে দিয়েছে বিচিত্র জঙ্গম চিত্র …। … শেয়াল শিকারে বের হয়েছিলাম। গ্রামের গরিব লোকেরা পাগলা…

  • ক্রন্দসী

    ক্রন্দসী

    হয়তো নক্ষত্র ফুটে আছে। আকাশ ফুটো করা দালানকোঠার ভারে তা আর দেখার জো নেই। তারপরও যা একটু ফুটোফাঁকা ছিল, দেখতে দেখতে মেঘ ঢুঁসে দেওয়া দালানে তাও ভরে যাচ্ছে। নতুন নতুন ভবন নির্মাণের কাজের ধুম চারদিকে। সকাল শুরু হতে পারে না, তার আগে থেকেই বড়-ছোট বিস্ফোরণ, লোহা-লক্কড়ের ঢেং-ঢাং শব্দে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা; চলে সেই সন্ধে…

  • ফনেচাচা

    ফনেচাচা

    আমার বাবা ছিলেন আট ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। পুত্রসন্তান হিসেবে এক নম্বর। বড়ফুপু বা পিসির নাম ছিল আনোয়ারা। তিনি পূর্ণবয়স্কা হলে বিয়েও হয়, কিন্তু বিয়ের অল্প কিছুদিন পর মারা যান। আটজনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন আমার একমাত্র ছোটচাচা শেখ গোলাম জিলানী। তার ওপরে এক ফুপু ছিলেন আমিনা বেগম। বাবা ও এই দুজন, এঁদের সঙ্গেই আমার বেড়ে ওঠা।…