সিরাজগঞ্জ ও নজরুল : যোগসূত্র-পরম্পরা

সিরাজগঞ্জের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের যোগসূত্র স্থাপিত হয় ১৯২২ সালে; এবং সেটা হয় এ-মাটির যশস্বী সন্তান, জাতীয় জাগরণের অন্যতম অগ্রণী ব্যক্তি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী কর্তৃক নজরুলকে উপহার ও আশীর্বাণী পাঠানোর মাধ্যমে। তারপর অতিক্রান্ত হয়েছে একশ চার বছর। ১৯৩২ সালে ‘বঙ্গীয় মুসলিম

তরুণ-সম্মেলন’  উপলক্ষে নজরুল সশরীরে সিরাজগঞ্জে আসেন এবং গান, কবিতা, অভিভাষণে এখানকার

আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাকে উজ্জীবিত করেন। কবির সুস্থতাকাল, অসুস্থ অবস্থা তথা মৃত্যুর পূর্ব-পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের কীর্তিমানদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের যোগসূত্র রক্ষিত হয়েছে। সময়ের প্রবহমানতায় বদলে গেছে অনেক কিছু; দেশ-কাল-সমাজ-রাজনীতি – এমনকি দেশের মানচিত্র পর্যন্ত; কিন্তু সিরাজগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে নজরুলের স্মৃতি হয়ে আছে অমøান। এ প্রসঙ্গে আলোকপাত করতে গেলে সিরাজগঞ্জ জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক গৌরব সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নেওয়া আবশ্যক; যেন প্রদীপ জ¦ালানোর পূর্বে সলতে পাকিয়ে নেওয়া!  

যমুনা-করতোয়ার পলিমাটিতে গড়া সিরাজগঞ্জ জেলা ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ভূস্বামী সিরাজ আলী চৌধুরীর নামানুসারে স্থানটির নামকরণ করা হয়েছে সিরাজগঞ্জ।১ হিন্দু-বৌদ্ধ যুগ, পাল-সেন আমল এবং মুসলিম ও ইংরেজ রাজত্বের বহু কীর্তি ধারণ করে আছে এ জেলা।২ কৈবর্ত বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ, কৃষক বিদ্রোহ, সলঙ্গা বিদ্রোহ, ফকির বিদ্রোহ, স্বদেশি আন্দোলন, ভাষা-আন্দোলন, স্বাধিকার-সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধে সিরাজগঞ্জের মানুষ যে ত্যাগ-তিতিক্ষা ও বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে, তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।৩ জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডে যেমন সারা ভারতবর্ষে আলোড়ন সৃষ্টি হয়, তেমনি সিরাজগঞ্জের ‘সলঙ্গা বিদ্রোহ’ ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেয়।৪ মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা সিরাজগঞ্জ শহরকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েই এখানকার অমিতবিক্রমী মুক্তিযোদ্ধারা লড়াই করে ছিনিয়ে আনেন স্বাধীনতার লাল-সবুজ পতাকা।

বহু কীর্তিমান ব্যক্তির জীবন ও কর্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এ-জেলার নাম। হজরত শাহ মখদুম (র.)-এর পুণ্যস্মৃতি বুকে ধারণ করে আছে এ-অঞ্চল। এখানে জন্মগ্রহণ করেছেন নীল বিদ্রোহের নায়ক বৈকুণ্ঠনাথ সান্যাল, কৃষক বিদ্রোহের নেতা ঈশানচন্দ্র রায়, প্রজাহিতৈষী জমিদার রায় বাহাদুর বনওয়ারী লাল রায়, রায় বাহাদুর বনমালী রায়, গণিতবিদ যাদবচন্দ্র চক্রবর্তী, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সলঙ্গা বিদ্রোহের নায়ক মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ, কৃষকনেতা অমূল্যনাথ লাহিড়ী, ফোকলোরবিদ মযহারুল ইসলাম, বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দীন, ভাষাসংগ্রামী আদুল মতিন, চার জাতীয় নেতার অন্যতম এম মনসুর আলী প্রমুখ স্মরণীয়-বরণীয় ব্যক্তি।

সাহিত্য-সংস্কৃতির দিক থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার রয়েছে বাড়তি সুনাম।  কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য এ-জেলা। এখানকার শাহজাদপুর কাছারিবাড়িতে বসে তিনি জমিদারি পরিচালনার পাশাপাশি রচনা করেছেন ছোটগল্প, কবিতা, গান প্রভৃতি।৫ কান্তকবি রজনীকান্ত সেন; অনল-প্রবাহের কবি ইসমাইল হোসেন শিরাজী; আনোয়ারা, গরীবের মেয়ের মতো জনপ্রিয় উপন্যাসের স্রষ্টা নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন, পারস্য প্রতিভার লেখক মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ প্রমুখ এ-মাটির সন্তান। এ-অঞ্চলের লোকসাহিত্য বাংলার লোকসংস্কৃতি-ভাণ্ডারের অমূল্য সম্পদ।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ফতেহ লোহানী, ফজলে লোহানী, কামাল লোহানী, শিল্পী বাপ্পী লাহিড়ী, হৈমন্তী শুক্লা, আলোকচিত্রী আমানুল হক প্রমুখের প্রতিভা ও কর্মের মাহাত্ম্যে এ-জেলার সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সাহিত্য-সংস্কৃতিতে এমন গৌরবময় ঐতিহ্যের অধিকারী সিরাজগঞ্জ জেলা কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি ধারণ করে আরো গৌরবান্বিত হয়েছে। এ-জেলার অনেক কবি-সাহিত্যিক ও প্রথিতযশা ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সিরাজগঞ্জের সঙ্গে বিদ্রোহী কবির সেই সম্পর্কের যোগসূত্র-অন্বেষণ এ-রচনার মূল উপজীব্য।   

ইসমাইল হোসেন শিরাজী ও নজরুল

সিরাজগঞ্জের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের যোগসূত্র প্রথম স্থাপিত হয় সিরাজগঞ্জের ষশস্বী সন্তান, বাংলা

কাব্য-গগনের উজ্জ্বল তারকা সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজীর মাধ্যমে। তিনি নজরুলকে পুত্রবৎ স্নেহ করতেন। নজরুলও তাঁকে পিতৃতুল্য জ্ঞান করতেন।৬ বাংলা কাব্যভুবনে নজরুলের আগমনকে তিনি স্বাগত জানিয়েছিলেন। ১৯২২ সালে তিনি কবি নজরুলকে প্রীতিসম্ভাষণ জানিয়ে মনি-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ পাঠিয়েছিলেন।৭ শুধু তাই নয়, কাজী নজরুল ইসলামকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে স্বীকৃতিও সর্বপ্রথম তিনিই প্রদান করেছিলেন।৮ সাহিত্যভুবনে আবির্ভাবের পর থেকেই ধর্মান্ধ কূপমণ্ডূকদের পাশাপাশি ঈর্ষাকাতর কবিযশঃপ্রার্থীরা ‘হাবিলদার কবি’ কাজী নজরুল ইসলামের স্বতন্ত্র স্বরকে স্তব্ধ করতে নানা অপতৎপরতা শুরু করেন। তা উপেক্ষা করেই বাংলা কাব্যের পিচ্ছিল মাটিতে নজরুল দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যান। ফিঙে, বায়স আর বাজপাখির ভয়ে ভীরু পাখি যেমন গলা ছেড়ে গান করার দুঃসাহস দেখায়; নজরুলেরও যেন একই দশা হয়েছিল। সেই দুর্দিনে তাঁকে উৎসাহ ও প্রেরণা জোগাতে দশটি টাকা ও আশীর্বাণী পাঠান ইসমাইল হোসেন শিরাজী।৯ তাঁর স্নেহসুধাসিক্ত সেই আশীর্বাণী পড়ে নজরুল আবেগ-ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন। অশ্রুসিক্ত নয়নে সেটি বারবার পড়তে থাকেন এবং সঙ্গে পাঠানো টাকা দশটি পরম শ্রদ্ধাভরে কপালে ঠেকান। সেদিন থেকেই নজরুলের মানসপটে শিরাজীর উজ্জ্বল ভাবমূর্তি নির্মিত হয়, অবচেতন মনে স্থাপিত হয় শ্রদ্ধাপূর্ণ আসন। এক কথায়, তখন থেকেই তিনি ইসমাইল হোসেন শিরাজীর ভক্ত ও তাঁর লেখার অনুরাগী পাঠক হয়ে যান। 

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজীর সঙ্গে নজরুলের সরাসরি সাক্ষাৎ ঘটে ১৯২৫ সালে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে। সাক্ষাৎ হতেই নজরুল কদমবুচি করে তাঁর পদধূলি মাথায় এবং মুখে মাখেন। শিরাজী তাঁকে বুকে জড়িয়ে নেন এবং নিজ হাতে মিষ্টি তুলে খাইয়ে দেন। বহুকাল পরে হারানো পুত্রকে ফিরে পেলে পিতা যেমন আনন্দ পান, নজরুলকে কাছে পেয়ে শিরাজীও যেন তেমনি আনন্দে বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন।১০ ১৯২৯ সালে সমগ্র বাংলার পক্ষ থেকে কলকাতায় নজরুলকে সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায় তাঁর বিরোধিতায় কুরুচিপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয়। শুধু তাই নয়, মওলানা আকরম খাঁসহ স্বার্থান্ধ অনেকে এ-আয়োজনে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন।১১ এর প্রতিবাদে শিরাজী সাপ্তাহিক সওগাত পত্রিকায় একটি পত্র লেখেন। তিনি মাসিক মোহাম্মদীর গান-বাজনা নিয়ে দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেন এবং

নজরুল-সংবর্ধনার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। পত্রিকাটির এহেন কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে সম্পাদক মওলানা আকরম খাঁকে তিনি তওবা করে প্রায়শ্চিত্ত করতে বলেন। নজরুলের সংবর্ধনা আয়োজনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ও সাধুবাদ জানিয়ে তিনি লেখেন :

স্নেহাস্পদ নজরুলের সংবর্ধনার প্রস্তাবে সুখী হইলাম। আমি সর্ব্বপ্রথমেই তাঁহাকে ছয় বৎসর পূর্ব্বে সংবর্ধনা ও প্রীতি সম্ভাষণ জানাইয়া সামান্য কিছু অর্থোপহার প্রেরণ করিয়াছিলাম। এবারে সারা বাঙ্গলা তাঁহাকে সংবর্ধনা করিতেছে, ইহাতে আমার কত আনন্দ। … বড় দুঃখ, আজ যদি টাকা থাকিত, তাহা হইলে কবিকে স্বর্ণমুকুটে সাজাইয়া আনন্দ লাভ করিতাম।১২        

ইসমাইল হোসেন শিরাজীর এই স্নেহ-ভালোবাসার স্মৃতি নজরুল কোনোদিন ভুলতে পারেননি। তাঁর সাহিত্য, রাজনৈতিক চেতনাদর্শ ও আধ্যাত্মিকতাও নজরুলকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।১৩ শিরাজীর মৃত্যুর (১৮ই জুলাই, ১৯৩২) কয়েক মাস পর ‘বঙ্গীয় মুসলিম তরুণ-সম্মেলন’ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে এসে নজরুল তাঁর কবর জিয়ারত করেন এবং ভক্তি-শ্রদ্ধায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।১৪ সম্মেলনের সভাপতির অভিভাষণ প্রদানের সময় তিনি বারবার তাঁকে স্মরণ করেন এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আবেগদীপ্ত ভাষায় উচ্চারণ করেন : 

আজ সিরাজগঞ্জে আসিয়া সর্বপ্রধান অভাব অনুভব করিতেছি আমাদের মহানুভব নেতা – বাংলার তরুণ মুসলিমের সর্বপ্রথম অগ্রদূত তারুণ্যের নিশানবরদার মওলানা সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী সাহেবের। সিরাজগঞ্জের শিরাজীর সাথে বাংলার শিরাজ, বাংলার প্রদীপ নিভিয়া গিয়াছে। যাঁহার অনল-প্রবাহ-সম বাণীর গৈরিক নিঃস্রাব জ্বালাময়ী ধারা মেঘ-নিরন্ধ্র গগনে অপরিমাণ জ্যোতি সঞ্চার করিয়াছিল, নিদ্রাতুরা বঙ্গদেশ উন্মাদ আবেগ লইয়া মাতিয়া উঠিয়াছিল, ‘অনল প্রবাহের’ সেই অমর কবির কণ্ঠস্বর বাণীকুঞ্জে আর শুনিতে পাইব না। বেহেশতের বুলবুলি বেহেশতে উড়িয়া গিয়াছে। জাতির কওমের দেশের যে মহা ক্ষতি হইয়াছে, আমি শুধু তাহার কথাই বলিতেছি না, আমি বলিতেছি আমার একার বেদনার ক্ষতির কাহিনি। আমি তখন প্রথম কাব্যকাননে ভয়ে ভয়ে পা টিপিয়া টিপিয়া প্রবেশ করিয়াছি – ফিঙে বায়স বাজপাখির ভয়ে ভীরু পাখির মতো কণ্ঠ ছাড়িয়া গাহিবারও দুঃসাহস সঞ্চয় করিতে পারি নাই, নখচঞ্চুর আঘাতও যে না খাইয়াছি এমন নয় – এমনি ভীতির দুর্দিনে

মনি-অর্ডারে আমার নামে দশটি টাকা আসিয়া হাজির। কুপনে শিরাজী সাহেবের হাতে লেখা : ‘তোমার লেখা পড়িয়া খুশি হইয়া দশটি টাকা পাঠাইলাম। ফিরাইয়া দিও না, ব্যথা পাইব। আমার থাকিলে দশ হাজার টাকা পাঠাইতাম।’ চোখের জলে স্নেহসুধা-সিক্ত ঐ কয় পঙ্ক্তি লেখা বারে বারে পড়িলাম; টাকা দশটি লইয়া মাথায় ঠেকাইলাম। তখনো আমি তাঁহাকে দেখি নাই। কাঙাল ভক্তের মতো দূর হইতেই তাঁহার লেখা পড়িয়াছি, মুখস্থ করিয়াছি, শ্রদ্ধা নিবেদন করিয়াছি। সেইদিন প্রথম মানসনেত্রে কবির স্নেহ-উজ্জ্বল মূর্তি মনে মনে রচনা করিলাম, গলায় পায়ে ফুলের মালা পরাইলাম। তাহার পর ফরিদপুর বঙ্গীয় প্রাদেশিক কনফারেন্সে তাঁহার জ্যোতিবিমণ্ডিত মূর্তি দেখিলাম। দুই হাতে তাঁহার পায়ের তলার ধূলি কুড়াইয়া মাথায় মুখে মাখিলাম। তিনি আমায় একেবারে বুকের ভিতর টানিয়া লইলেন, নিজে হাতে করিয়া মিষ্টি খাওয়াইয়া দিতে লাগিলেন। যেন বহুকাল পরে পিতা তাহার হারানো পুত্রকে ফিরিয়া পাইয়াছে। আজ সিরাজগঞ্জে আসিয়া বাংলার সেই অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি মনস্বী দেশপ্রেমিকের কথাই বারে বারে মনে হইতেছে। এ যেন হজ্জ করিতে আসিয়া কাবা-শরিফ না দেখিয়া ফিরিয়া যাওয়া। তাঁহার রুহ মোবারক হয়তো আজ এই সভায় আমাদের ঘিরিয়া রহিয়াছে। তাঁহারই প্রেরণায় হয়তো আজ আমরা তরুণেরা এই যৌবনের আরাফাত ময়দানে আসিয়া মিলিত হইয়াছি। আজ তাঁহার উদ্দেশে আমার অন্তরের অন্তরতম প্রদেশ হইতে শ্রদ্ধা, তসলিম নিবেদন করিতেছি, তাঁহার দোয়া ভিক্ষা করিতেছি।১৫

শিরাজীর প্রতি নজরুলের এই শ্রদ্ধা সবসময় অটুট ছিল। যতদিন সুস্থ ছিলেন, সুযোগ পেলেই শিরাজীর প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা প্রকাশ করতেন। ১৯৪০ সালে কলকাতায় শিরাজী পাবলিক লাইব্রেরি ও ফ্রি রিডিং রুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার আমন্ত্রণ তিনি সাদরে গ্রহণ করেন এবং আয়োজকদের লেখেন :

শিরাজী পাবলিক লাইব্রেরির দ্বার-উদ্ঘাটনে আমায় আমন্ত্রণ করেছ। এই জন্য যাঁরা উদ্যোগী, তাঁদের সকলকে আমার অন্তরের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শিরাজী সাহেব আমার পিতৃতুল্য ছিলেন। তিনি আমাকে তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্ররূপে আজীবন ভালোবেসেছেন, তা বোধ হয় তোমরা অনেকে জানো না। তাঁর ভালোবাসা ও প্রেম আমার ঊর্ধ্বলোকে যাত্রার পথে চিরদিন সহায়স্বরূপ ছিল – আজো আছে। আমার আর কোনো কর্মে স্পৃহা নেই, তবু তোমাদের এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করলাম – পিতার প্রতি পুত্রের কর্তব্যস্বরূপ।১৬

১৯৪০ সালের ২২শে মার্চ বিকেল পাঁচটায় কলকাতা ২/১ ইউরোপিয়ান অ্যাসাইলাম লেনে ‘শিরাজী পাবলিক লাইব্রেরি ও ফ্রি রিডিং রুম’-এর দ্বারোদ্ঘাটন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে নজরুল সভাপতির আসন অলংকৃত করেন এবং শিরাজীর কাছে পিতৃতুল্য স্নেহ-আশীর্বাদপ্রাপ্তির কথা পুনরুল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তাঁর জীবন ও সাহিত্য দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকার করেন। তিনি বলেন :

তাঁহার (ইসমাইল হোসেন শিরাজী) নিকট যে স্নেহ আমি জীবনে পাইয়াছি তাহা আমার জীবনের পরম সঞ্চয়। ফরিদপুর কনফারেন্সে তাঁহার সহিত আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। তাঁহার সমগ্র জীবনই ছিল অনলপ্রবাহ। আমার রচনায় সেই অগ্নিস্ফুলিঙ্গের প্রকাশ আছে। সাহিত্যিক ও রাজনীতিক ছাড়াও আমার চোখে তিনি প্রতিভাত হয়েছিলেন এক শক্তিমান দরবেশরূপে।১৭

শিরাজী-নজরুল সম্পর্ক ছিল স্নেহ-ভক্তির এক অনন্য নজির। দ্রোহী কবিসত্তার অধিকারী হিসেবেও তাঁরা একে অপরের কাছাকাছি এসেছিলেন। শিরাজীর অনল-প্রবাহের সুরই যেন নজরুলের

অগ্নি-বীণায় ধ্বনিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে নজরুল ছিলেন তাঁর মানস-সন্তান।১৮ নজরুলের কণ্ঠে যে বিদ্রোহের বাণী ও যৌবনের জয়গান ধ্বনিত হয়েছে, তার পূর্বাভাষ শোনা গেছে শিরাজীর কণ্ঠে। শিরাজী যেমন ঐতিহ্য কীর্তনের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের ক্লৈব্য ও জড়তাকে ভাঙতে চেয়েছেন, নজরুলও তেমনি মুসলিম ঐতিহ্য স্মরণ করে জাতিকে সংগ্রামমুখী করে তুলেছেন।১৯ অর্থাৎ নজরুল কাব্যের ওজস্বিতা, জাগরণস্পৃহার উদ্দীপনা, বীররস সৃষ্টির  যে প্রয়াস; তা মুসলিম কবিদের মধ্যে ইসমাইল শিরাজীর সত্তায়ই প্রথম লক্ষ করা যায়। দুই কবির প্রকৃত মিল, বীর হৃদয়ের সাহসিকতায়, ভাবোচ্ছ্বাসে এবং চারিত্রিক স্বভাবে।২০ বস্তুত, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী নজরুলকে আকর্ষণ করেছিলেন দ্রোহী স্বভাব ও বীরত্বব্যঞ্জক কবিতার কারণে। বলা যায়, ব্যক্তি শিরাজী এবং তাঁর সৃষ্টিকর্মের আকর্ষণ নজরুলের সিরাজগঞ্জ আগমনে প্রেরণা জোগায়। শিরাজীর জন্মস্থান সিরাজগঞ্জ নজরুল-স্মৃতি ধারণ করে যেমন গৌরবান্বিত হয়েছে, তেমনি নজরুলসৃষ্টিতেও তা হয়ে আছে মহিমান্বিত। 

আসাদ উদ্দৌলা শিরাজী ও নজরুল

সিরাজগঞ্জের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের যোগসূত্র স্থাপনে বিশেষ ভূমিকা ছিল ইসমাইল হোসেন শিরাজীর পুত্র আসাদ উদ্দৌলা শিরাজীর। তাঁর সঙ্গে কবির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পিতা ইসমাইল হোসেন শিরাজীর সঙ্গে নজরুলের স্নেহ-ভক্তির সূত্রে এই সম্পর্ক স্থাপিত হয়। বাগ্মী, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী, কবি, প্রাবন্ধিক, গজল রচয়িতা এবং আধ্যাত্মিক সাধক হিসেবে তিনি নজরুলের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। ১৯৩২ সালের অক্টোবর মাসের শেষ দিকে ‘সিরাজগঞ্জ মুসলিম যুব কনফারেন্স’-এ সভাপতির আসন অলংকৃত করার আমন্ত্রণ জানাতে আসাদ উদ্দৌলা শিরাজী নজরুলের কলকাতাস্থ ৩৯, সতীনাথ রোডের বাসায় উপস্থিত হন। এ-সময় নজরুল তাঁকে উষ্ণ আতিথেয়তায় বরণ করেন।২১ ওই সময় শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহ্মদ উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে সভাপতির আসন অলংকৃৃত করার আমন্ত্রণে ইতস্তত বোধ করলেও আসাদ উদ্দৌলা শিরাজীর পীড়াপীড়িতে রাজি হন এবং বলেন – ‘তোমার এ আহ্বান কি উপেক্ষা করতে পারি?’২২ আব্বাসউদ্দীনকে নজরুল বলেন : ‘জানো আব্বাস, শিরাজী হবে বাংলার তরুণদের নকিব। তুমি, আমি, শিরাজী – এই তিনজনে বাংলাদেশ জয় করতে পারি।’২৩ সম্মেলনের দিন আসাদ উদ্দৌলা শিরাজী কলকাতা থেকে নজরুলকে সিরাজগঞ্জে নিয়ে আসেন। সম্মেলনের অভ্যর্থনা-কমিটির সভাপতির অভিভাষণে তিনি কবিকে শুভেচ্ছা জানান এবং সিরাজগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অশেষ ঋণ স্বীকার করেন।২৪ আয়োজকদের আন্তরিকতায় নজরুল মুগ্ধ হন। অনুষ্ঠানের ব্যস্ততার মাঝেও নজরুল আসাদ উদ্দৌলা শিরাজীর সঙ্গে রসিকতায় মেতে ওঠেন।২৫ পরবর্তীকালে তাঁদের এ-সম্পর্ক আরো গভীর হয়।

বয়সে ছোট হলেও আসাদ উদ্দৌলা শিরাজীকে নজরুল যে কতটা শ্রদ্ধা করতেন, তা তাঁর লেখা চিঠিপত্র থেকে ধারণা পাওয়া যায়। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে ‘উত্তরবঙ্গ মোসলেম কনফারেন্সে’ নজরুলকে পৌরোহিত্য করার আমন্ত্রণ জানানো হলে তার প্রত্যুত্তরে নজরুল এম. সেরাজুল হককে যে-পত্র লেখেন, তাতে আসাদ উদ্দৌলা শিরাজী সম্পর্কে তাঁর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা স্থান পায়। তাঁকে তিনি বাংলা-আসামের তরুণ মুজাহিদদের ইমামতি করবার, নেতা হবার এবং নিশান ওড়াবার একমাত্র অধিকারী বলে উল্লেখ করেন এবং নিজের ‘ধ্যান জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র’ এবং ‘এমাম-নকীব’ হিসেবে অভিহিত করেন।২৬ আসাদ উদ্দৌলা শিরাজীর জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা, উদ্দীপনামূলক প্রবন্ধ, গজল, নেতৃত্ব ও আধ্যাত্মিক গুণ নজরুলকে মুগ্ধ করে। এজন্যে তাঁকে জাতীয় নেতা হিসেবে মান্য করার আহ্বান জানিয়ে ওই চিঠিতে লেখেন :

আমাদের জাতীয় দুর্গতির নিরন্ধ্র অন্ধকারে নূরন-আলা-নূরের মশাল শিরাজীর হাতে। আমাদের তথা মুসলিম সমাজের কর্তব্য-প্রতিভার এই নবচন্দ্রকে কেন্দ্র করিয়া সংঘবদ্ধ হওয়া। যাহা সত্য তাহা স্বীকার না করিলে দুর্গতি ঘিরিয়া থাকে। আসাদ উদ্দৌলার জ্ঞানগর্ভ পাণ্ডিত্যপূর্ণ আগুন-ঝরা বক্তৃতা, জ¦ালাময়ী প্রবন্ধ, উন্মাদনাময়ী সংগীতকেই একমাত্র জিনিস মনে করিবেন না। ইহাপেক্ষাও পরম শক্তির সে অধিকারী। মান, অভিমান, অহঙ্কার, মর্যাদা ভুলিয়া গিয়া সত্য সুন্দরের প্রিয় এই যুগান্তকারী মহা-নকীবকে আমরা যদি বরণ করিতে পারি – আমাদের গলার মালার মধ্যমণি করিতে পারি, আমাদের সাধনা সাফল্যের গৌরব অর্জন করিবে।২৭

আসাদ উদ্দৌলা শিরাজীকে নজরুল কতটা সম্ভ্রমের চোখে দেখতেন, তাঁর চিঠির এমন বক্তব্য থেকেই অনুমান করা যায়। আসাদ উদ্দৌলা শিরাজীও নজরুলকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। ১৯৩২ সালে সিরাজগঞ্জে নজরুলকে সংবর্ধনা প্রদানে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।         

এম. সেরাজুল হক ও নজরুল

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার মোরশেদপুর (সেরাজপুর) গ্রামের সন্তান কর্মবীর এম.  সেরাজুল হকের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। এম. সেরাজুল হক ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা, মুসলিম জাগরণের অন্যতম অগ্রণী ব্যক্তি ও সমাজসেবক। সুলেখক, সুসাহিত্যিক এবং সুবক্তা হিসেবেও তাঁর সুনাম ছিল। মোমবাতির মতো দরিদ্রানলে দগ্ধীভূত হয়ে তিনি সমাজকে আলোকিত করেছেন।২৮ সিরাজগঞ্জে নজরুলের সংবর্ধনা প্রদান এবং এ-অঞ্চলের সঙ্গে কবির সম্পর্ক তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ছিল। স্বদেশি আন্দোলন এবং অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের নেতা হিসেবে তিনি বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। সরকারের রোষানলে কারানির্যাতন ভোগ করেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রসেনানী এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির একনিষ্ঠ সাধক এম. সেরাজুল হক কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্য দ্বারা নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। নজরুলের কবিজীবনের উজ্জ্বল প্রহরে যখন রাজরোষ এবং ধর্মান্ধদের রোষ তাঁকে সীমাহীন যন্ত্রণায় জর্জরিত করে তখন এম. সেরাজুল হক কবির পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ান। আলীপুর সেন্ট্রাল জেল থেকে মুক্ত হয়ে সিরাজগঞ্জে ফিরে এসে সাহিত্য-সংস্কৃতি ও রাজনীতির সহযোদ্ধাদের সঙ্গে পরামর্শ করে নজরুলকে সংবর্ধনা প্রদানের আয়োজন করেন। এই সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে নজরুলের সঙ্গে তাঁর পত্রবিনিময় হয়। ১৯৩২ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে নজরুল তাঁকে দুটি পত্র লেখেন।২৯ কনফারেন্সের অভ্যর্থনা-কমিটির সম্পাদক হিসেবে বক্তৃতায় তিনি সম্মেলনের সভাপতির আসন অলংকৃত করায় নজরুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন এবং মোবারকবাদ জানান। তিনি রক্ষণশীল মুসলমান-সমাজের নজরুল-বিরোধিতার প্রতিবাদ জানান এবং কবির পাশে যে লাখ লাখ তরুণ ও যুবকের দৃঢ় সমর্থন রয়েছে তা তাদের স্মরণ করিয়ে দেন।৩০ সিরাজগঞ্জে নজরুলের আগমনে উভয়ের সম্পর্ক আরো গভীর হয়, যা পরবর্তী সময়েও বজায় থাকে। ব্রিটিশ শাসনের নাগপাশ থেকে দেশকে মুক্ত করতে তাঁরা একাত্মা হয়ে কাজ করেন।

 ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ৩০শে মাঘ এম. সেরাজুল হক একই চিঠিতে নজরুলকে ‘উত্তরবঙ্গ মোসলেম কন্ফারেন্সে’ পৌরোহিত্য করার আমন্ত্রণ জানান।৩১ জাতির সেবার নামে তৎকালীন নেতারা যে ভণ্ডামি ও চালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল, তা থেকে জাতিকে উদ্ধারে একজন শক্তিশালী ও সত্যিকার নেতার অভাবের কথা চিঠিটিতে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন – সুযোগসন্ধানী, স্বার্থপর নেতার পরিবর্তে দরকার জনদরদি, ত্যাগী ও ভাবুক নেতা। নজরুল লেখনী ও কবিত্বের ভেতর দিয়ে যে-চিন্তাধারায় জাতিকে মাতোয়ারা করছেন, সকলকে সমপর্যায়ে এনে সাম্যমন্ত্রে দীক্ষিত করার যে-অভিযান চালিয়েছেন, তাতে জাতি নব আশার আলো দেখতে পাচ্ছে বলে তাঁকে সত্যিকার নেতা ও জাতির পথপ্রদর্শক হিসেবে নেতৃত্ব গ্রহণের আহ্বান জানানো হয় পত্রটিতে।৩২ এম. সেরাজুল হকের পত্রের উত্তরে নজরুল লেখেন :

বাংলার মুসলিম সমাজের ভিতর আমার বাণী প্রচার করিবার অধিকার আজিও আমি লাভ করি নাই। যিনি মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছেন তিনি যখন প্রয়োজন বোঝেন মোষের রাখালকে মহা-পয়গম্বরীর চাপরাশ দিয়া মানুষের কল্যাণবাণী উচ্চারণের অধিকার প্রদান করেন।৩৩

চিঠির বক্তব্যে নজরুলের আধ্যাত্মিক চিন্তার প্রকাশ স্পষ্ট। তিনি বলেন – তাঁর (স্রষ্টার) হুকুমনামা ছাড়া কেউ কারো কথা শুনবে না। তিনি প্রশ্ন রাখেন – মন্ত্রী, মেম্বর, রাজা, সম্রাট দ্বারা কি দুনিয়াতে কোনো দেশ বা জাতির অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে? এরপরই আবার লেখেন – ‘পরিবর্তন যাঁহারা করেন তাঁহারা ফকির-আউলিয়া।’৩৪ মহাযুদ্ধের ফেরতা সৈনিকের হাত থেকে রাইফেল কেড়ে নিয়ে যিনি কলম তুলে দিয়েছিলেন, সকল শক্তি দিয়ে নজরুল তাঁর (স্রষ্টার) মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার করেন। তাঁর দরবার থেকে কাঙালের মতো প্রেমামৃত ভিক্ষা করে বিলিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং নিজের কবিতা, সংগীত ও কথাসাহিত্যে ইতঃপূর্বে তা প্রকাশ করেছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি তৃষ্ণাকাতর প্রাণে সেই মহা করুণাসিন্ধুর করুণা প্রার্থনা করেন। আরো উল্লেখ করেন : 

পেটের দায়ে আমার কণ্ঠ হিজ-মাস্টার্স ভয়েসের ওই

ট্রেড-মার্কের ওই শিকলের সহিত সংলগ্ন, আমার কণ্ঠে মহাবাণী উচ্চারিত হইবে কি করিয়া? আমাকে সভাপতিত্ব করিবার জন্য যে অনুরোধ করিয়াছেন আমি যদি যোগ্য হইতাম, নিশ্চয়ই

এ-আহ্বান মাথা নত করিয়া স্বীকার করিতাম।৩৫ নিজে অপারগতা স্বীকার করলেও পত্রটিতে এ-কাজের যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে সৈয়দ আসাদ উদ্দৌলা শিরাজীর নেতৃত্ব ও বহুমাত্রিক গুণের কথা তুলে ধরেন। দোষত্রুটির ছিদ্র ধরে মহাশক্তিধরকে যারা দম্ভ ভরে পেছনে ফেলতে চায়, নজরুল তাদের কৃপার পাত্র বলে অভিহিত করেন এবং আল্লাহর ইচ্ছার ওপর সর্বস্ব সমর্পণ করার আহ্বান জানিয়ে চিঠির বক্তব্য শেষ করেন। এম. সেরাজুল হকের সঙ্গে নজরুলের সম্পর্ক সময়ের প্রয়োজনে, জাতির কল্যাণে দুই দেশহিতৈষীর চিন্তা-কর্মের ঐক্য থেকেই গড়ে ওঠে। তাঁদের পরস্পরের এই কাছে আসা সিরাজগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।               

ইজাব উদ্দীন আহমদ ও নজরুল

লেখক-সাংবাদিক ইজাব উদ্দীন আহমদের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে ১৯৩২ সালে ‘সিরাজগঞ্জ মুসলিম তরুণ কনফারেন্সে’। তবে গান-কবিতাসূত্রে নজরুলের নামের সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরো পাঁচ-ছয় বছর আগে।৩৬ পরবর্তীকালে সাপ্তাহিক

কৃষক পত্রিকায় চাকরিসূত্রে কলকাতায় বসবাস করায় নজরুলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। এছাড়া সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজীর জামাতা হিসেবে নজরুল তাঁকে বাড়তি স্নেহ করতেন। ১৯৩৯ সালে কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে নজরুলের কলকাতার ৫৩/বি হরিঘোষ স্ট্রিটের বাসায় গিয়ে কবির একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি ‘ধ্যানমগ্ন কবি নজরুল ইসলাম’ শিরোনামে সাপ্তাহিক

কৃষক পত্রিকায় (ঈদসংখ্যা, ১৩৪৬) প্রকাশিত হয়। তাঁদের প্রশ্নের জবাবে নজরুল ভারতে ইসলামের প্রচার-প্রসার, মুসলিম সমাজের দুর্গতি ও জাতির কল্যাণে করণীয় সম্পর্কে নানা কথা বলেন। ভারতে ইসলাম ধর্মের প্রসার লাভে পির-আউলিয়াদের ভূমিকা সম্পর্কে নজরুল বলেন :   

ভারতে রাজা-বাদশাদের দ্বারা ইসলাম জারি হয় নাই। রাজা-বাদশারা করেছেন দেশ জয় – আহরণ করেছেন ধন-রত্ন মণি-মাণিক্য। আর মানুষের মঙ্গলের বিধান করেছেন আউলিয়া ‘পীর’ বোজর্গান। সারা ভারতে হাজার হাজার আউলিয়ার মাজার কেন্দ্র করে আজো সেই শান্তির কথা আমরা শুনতে পাই।৩৭

নজরুলের সঙ্গে ইজাব উদ্দীন আহমদের পত্রবিনিময় হতো। ১৯৪০ সালের ১৮ই মার্চ কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে একটি চিঠি লেখেন। ওই চিঠিতে ইসমাইল হোসেন শিরাজীর সঙ্গে নজরুল তাঁর আত্মিক সম্পর্কের কথা পুনরুল্লেখ করেন।৩৮ ইজাব উদ্দীন আহমদ নজরুলকে নিয়ে অনেক স্মৃতিচারণমূলক প্রবন্ধ লিখেছেন। সাপ্তাহিক কৃষক, জাগরণ, বেতার বাংলা

প্রভৃতি পত্রিকায় সেগুলো প্রকাশিত হয়। নজরুলের মৃত্যুর পর বেতার বাংলা পত্রিকার অক্টোবর ১৯৭৬ সংখ্যায় তিনি লেখেন “কাজীদা’কে যেমন দেখেছি” শীর্ষক স্মৃতিগদ্য। এতে কাজী নজরুল ইসলামের সিরাজগঞ্জ সফরের অনেক অজানা তথ্য বিধৃত হয়েছে।

চৌধুরী ওসমান ও নজরুল

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার রামগাঁতি গ্রামের কবি চৌধুরী ওসমানের সঙ্গে নজরুলের পরোক্ষ যোগাযোগ স্থাপিত হয়। ১৯৪১ সালে চৌধুরী ওসমান কাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ঝাঁকড়া চুলো’ প্রতিকৃতি অংকন করেন। পেনসিলে অংকিত ওই স্কেচটি চৌধুরী ওসমানের এক আত্মীয় (মখদুম আহমদ, চাচাতো বোনের স্বামী) মারফত নজরুলের কাছে পাঠান। প্রতিকৃতিটি পেয়ে কবি খুশি হন এবং একটি আশীর্বাণী লিখে চৌধুরী ওসমানের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেন।৩৯ আশীর্বাণীটি ছিল নিম্নরূপ৪০ : 

চৌধুরী ওসমান গনি

কল্যাণীয়েষু

তোমার মৌন ছবিতে ফুটুক কবির চপল ছন্দ,

তোমার তুলির কালিতে উঠুক কুহু ও কেকার দ্বন্দ্ব।

        তোমার ধ্যানের সুন্দর যেন আসে

        তোমার তুলির স্পর্শে তোমার পাশে,

তোমার চিত্রপটে থাকে যেন প্রভাতী পদ্ম-গন্ধ ॥ 

কাজী নজরুল ইসলাম

কলিকাতা, ৫ই ফাল্গুন, ১৩৪৮

নজরুলের আশীর্বাণী পেয়ে চৌধুরী ওসমান অনুপ্রাণিত হন। তিনি কবির প্রতিকৃতিটি পুনরায় অংকন করে মাসিক সওগাত পত্রিকায় পাঠান, যেটি ওই পত্রিকার ১৩৪৯ বঙ্গাব্দের চতুর্থ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে সেটি বেগম এবং শিশু সওগাতে পুনঃপ্রকাশিত হয়। সর্বশেষ প্রকাশিত হয় মাহে-নও পত্রিকার মে, ১৯৬২ সংখ্যায়।৪১

কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যে সিরাজগঞ্জ যেন একাকার হয়ে আছে। জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিভাষণ তিনি এখানকার মুসলিম তরুণ-তরুণী ও বিশিষ্টজনদের সংবর্ধনার জবাবে পাঠ করেন এবং কবিতা ও গানে তাদের উজ্জীবিত করেন। সিরাজগঞ্জের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বহু কীর্তিমান ব্যক্তির সঙ্গে নজরুলের হার্দিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ইসমাইল হোসেন শিরাজী, আসাদ উদ্দৌলা শিরাজী, এম. সেরাজুল হক, ইজাব উদ্দীন আহমদ, ফতেহ লোহানী, চৌধুরী ওসমান, মযহারুল ইসলাম প্রমুখের সঙ্গে নজরুলের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এ সম্পর্ক স্নেহ-ভালোবাসা, ভক্তি-শ্রদ্ধায় অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে। সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজীর অপত্যস্নেহ নজরুলের পিতার অভাব অনেকটাই পূরণ করেছে; সৈয়দ আসাদ উদ্দৌলা শিরাজী ও এম. সেরাজুল হকের বন্ধুত্ব কবির সৃষ্টি ও কর্মস্পৃহা বাড়িয়েছে; ইজাব উদ্দীন আহমদ ও চৌধুরী ওসমানের পত্র এবং স্কেচ কবিকে উজ্জীবিত করেছে। বিলেতে চিকিৎসার সময় ফতেহ লোহানী নানাভাবে সহযোগিতা করে কবির সংকটকালীন জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেন। ড. মযহারুল ইসলাম তাঁর গুরু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লার সঙ্গে কলকাতায় নজরুলকে দেখতে যান। তিনি মহাপরিচালক থাকাকালে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে ১৯৭৪ সালে যে ‘বাংলা সাহিত্য সম্মেলন’ আয়োজন করা হয়, তার ষষ্ঠ দিবসের অনুষ্ঠানে কাজী নজরুল ইসলামকে সমাসীন করা হয় প্রধান অতিথির আসনে।৪২ নজরুলের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখি করেছেন সিরাজগঞ্জের অনেক লেখক-গবেষক। এক্ষেত্রে উল্লেখ করতে হয় গোলাম সাক্লায়েনের ‘সিরাজগঞ্জে কাজী নজরুল ইসলাম’, ইজাব উদ্দীন আহমদের “কাজীদা’কে যেমন দেখেছি” শীর্ষক প্রবন্ধ এবং মযহারুল ইসলামের রবীন্দ্রনাথ নজরুল ও বাঙালি সংস্কৃতি;

হারুন-অর-রশীদের চিরঞ্জীব নজরুল, নজরুল কাব্যে ধর্ম

প্রভৃতি গ্রন্থের কথা। সিরাজগঞ্জ শহরের একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে। এক কথায়, কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে সিরাজগঞ্জের মাটি-মানুষের যে অবিচ্ছেদ্য বন্ধন স্থাপিত হয়, তা যুগ-যুগান্তরের; সে-বন্ধন কখনোই ছিন্ন হওয়ার নয়।

তথ্যনির্দেশ ও টীকা

১. মৌলবী মোখ্তার আহ্মদ সিদ্দিকী, ‘সিরাজগঞ্জের ইতিহাস’, রাধারমণ সাহা, পাবনা জেলার ইতিহাস, ঢাকা : গতিধারা প্রকাশনী, প্রথম অখণ্ড সংস্করণ, ২০০৬, পৃ ৫৪৭।

২. রাধারমণ সাহা, পূর্বোক্ত, পৃ ২০৫-২০৬।

৩. এম আবদুল আলীম, সিরাজগঞ্জে ভাষা আন্দোলন, ঢাকা : আগামী প্রকাশনী, ২০১৮, পৃ ২৭।

৪. ইমতিয়ার শামীম, রক্তে জেগে ওঠে : মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস, ঢাকা, সময় প্রকাশন, ২০১৭, পৃ ৪৫।

৫. বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : মোহাম্মদ আনসারুজ্জামান, সাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথ, ঢাকা : বর্ণমিছিল, ১৯৭৪।

৬. ইসমাইল হোসেন শিরাজীর সঙ্গে সম্পর্কের যোগসূত্র বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এমন স্মৃতিচারণ করেন ১৯৩২ সালে সিরাজগঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গীয় মুসলিম তরুণ সম্মেলনে’র সভাপতির অভিভাষণে এবং শিরাজীর কবর জিয়ারতের সময়। বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : কাজী নজরুল ইসলাম, তরুণের সাধনা (‘সিরাজগঞ্জ মুসলিম তরুণ সম্মেলনে’ পঠিত অভিভাষণ), নজরুল-রচনাবলী, অষ্টম খণ্ড, ঢাকা : বাংলা একাডেমি, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, ২০০৮, পৃ ৮; সুফী জুলফিকার হায়দার, নজরুল জীবনের শেষ অধ্যায়, ঢাকা : সুফী জুলফিকার হায়দার ফাউন্ডেশন, তৃতীয় প্রকাশ, ১৯৮৩, পৃ ১-৭।

৭. ‘শিরাজী সাহেবের পত্র’, সাপ্তাহিক সওগাত, ১৬ই নভেম্বর ১৯২৮।

৮. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন, বাংলা সাহিত্যে সওগাত যুগ, ঢাকা : নূরজাহান বেগম কর্তৃক প্রকাশিত,  ১৯৮৫, পৃ ১৪৮৫।

৯. কাজী নজরুল ইসলাম, তরুণের সাধনা, পূর্বোক্ত, পৃ ৮।

১০. তদেব, পৃ ৮; কাজী নজরুল ইসলাম, ‘শিরাজী’,

নজরুল-রচনাবলী, অষ্টম খণ্ড, পৃ ৩৫।

১১. বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : মাসিক মোহাম্মদী, কার্তিক ১৩৩৫; সাপ্তাহিক সওগাত, ৯ নভেম্বর, ১৯২৮।

১২. ‘শিরাজী সাহেবের পত্র’, সাপ্তাহিক সওগাত, ১৬ই নভেম্বর ১৯২৮।

১৩. ‘তাঁহার সমগ্র জীবনই ছিল অনলপ্রবাহ। আমার রচনায় সেই অগ্নিস্ফুলিঙ্গের প্রকাশ আছে। সাহিত্যিক ও রাজনীতিক ছাড়াও আমার চোখে তিনি প্রতিভাত হয়েছিলেন এক শক্তিমান দরবেশ রূপে।’ – কাজী নজরুল ইসলাম, ‘শিরাজী’, পূর্বোক্ত, পৃ ৩৫।

১৪. ‘… সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজীর সমাধী পাশের্^ দাঁড়িয়ে কবি অশ্রু-সজল নয়নে দু হাত তুলে আল্লার দরগায় তাঁর আত্মার মাগফেরাতের জন্য দোয়া করলেন। … কবির কণ্ঠ সেই মহান পরম পুরুষের শ্রদ্ধাস্মৃতি স্মরণে বেদনা-বিধুর হয়ে উঠলো। বহু স্মৃতি-বিজড়িত শ্রদ্ধাসিক্ত-গ্রন্থিও উন্মোচনে সেদিন আমাদের চোখও তখন অশ্রুসজল! আমার স্মৃতির মণিকোঠায় কবির সেই গদগদ স্বগতোক্তি চির-অনির্বাণ হয়েই রইল।’ – সুফী জুলফিকার হায়দার, পূর্বোক্ত, পৃ ৫।

১৪. কাজী নজরুল ইসলাম, ‘তরুণের সাধনা’, পূর্বোক্ত, পৃ ৮।

১৫. ইজাব উদ্দীন আহমদকে লিখিত পত্র, ১২ই মার্চ, ১৯৪০; নজরুল-রচনাবলী, নবম খণ্ড, পৃ ২৬৮-২৬৯।

১৬. দৈনিক কৃষক, ৯ চৈত্র, ১৩৪৭; নজরুল-রচনাবলী, অষ্টম খণ্ড, পৃ ৩৫।

১৭. মুহম্মদ এনামুল হক, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী, হোসেন মাহমুদ (সম্পা.), সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, দ্বিতীয় সংস্করণ, ২০০৩, পৃ ১০৩।

১৮. আজহারউদ্দীন খান, সংস্কারক সাহিত্যিক সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী, হোসেন মাহমুদ (সম্পা.), পূর্বোক্ত, পৃ ২১৬।

১৯. শাহাবুদ্দীন আহমদ, নজরুল ইসলাম ও ইসমাইল হোসেন শিরাজী, হোসেন মাহমুদ (সম্পা.), পূর্বোক্ত, পৃ ৪৮৮।

২০. সুফী জুলফিকার হায়দার, পূর্বোক্ত, পৃ ১-২।

২১. আব্বাসউদ্দীন আহ্মদ, দিনলিপি ও আমার শিল্পীজীবনের কথা, ঢাকা : প্রথমা প্রকাশন, চতুর্থ মুদ্রণ,  ২০২৩, পৃ ১৪৮।

২২. তদেব।

২৩. গোলাম সাক্লায়েন, সিরাজগঞ্জে কাজী নজরুল ইসলাম, নজরুল ইনস্টিটিউট পত্রিকা, ঢাকা : নজরুল ইনস্টিটিউট, অষ্টম সংকলন, ১৩৯৫, পৃ ৮৮।

২৪. সুফী জুলফিকার হায়দার, পূর্বোক্ত, পৃ ৬।

২৫. কাজী নজরুল ইসলাম, এম. সেরাজুল হককে লিখিত পত্র, ৭ ফাল্গুন, ১৩৪৮।

২৬. তদেব।

২৭. এম. এ. হামিদ টি. কে., কর্মবীর সেরাজুল হক, পাবনা : আমার দেশ প্রকাশনী, ১৯৬৬, পৃ ১৩।

২৮. শাহাবুদ্দীন আহ্মদ (সম্পা.), নজরুলের পত্রাবলি, ঢাকা : নজরুল ইসস্টিটিউট, তৃতীয় সংস্করণ, ২০১৪, পৃ ১৩৪-১৩৫।

২৯. গোলাম সাক্লায়েন, পূর্বোক্ত, পৃ ৮৭।

৩০. এম. এ. হামিদ টি. কে., পূর্বোক্ত, পৃ ১১৮।

৩১. এম. সেরাজুল হক, কাজী নজরুল ইসলামকে লিখিত পত্র, ৩০ মাঘ, ১৩৪৮।

৩২. কাজী নজরুল ইসলাম, এম. সেরাজুল হককে লিখিত পত্র, ৩০ মাঘ, ১৩৪৮।

৩৩. তদেব।

৩৪. তদেব।

৩৫. ইজাব উদ্দীন আহমদ, “কবিদা’কে যেমন দেখেছি”, বেতার বাংলা, দ্বিতীয় পক্ষ, ঢাকা : অক্টোর ১৯৭৬, পৃ ৩৪।

৩৬. সাপ্তাহিক কৃষক, ঈদ-সংখ্যা ১৩৪৬।

৩৭. কাজী নজরুল ইসলাম, ইজাব উদ্দীন আহমদকে লিখিত পত্র, ১৮ মার্চ ১৯৪০; বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : নজরুল-রচনাবলী, নবম খণ্ড, পৃ ২৬৯-২৭০।

৩৮. সারোয়ার জাহান, চৌধুরী ওসমান, ঢাকা : বাংলা একাডেমি, ১৯৯৪, পৃ ২০।

৩৯. কাজী নজরুল ইসলাম, নজরুল-রচনাবলী, নবম খণ্ড, ঢাকা : বাংলা একাডেমি, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, ২০০৯, পৃ ৯৪।

৪০. সারোয়ার জাহান, পূর্বোক্ত, পৃ ২০।

৪১. শামসুজ্জামান খান (সম্পা.), আলোকচিত্রে বাংলা একাডেমির ইতিহাস, ঢাকা : বাংলা একাডেমি, ২০১৮,

পৃ ১১০।

আরো দ্রষ্টব্য : আবদুল খালেক (সম্পা.), মৃত্যুঞ্জয় মযহারুল ইসলাম, ঢাকা : বিশ^সাহিত্য ভবন, ২০১৭, পৃ ৫৭৩।