মেধা-মননে বিকশিত এক আশ্চর্য মানুষ ছিলেন হাসনাতভাই। সংযত এবং সংহত সাধনায় সমাকীর্ণ এক সত্তা।
গত মার্চ মাসে কথা হলো টেলিফোনে। কিছু তথ্য জানতে চেয়েছিলাম লেখার বিষয়ে। যতটুকু জানেন বলেন, আরো তথ্য সংগ্রহ করে জানাবেন আশ্বস্ত করেন। শেষ দেখা ২৪ জানুয়ারি ঢাকা জাদুঘরে নভেরা : বিভুঁইয়ে স্বভূমে গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর জাদুঘরের সামনের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে কথা হলো স্বল্পসময়ের জন্য। সঙ্গে ছিলেন মিনু আপা। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জানালাম – নতুন লেখা পাঠাচ্ছি। উদ্দীপ্ত স্বর – অবশ্যই পাঠাবেন। যে-কোনো বিষয়।
: দীর্ঘ লেখা, ছবিও দিতে হবে অনেক।
স্বভাবসুলভ সংক্ষিপ্ত উত্তর – আপনি পাঠিয়ে দিন। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে বেঙ্গল পাবলিকেশন্স থেকে আমার বই প্রকাশিত হলো, মূলত হাসনাতভাইয়ের একান্ত আগ্রহে। কয়েক বছর ধরে বলছিলেন। আমার খুঁতখুঁতে স্বভাব, প্রস্তুতি নিতে কালক্ষেপণ। তিনি ই-মেইল পাঠান ২০ মার্চ, ২০১৮।
সুজনেষু আনা
আশা করি কুশলে আছেন। কাল শাহাবুদ্দিন সাহেবের প্রদর্শনী উদ্বোধন হলো। শুনলাম ২৬ মার্চ ঢাকায় আসছেন। আমার বিশেষ অনুরোধ পাণ্ডুলিপিটি সংযোজন, বিয়োজন ও সম্পাদনা করে সঙ্গে নিয়ে আসবেন। বইটি ভালো হবে। বেশি প্রস্তুতি নিয়ে কোনো কিছুই করা হয়ে ওঠে না।
শুভেচ্ছা
হাসনাত।
ভাস্কর নভেরাকে নিয়ে বই লিখতে যে-কজন ঘনিষ্ঠজন এবং সুহৃদ উৎসাহ দিয়েছেন হাসনাতভাই তাঁদের অন্যতম। এই বই নিয়েও তাঁর ব্যক্তিগত আগ্রহ ছিল। কালি ও কলম প্রথম প্রকাশের আগে ঢাকা থেকে টেলিফোন করেন। কুশলবিনিময়ের পর জানান আনিসুজ্জামান স্যার কথা বলবেন। নতুন সাহিত্য-সংস্কৃতি পত্রিকায় নিয়মিত লেখা পাঠানোর জন্য বলেন দুজনেই।
দৈনিক সংবাদ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক তখন হাসনাতভাই। ১৯৮৯ সালে লেখা দিতে গিয়ে পরিচয়। দীর্ঘ ৩১ বছর, নিয়মিত যোগাযোগ হলেও, তাঁর সাহচর্যে কাটানো সময় সংক্ষিপ্ত। সম্পাদকের চেয়ারে বসে তিনি, মাঝখানে টেবিলের আরেক পাশে চেয়ারে বসে কথা শেষ পাঁচ-দশ মিনিটে। টেলিফোনেও তাই। অনেক সময় বুঝতে কয়েক সেকেন্ড যেত তিনি ফোনের অন্যপ্রান্তে নেই। কর্মযোগী সম্পাদক। ভালো, নতুন বিষয়ে লেখার সমঝদার, প্রশংসাও করতেন। প্রতিটি লেখা কম্পোজ করার পর ত্রুটি সংশোধনের জন্য মেইলে পাঠিয়ে লিখতেন – ‘সময় নিয়ে দেখবেন।’
হ্রস্ব আয়ুর জীবনে তাঁর কর্মের বিস্তৃত পরিধি। সংবাদ পত্রিকায় যোগ দেন ১৯৬৫ সালে। জীবিকার তাড়নায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন; পড়াশোনা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে। রাতে পত্রিকায় কাজ আর দিনের বেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্র ইউনিয়নের আন্দোলন। মস্কোতে ছিলেন এক বছর (১৯৭২-৭৩)। বংশালে দৈনিক সংবাদ পত্রিকার অফিস। ’৭৪ সালের শেষের দিকে সাহিত্যপাতার সম্পাদকের দায়িত্ব পান। দু-পাতার সাহিত্য তাঁর সম্পাদনায় স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত হয়ে উঠেছিল। সাময়িকীর কলেবর বৃদ্ধি পেয়ে চার পাতায় প্রকাশিত ১৯৮০ সাল থেকে। ষাটের দশকের অন্যতম কবিদের একজন। কবিতা লিখতেন মাহমুদ আল জামান নামে। কারণ সেই সময় আরেকজন আবুল হাসনাত ছিলেন (পরে প্রয়াত), লিখতেন। বিভ্রান্তি এড়াতেই ছদ্মনাম। লিখেছেন শিশু-কিশোরদের জন্য বই, উপন্যাস, আত্মজীবনীমূলক রচনা। নিজের সাহিত্যকর্ম নিয়ে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন না। সম্পাদক-পরিচয়ের দীর্ঘ বিস্তৃতিতে ঢাকা পড়েছিল তাঁর অন্যসব সৃজন-কৃতি। প্রচার থেকে নিজেকে আড়াল করার সম্ভ্রান্ত এক জীবন। ‘আমার রোদ্দুর ঢেকে যাচ্ছে কালো মেঘে’ – কবিতার কবি আবুল হাসনাত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ছিলেন উদ্যমী ও উদ্যোগী। বুদ্ধিজীবী, শিল্পী-সাহিত্যিকদের নিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন কলকাতায়। ছায়ানটের অন্যতম সংগঠকও তিনি। কম কথার বাঙ্ময় ব্যক্তি। আমিত্বকে জাহির বা প্রতিষ্ঠা করার স্থূল প্রবণতা ছিল স্বভাববিরোধী। মিতভাষী এক কবিসত্তা, আত্মগত ভাবনায় সংস্কারমুক্ত।
বিশেষ পরিবেশে হাসনাতভাইকে ভিন্ন রূপেও দেখেছি। ভাবনার অনাবিল প্রকাশে স্বতঃস্ফূর্ত। ২০১৬ সালে ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক বইমেলায় গিয়েছিলেন। পরে প্যারিসে আসেন বইমেলা শেষ হলে। তিনি আসছেন জানতাম। পৌঁছে বিকেলে হোটেল থেকে ফোন করেন। কথামতো পরদিন ২৩ অক্টোবর সকালে হোটেল থেকে হাসনাতভাইকে নিয়ে মিউজিয়াম দর্শনে যাই। প্রথমে মুজ্যে দরসে পরে সেইন নদীর পাশ দিয়ে হেঁটে লুভ্র মিউজিয়াম দেখা হলে দুপুরে রু বিভোলীর এক রেস্তোরাঁয় সামান্য মধ্যাহ্নভোজন। বেলাশেষের বিকেল, আকাশ মেঘলা। অনেকটা পথ হেঁটে মেট্রোস্টেশন যেতে হবে। পরবর্তী গন্তব্য পিকাসো মিউজিয়াম। মন্থর গতিতে হাঁটার ফাঁকে তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহের বইপত্র, শিল্পকর্ম ছাড়াও দেশের শিল্প-সাহিত্য, প্রকাশনা – বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ। ভাবনা-বিনিময়ের সেই অধ্যায় প্রকাশে বিরত থাকছি, মনে করি অনন্যতা ক্ষুণ্ন হয় তাতে।
পিকাসো মিউজিয়ামের টিকিট কাউন্টার বন্ধ হওয়ার বিশ মিনিট আগে পৌঁছাই। শেষবেলায়ও লম্বা লাইন। ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টিতে ভিজে অপেক্ষা লাইনে দাঁড়িয়ে। এক টিকিটে দুটো প্রদর্শনী দেখার সুযোগ পেয়ে খুশি হাসনাতভাই।
মিউজিয়ামের পার্মানেন্ট কালেকশনের বাইরে একটি স্বতন্ত্র প্রদর্শনীও ছিল পিকাসো ও ভাস্কর জিয়াকোমিতির। পিকাসোর শিল্পকর্ম দেখে উচ্ছ্বাস; সে-উচ্ছ্বাসেও খরবেগ নয়, স্ফূর্তির উষ্ণতা ছিল।
: বইতে কত দেখেছি এইসব শিল্পকর্ম।
জিয়াকোমিতির কাজ আগে দেখেননি, জানান।
দিনশেষে ক্লান্ত, কিন্তু চোখেমুখে প্রিয় শিল্পীদের শিল্পকর্ম দেখার আনন্দ। মিউজিয়ামের বাইরে অঝোর বৃষ্টি। ট্যাক্সির জন্য অপেক্ষা। আধঘণ্টারও বেশি রাস্তার পাশের দোকানে দাঁড়িয়ে। ট্যাক্সি পাবার আশা ত্যাগ করে বৃষ্টিতে ভিজেই মেট্রোস্টেশনে যাওয়া। বাড়ি ফেরা, রাত সাড়ে আটটার পর। টানা হাঁটা, ভিজে হাসনাতভাই শ্রান্ত, অবসন্ন। টেবিল টেনিস খেলাশেষে শিল্পী শাহাবুদ্দীনও বাড়ি ফেরেন কিছুক্ষণ পর। আফসোস সেই সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতাম না। আমাদের দু-মেয়েও বাসায় ছিল না। ফলে স্মৃতিময় সেই দিনের কোনো ছবি নেই। রাতের খাবার পর অপেক্ষারত বাংলাদেশ দূতাবাসের গাড়িতে হোটেলে ফিরে যান। পরদিন এয়ারপোর্ট যাওয়ার আগে আবার দেখা হবে কথা দিলেন। কিন্তু হাসনাতভাইয়ের আসা হয়নি। দেশে পৌঁছে ফোন এবং পরে মেইল করেন। বৃষ্টিতে ভিজে গায়ে জ্বরসহ পায়ের ব্যথায় খুব অসুস্থ ছিলেন বলে যাওয়ার আগে ফোনেও বিদায় নেওয়া হয়নি।
শাহাবুদ্দীন/ আনা
২৭.১০.২০১৬
আশা করি কুশলে আছেন।
২৪ তারিখ দেখা করতে পারিনি। সেজন্য খুবই লজ্জিত হয়ে আছি। যে-কোনো কারণে হোক ফোনও যাচ্ছিল না। আগের দিন বৃষ্টিতে ভেজার জন্য জ্বর হয়েছিল ও পায়ের গোড়ালি ফুলে গিয়েছিল। দূতাবাসের হাবিব সাহেব আমাকে নিতে এসেছিলেন। কথা দিয়ে দেখা না করতে পারায় খুবই অস্বস্তি বোধ করছি। আগের দিন রাতের আড্ডা ও আপ্যায়ন অম্লান স্মৃতি হয়ে আছে। কিছু বই রেখে এসেছিলাম। পেয়েছেন বোধকরি। পেলেন কিনা বুঝতে পারছি না। আশা করি ক্ষমা করবেন।
প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
হাসনাত।
কোনোদিন বিরক্ত বা রুষ্ট হতে দেখিনি। ধারণা করি কেউ দেখেননি। অদ্ভুত এক সংযম এবং সহিষ্ণুতা ছিল তাঁর নিজস্ব অর্জন। ব্যস্ততায় লেখা পাঠানো হয়নি কয়েক মাস। ২০০৬ সালে নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার প্যারিসে এসেছিলেন। তাঁর হাতে কিছু বই এবং চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
ঢাকা
৩০ জুন ২০০৬
আনা
আশা করি কুশলে আছেন। অনেকদিন থেকে কোনো যোগাযোগ নেই। যে-কোনো কারণেই হোক লিখছেন না। বুঝতে পারি যে সংখ্যায় আপনার সর্বশেষ লেখা বের হয়েছিল সে সংখ্যা এবং পরের সংখ্যাগুলি পাননি বলে মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন। রাগ বা অভিমান হওয়া স্বাভাবিক। দু’বার লোক মারফত এবং একবার রামেন্দু মজুমদারের মাধ্যমে পত্রিকা পাঠিয়েছিলাম। সে সংখ্যাগুলোও পাননি। যাক বাংলাদেশের ডাক ব্যবস্থার বিভ্রাট সম্পর্কেও জানেন বোধকরি। তাছাড়া প্যারিসে যাওয়ার লোকও পাওয়া যায় না।
আমি অনুরোধ করবো এইসব বিষয় বিবেচনা করে আবার তিন মাস অন্তর প্যারিসের চিঠি লিখবেন। পত্রিকা উভয়বঙ্গে সমাদৃত হচ্ছে এবং আপনার লেখা পেলে কালি ও কলম নিশ্চিত সমৃদ্ধ হবে।
শাহাবুদ্দীন আশা করি ভালো আছেন। ওকে আমার প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাবেন।
শুভেচ্ছা
হাসনাত।
তাঁর হাতের লেখা চিঠি, স্বাক্ষর সবই এখন স্মৃতি। মাসিক সাহিত্যপত্রিকা গণসাহিত্য প্রকাশিত হয় ১৯৭২ সালে হাসনাতভাইয়ের সম্পাদনায়। আশির দশকের শুরু পর্যন্ত টানা দশ বছর নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা থেকে শিল্প-সমালোচক বন্ধু মইনুদ্দীন খালেদ মনে করিয়ে দেন ১৯৭৩ সালে ৮ এপ্রিল পিকাসোর মৃত্যুর পর গণসাহিত্য শিল্পীর স্মরণে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। পিকাসোর যুদ্ধবিরোধী অমর সৃষ্টি গের্নিকা ছবিটি দিয়ে করা হয়েছিল প্রচ্ছদ। আমাদের শিল্প-সাহিত্য চর্চার নবীন দিনে এই পত্রিকা পেয়ে উৎফুল্ল হয়েছিলাম।
সাংবাদিক নাসিমুন আরা হক (মিনু) হাসনাতভাইয়ের সহধর্মিণী। তাঁর কাছে শুনেছি, প্রচুর বই পড়তেন। গ্লুকোমায় ডান চোখের অপারেশনের পর দৃষ্টিহীন। এক চোখের দৃষ্টি নিয়েই পড়াশোনা, সৃজনচর্চা। নিজের লেখা এবং সম্পাদনায় গ্রন্থসংখ্যা সত্তর। পরিকল্পনা ছিল অনেক, অসমাপ্ত রয়ে গেল। অন্যের লেখা নিয়েও তাঁর আগ্রহ, সন্ধিৎসা, পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ ছিল অতুলনীয়। সংবাদের সাহিত্য সাময়িকীতে আমার শিল্পবিষয়ক বেশ কিছু দীর্ঘ লেখা ধারাবাহিকভাবে ছেপেছেন। একটি লেখাতে ফরাসি এক চিত্রশিল্পীর নামের বানান এবং উচ্চারণ নিয়ে সংশয় হতে, আমার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে, লেখাটি প্রকাশ করেছিলেন। সাহিত্য-শিল্পের বিবেচনায় বিশেষভাবে চক্ষুষ্মান সম্পাদক আবুল হাসনাত। ১০ অক্টোবর ২০১৫ সালে পাঠানো মেইল –
আনা,
আশা করি কুশলে আছেন। নভেরাকে নিয়ে একটি লেখা দেবার জন্য আপনাকে অনুরোধ করেছিলাম। বইটি নিঃশেষ। আপনার লেখাটি এ সংস্করণের সবিশেষ সংযোজন হবে। এছাড়া এই বইয়ের তথ্য ও প্রাসঙ্গিক ত্রুটি সম্পর্কে আপনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। সে-প্রসঙ্গগুলো লিখে দিলে বাধিত হব এবং ভূমিকায় আপনার নাম উল্লেখ করব ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব।
প্রীতি ও শুভেচ্ছা
হাসনাত।
২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সুহৃদ কবি তারিক সুজাত জানান, হাসনাতভাই খুব অসুস্থ। হাসপাতালে। মিনু আপাকে টেলিফোন করি তারিকের দেওয়া নাম্বারে। পরপর দুদিন কয়েকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হাসনাতভাইকেই ফোন করি। যদি ধরেন! ১ নভেম্বর সকালে ঢাকা থেকে বন্ধুদের পাঠানো সংবাদ – কালি ও কলম, শিল্প ও শিল্পীর সম্পাদক আবুল হাসনাত পরলোকে। স্বপ্নদীপ্ত সৃজনশীল মানুষটির প্রগতিচেতনা, অনায়াস উদ্দীপনা এখন স্মৃতির আলেখ্য। মৃত্যু আসলে দৈব অনুরোধ লিখেছিলেন কবি উৎপলকুমার বসু। সেই দৈব অনুরোধে ভুবনডাঙা ছেড়ে চলে গেলেন অনন্ত শান্তিনিবাসে হাসনাতভাই।


Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.