স ম্পা দ কী য়

সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের জন্ম (১৮ই জানুয়ারি ১৯৫১ সালে) সিলেট শহরে। ১৯৬৬ সালে তিনি সিলেট সরকারি পাইলট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬৮ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন যথাক্রমে ১৯৭১ ও ১৯৭২ সালে। ১৯৮১ সালে তিনি কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়েটসের কবিতায় ইমানুয়েল সুইডেনবার্গের দর্শনের প্রভাব বিষয়ে পিএইচ.ডি করেন।

কর্মজীবনে তিনি অধ্যাপনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরগ্রহণের পর ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে যোগ দেন তিনি। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন নিবেদিতচিত্ত শিক্ষক।

সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই তাঁর ছিল সপ্রতিভ বিচরণ। লিখেছেন ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, সমালোচনা-সাহিত্য। তাঁর আগ্রহের অন্যতম বিষয় ছিল চিত্রকলা। এদেশের চিত্রকলা ও চিত্রশিল্পীদের কৃতি দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন সদাসচেষ্ট। বিভিন্ন প্রদর্শনী এবং শিল্পকলাবিষয়ক আয়োজনে তাঁর উপস্থিতি, আলোচনা এবং বিশ্লেষণমূলক রচনা বাংলাদেশের চিত্রকলাচর্চাকে নিয়ত উন্মোচিত করেছে।
বাংলা-ইংরেজি দুই ভাষাতেই তিনি অনলসভাবে লিখে গেছেন – কখনো প্রাণ ও মনের তাগিদে, কখনো অন্যের অনুরোধ-উপরোধে। লিখেছেন বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত গ্রন্থ। এছাড়া তাঁর অসংখ্য প্রবন্ধ-নিবন্ধ, কলাম প্রকাশিত হয়েছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও জার্নালে।

তাঁর ছাত্রদের অনেকেই এখন সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও সম্মানিতজন। এই সাফল্য তাঁকে পরিতৃপ্তি দিত। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন মিষ্টভাষী, সদালাপী, সহানুভূতিশীল, সজ্জন, পরোপকারী, ধৈর্যশীল, ন্যায়পরায়ণ। অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।

২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন যখন তুঙ্গে, সে-সময় তিনি দেশের প্রথম সারির একটি দৈনিককে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘রাষ্ট্র মেরামতের সেই সুযোগ আবার এসেছে।’ অর্থাৎ বরাবরই জনগণের পক্ষে, মানুষের অধিকারের পক্ষে, মানবিকতার পক্ষে তিনি ছিলেন সোচ্চার।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা।

কালি ও কলমের সম্পাদকমণ্ডলীর প্রথম সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুর পর ২০২০ সাল থেকে তিনি কালি ও কলমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করে এসেছেন আমৃত্যু। এই পত্রিকার প্রচার-প্রসার ও মান অক্ষুণ্ন রাখতে নিরলসভাবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সহ-সভাপতি। তাঁর প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের নিরন্তর প্রেরণা জোগাবে। অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।