শতবর্ষে ফিরে দেখা বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা

লেখক: হাবিব আর রহমান

এটা একটা কাকতালীয় ঘটনা যে, এ-বছর বাংলা সংবাদ-সাময়িকপত্রের দ্বিশতবর্ষ আর প্রথম সারির দুটি সাহিত্য পত্রিকার শতবর্ষ। ১৮১৮ সালের এপ্রিলে শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় জন্মলাভ করে বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম সাময়িকপত্র মাসিক দিগদর্শন। পরের মাসে ২৩ মে একই মিশন থেকে একই সম্পাদকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ। এর সপ্তাহদুয়েক পরে জুন মাসের কোনো এক তারিখে কলকাতা থেকে বেরোয় বাঙালির সম্পাদনায় প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিক বাঙ্গাল গেজেটি। সম্পাদক ছিলেন গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।

অন্যদিকে ১৯১৮ সালের জুন মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ত্রৈমাসিক বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা ও ডিসেম্বর মাসে মাসিক সওগাত। প্রথমটি ছিল বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির মুখপত্র। দ্বিতীয়টি প্রকাশিত হয় সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে। সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।

উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯১৮ সালে সাপ্তাহিক থেকে বার্ষিক মিলিয়ে প্রকাশিত মোট আঠারোটি পত্রিকার মধ্যে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা ও সওগাত বাদে মাসিক ভাণ্ডার কিছুটা গুরুত্ব দাবি করে এর উদ্দেশ্যমূলকতার দিক থেকে। এটি ছিল ‘বঙ্গীয় সমবায়ম-লী গঠন সমিতি’র মুখপত্র। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পল্লি সংস্কার সম্বন্ধীয় প্রবন্ধসহ কবিতা-গল্প ইত্যাদি এতে প্রকাশিত হতো। তবে বিশুদ্ধভাবে সাহিত্যচর্চার দিক থেকে এর ততটা গুরুত্ব নেই, যা আছে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা ও সওগাতের। ব্রিটিশ পর্বের বাংলা সাহিত্য সাময়িকীর মধ্যে এ দুটি প্রথম সারির পত্রিকা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। বর্তমান রচনায় শতবর্ষের সীমায় দাঁড়িয়ে ত্রৈমাসিকটিকে ফিরে দেখার প্রয়াস পাওয়া হবে। সওগাত আলাদাভাবে আলোচনার দাবি রাখে।

 

দুই

আলোচ্য পত্রিকাটি যেহেতু বাঙালি মুসলমানের প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠনের মুখপত্র, সেহেতু এই সম্প্রদায়ের সামাজিক-পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে কিছু কথা বলা প্রয়োজন। আর সমিতির প্রসঙ্গ তো আবশ্যিক প্রয়োজনেই বারবার আসবে।

ব্রিটিশ কর্তৃক বাংলায় মুসলিম শাসনের অবসানে প্রায়-সম্পূর্ণ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাঙালি মুসলমান প্রতিবেশী হিন্দু সমাজের তুলনায় জীবনের সমস্ত দিকে পশ্চাৎপদ হয়ে যায়। সে এক সম্বিৎহারা অবস্থা। উনিশ শতকের সত্তরের দশকের শেষদিক থেকে খুব ধীরে ধীরে এই অবস্থা কাটতে শুরু করে। নিতান্ত স্বল্পসংখ্যক হলেও শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে আত্মসচেতনতা জাগতে থাকে। আশির দশক থেকে সংঘ-সমিতি গঠন ও সংবাদ-সাময়িকপত্র প্রকাশে গতিময়তা লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। সমাজের সচেতন অংশ অনুধাবন করে যে, মাতৃভাষায় সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা, ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ, সাময়িকপত্রের প্রতিষ্ঠা ও প্রচার ইত্যাদি কর্মপ্রচেষ্টা জীবনের উন্নতিকল্পে শক্তিশালী উপায়।

প্রতিবেশী হিন্দু বিদ্বৎম-লী সারস্বত সাধনার লক্ষ্যে ১৮৯৩ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ প্রতিষ্ঠা করে। বিশ শতকের গোড়ায় মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতো কয়েকজন উৎসাহী যুবক সাহিত্য পরিষদের সভ্য হন। অভিজ্ঞতা তাঁদের সামনে কিছু সত্য উন্মোচন করে দেয়। উপলব্ধ হয় যে, তাঁরা যা চান তা পূরণ করা এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। যেমন সাহিত্যের মধ্য দিয়ে তাঁরা চান মুসলিম সমাজ-জীবনের বিভিন্ন দিকের রূপায়ণ। অনভিজ্ঞতার কারণে হিন্দু লেখকের পক্ষে এ-কাজ সম্ভব নয়। তাছাড়া ইসলামি ও মুসলিম ঐতিহ্যের উদ্ধার ও সংরক্ষণও সাহিত্য পরিষদের দ্বারা সম্ভব হবে না। সুতরাং তাঁদের নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠান থাকা দরকার। অবশ্য এর পেছনে একটা মনস্তাত্ত্বিক কারণও যে ছিল না তা নয়। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র নিম্নোদ্ধৃত উক্তি থেকে সেটা বোঝা যায় :

আমরা কয়েকজন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভ্য ছিলাম। সেখানে হিন্দু-মুসলমান কোন ভেদ না থাকলেও আমাদের সাহিত্যিক দারিদ্র্যের দরুণ আমরা বড় লোকের ঘরে গরীব আত্মীয়ের মতন মন-মরা হয়ে তার সভায় যোগদান করতাম। আমাদের মনে হলো বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সঙ্গে সম্বন্ধ বিচ্ছেদ না করেও আমাদের একটি নিজস্ব সাহিত্য-সমিতি থাকা উচিত।

এই নিজস্ব সাহিত্য-সমিতি স্থাপনের উদ্দেশ্যে মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের (তিনি ভোলার অধিবাসী ছিলেন) উদ্যোগে কলকাতার ৯নং অ্যান্টনি বাগানে ‘করিম বক্স ব্রাদার্স’ দফতরিখানার মালিক আবদুর রহমানের প্রশস্ত বৈঠকখানায় ১৯১১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কবি-সম্পাদক-শিক্ষাবিদ হিসেবে সে-সময়ে যথেষ্ট পরিচিত-নাম বেশ কয়েকজন ব্যক্তিসহ আরো উৎসাহী কিছু তরুণ সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন। সভাপতিত্ব করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলগুলোর পরিদর্শক আবদুল করিম। এই সভাতেই সর্বসম্মতিক্রমে গঠিত হয় বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি। আবদুল করিম ও মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচিত হন।

প্রতিষ্ঠার পর সমিতির কার্যক্রম বেশ উৎসাহের সঙ্গে চলতে থাকে। এক বছর পর কলকাতার ২৯নং মির্জাপুর স্ট্রিটে (বর্তমানে সূর্য সেন স্ট্রিট) অবস্থিত চৌধুরী মোহাম্মদ লায়েকের নামাঙ্কিত লায়েক জুবিলি ইনস্টিটিউশনে এর প্রথম বার্ষিক অধিবেশন এবং একইসঙ্গে প্রথম বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সম্মেলন একিন উদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় (তারিখ ও মাসের নাম জানা যায়নি)। ১৯১৪ সালের গোড়ায় মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চট্টগ্রামের সীতাকু- উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজ নিয়ে চলে যান। পরের বছর ৩ অক্টোবরের এক সাধারণ সভায় শহীদুল্লাহ্র ইস্তফাপত্র গ্রহণ করে মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে নতুন সম্পাদক নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পর অনিবার্য কারণে নবনিযুক্ত সম্পাদককেও কলকাতার বাইরে অবস্থান করতে হয়। জানা যায়, কার্যনির্বাহী কমিটির সহযোগী ও সহকারী সম্পাদকদের এবং সদস্যদেরও সমিতির প্রতি অনুরাগ ও সহানুভূতির অভাব ছিল। ফলে সমিতির কার্যক্রম একরকম বন্ধই হয়ে যায়।

১৯১৭ সালে কাজী ইমদাদুল হক ট্রেনিং স্কুলের হেডমাস্টার হয়ে ঢাকা থেকে কলকাতা বদলি হয়ে আসেন। আগস্টে বা তার কিছু আগে সমিতির সম্পাদক মোজাম্মেল হকও কলকাতা প্রত্যাবর্তন করেন। মূলত এঁদের দুজনের আন্তরিক চেষ্টায় সমিতি পুনরুজ্জীবিত হয়ে গতি পায়। তারই প্রকাশ লক্ষ করা যায় ২৭ ডিসেম্বরে কলকাতা মাদরাসাসংলগ্ন মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে মহাসমারোহে দ্বিতীয় বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সম্মেলন উদযাপনে। সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। বাংলা ও আসামের বিভিন্ন জেলা থেকে বহু সাহিত্যিক ও সাহিত্যানুরাগী সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। খ্যাতনামা কয়েকজন হিন্দু সাহিত্যিকও অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।

 

তিন

সমিতির এই উজ্জীবনে একটা বড় স্বপ্ন পূরণের সম্ভাবনা দেখা দেয়। সেটি হলো সমিতির মুখপত্র প্রকাশ। ১৯১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কার্যনির্বাহক কমিটির সভাপতি আবদুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সেই মুখপত্র প্রকাশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এও স্থির হয় যে, পত্রিকাটি হবে ত্রৈমাসিক এবং তার নাম হবে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা। ছয় সদস্যের একটি পত্রিকা পরিচালন কমিটিও এই সভায় গঠিত হয়।

এর আগে জানুয়ারি মাসে সমিতির স্থায়ী কার্যালয় ও পাঠাগার স্থাপনের জন্য ৪৭/২ মির্জাপুর স্ট্রিটে একটি হল ভাড়া নেওয়া হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সভায় কার্যালয় ও পাঠাগারের জন্য কেরানি ও দারোয়ান নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সে-অনুযায়ী পত্রিকা প্রকাশের আগেই মাসিক পনেরো টাকা বেতনে একজন কেরানি ও দশ টাকা বেতনে একজন দারোয়ান নিয়োগ করা হয়। এই কার্যালয় থেকে ‘বৈশাখ ১৩২৫’ চিহ্নিত হয়ে প্রকাশিত হয় প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যা বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা। সম্পাদনা করেন মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। প্রকাশকাল ১৬ জুন ১৯১৮, পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮০, মুদ্রণ সংখ্যা ১০০০, দাম ছয় আনা। এ হিসাবে বার্ষিক গ্রাহক মূল্য নির্ধারিত হয় দেড় টাকা, আর সমিতির সভ্যদের জন্য এক টাকা।

প্রথম বর্ষ তৃতীয় সংখ্যার (কার্তিক-পৌষ ১৩২৫) সমিতি-সংবাদ থেকে জানা যাচ্ছে, অর্থের অপ্রতুলতা সত্ত্বেও সমিতির কাজ ক্রমান্বয়ে বিস্তৃতি লাভ করছে। ২২ সেপ্টেম্বর কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় সে-কারণে সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যাচ্ছে যে, সমিতির কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করার জন্য মাসিক পনেরো টাকার স্থলে ত্রিশ টাকা বেতনে একজন সুদক্ষ কর্মচারী কিংবা অনুরূপ বৃত্তিভোগী একজন সহকারী সম্পাদক নিযুক্ত করা হোক। তাছাড়া পত্রিকার গ্রাহক বৃদ্ধির জন্য তৃতীয় সংখ্যা থেকে ১০০০-এর স্থলে ১৫০০ কপি মুদ্রণ এবং প্রথম ও দ্বিতীয় সংখ্যা যথাক্রমে ৭০০ ও ৫০০ কপি পুনর্মুদ্রণের সিদ্ধান্ত ওই সভায় গৃহীত হয়। প্রথম সংখ্যার পুনর্মুদ্রণের কোনো খবর পাওয়া যায় না। তবে দ্বিতীয় সংখ্যা পুনর্মুদ্রিত হয়েছিল ৩৬৪ কপি (এপ্রিল ১৯১৯)। প্রথম বর্ষ চতুর্থ সংখ্যা (মাঘ-চৈত্র ১৩২৫) মুদ্রিত হয় ২০০০ কপি আর পরেরটি অর্থাৎ দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সংখ্যা ২২০০ কপি। এটিই বোধহয় সর্বোচ্চ মুদ্রণ। তৃতীয় বর্ষ থেকে মুদ্রণ সংখ্যা দাঁড়ায় ১০০০-এ, আর পঞ্চম বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা (শ্রাবণ-আশ্বিন ১৩২৯) ৪০০ থেকে ৬০০-র মধ্যে ওঠানামা করে। ষষ্ঠ বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশের (১ নভেম্বর ১৯২৩) পর পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়।

সমিতির জীবনে গৌরবোজ্জ্বল পর্ব শুরু হলে মির্জাপুর স্ট্রিটের স্বল্পপরিসর হলে কার্যনির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছিল না। সেজন্য ১৯১৯ সালের গোড়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল মাসিক তেষট্টি টাকা ভাড়ায় ৩২নং কলেজ স্ট্রিটের ‘বৃহৎ বাড়ি’তে কার্যালয় স্থানান্তর করা হবে। এই সঙ্গে আরো সিদ্ধান্ত হয়, মাসিক পনেরো টাকা বেতনে দ্বিতীয় একজন কেরানি নিয়োগের। সে-সময়ে সমিতির সদস্যসংখ্যা ছিল ছয়শো তিরাশি জন। সাহিত্য-পত্রিকার গ্রাহকসংখ্যার তথ্য আমাদের হাতে নেই। তবে সাধারণ যুক্তিতে ধারণা হয় এ-সময়ে পত্রিকার মুদ্রণ ২০০০ হলে গ্রাহক সংখ্যা অর্ধেকের কাছাকাছি হওয়া অসম্ভব নয়।

সমিতি-সংবাদ থেকে মনে হয় ফেব্রুয়ারি মাসেই কলেজ স্ট্রিটের বাড়িতে কার্যালয় উঠিয়ে আনা হয়। বাংলার মুসলিম সমাজ-জীবনে ও সাহিত্য-সাধনার ক্ষেত্রে ৩২নং কলেজ স্ট্রিট ঐতিহাসিক মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য। এই বাড়িরই একটা ঘরে থাকতেন তখনকার সমিতির পূর্ণকালীন কর্মী মুজফ্ফর আহমদ (পরে কমরেড)। ১৯২০ সালের মার্চে ৪৯নং বাঙালি পল্টন ভেঙে দিলে নজরুল ইসলাম করাচি থেকে কলকাতা এসে তাঁর সঙ্গে থাকতেন। আরেকটা ঘরে থাকতেন কাজী আবদুল ওদুদ ও ‘মোসলেম পাবলিশিং হাউসের অন্যতম স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আফজাল-উল হক। এই প্রকাশন থেকে ওদুদের একাধিক বই বেরিয়েছিল। আফজাল-উল হকের সম্পাদনায় ১৯২৭ সালের জুনে মাসিক নওরোজ নামে খুব উঁচুমানের স্বল্পস্থায়ী একটি সাময়িকী প্রকাশিত হয়েছিল।

১৯২১ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সমিতি ও পত্রিকা উভয়ের কাজ পূর্ণোদ্যমে চলেছিল। এরপর ভাটার টান শুরু হয়। ঢাকায় নবপ্রতিষ্ঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সেক্রেটারি নিযুক্ত হয়ে কাজী ইমদাদুল হক মে মাসে কলকাতা ত্যাগ করেন। পরের মাসের গোড়ায় শহীদুল্লাহ্ও ঢাকা চলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার জন্য। ১৯১৯ সালের ১৫ জুন থেকে শরৎকুমার লাহিড়ী বৃত্তি পেয়ে দীনেশচন্দ্র সেনের সহকারীরূপে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলেন। ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের সংকল্প নিয়ে মুজফ্ফর আহমদ ও নজরুল ইসলামও সমিতির আস্তানা ছেড়েছিলেন।

এ-অবস্থায় সমিতির কাজে বিঘœ উপস্থিত হয়। ধারণা করি চিরকাল যা হয়ে থাকে, সংগঠন চালানোর মতো যথার্থ ত্যাগী ও অনুরাগী কাজের লোকের অভাব, এক্ষেত্রেও তা-ই ঘটেছিল। চতুর্থ বর্ষ প্রথম সংখ্যা (বৈশাখ-আষাঢ় ১৩২৮) থেকে পত্রিকা সম্পাদনার একক ভার পড়ে মোজাম্মেল হকের ওপর। তিনি ছয়টি সংখ্যা সম্পাদনা করেছিলেন। আগে উল্লেখ করা হয়েছে পত্রিকার সর্বশেষ ষষ্ঠ বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা (শ্রাবণ-আশ্বিন ১৩৩০) প্রকাশিত হয়েছিল ১ নভেম্বর ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে। ১৯২২-২৩ সম্ভবত এই দু-বছরের বাড়ি ভাড়া বাকি পড়ায় মালিক উচ্ছেদের মামলা করেন। ডিক্রি পেয়ে সমিতির সমস্ত আসবাব ও বইপত্র রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়।

 

চার

বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ও এর মুখপত্র দুয়েরই সঙ্গে ‘মুসলমান’ শব্দটি যুক্ত থাকলেও এটা কোনো সাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠান ছিল না। পশ্চাৎপদ মুসলিম সমাজের সাহিত্যিকদের সংগঠিত করে তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা দান করাই ছিল এই সমিতির প্রধান উদ্দেশ্য। অন্যান্য উদ্দেশ্যের মধ্যে অন্যতম ছিল ‘সাহিত্য-ক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন।’ সেজন্য প্রতিষ্ঠিতসহ অনেক হিন্দু লেখককে সমিতি-পত্রিকায় বিভিন্ন ধরনের রচনা লিখতে দেখা যায়। প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যায় অশ্বিনী সেন ‘ইউরোপযাত্রী প্রথম শিক্ষিত বাঙ্গালী’ শীর্ষক প্রবন্ধে দেখান যে, লোক-প্রচারিত রামমোহন রায় নয়, প্রথম যে-শিক্ষিত বাঙালি ইউরোপ গিয়েছিলেন তাঁর নাম ইতিসাম উদ্দীন। বাংলা ভাষায় সম্ভবত এই প্রথম প্রকৃত তথ্যটি প্রকাশ পায়। প্রথম বর্ষ তৃতীয় সংখ্যায় চণ্ডীচরণ মিত্র ‘হজরত মোহাম্মদের প্রতি’ নামের কবিতায় তাঁর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। এমনকি মুসলমানের অবনতির বিবিধ কারণ ব্যাখ্যা করে রামপ্রাণ গুপ্ত ষষ্ঠ বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যায় লিখেছিলেন দীর্ঘ একটি প্রবন্ধ।

কেবল লেখালেখি নয়, সমিতির সঙ্গেও অনেক উদারহৃদয় হিন্দু কোনো-না-কোনো দিক থেকে সম্পৃক্ত ছিলেন। কলকাতা ও কলকাতার বাইরে অনুষ্ঠিত সাহিত্য-সম্মেলনগুলোতে তাঁদের অনেকে উপস্থিত হতেন। সরোজিনী নাইডু ও সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্ব বক্তৃতাও করেছেন। এমনকি সমিতিতে এককালীন অনুদান দিয়েছেন এমন নজিরও আছে। সামগ্রিক বিচারে বলা যেতে পারে সমিতিটি ছিল মুসলমানদের, কিন্তু মুখপত্রটি ছিল অনেকখানি নির্বিশেষ বাঙালির।

সাহিত্য-সমিতি প্রতিষ্ঠা ও এর মুখপত্র প্রকাশের লক্ষ্যগুলো জানা যায় এ-দুয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কয়েকজনের লেখা ও পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যার ‘নিবেদন’ থেকে। সেগুলোর প্রায় সবই আগে খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। পত্রিকা প্রকাশের যে-উদ্দেশ্যটি বলা হয়নি সেটি হচ্ছে নবীন মুসলিম লেখকদের লেখা প্রকাশ তথা প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া। এক্ষেত্রে সাফল্যের সেরা দৃষ্টান্ত মনে হয় সৈনিক-লেখক কাজী নজরুল ইসলাম। করাচি সেনানিবাসে

থাকাকালেই সমিতির পত্রিকায় তাঁর তিনটি রচনা প্রকাশিত হয়েছিল। দ্বিতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যায় বেরিয়েছিল ‘মুক্তি’ শীর্ষক কবিতা। সেটি ছিল তাঁর প্রথম মুদ্রিত রচনা। পরের দুটি সংখ্যায় বেরিয়েছিল ‘হেনা’ ও ‘ব্যথার দান’ গল্প। নজরুল তখন ৪৯নং বাঙালি পল্টনের সম্পূর্ণ অজ্ঞাতকুলশীল একজন হাবিলদার মাত্র। কলকাতায় আগমনের পর দু-একটি সংখ্যা বাদে প্রতিটি সংখ্যায় তাঁর কোনো-না-কোনো রচনা থাকতই। নতুন ও সম্ভাবনাময় লেখকদের পৃষ্ঠপোষণায় সমিতি ও পত্রিকার যুগপৎ ভূমিকার সাক্ষ্য মেলে নজরুলের এই আত্মস্বীকৃতি থেকে : ‘… সেদিন যদি সাহিত্য-সমিতি আমাকে আশ্রয় না দিত, তবে হয়ত কোথায় ভেসে যেতাম, তা আমি জানি না। এই ভালবাসার বন্ধনেই আমি প্রথম নীড় বেঁধেছিলাম, এ আশ্রয় না পেলে আমার কবি হওয়া সম্ভব হত কি না, আমার জানা নেই।’

সাহিত্য-সমিতির একটা বড় উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ও মুসলিম ঐতিহ্যের সন্ধান, সংরক্ষণ ও প্রচার। ‘অতীতের গুপ্ত অথচ গৌরবময় সুদৃঢ় ভিত্তি পুনরায় লোকচক্ষুর সম্মুখে আনিয়া তাহার উপর বর্তমানের বিরাট, বিশাল, উদার, উন্নত ও মহামহিম সৌধ’ নির্মাণ করে ‘বঙ্গীয় মুসলমানের জাতীয় ইতিহাস’ সৃষ্টি করে ‘বাংলাবীণার সুরে’ গাইতে পারলে ‘জাতীয় জীবনে উন্নতির আকাক্সক্ষা, ভাবের উদ্দীপনা, কর্মের প্রেরণা’ আসবে – এ-ই ছিল সমিতির বিশ্বাস। সেজন্য এ-সম্পর্কিত রচনাদি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে একটা প্রবণতা লক্ষ করা যায়, যা ছিল পূর্বাপর মুসলিম-সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর সাধারণ প্রবণতা, ভারতীয় ইতিহাসের চেয়ে বহির্ভারতীয় ইতিহাসের শাসক, কবি, দার্শনিক, পণ্ডিত প্রভৃতি লেখকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে বেশি।

সামাজিক ইতিহাস রচনায় সংবাদ-সাময়িকপত্র অন্যতম প্রাথমিক উৎস হিসেবে স্বীকৃত। বাঙালি মুসলমানের জাগরণ-প্রচেষ্টাকালের প্রাথমিক পর্বের ইতিহাস রচনায় বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আকর হিসেবে বিবেচনার দাবি করে। সর্বাধিক এ-কারণে যে, ১৯০৩ সালে প্রকাশিত মাসিক নবনূর সাহিত্যমূল্য এবং ইতিহাসের উপাদানগত দিক থেকে যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করলেও ‘সাহিত্য-পত্রিকা’ যে-প্রতিষ্ঠানের মুখপত্র, সেই সাহিত্য-সমিতির মতো দীর্ঘ ঐতিহাসিকতা তার নেই। ১৯১৮-র মাসিক সওগাতে ইতিহাসের উপাদান তেমন নেই, যা আছে ১৯২৬ সালে নবপর্যায়ের প্রকাশনায়।

শিক্ষিত বাঙালি মুসলমানের আত্মসচেতনতা তাদের মধ্যে বেশ কিছু সমস্যার জন্ম দিয়েছিল। মাতৃভাষার প্রশ্ন, শিক্ষার প্রকৃতি ও ভাষা-মাধ্যম, সাহিত্যের চারিত্র্যনীতি ও মূল্যায়নের মানদ-, জাতিত্বচেতনার ভিত্তি ইত্যাদি আত্মপরিচয় সম্পৃক্ত বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে যথেষ্ট তর্ক-বিতর্কের সূচনা হয়েছিল। ধারণা হয়, এসব বিতর্কের জন্মের মূলীভূত কারণ ছিল ধর্মবিশ্বাসগত। মনে রাখা ভালো, ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মকেন্দ্রিক দৃষ্টি এক জিনিস নয়। যারা বিশ্বাসী হয়েও ধর্মকেন্দ্রিক ছিলেন না, তারা বাস্তবতা ও যুক্তির গুরুত্ব স্বীকার করতেন। বিপরীতপন্থিদের মধ্যে এর অভাব ছিল। আবার এমনও দেখা যায়, একই বিষয়ের একটা দিক বাস্তবতা ও যুক্তির আলোকে খুব জোরের সঙ্গে স্বীকার করে নিচ্ছেন, কিন্তু তিনিই আবার অন্য দিকটায় প্রবলভাবে ধর্মকেন্দ্রিকতার আশ্রয় নিচ্ছেন। দু-একটি দৃষ্টান্ত দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

১৯১৮ সালের ২৫ আগস্ট সাহিত্য-সমিতির একটি সাধারণ অধিবেশন হয়। সভাপতি ছিলেন মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। শাহাদৎ হোসেন ‘বর্তমান নাট্যসাহিত্য’ নামে একটি প্রবন্ধ সেখানে পাঠ করেছিলেন। আলোচনাকালে আহমদ আলী (তিনি খুলনার অধিবাসী ছিলেন) মত দেন এই বলে যে, ‘প্রাথমিক যুগের মুসলমানগণ নাট্যসাহিত্যের আলোচনা করেন নাই। তাই মুসলমানগণের আজকালও নাট্যসাহিত্যচর্চা করার কোনও প্রয়োজন নাই।’ আর সভাপতির মন্তব্য ছিল এই : ‘নাট্যসাহিত্যচর্চায় মুসলমানগণের কোনও আপত্তি থাকিতে পারে না। তাহাদের আপত্তি শুধু রঙ্গালয়ের অভিনয়ে।’

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল জাতিচেতনার বিষয়টি। কেননা এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত ছিল অন্য কিছু ধ্যান-ধারণা। অধিকাংশ লেখক নিজেদের সম্প্রদায়কে একটি জাতি হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। সে-কারণে জাতীয় উন্নতি, জাতীয় শিক্ষা, জাতীয় সাহিত্য – এসব বলতে তারা মুসলমান সমাজের চৌহদ্দির কথাই বোঝাতেন।

কেউ-বা তাকে বাংলার সীমানার মধ্যেই শুধু আবদ্ধ রাখার পক্ষপাতী ছিলেন না। সেজন্য দেখা যায় ১৯১৮-র ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত

তৃতীয় বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য-সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে মওলানা আকরম খাঁ বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা বাংলার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেও একে তার জাতীয় ভাষার মর্যাদা দিতে ঘোরতর আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর মূল যুক্তি মুসলমানের জাতীয়তা কোনো ভূগোলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই আরবিই তার জাতীয় ভাষা। এ-কথা ভুলে গেলে মুসলমানের ‘সর্বনাশ’ হবে। আকরম খাঁর বক্তৃতা পত্রিকার যে-সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল, সেই প্রথম বর্ষ চতুর্থ সংখ্যায় (মাঘ-চৈত্র ১৩২৫) মুদ্রিত মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী তাঁর ‘বাঙলা ভাষা ও মুসলমান সাহিত্য’ নামের প্রবন্ধে ওই একই জাতি-ধারণা ব্যক্ত করেছিলেন। এবার সম্পাদকীয় টীকায় এই মতের বিরোধিতা করে বলা হয়েছিল আধুনিক অর্থে জাতি ধর্মসম্প্রদায়ভিত্তিক নয়, দেশভিত্তিক। সে-হিসেবে বাংলা বাঙালিমাত্রেরই জাতীয় ভাষা।

এই সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা থেকে আশা করি অনুধাবন করা সম্ভব হবে যে, বাঙালি মুসলমানের সমাজেতিহাস অধ্যয়নে পত্রিকাটি কতটা গুরুত্ব দাবি করে।

বিশুদ্ধ সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল বলে এখানে নানা আঙ্গিকে নানা ধরনের রচনা প্রকাশিত হতো। তবে কোনো উপন্যাস, এমনকি ধারাবাহিকভাবেও, এতে বেরোয়নি। নাটিকা মুদ্রিত হয়েছিল দুটি, আর একটি কাব্যনাটিকা। কবিতা, গল্প, রসরচনা এসব তো থাকতই। ‘সমিতি-সংবাদ’ অংশকে ঐতিহাসিক দলিল বললে অত্যুক্তি হবে না।

 

পাঁচ

মোট বাইশটি সংখ্যা প্রকাশের পর বঙ্গীয় মুসলমান-সাহিত্য-পত্রিকার আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেলেও সমিতির আয়ু শেষ হয়ে যায়নি, যদিও প্রবল প্রতিকূলতায় একাধিকবার তাকে মৃতকল্প হতে হয়েছে। ৩২নং কলেজ স্ট্রিটের বাড়ির মালিক মামলায় ডিক্রি পেয়ে সমিতির বই-আসবাব সব রাস্তায় ফেলে দিয়েছিলেন এ-তথ্য আগে বলা হয়েছে। এয়াকুব আলী চৌধুরী সেসব উদ্ধার করে ৪৩নং মির্জাপুর স্ট্রিটের একটা ভাড়া-করা ঘরে রাখেন। তাঁরই উদ্যোগে সাহিত্য-সমিতি আবার বেঁচে ওঠে। এখান থেকে ১৩১৩-এর অগ্রহায়ণ মাসে (জানুয়ারি ১৯২৭) এয়াকুব আলী ও গোলাম মোস্তফার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সমিতির দ্বিতীয় মুখপত্র মাসিক সাহিত্যিক। এর বারোটি সংখ্যা বেরিয়েছিল। আর চতুর্থ থেকে সপ্তম এই চারটি সাহিত্য-সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৪১ সালে উদযাপিত হয়েছিল রজত জুবিলি। দেশভাগের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সমিতির নামকরণ করা হয় ‘নজরুল পাঠাগার’। বাঙালি মুসলমানের জাগরণ-প্রচেষ্টার এক গৌরবজনক ইতিহাসের ছিন্নসূত্র ধারণ করে এখনকার সূর্য সেন স্ট্রিটে অতীব দুর্দশার সঙ্গে আজো টিকে আছে ‘নজরুল পাঠাগার’ তথা ‘বঙ্গীয় মুসলমান-সাহিত্য-সমিতি’, বঙ্গীয় মুসলমান-সাহিত্য-পত্রিকা ছিল যার উজ্জ্বল উদ্ভাসন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: