বোদলেয়ার কিংবা সঞ্চয়িতার পাতা ওড়াউড়িতে
মধ্যরাতের নক্ষত্র নিভে যাওয়া বিপন্ন সময়ের, অনির্বাণ
প্রতিদ্বন্দ্বী
‘উজ্জ্বল উদ্ধারে’ – আপনাকে মনে পড়ে
খুব মন পোড়ে,
হঠাৎ তীক্ষè অন্ধকার চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে
আপনার আর কোথাও না-থাকার
নিরীহ ধুলোপথ শেষে ফিরে না-আসা ভ্রমণ
সর্বনাশের শেষ শব্দ – মৃত্যু
যার শেষে ব্যাকরণ দাবি করে না কোনো
বিরাম চিহ্ন। জলের মতো
ছোট্ট শব্দ, দীর্ঘশ্বাসের দীর্ঘ নদী,
পৃথিবীতে পুরুষের কান্নার সংস্কৃতি নেই
মৃত্যু তা অস্বীকার করে;
বেদনার মাতৃভাষা কান্না। নক্ষত্র পতনের
নৈঃশব্দ্যের শব্দ-মহীরুহ ভেঙে পড়ার চেয়ে তীব্র
ভারি –
কেবল মৃত্যু তার প্রতিশব্দ। আপনার চির প্রস্থানে –
মানুষের আর্তনাদে সেই সত্যই জেনেছি।
মৃত্যু শব্দটি পৃথিবীর সব আলো নিভে যাওয়ার
অশেষ-অনন্ত রাত্রির সমুদ্রের নিচে
অন্ধকারের মতো মসৃণ বিস্তৃত;
মৃত্যু এক মর্মান্তিক গোপন বেদনা
কফিনের নির্বাক তীব্র আগুনছায়া
সর্বনাশের অবরুদ্ধ-অন্ধ দীর্ণ দাহ
অশ্রুভেজা না-ফেরা ভালোবাসার
প্রিয়জন-নিষ্ফল প্রার্থনা
শোকার্ত নিশ্বাস – দূর আগুন নদীর
লু হাওয়া;
না –
এমন মৃত্যু নির্বাসিত করে না বিকশিত
প্রদীপ্ত জীবন
আপনি তো প্রাণে প্রাণে নির্মাণ করেছেন
মনীষার পাঠশালা
দূর দিগন্তে নিজ হাতে শুশ্রূষা করেছেন রুগ্ণ সময়ের
জ্বেলেছেন, লক্ষ সূর্যের সোনার আলো
কুহক রাত্রি ভাঙা চিরহরিৎ দীপ্তিময় ভোর
অতুল ঐশ্বর্যের স্বপ্নময় শিল্পবাড়ি
আলোর গভীরে আরো এক স্নিগ্ধ আলোর পৃথিবী
জীবনের উজ্জ্বল উত্থান
যাপনের সুন্দর আগামী সকাল;
আপনার স্মৃতির প্রস্ফুটিত কুসুম থেকে
ঝরে পড়বে না একটি পাপড়িও অন্ধ-ঘূর্ণিঝড়ে
রৌদ্রের ঘ্রাণে আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠবে –
সকল মানুষ, ‘ঘুমের দরজা ঠেলে’
দিবসের সব আলো নিভে গেলেও কখনো
অন্ধকার হবে না আপনার ছায়ার অক্ষর।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.