আমি তবে ভালোবাসি কাকে?

কোনোকিছু নয় আর পুরোপুরি মনের মতন

আত্মীয়-স্বজন সব পরাক্সমুখ, তাই করি কথোপকথন

একান্তে, নিজের সঙ্গে। অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ বা

অন্তরঙ্গ হৃদয়ের খোঁজে করি না ভ্রমণ

বা করি না মায়ামৃগ বনে অন্বেষণ।

বুকের বোতাম খুলে ঢুকে পড়ি গূঢ় অন্তর্দেশে

ঔদাস্যপ্রবণ এক বাউলের বেশে

কখনো তা অন্তহীন অতল সাগর

সেইখানে আছে কত বর্ণময় ঘর

কাঠামো-বিহীন –

থাকি রাত্রিদিন। 

কখনো মেঘের মতো উড়ে যাই, ঝরে পড়ি মেঘেদের সাথে

দুপুরের মর্মস্থলে কিংবা কোনো জোছনাময় নয় রাতে।

এই আলো-অন্ধকারে বিবর্তনময়

জীবনকে যথার্থ মনে হয়।

কে কোথায় চলে গেল, আবিষ্কার করে কোনো গ্রহ

ব্যক্তিক ও সামষ্টিক স্বাধীনতা লুট করে অহরহ

মণি-কাঞ্চন দিয়ে ভরে তুলছে বিশাল প্রাসাদ

জানিবার সাধ

নাই – মরিবার তরে

নিজস্ব নির্মিত এই প্রশান্ত প্রহরে।

কে কতটা দিয়েছে প্রণয়, পেয়েছে বা কত

তার কোনো স্মৃতি এসে করে না বিব্রত।

বিশ্ব সংকুচিত হয়ে আছে, তবে বাড়ে দৃশ্যে পদপাত 

সবই তা অন্তরে একা, নৈঃসঙ্গ্য করে না আঘাত।

জনসংঘে এ-নির্মিতি আমাকে অনন্য করে রাখে

অন্তরে অনন্ত প্রেম – আমি তবে ভালোবাসি কাকে?