রেক্যুয়েম

আজ রাতে মৃতদের কথা ভেসে আসে

দূর থেকে তাদের অস্ফুট আওয়াজ গড়িয়ে পড়ছে জীবনভূমিতে

মেঘের ফাঁক থেকে কারা যেন ফিসফাস করে গাইছে রেক্যুয়েম

পাপড়ির ভাঁজ থেকে উথলিত গন্ধ আজ

ইশারা ছাড়াই ফুল্ল অবসানের কথা বলে।

একটি কুকুরজীবন নিয়ে গড়িয়ে চলেছি কুকুরদিনের দিকে

কত চৈত্রকাল পেরিয়ে, কত ফুলফোটা বসন্তের বিজনতা

আলিঙ্গন করে, এসেছি ঋতু কালের প্রান্তরে!

আহা, হাওয়ামুখরিত দাহকাল, আহা সান্ধ্যমুখর ইমন

কোন সুরে আজ অবগাহন হবে অস্তিত্বের বন্দনাগান?

তবে কেন আজ দগ্ধবেলায় তুমি ইঙ্গিত হানলে একটি

পরজ বসন্তের, কেন এক আশ্রিতের ছায়া বারেবারে এসে বলে –

জেগে উঠল কি হৃদয়বাসনা?

এইসব অশ্রুভাঙা দৃষ্টি এখন পেরিয়ে যায় দৃষ্টের সীমানা

পৃথিবীর কিছু রূপ ডুবে আছে জলে ও ডাঙায়

আমরা দৃষ্টির জন্য প্রান্তরের অনন্ত সীমায় এসে যাই,

দূর আকাশের সাইফার সংকেত

আমরা ইতস্তত করে অবশেষে যাত্রা করি তাদের উদ্দেশে

যারা একদিন হাঁটতে হাঁটতেই হারিয়ে গিয়েছিল দিগন্তরেখায়

আমরাও নবদিগন্তে এসে দাঁড়াই

মৃতরা প্রদীপ হাতে জড়ো হয়েছে

আমরা একটি ফুৎকারে আলো নিভিয়ে অন্ধকার হয়ে যাই

আর তখনি মৃতরা গেয়ে ওঠে রেক্যুয়েম

আমরা তার ভেতরে সুর হয়ে রয়ে যাই, অনন্তের ছলে!