ডুরারের এচিংয়ে এক সারমেয়

অনুবাদ : জি এইচ হাবীব

এতো আমাদের সবারই জানা যে, নাইট যুদ্ধ-প্রত্যাগত, সাত বছরের যুদ্ধ, তিরিশ বছরের যুদ্ধ, গোলাপের যুদ্ধ, তিন হেনরির যুদ্ধ, কোনো রাজবংশীয় বা ধর্মযুদ্ধ, অথবা কোনো মহতী যুদ্ধ, হতে পারে তা ফিলিস্তিনে, নেদারল্যান্ডে, বোহেমিয়ায়, হোক না যে-কোনো জায়গায়, সব যুদ্ধই তো একটি যুদ্ধেরই ভগ্নাংশমাত্র, সব যুদ্ধ মিলেই তৈরি হয় নামহীন যুদ্ধ, স্রেফ যুদ্ধ, কাজেই নাইট মহোদয় যদিও সেই যুদ্ধের একটি ভগ্নাংশের ভেতর দিয়ে ভ্রমণ করে ফিরছেন, ব্যাপারটি যেন এমন যে, তিনি সব যুদ্ধ পরিক্রমা করেছেন, কারণ সব যুদ্ধই – তা কাছ থেকে দেখলে তাদেরকে যতোই আলাদা আলাদা বলে মনে হোক না কেন – খানিকটা দূর থেকে দেখলে দেখা যাবে একই কুকীর্তি আর একই হাঙ্গামার পুনরাবৃত্তি করে, তাই নাম আর সন-তারিখ নিয়ে আমরা যেন

খুঁতখুঁত না করি, প্ল্যান্টাজেনেট বা হোয়েনস্টাউফেন বংশ থেকে কোনো কোনো দুর্বিনীত পরিবার সৃষ্টি হলে, বা বল্লমধারীদের সঙ্গে গ্রেনেড নিক্ষেপকারীদের বা ক্রসবোধারীদের সঙ্গে তীরন্দাজদের গুলিয়ে ফেললে বা যদি আমরা আমাদের ভূগোলজ্ঞানে গোলমাল করে এক শহরের সঙ্গে আরেক শহর, এক দুর্গের সঙ্গে আরেক দুর্গ, এক বুরুজের সঙ্গে আরেক বুরুজকে গুলিয়ে ফেললে যেন উতলা না হই, কাজেই নাইটের কাছে ফিরে গিয়ে আমরা বলছি অবশেষে তিনি যুদ্ধ থেকে ফিরেছেন, যুদ্ধের পরম্পরার একটি সংযোগ থেকে ফিরছেন তিনি, যুদ্ধটিকেই শেষ সংযোগ বলে ধরে নিয়ে, এটি না জেনে যে-পরম্পরাটি অন্তহীন কিংবা এই কথাটি যে এর একটি অন্ত থাকলেও পরম্পরাটি চক্রাকার হওয়াতে ‘সময়’ সেটিকে এমনভাবে পাক খাওয়ায় যে মনে হয় তা     অন্তহীন, কারণ যখন যাত্রা করেছিলেন তখন তিনি তরুণ যুবা, অমিত সাহসী, অথচ যুদ্ধ তাঁকে ফেরত দিয়ে গেছে বৃদ্ধ, প্রাজ্ঞ আর কেশহীন করে, যদিও এটি অদৃষ্টপূর্ব কিছু নয়, যুদ্ধ কল্পনাশক্তিহীন, পুনরাবৃত্তি ঘটায় সে তাঁর নানান জারিজুরির, আর তাই নাইট মহোদয় যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, কিন্তু যমের ফাঁদ এড়িয়ে গেছেন এমন সব নাইটের মতোই – অমুণ্ডিত, ধূলি-কাদামাখা, গায়ে ঘাম, রক্ত আর নোংরা-কাদার দুর্গন্ধ, বগলে মাছি ভন-ভন, দুই উরুর মাঝখানে ফুসকুড়ির জ্বালা, সব্জে শ্লেষ্মাভরা কাশির সঙ্গে লাল লাল রেখা-আঁকা, তুষার, আগুন, বিস্তর মদ্যপান, শাপ, ভয়-তরাস আর শক্তি-সাহসের চিৎকারের কারণে কর্কশ হয়ে ওঠা-গলা, এখন তিনি খিস্তি না করে দুটি শব্দও উচ্চারণ করতে পারেন না, শৈশবে যখন তিনি কোনো সম্ভ্রান্ত জার্মান বা আর্চবিশপের ভৃত্য হিসেবে কাজ করতেন সেই সময়কার ফুলেল ভাষা তাঁর আর মনে নেই এখন, চমৎকার যে-আচার-ব্যবহার আর মাধুর্যভরা কুর্নিশ করে তিনি তখন রমণীকুলকে বিমোহিত করতেন সেসব আজ আর তার মনে নেই, কারণ রমণীদের কাছে এখন আর প্রেম-কামনা করেন না তিনি, বরং তাদের ডেকে মদ্য, খাদ্য, আর শয্যার ফরমায়েশ দেন, আর যখন তাঁর সৈনিকরা মেয়েদের ধর্ষণ করে তখন তিনি মদ্যপান করেন একাকী, বিরলে, যতক্ষণ পর্যন্ত না ফিরে আসে তারা হাই তুলতে তুলতে, আর তখন তিনি টেবিল চাপড়ে শাপ-শাপান্ত করে ওঠেন, শাপ দেন তিনি সেইসব ক্ষুদে, পাণ্ডুবর্ণ, ছিন্নভিন্ন পোশাক-পরা রাজাকে, যারা পিঠটান দিচ্ছে হাঁপাতে থাকা ঘোড়ার পিঠে চড়ে, সেইসব রাজাকে, যারা যুদ্ধ শেষ হলেই ফিরে আসবে বিজয়ীর বেশে, স্বর্ণখচিত পোশাক পরে, সোনালি চাঁদোয়ার নিচে, নিশান আর পতাকার সমারোহের ভেতর, অভিশাপ দেন তিনি নকুল-চর্মের পোশাক-পরিহিত পোপদের, যাঁরা তাঁদের কালক্ষেপণকারী কেদারায় বসে মিত্রপক্ষ আর জোটশক্তির লোহিতবর্ণ সীলমোহরের ওপর পানিপড়া ছেটান, শাপ-শাপান্ত করেন তিনি সম্রাটকে, যাঁকে তিনি দেখেছিলেন একবার যুদ্ধের কুমারীর আবির্ভাবের সময় লিঙ্গের মতো করে দাঁড় করানো যতো বল্লমের ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে, তারপর নাইট লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ান, ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন তাঁর চেয়ারটি, ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন তিনি তাঁর টেবিল, গেলাশ আর মদের জগটিকে, বেধে যায় এক বিষম ঝগড়া, সরাই বা সেটি যাই হোক মিশে যায় ধুলোর সঙ্গে, বেদম পিটুনি খায় সরাইখানার লোকটি, নাইটের নেতৃত্বে সেনাদলটি আবারো টগবগিয়ে ছুটে চলে, এবার সেটি চাঁদের আলোয় পথ চলতে থাকে এক বনের ভেতর দিয়ে, কিন্তু নাইট আর খিস্তি-খেউড় করেন না এবার, কোনো শব্দও করেন না, চলতেই থাকেন ঘোড়ার পিঠে চড়ে, নীরবে, চোখ জোড়া তার তাকিয়ে আছে রাত্রির গভীরে, একে একে সব সৈন্যই চুপ করে যায়, জিনের ওপরই ঘুমিয়ে পড়ে তারা, যার যার ব্রেস্টপ্লেটের ওপর ঝুঁকে পড়া মাথাটি নিয়ে প্রত্যেকেই স্বপ্ন দেখতে থাকে একা একা, কেউ হয়তো শুনছে কোনো দূরের বাদ্য, মিলানের কোনো ডিউক অধিকৃত রাজ্য বা কাতালোনিয়ার কোনো গাঁয়ে তাঁর শৈশবের সংগীত, অন্য আরেকজন হয়তো শুনতে পাচ্ছে তাকে ডাকতে থাকা কিছু কণ্ঠ, তার মায়ের কণ্ঠ, তার স্ত্রী বা দয়িতার কণ্ঠ, ওদিকে আরেকজন চেঁচিয়ে ওঠে, জেগে ওঠে চমকে, কিন্তু নাইট থামেন না, কে কাঁদল তা দেখার জন্যে ফিরেও তাকান না তিনি, যেন কান্নাটি বনের কোনো পাখির কান্না, অন্ধকারের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে চলতে থাকেন তিনি ঘোড়ায় চড়ে, চাঁদ পালিশ করে চলে তাঁর বর্ম, আর তার পেছনের সৈনিকটি, যে তাঁর সবচেয়ে কাছে, বয়ে চলেছে যে শতছিন্ন বারুদের গন্ধমাখা একটি পতাকা, যে-পতাকাটি এখন তাঁর ঘোড়ার পশ্চাদ্দেশের ওপর ঝুলে আছে এক ময়লা ন্যাকড়ার মতো, সেই সৈনিক, একেবারে চারণকবির মতো সোনালি চুলের এক যুবক, হঠাৎ তার মাথায় এক অদ্ভুত চিন্তা এসে ভর করে, সে ভাবে নাইটের বর্মটি হয়তো খালি খালিই সফর করছে, হয়তো নাইট মশায় গায়েব হয়ে গেছেন আর কেবল বর্মটিই রয়ে গেছে একটি ফাঁপা লোহার পুতুলের মতন, অথবা বর্মটি নাইটকে কব্জা করে ফেলেছে, শুষে নিয়েছে তাঁকে একটি স্পঞ্জের মতন, শুষে নিয়েছে তাঁর রক্ত, গুঁড়োগুঁড়ো করে ফেলেছে তাঁর হাড়গোড়, ফলে এখন একটি রক্ত-মাংসবিহীন খোলস চলেছে ঘোড়ায় চেপে, একা সে কল্পনা করল কারণ নাইটকে সে কখনোই তাঁর বর্ম আর বল্লম ছাড়া দেখেনি, তাঁর জঙ্ঘাস্ত্রাণ আর তাঁর ধাতুর দস্তানা ছাড়া দেখেনি, যা সবসময়েই তাক করে থাকে যুদ্ধের উত্তরদিক বরাবর, তাঁর গর্জনভরা শিরস্ত্রাণ ছাড়া দেখেনি, যে-শিরস্ত্রাণের নিচে রয়েছে চুলের এক জটাজাল, তবে যে-চুল রয়েছে এক মুখাবয়বহীন শ্মশ্রুর অধিকারে, যে-চুল সম্ভবত এক শিরস্ত্রাণের পুর, হয়তো গোটা বর্মটিই চুলের পুর দেওয়া, আর এই চিন্তাটি আসতেই সোনালি চুলো সৈনিকটি হেসে ফেলল, কারণ তার কাছে মনে হলো নাইট হয়তো অনেক আগেই শুকিয়ে গেছেন তাঁর বর্মের ভেতর, অনেক আগেই খালি হয়ে গেছে বর্মটি আর তারা, সৈনিকরা, কখনোই জানতে পারেনি সত্য কথাটি, আর তারা, সৈনিকরা এই খালিবর্মটির পেছন পেছনই কুচকাওয়াজ করে গেছে যুদ্ধের পর যুদ্ধে, যমের ভ্রƒকুটিকে থোড়াই পরোয়া করে, এই ভরসায় যে, নাইটই বাঁচাবে তাদেরকে যমের হাত থেকে, আর সোনালি চুলো নিশানবরদার যখন হেসে উঠল তখন নিশি-পাওয়া মানুষের মতো বা মাতালের মতো নিজেকে নিজের রেকাবির প্রান্তের ওপর তুলে ধরেন নাইট, একটি খিস্তি করে ওঠেন, যেন নিশানবরদারের হাসির কারণটি অনুমান করতে পেরে তাকে দেখাতে চাইছেন যে, বর্মটির গহীন ভেতরে এখনো বেঁচে আছেন তিনি, কিংবা স্বপ্ন দেখবার জন্যে তাকে ধমকে দিতে, আর তখন সোনালি চুলের সৈনিকটি ভয়ে কুঁকড়ে যায়, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে উপলব্ধি করে যে নাইটের এমনকী ঘুমও ভাঙেনি, উপলব্ধি করে যে তিনি ওর হাসির জন্যে ধমকাচ্ছেন না, বরং ধমকাচ্ছেন বনের গাছগুলোকে, যেগুলোকে এই একটু আগ পর্যন্তও জোছনার নিচে শীতের তুষারের নিচে জমাটবাঁধা বলে মনে হয়েছে, সেগুলো হঠাৎ ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে, যার অর্থ – যদিও এই প্রতিচ্ছবিটি পুরানো এবং আপনারা সবাই-ই ব্যাপারটি বুঝেছেন – গাছগুলো সেইসব ফুলে ভরে উঠেছে যুদ্ধের উত্তাপ যা নিয়ে আসে চার ঋতুতেই, মন্দ-ভালো যে-কোনো আবহাওয়াতেই, উর্বর বা বন্ধ্যা যে-কোনো জমিতেই, অর্থটি এও যে-গাছগুলো সেই ফলে পরিপূর্ণ যেসব ফল বারোমাস পাওয়া যায়, সবসময়েই পাকা থাকে পাড়া বা খাওয়ার জন্যে, মানে বলতে চাইছি শত্রু, বলতে চাইছি সেই অদমনীয় শত্রুর কথা যে-অপেক্ষা করে থাকে ধৈর্য ধরে, একগুঁয়ের মতো, ছায়ার আড়ালে লুকিয়ে, কুয়াশা আর ধোঁয়ায় আবছা হয়ে, আর তারপরেই বেঘোরভাবে ঘুমিয়ে থাকা ঘোড়াগুলো ঘুরে দাঁড়ায় পলকে – কিন্তু এর সবই ঘটে গেছে এরইমধ্যে, সবই শেষ হয়ে গেছে, আর নাইট ফিরে এসেছেন তাঁর দুর্গে, তাঁর পিছু পিছু ফেরা ধাতুতে ধাতুতে ঘোড়ায় ঘোড়ায়, আর মানুষে মানুষে সংঘর্ষ ছাড়াই, যেসব সংঘর্ষ যুদ্ধের কোনো-এক প্রদেশে পিছু নিয়েছিল তাঁর, পিছনে ফেলে এসেছেন তিনি সব চ্যাঁচামেচি, নিজেকে চিরতরে মুক্ত করে নিয়েছেন তিনি সিক্ত সব শিবির, লুটতরাজ, অ্যামবুশ থেকে, ক্ষুধা, আতংক, নিদ্রাহীনতা থেকে, যুদ্ধের আর কিছুই অবশিষ্ট রাখেননি তিনি তাঁর ঘোড়া, পুরো বর্ম, আর বল্লমটি ছাড়া, যে-বল্লমের এক মাথায় শেয়ালের চামড়া লাগানো রয়েছে, যাতে ফোঁটায় ফোঁটায় রক্ত পড়ে তাঁর হাত ভিজে যেতে না পারে, রেখে দিয়েছেন তিনি স্বেদ আর নোংরা-কাদার গন্ধ, ইঁঁদুর, ফুসকুড়ি, নিদারুণ শ্রান্তি, দুর্বলতা, বৃদ্ধ বয়স আর যতো স্মৃতি, যুদ্ধের উচ্চকিত স্পষ্ট ছাপ থেকে উৎসারিত স্মৃতি, সেই নিহত যুবকের মতো, যার মুখটি চেয়ে আছে আকাশের দিকে, আর দুই পা-ই হাঁটু পর্যন্ত ডুবে আছে এক নির্লিপ্ত নদীর ভেতর, রাইন, ত্যাজো, আরনো, আর দেহটির পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে জল, তুলে ধরছে পা-জোড়া, নরম করে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলে একেবারে পাকখোলা সুতোতে পরিণত করে নিয়ে চলে যাচ্ছে ভাটির দিকে, গোড়াতে লাল-বেগুনি, তারপরে গোলাপি, শেষে ধূসর আর গেরুয়া, কিংবা এক অন্ধকার আর খোলা চত্বরে সেই দশটি ফাঁসিকাঠের মতন যার প্রত্যেকটি থেকে ঝুলছে একটি লাশ, দশটি ঝুলন্ত দেহ, প্রত্যেকটিরই জিভ বেরিয়ে আছে, আর বাতাস সুর সৃষ্টি করেছে লাশগুলোর সঙ্গে, ওদিকে গির্জার চূড়োয় ঘণ্টাটি বাজালো সময়ের সেই একই ঘণ্টা, কিংবা সেই বৃদ্ধ মানুষটির মতো যিনি উবু হয়ে বসেছেন পেট খালি করবার জন্যে তুষারে ঢেকে থাকা শক্ত মাটির ওপর আর হঠাৎ করে উপুড় হয়ে পড়ে যান রক্তের ফুল আর পুরীষের ওপর, আমাশার প্রাচীন ফুল, কিংবা সেই উঁচু বুরুজের মতন, চৌকো আর ইটের তৈরি, একসারি সাইপ্রেস গাছের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা, কোনো-এক দুর্গ থেকে বমির মতন ছিটকে আসা জ্বলন্ত আলকাতরার ফোয়ারা, পড়ছে গিয়ে বুকে লাল ক্রস আঁকা সাদা টিউনিকের পোশাক পরা নাইটদের গায়ে, সেই সমস্ত নাইটের গায়ে, যারা সবাই খুবই সূক্ষ্ম রুচিসম্পন্ন আর সুন্দর, মাত্র খানিক আগেই মাস্-এ অংশ নিয়েছেন তাঁরা, যে-মাস্ পরিচালনা করেছেন দামি পাথরশোভিত এক আর্চবিশপ, আর সিদ্ধ হতে থাকা আলকাতরার তৈরি একটি কালো গর্ত, সেটি থেকে এমন করে ধোঁয়া বেরুচ্ছে আর চট্ চট্ আওয়াজ উঠছে যেন সেটি আগুনের ওপরে রাখা কোনো পাত্র, যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি, আমাদের নাইট, মিষ্টি একটি গন্ধ টের পেলেন, ভাজা ভাজা হতে থাকা পোড়া কাপড়ের গন্ধ, আর অনুভব করলেন একটি খোঁচা, আর দেখলেন তার হাতে ছোট্ট এক টুকরো মাংস এসে পড়েছে, সেইসব নাইটের একজনের কাছ থেকে আসা ছোট্ট এক টুকরো মাংস যিনি এই খানিকক্ষণ আগে মাস্ শুনেছেন আর সেটির সুপারিশ করেছেন ঈশ্বরের কাছে, কারণ তাঁর কাছে সেটিই ছিল যুদ্ধ, যদিও সম্ভবত ক্ষুদে রাজাদের কাছে এটি ছিল অন্যকিছু, অন্যকিছু ছিল সম্ভবত পোপ আর সম্রাটদের কাছেও, সম্ভবত ছিল দূর থেকে খেলা এক দান দাবা, প্রত্যেকেই একটি শহরে, একটা দুর্গে একটি প্রাসাদে বন্দি, যতক্ষণ পর্যন্ত না খেলাটি শেষ হয় আর তারপর তারা বেরিয়ে এসে করমর্দন করে সুবোধ খেলোয়াড়ের মতন, তারপর ফসলবোনা জমির যার যার ভাগটি বুঝে নেয়, কিন্তু নাইট এখন পোপ আর সম্রাটদের দাবা-বোর্ড থেকে লাফ দিয়ে উঠে পড়েছেন, এখন তিনি তাঁর দুর্গে ফিরছেন, তাঁর স্ত্রীর কাছে ফিরছেন যাকে তিনি রেখে গিয়েছিলেন তরুণী অবস্থায়, এবং যাকে তিনি আশা করছেন সে-রকম তরুণী অবস্থাতেই, যেমনটি তিনি রেখে গিয়েছিলেন, ফিরছেন চর্ব-চোষ্য-লেহ্য-পেয় পরিবেশিত টেবিল আর উষ্ণ পরিপাটি শয্যার কাছে, সেই বাজপাখির কাছে যেটি শিকারের সকালে বসতো এসে তাঁর      দস্তানা-পরা হাতের ওপর, সেই বীণাটির কাছে যেটিবাজাচ্ছিলেন তিনি একবার প্রভেন্স বা সিসিলির এক রাজদরবারে পিসতোইয়ার সিনো রচিত রাউন্ডলে গান গাইতে গাইতে, তাঁর দুর্গের কাছে যেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত তাঁর বর্মটি ছুড়ে ফেলে দেবেন শুকনো পাঁচড়ার মতো, যেখানে তিনি তাঁর শিরস্ত্রাণটি ছুড়ে ফেলে দেবেন একটি বিজাতীয় মাথা হিসেবে যেটি খিস্তি-খেউড় করা ছাড়া আর কিছু জানে না, আর খুঁজবেন তিনি শত্রুসৈন্যের নিশানা, ফিরছেন তিনি তাঁর সেই দুর্গে, ক্ষুদে রাজারা, যাদেরকে তিনি পরাজয়ের অসম্মান থেকে বাঁচিয়েছেন – তারা তাঁকে ঢেকে দেবে শ্রদ্ধা-ভক্তি দিয়ে, যেখানে দাবার ঘুঁটি চাল দেওয়া পোপ আর সম্রাটরা তাঁকে বানিয়ে দেবে ডিউক বা কাউন্ট প্যালাটাইন১, আর তারপর, রাস্তার একটি মোড় ঘুরতে তিনি দেখতে পান এক অস্পর্শিত পাহাড়ে তাঁর অস্পর্শিত দুর্গ, মাঠের চারদিকে দেখতে পান তিনি মাঠ আর মাটির ওপর নুয়ে পড়া কৃষক, দেখেন একটি কুকুর, একটি গৃহপালিত কুকুর, রাস্তার একটি বেওয়ারিশ কুকুর, পাথরের ভেতর দিয়ে দৌড়ে যাওয়া একটি কুকুর, অন্যসব কুকুরের নিশানা শুঁকে দেখতে এখানে সেখানে থামছে, সামনে এসে পড়ছে দুর্গ, কৃষক আর কুকুরের শান্ত মনোরম ছবির, নাইট ভাবেন তিনি যেমন যুদ্ধের আসল চাবিটি ধরতে পারছেন না, যেটিকে শক্ত করে ধরে আছে পোপ ও সম্রাটরা আর প্রচণ্ডভাবে কামনা করছে ক্ষুদে রাজারা ঠিক তেমনি হলরেখার ওপর ঝুঁকে পড়া কৃষকরাও বঞ্চিত রয়েছে যুদ্ধ নামের ভয়ংকর কাজটির অন্ধিসন্ধি সম্পর্কিত জ্ঞানগম্যি থেকে, যা কিনা অনেকদিন ধরেই তাঁর অধিগত, কারণ এসব কৃষকের কাছে যুদ্ধ হয়ে থাকবে একটি আবছা গুজব, দূরের আগুনের দীপ্তি, রাস্তা ধরে সৈন্যদের কুচকাওয়াজ করে চলে যাওয়া, আর কুকুরটির কথা বলতে গেলে বলতে হয়, নাইট ভাবেন, ওটা এমনকী জানেও না যে যুদ্ধ বলে একটা কিছু আছে, এমনকী এও না যে, লুণ্ঠন আর হত্যা বলে কিছু রয়েছে, রয়েছে পোপ আর সম্রাটের আশীষধন্য চুক্তি, এমন এক সম্রাট যিনি বল্লমগুলোকে দাঁড় করিয়েছেন লিঙ্গের মতো করে, অন্যসব কুকুরের সঙ্গে সেটি চালিয়ে যেত তার আহার, নিদ্রা, রমণ, এ-ব্যাপারটি উপেক্ষা করে যে বহু দূরে, নাইট যেখানে যুদ্ধ করছিলেন, সীমানাগুলো মুছে ফেলা হচ্ছিল যাতে আবার নির্ধারণ করা যেতে পারে সেগুলো অন্য ধাঁচে, সত্যি বলতে কী, কুকুরটি কখনোই জানবে না যে, কোনো খ্রিস্টের কোনো প্রতিনিধিকে রাস্তা ধরে রক্তাক্ত অবস্থায় টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বা কোনো সম্রাট কখনো না-খোলা একটি দরজার বাইরে অহোরাত্র হাঁটু গেঁড়ে বসে আছেন নগ্ন দশায়, সেটি কখনোই জানবে না যে খ্রিস্টজগতের ফুলটিকে আলকাতরা আর তেলের মধ্যে তাজা অবস্থায় ভাজা হয়েছে, জানবে না ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো মানুষগুলোর একটি ঐকতান অন্ধকার আর শূন্য একটি চত্বরের সময় ঘোষণা করেছে, কারণ কুকুরটির কাছে যুদ্ধের বজ্রনির্ঘোষ ঝড়ের বজ্রনির্ঘোষের মতোই একই রকম ভয়ংকর শব্দ করে বলে মনে হয়, আর কুকুরটি যদি যুদ্ধের কুমারীকে দেখত তাহলে সে তার উদ্দেশে তেমন করেই ঘেউ ঘেউ করে উঠত যেমনটি সে করে কোনো আগন্তুককে দেখতে পেলে, কিংবা হয়তো লেজ নাড়ত যদি সেই কুমারীকে তার বন্ধুবৎসল বলে বোধ হতো বা সে যদি তাকে কিছু খাবার দিত, আর তাই এখন নাইট নাইট হওয়ার জন্যে, যুদ্ধের দাবা-বোর্ডের একটি ঘুঁটি হওয়ার জন্যে, ইতিহাসের অংশ হওয়ার জন্যে – যদিও ইতিহাসে তাঁর নাম লেখা থাকবে না – গর্ব অনুভব করেন, যদিও ইতিহাসের বর্ষ-বিবরণীতে লেখা থাকবে কেবল পোপ আর সম্রাটদেরই নাম, আর ছোট করে থাকবে ছোট ছোট রাজাদের নাম, আর নাইট করুণা বোধ করেন সেইসব কৃষকের জন্যে যারা এমনকী ইতিহাসের অন্তর্গতও নয়, যারা কখনোই জানবে না পোপ আর সম্রাট বলে কেউ রয়েছে, যারা কখনোই জানবে না নাইট বলে কেউ রয়েছে, এক ধরনের সম্ভ্রম বোধ করেন তিনি কুকুরটিকে দেখে যে কিনা তাকে স্বাগত জানাতে এসেছে যেমন করে সেটি স্বাগত জানাতে আসত এক কৃষক বা এক সম্রাটকে, দুজনের মধ্যে কোনো ফারাক না করে, যেটি তাঁকে স্বাগত জানাবে তাঁর বর্মকে বেড় দিয়ে রেখেছে যেসব বীরোচিত কাজ আর আকস্মিক দুর্বিপাক সে-সম্পর্কে কোনো সন্দেহ না করেই, আর তাই এই চিন্তার সূত্র ধরেই তিনি কুকুরটিকে নিয়ে যা কিছু ভাবছিলেন তারই জের ধরে নাইট ভাবেন যে, সম্ভবত পোপ আর সম্রাটরা তার এই চিন্তা-ভাবনার শেষ যোগসূত্র নয়, কারণ চাষিরা যা কিছু জানে তার সবকিছুই যেভাবে কুকুরটি উপেক্ষা করে যায়, ক্ষুদে রাজারা যা কিছু জানে তার সবকিছুই যেভাবে নাইট উপেক্ষা করে যায়, আর পোপ ও সম্রাটরা যা কিছু জানে তা যেভাবে উপেক্ষা করে ক্ষুদে রাজারা, ঠিক তেমনি পোপ আর সম্রাটরা উপেক্ষা করে যায় যা সামগ্রিকভাবে আর সত্যের পূর্ণতায় ঈশ্বরই কেবল জানেন, আর এই যুদ্ধের ব্যাপারে – একথা বিশ্বাস করে যে, পোপ ও সম্রাটেরা যা যা দেখে ঈশ্বর তার চেয়ে ভিন্ন কিছু দেখে, নাইটের মন আশায় ভরে ওঠে, সেই আশা যে ঈশ্বরের মনে ইতিহাস নাইটের নামও অন্তর্ভুক্ত করে দেবে, এই আশায় যে পোপ আর সম্রাট – রণক্রীড়ার দুই কুশলী – যদি তাঁর সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ এক নাইট বা বা ডিউক বা কাউন্ট বানিয়ে দেন তাহলে ঈশ্ব^র – পোপ আর সম্রাট-খেলার কুশলী – তাঁকে এসব হত্যা, ধর্ষণ আর লুঠতরাজের দায় থেকে খারিজ করে দেবেন, আর এই আশা তাঁর মুখে একটি মুচকি হাসি যুগিয়ে দেয়, তাঁকে আশ্বস্ত করে আর যুদ্ধের অতীত কুকর্মগুলোর ন্যায্যতা প্রতিপন্ন করে, আর তখনই – ঠিক যেভাবে আশা নাইটকে আশ্বস্ত করেছে, তার মুখে হাসি যোগাচ্ছে – তার দিকে তেড়ে আসা কুকুরটি দাঁড়িয়ে পড়ে হঠাৎ চলতে চলতে, যেন সামনে তার দেয়াল এসে পড়েছে একটি, থাবা দিয়ে গর্ত খোঁড়ে সে, সেটির ঘাড়ের লোম দাঁড়িয়ে পড়ে, চোয়াল দুটি ফাঁক হয়ে যায় ঘেউ ঘেউ করে ওঠার জন্যে, বেরিয়ে আসে শ্বদন্তগুলো, আর আর্তনাদ করে ওঠে সে করুণ স্বরে, কিন্তু নাইট কুকুরটির এই আচরণকে গুরুত্বহীন একটি ঘটনা বলে মনে করেন, তিনি মনে করলেন কুকুরটি তাঁকে চেনে না বলেই এমন করছে আর ঘোড়াটিকে বা বর্মটিকে বা এক প্রান্ত থেকে শেয়ালের লেজ ঝুলে থাকা বল্লমটিকে ভয় পাচ্ছে, এক চাষার কুকুর যে-লৌহবর্মশোভিত এক নাইটকে দেখে বা মুখে লাগাম আর বল্গা পরানো ঘোড়াকে দেখে ভয় পাবে তাতে আর আশ্চর্যের কী আছে, কাজেই কুকুরটির আচরণকে আর আমল দেন না নাইট, বরং তাঁর দুর্গটি যে-পাহাড়ের চুড়োয় দাঁড়িয়ে রয়েছে সেদিক বরাবর চলে যাওয়া রাস্তা ধরে এগিয়ে চলেন, তাঁর ঘোড়ার খুরের নিচে চাপা পড়ার উপক্রম হয় কুকুরটির, কিন্তু শেষ মুহূর্তে লাফ মেরে এক পাশে সরে যায় সেটি, করেই যেতে থাকে আর্তনাদ, করেই যেতে থাকে শ্বদন্ত ফাঁক করে কুঁই ক্ুঁই আওয়াজ, ওদিকে নাইটের ফের মনে পড়ে যায় তার বৌয়ের কথা, তাঁর বাজপাখি আর তাঁর প্রণয়-বীণার কথা, ভুলে গেছেন তিনি তাঁর কুকুরটির কথা, আর কুকুরটিও তাঁকে পেছনে ফেলে গেছে যুদ্ধের মতোই, আর নাইট যা কখনোই জানতে পারবেন না তা হলো নাইটের বর্মে কুকুরটি পেয়েছে মৃত্যু আর নরকের দুর্গন্ধ, কারণ নাইট যা জানেন না কুকুরটি তা এরই মধ্যে জেনে গেছে, সেটি জেনে গেছে যে, নাইটের কুঁচকিতে একটি ফুসকুড়ি প্লেগের পুঁজ চোলাই হতে শুরু করেছে এবং মৃত্যু আর শয়তান পাহাড়ের গোড়ায় অপেক্ষা করে আছে তাঁদের সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাবার জন্যে, কারণ আমি এখন যা লিখছি নাইট যদি তা পড়তে পারতেন তাহলে তিনি হয়তো সমরূপী এক চিন্তাসূত্র উলটোভাবে করতে পারতেন, ভাবতে পারতেন, তিনি ভাবতেন তিনি যখন ঘোড়ার পিঠে চড়ে এগিয়ে চলেছেন কুকুরটি তখন যেমন সেখানে দাঁড়িয়ে পড়েছে, সে-রকম নাইটরাও হয়তো দাঁড়িয়ে পড়বে সেখানে যেখানে পোপ আর সম্রাটরা এগিয়ে চলবে এবং সম্ভবত সেজন্যে পোপ আর সম্রাটরা তাঁর বীরোচিত কাজকর্ম উপেক্ষা করবে এবং তাঁকে ডিউক বা কাউন্ট বানাবে না, তিনি ভাবতেন যে, পোপ আর সম্রাটদের কাছে নাইটদের যুদ্ধ হচ্ছে মৃত্যু আর শয়তানের দুর্গন্ধের মতো যা কেবল কুকুরই পায় আর তারপরও এই যুক্তির বৃত্তের ভেতরও নাইট ভাবতেন যে, সম্ভবত পোপ আর সম্রাটরা যেখানে থেমে যান ঈশ্বর তখন এগিয়ে চলেন, সম্ভবত ভাবতেন যে, হয়তো তারা এমন এক দান দাবা খেলে যা ঈশ্বর আমলে নেন না, মানে বলতে চাইছি যে, খেলা ঈশ্বর দেখেন না, হয়তো ঈশ্বর এমনকী দাবার বোর্ডটিও দেখেন না, আর ঘুঁটিগুলোর বিসর্জন ঈশ্বরের কাছে কোনো অর্থই বহন করে না এবং নাইটের পাপ যেমন মোচন হবে না এবং তাঁকে স্বর্গে ঢোকানো হবে না, আমি বলতে চাইছি নাইট যদি এই ব্যাপারে ভেবে দেখেন তাহলে তিনি ভাবতেন যে সম্ভবত যে-সমস্ত বাস্তবতা মানুষকে ফাঁদে ফেলে ঈশ্বরের কাছে সেগুলো একটি জাল তৈরি করে, যে-জাল ঈশ্বরকে ফাঁদে ফেলতে পারে না, ঠিক যেভাবে কুকুর যে-জালে জড়িয়ে গেছে নাইটও সেটি ভেদ করে বেরিয়ে এসেছেন সেটি না দেখেই, যদিও জালটি নাইটের জন্যেই বোনা হয়েছিল, ককুরটির জন্যে নয়, যদিও প্রার্থনা, আশা আর মানুষের যন্ত্রণা ঈশ্বরের জন্যেই বোনা হয়েছিল, কিন্তু আমি যা লিখছি নাইট তা কখনোই পড়বেন না, বরং তিনি পৌঁছে যান পাহাড়ের পাদদেশে, একথা ভেবে খুশি যে, তাঁর সাহসিকতা একটি জাল বুনছে, যে-জাল পোপ-মক্ষিকা, সম্রাট-মক্ষিকাকে ফাঁদে ফেলবে, একথা আশা করে খুশি যে পোপ আর সম্রাটরা আরেকটি জাল বুনছেন যে-জাল ফাঁদে ফেলবে ঈশ্বর-মক্ষিকাকে, ওদিকে নিচে, রাস্তার ওপর, যে-কুকুরটি যুদ্ধের বজ্রনির্ঘোষের সঙ্গে ঝড়ের বজ্রনির্ঘোষ গুলিয়ে ফেলে, সে-কুকুরটি আরো      একটি ব্যাপক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে যেখানে নাইট মৃত্যুর ঘেউ ঘেউকে গুলিয়ে ফেলেন কুকুরের ঘেউ ঘেউয়ের সঙ্গে।

[১৯৬৬ সালে লেখক আলবার্তো ম্যাঙ্গুয়েল বুয়েন্স আইরিসের একটি ছোট্ট প্রকাশনা-সংস্থা গ্যালেনায় চাকরি করতেন, প্রায়-পূর্ণ পেশাগত স্বাধীনতা নিয়ে। কর্মোদ্যমে ভরপুর ম্যাঙ্গুয়েল একটি ছোট্ট, যদিও শেষ পর্যন্ত অসফল একটি প্রকল্পে হাত দেন, যার নাম তিনি দিয়েছিলেন, ‘একই বিষয়বস্তুর নানান রূপ’। ব্যাপারটি ছিল, একই বইয়ের জন্যে একটি বিষয়বস্তু নির্বাচন করা (বিষয়টি যে-কোনো কিছু হতে পারে – খবরের কাগজের কোনো ক্লিপিং, কোনো পেইন্টিং ইত্যাদি), এবং সেটি ডজনখানেক লেখকের সামনে উপস্থিত করে তাঁদেরকে সেই বিষয়ের ওপর তাঁর নিজস্ব একটি ‘ভিন্নতা’ তৈরি করতে বলা। একটি ভলিউমের জন্যে তিনি নির্বাচন করেছিলেন ডুরারের নাইট, মৃত্যু, আর শয়তান নামক এনগ্রেভিংটি। আর, যেসব লেখককে তিনি ওই বিষয়বস্তুর ওপর লিখতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তাঁদের একজন ছিলেন মার্কো দেনেভি।

দুটি গ্রন্থ রচনা করে আর্হেন্তিনায় প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন দেনেভি : অসাধারণ একটি গোয়েন্দা উপন্যাস, যা নিুমানের একটি ইংরেজি অনুবাদে প্রকাশিত হয়েছিল রোজ অ্যাট টেন ও’ক্লক নামে, এবং সিক্রেট সেরেমনি নামের একটি উপন্যাসিকা,        ১৯৬০ সালে যেটি লাইফ পত্রিকার সেরা লাতিন আমেরিকান ছোটগল্প-পুরস্কার লাভ করে। জোসেফ লোসি নামের এক চিত্রপরিচালক একই নামের     একটি ভয়ংকর ছবি তৈরি করেন সেই কাহিনী অবলম্বন করে।

গল্পটি স্প্যানিশ থেকে আলবার্তো ম্যাঙ্গুয়েলকৃত ইংরেজি অনুবাদকৃত। ]   

পাদটীকা১. শাসনকাজ পরিচালনার ব্যাপারে পুরোপুরি স্বাধীন ভূস্বামী বা সামন্ত রাজা। (অনুবাদক)