চট্টগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ, অনন্যসাধারণ এক দুর্লভ সবুজ ভূস্বর্গের নাম সিআরবি, যার কথা এতোদিনে দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর কারোরই আর অজানা থাকার কথা নয়। এহেন এক অতুলনীয়, শতবর্ষী বৃক্ষশোভিত নিসর্গভূমিতে বিকট ও বহুতল হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন বেশ কিছুদিন ধরে। সোচ্চার ও সরব সেই প্রতিবাদের মিছিলে যুক্ত হয়েছেন চট্টগ্রামের সচেতন শিল্পীসমাজও। দেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রবীণ ভাস্কর অলক রায়ের উদ্যোগে ও পরিকল্পনায় সেখানে সম্প্রতি ‘শিল্পীর ভাবনায় সিআরবি’ শীর্ষক একটি আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়, যাতে অংশ নেন চট্টগ্রামের নবীন, প্রবীণ উনিশজন দৃশ্যশিল্পী। শিল্পীরা বেশ কয়েকদিন ধরে, খোলা আকাশের নিচে, সিআরবির উন্মুক্ত পরিসরে জড়ো হয়ে যার যার মতো করে নিবিষ্টচিত্তে ছবি আঁকেন; রং ও রেখার ভাষায় তাঁদের প্রকৃতি ও প্রতিবেশ ভাবনাকে রূপ দেন, যার কেন্দ্রে থাকে তথাকথিত উন্নয়নের অনিবার্য অনুষঙ্গ, যান্ত্রিক কোলাহল ও পরিবেশ-দূষণের আগ্রাসন থেকে সিআরবিকে রক্ষা করার সুতীব্র আকুতি। নিজ শহরের নিসর্গ ও নাগরিকদের প্রতি গভীর দায় এবং দরদ থেকে আঁকা তাঁদের সেসব হৃদয়নিংড়ানো শিল্পকর্মসমূহেরই একটি ব্যতিক্রমী, অভূতপূর্ব ও সর্বার্থে উন্মুক্ত প্রদর্শনী হয়ে গেল এই সিআরবিরই একেবারে বুকের মাঝখানে, সুবিখ্যাত সাতরাস্তার মোড়ে সারিবদ্ধ শিরীষবীথির স্নিগ্ধ ছায়াতলজুড়ে, গত ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর, সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি। 

প্রদর্শিত চিত্রকর্মগুলো ছিল মূলত দ্বিমাত্রিক এবং প্রধানত অ্যাক্রিলিক ও মিশ্রমাধ্যমে আঁকা। এছাড়া বিশাল খোলামেলা প্রাঙ্গণে প্রদর্শিত হওয়ার কারণে অধিকাংশ কাজই আকারে সচরাচর গ্যালারির অভ্যন্তরে প্রদর্শিত ছবির তুলনায় বেশ বড় ছিল : সর্বোচ্চ ৯ ফুট৬ ফুট পর্যন্ত (মামুর আহসান মাহতাবের ‘রহস্যময় সম্পর্ক এবং প্রকৃতির প্রতিবাদ’)। প্রদর্শনীর মূল বিষয়ভাবনা সিআরবি হলেও তাকে নিয়ে সরাসরি বাস্তববাদী ছবি বিশেষ আঁকেননি শিল্পীরা, স্রেফ একটি ব্যতিক্রম ছাড়া। সেই ছবিটি, সিআরবির নীরবতার শিল্পী রাখাইন বংশোদ্ভূত মং মং সো, যিনি মূলত ওয়াটার কালারে বাস্তববাদী ঘরানার ছবি আঁকার কাজে সিদ্ধহস্ত, যদিও এই কাজটি ছিল অ্যাক্রিলিকে করা। এতে স্বভাবসুলভ অংকনদক্ষতার ছাপ থাকলেও তাঁর জলরঙের কাজের যে জাদু ও জৌলুস সেটা যেন পুরোপুরি পাওয়া যায়নি; কিন্তু তারপরও যতটুকু পাওয়া গেছে তাতেই যেন সিআরবির স্বর্গীয় নিসর্গের সুনসান নীরবতাটুকু অনুভব করা যায় তাঁর চিত্রপটের দিকে তাকিয়ে। অবশ্য তাঁর মূল আরাধ্য শুধু সেটুকুই ফুটিয়ে তোলা নয়, তাই আমরা দেখতে পাই ছবির একটি গাছের গায়ে লেখা আমাদের সেই চিরচেনা শহুরে বিজ্ঞপ্তিখানি – ‘সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলিতেছে’, যা আমরা জানি প্রায়শই বর্ধনের পরিবর্তে বর্জনেরই ইঙ্গিতবাহী এবং সেই আশঙ্কা থেকেই মূলত এই পরিবেশবাদী আন্দোলনের সূত্রপাত। সেদিক থেকে বলা চলে, মং-এর এই দ্বিমাত্রিক চিত্রকর্মটি শিল্পের দ্বিবিধ উদ্দেশ্য সাধনেও সমর্থ হয়। 

প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী প্রবীণতম শিল্পী সম্ভবত নাজলী লায়লা মনসুর, যিনি ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে তাঁর চিত্রভাষার সুস্পষ্ট স্বকীয়তার জন্য বহুল আলোচিত ও নন্দিত। ‘আকাশলীনা’ নামক প্রদর্শিত ছবিটির মাধ্যমে তিনি সুনাম ধরে রাখেন, তাঁর সেই বিখ্যাত শিল্পভাষারই কিছুটা সরলীকৃত উপস্থাপনার মাধ্যমে। তাঁর কাজটিতে আমরা দেখতে পাই, সিআরবির শতবর্ষী শিরীষগাছগুলোর সুবিন্যস্ত প্রতিচিত্র ব্যবহার করে তিনি চিত্রপটের চারপাশের সীমারেখাটুকু সাজিয়ে নেন এবং তার মাঝখান দিয়ে উড়ে-চলা সাদা মেঘের বুকে একজন নীলবসনা, চুলখোলা নারীকে ভাসিয়ে দেন পরম মমতায়; যেনবা তিনি বলতে চাইছেন, সিআরবির বুকে শুধু পুরুষই নয়, নারীও যেন সহজে খুঁজে নিতে পারে তাঁর ওড়ার আকাশ ও বিশ্রামের অবকাশ। এই প্রদর্শনীতে আরো দুজন নারীর অংশগ্রহণ ছিল। তাঁদের একজন সতত নিরীক্ষাপ্রিয়, সমকালীন দৃশ্যশিল্পের অত্যন্ত মৌলিক, নিষ্ঠাবান ও শক্তিমান চর্চাকারী নিলুফার চামান। তাঁর কাজের নামটিও ভারী চমৎকার ও অর্থবহ : ‘হে ঈশ্বর আমি দেখেছি কাঠের গুঁড়ো উড়ে যাচ্ছে সবখানে’। তাঁর উল্লিখিত এই কাঠের গুঁড়ো বলাই বাহুল্য আমাদের চারপাশে নির্বিচারে কর্তিত বৃক্ষরাজির, যার বেদনাকে তিনি ধারণ করেছেন তাঁর ক্যানভাসের বিভিন্ন অঞ্চলে, অসময়ে থেমে যাওয়া ঘড়ির কাঁটার প্রতীকে। অবশ্য চার ভাগে ভাগ করা তাঁর চিত্রপটের ঠিক কেন্দ্রে, সিআরবির বিশালাকার গাছগুলোরই আদলে, উদ্বাহু শাখাদের মিলনবিন্দুতে স্থাপিত একটি মহাকালের ঘড়িকে আমরা দিব্যি সচল দেখি (এর মধ্য দিয়ে আমরা একধরনের কাইনেটিক আর্ট বা গতিময় শিল্পের স্বাদও পেয়ে যাই কিঞ্চিৎ), যার সুরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরায় জেগে থাকেন অহিংসার প্রতিমূর্তি স্বয়ং ধ্যানমগ্ন বুদ্ধ। অপর নারীশিল্পী শতাব্দী সোমও ‘প্রকৃতি এবং আমি’ শীর্ষক কাজে তাঁর স্বভাবসুলভ দক্ষতার জায়গা পটচিত্রের আদলে, খুবই দেশজ ধরনে, সরলরৈখিক শৈলীতে অঙ্কিত প্রায় জ্যামিতিক দুটি সমরূপ বৃক্ষকে দুদিক থেকে আলিঙ্গনাবদ্ধ দুজন নারীর ছবি আঁকেন। তাঁদর পিঠে ডানার অস্তিত্ব আমাদের বলে দেয়, এঁরা স্বর্গের দেবদূতী, আমাদের এই শহরের আক্রান্ত প্রাণ ও প্রকৃতিকে বাঁচানোর তাগিদে নেমে এসেছেন মর্ত্যরে মাটিতে। শতাব্দীর সুদক্ষ হাতে স্রেফ সাদা ও বাদামি রঙের মসৃণ, প্রসন্ন প্রয়োগের সৌকর্যে আমাদের আশঙ্কিত বোধের ভেতরে এক ধরনের উপশমের অনুভূতি চারিয়ে যায় খুব সহজেই।

প্রদর্শনীর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি শিল্পকর্ম জিহান করিমের ‘চিপকো’। আমরা অনেকেই জানি, ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের গ্রামবাসী নারীরা একদা অহিংস পদ্ধতিতে অত্যন্ত জোরালো এক বৃক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, যার নাম ছিল ‘চিপকো’। জিহান তাঁর কাজের বিষয় করেছেন এটিকেই; কিন্তু সেটাই মুখ্য নয়, তিনি তাকে এমন অভিনব কায়দায় উপস্থাপন করেন যে, সেটি এক ভিন্নতর মাত্রা ও ব্যঞ্জনা তৈরি করে। জিহান তাঁর ছবিটি মূল ক্যানভাসে না এঁকে তার উল্টো পাশে কাঠের ফ্রেমের মাঝখানের পরিসরটিকে

 বেছে নেন, একটি প্রাচীন বৃক্ষকে আগলে রাখা সেই চিপকো নারীদের প্রতিকৃতি আঁকার জন্য। সিআরবি ধ্বংসের বিরুদ্ধে শিল্পীদের সম্মিলিত প্রতিবাদের পাশাপাশি এ-ও যেন জিহানের আরেক নিজস্ব প্রতিবাদ, যেখানে তিনি ক্যানভাসের শুভ্রতাটুকু অটুট রেখে তাকে পেতে দেন সবুজের দিকে মুখ করে, যেন নিসর্গশিল্পী স্বয়ং সেখানে এঁকে যেতে পারে তার আলোছায়ার অমল আল্পনা। প্রকৃতিখেকোদের ওপর দেহাতি নারীদের সেই নিজস্ব নজরদারির নিখুঁত উপস্থাপনার পাশাপাশি তিনি তাঁর প্রিয় শিল্পমাধ্যম, সমকালীন নজরদারির প্রতীক একটি ভিডিও ক্যামেরার ছবিও যোগ করে দিতে ভোলেন না অবশ্য। অনেকটা তাঁরই মতো করে আরেক ধরনের ভবিষ্যৎবাদী উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে প্রতিবাদকে ভাষা দেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ তাঁর ‘পরকালে নিশ্বাস’ শিল্পকর্মটিতে; যেখানে আমরা দেখতে পাই কোনো এক জাদুঘরের মধ্যে কাচের বাক্সে রক্ষিত একটি বিবর্ণ বৃক্ষের বনসাই, যার পল্লবরাজির বিন্যাস অনেকটা পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে উত্থিত সেই কুখ্যাত মাশরুম মেঘের মতো, যাকে চেয়ে চেয়ে দেখছেন একজন বিষণ্ন, বিবিক্ত প্রত্নমানব; পেছনে তার নিকষ কালো পটভূমি। শিল্পীর উপস্থাপনার ধরনটা এখানে কিছুটা মিনিমালিস্ট; কিন্তু তাঁর শিল্পভাবনার বিস্তারটুকু বিশাল ও বৈশ্বিক।

আলোচ্য প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিলেন দুজন সুখ্যাত আদিবাসী শিল্পী – জয়দেব রোয়াজা ও জয়তু চাকমা, যাঁদের নিত্যদিনের জীবনযাপনেরই অংশ এই প্রকৃতিরক্ষার সংগ্রাম ও সাধনা। এরই দু-ধরনের শিল্পিত প্রতিফলন আমরা দেখতে দুই প্রজন্মের এই দুই শিল্পীর কাজে। ‘বৃক্ষ উপাসনা’ শীর্ষক দৃষ্টিনন্দন ও প্রায় জাদুবাস্তব কাজটিতে জয়দেব যেখানে প্রকৃতিকে দেখেন মরমি উপাসকের চোখে, অনেকটা যেন অরণ্যের অভিভাবক দেবদূতরূপে; সেখানে তরুণ জয়তু কোনো রাখঢাক না করে সন্ত্রাস কিংবা লালসার লালাভ চালচিত্রের মাঝখানে আগ্রাসী ভূমিদস্যুর বিধ্বংসী যন্ত্রযানসমূহকে অদ্ভুত এক উল্লম্ব ভঙ্গিতে গাছ বেয়ে উঠে যেতে দেন তাঁর এই ‘প্রকৃতি’ নামধারী কাজটিতে; যে-নামটি হয়তো ঠিক নিসর্গ নয়, বরং যুক্তিহীন মানবপ্রকৃতির দিকেই ইঙ্গিত করে বেশি। সিআরবির বুকে অনাকাক্সিক্ষত যে-স্থাপনা তথা হাসপাতাল নির্মাণকে ঘিরে এই শৈল্পিক কর্মকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে, তারও কিছু প্রত্যক্ষ প্রকাশ লক্ষ করি আমরা অন্তত তিনটি কাজে; শারদ দাশের পরিবর্তনসূচক উপসর্গ নিয়ে ‘একটি নিসর্গ’, সঞ্জয় দাশের ‘ইচ্ছেপূরণ’ এবং সঞ্জীব দত্তের ‘প্রকৃতিকে তার মতো থাকতে দাও’-এ। এর মধ্যে সঞ্জীব দত্তের কাজটিকে একটু আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয় এজন্য যে, এর নেপথ্যে সুকৌশলে হাসপাতাল-অভ্যন্তরের একটি নিখুঁত মানচিত্রও যুক্ত করে দেন তিনি, যার অভ্যন্তরের রক্তধারা এসে মিশে যায় বাইরে, বিশাল বৈদ্যুতিক করাতের নিচে কাটা পড়া তাঁর কৈশোরের স্মৃতিময় গঙ্গাফড়িংয়ের নিষ্পাপ রক্তের সঙ্গে। সবশেষে আরো একটি ব্যাধি তথা হাসপাতাল-সংক্রান্ত শিল্পকর্মের কথাও বলতে হয় এখানে। সেটি সঞ্জয় সরকারের ‘প্রদাহ’ বা ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘ইনফ্লামেশন’। তাঁর আঁকা ছবিটিতে আমরা দেখতে পাই, একটি ডালপালা-ছড়ানো বিটপীর বুকের ঠিক মধ্যিখানে রক্তবর্ণ সংক্রমণ কিংবা প্রদাহের চিহ্ন ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে তার চতুষ্পার্শ্বে, যার তাৎক্ষণিক, স্থাননির্দিষ্ট দ্যোতনাটুকু বুঝতে কারো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আমরা জানি শিল্পী শুধু এটুকু বলার জন্যই তাঁর তুলি ধরেননি, তিনি এই সময়ের, এই সমাজের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান আরো এক গভীর, গূঢ় সংক্রমণের বিপদের দিকেই আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইছেন এর মাধ্যমে। সেই একই বার্তা ও বেদনার কথাই নানা বর্ণে ও বিভঙ্গে, রেখা ও রূপকের আশ্রয়ে আমাদের শোনাতে চেয়েছেন, সাহসী ও সময়োপযোগী এই ঐতিহাসিক প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া অপরাপর শিল্পীরা তাঁদের বহুমাত্রিক শিল্পকর্মসমূহের মাধ্যমে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য : খাজা কাইয়ুমের ‘ঝরা পাতার কান্না’, তাসাদ্দুক হোসেন দুলুর ‘ফাইলগুলোকে প্যান্ট পরিয়ে দাও’, জাহেদ আলী যুবরাজের ‘প্রকৃতির মাঝে ধ্যানরত বুদ্ধ’, সুব্রত দাসের ‘ছায়াতল ও শিরীষ গাছ’, সঞ্জীব বড়ুয়ার ‘আত্মার মৃত্যু’, মামুর আহসান মাহতাবের পূর্বোল্লেখিত ‘রহস্যময় সম্পর্ক এবং প্রকৃতির প্রতিবাদ’ ও মো. জয়নাল আবেদীন আজাদের ‘ভিন্নরূপে সিআরবি’র মতো কাজগুলো। আমরা নিশ্চিত, সৎ, সুন্দর ও সমাজঘনিষ্ঠ শিল্পের এই বলিষ্ঠ মানবিক বার্তাটুকু আজ হোক, কাল হোক ঠিকই পৌঁছাবে তার উদ্দিষ্ট গন্তব্যে; বয়ে আনবে আমাদের বহুপ্রত্যাশিত পরিত্রাণ ও প্রশমনের জলপাই শাখাটি, কেননা জীবন ও শিল্পের জয় অবশ্যম্ভাবী।

Leave a Reply