হচ্ছে-হবে

ক্যাটওয়াক

সেদিন এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলাম। আজকাল বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতে, বিশেষ করে পুরনো বন্ধুদের বাড়িতে, খুব কমই যাতায়াত হয়। এ-বাড়িতেও গেলাম প্রায় চার-পাঁচ বছর পরে।

বন্ধুর মা মারা গেছেন। সুবচনী স্নেহশীলা মহিলা। আমাকে খুব ভালোবাসতেন। অল্পবয়সে কতবার বেলা-অবেল

ায় বন্ধুর বাড়ি গেছি, তিনি জোর করে ধরে খাইয়ে দিয়েছেন। আমি তখন খেতাম হোটেলে। তাই বন্ধুজননীর একটা অন্যরকম মমতা ছিল আমার প্রতি।

যাই হোক, মহিলার মৃত্যুসংবাদ জেনে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। বাড়িতে গিয়ে কলিংবেল বাজাতে ভেতরের দিক থেকে বন্ধুপুত্রী বেরিয়ে এলো। সে আমাকে ঠিকই চিনতে পেরেছে। বলল, ‘আরে! কাকু যে! বাবা ভেতরের ঘরে রয়েছে। তুমি আমার সঙ্গে এসো।’

মেয়েটির নাম অনলিকা (কী মানে বলতে পারব না)। সে যখন আমার বেল শুনে বেরিয়ে এসেছিল তখনই কেমন সন্দেহ হয়েছিল, কীভাবে যেন হাঁটছে। লোকে শ্যাওলা পড়া উঠোনে বা বাথরুমে ওইভাবে পা টিপে টিপে, দুটো পা হাঁসের মতো ফাঁক করে হাঁটে। মেয়েটা আমার সামনে সামনে এগিয়ে চলল। চার-পাঁচ বছর ওকে দেখিনি। এর মধ্যে কোমরের বা হাঁটুর কোনো ব্যারাম হয়নি তো? অথচ মুখ-চোখ দেখে বোঝা যাচ্ছে না। রীতিমতো ষোড়শী, রূপবতী।

বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো। এখনও অশৌচ চলছে। দুচারটে মামুলি কথাবার্তা হলো। এরই মধ্যে আমি যথারীতি বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করেছি, ‘অনলিকার কী হয়েছে?’

এই শোকের মধ্যেও বন্ধু হেসে উঠলেন। তাঁর সেই হাসির মধ্যে কিঞ্চিৎ গৌরবের ভাবও আছে। বন্ধু বললেন, ‘আরে! জানো না? তুমি তো আসোই না, জানবে কী করে। অনলিকা মডেলিং করছে। এইতো গত বড়দিনে দক্ষিণ কলকাতার এক ক্লাব থেকে ওকে ‘মিস সাউথ’ টাইটেল দিয়েছে। সামনেই একটা বিউটি কনটেস্ট আছে হাওড়ার জগাছায়। সেইজন্যে ও সবসময়ে ক্যাটওয়াক করছে।’

ক্যাটওয়াক! মানে বেড়ালের মতো হাঁটা। বেড়াল আমি জীবনে কম দেখিনি। গুনে দেখলে অন্তত পঞ্চাশটা বেড়াল এ-জীবনে পুষেছি। এখনও বাড়িতে দু-তিনটে বেড়াল ঘোরাফেরা করে। কস্মিনকালে দেখিনি যে বেড়াল এভাবে হাঁটে।

বন্ধুর বাড়ি থেকে একটা নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরলাম। ফিরে এসে স্ত্রীকে বললাম। মিনতি রায় বললেন, ‘তুমি কোনো খবর রাখো না। টিভিতে ফ্যাশন প্যারেডে সারা দিনরাত মেয়েরা ক্যাটওয়াক করছে।’

ক্রমশ আমার অভিজ্ঞতার ঝুলি ভারি হয়েছে। নবযৌবনাদের দিকে দৃষ্টি দিতে শুরু করেছি। না, কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে নয়। এ-বয়সে এটা আমার কর্তব্য।

ইতিমধ্যে দুটি জিনিস আবিষ্কার করেছি।

সেদিন সুবর্ণা নামে আমার এক প্রতিবেশী-কন্যা এলো। এসে বলল, ‘আমাদের ফোনটা কাজ করছে না। ড্যাডি বলল আজ সন্ধ্যাবেলায় আপনাকে আমাদের বাড়ি যেতে।’

নেমন্তন্ন পেয়ে খুশি হলাম। কিন্তু ‘ড্যাডি’ শব্দটা কানে লাগল। মেয়েটি বেশ ঠোঁট টিপে রেখে বলল, ‘বাবা উচ্চারণ করলে আমার লিপস্টিক জেবড়ে যায়। তাই ড্যাডি বলি।’

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে আজকেই সকালে।

একটি চোদ্দ বছরের মেয়ে আমার কাছে একটি গল্পের বই নিতে এসেছে, কিন্তু সামনে বসে ‘হাত ঘোরালে নাড়ু পাবে’ এইরকমভাবে দুটো হাতের পাতা ঘোরাচ্ছে। আমি বসে বাতাসা-মুড়ি খাচ্ছিলাম। তাকে একটা বাতাসা একটু মুড়ি দিতে গেলাম। সে বলল, ‘এখন খেতে পারব না।’

আমি বললাম, ‘সে কি? কেন?’

সে দুটো হাত আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘দেখছ না? হাতের নেলপালিশ শুকোয়নি?’

শেষ গল্পটি পুরনো কিন্তু অবিস্মরণীয়।নববিবাহিত দিদি-জামাইবাবুকে খুব বিরক্ত করছিল ছোটবোন। জামাইবাবু তাকে একটু ধমক দেন। সে এরপরে একটা কুইনিন গুঁড়ো করে দিদির ফেস পাউডারের সাথে মিশিয়ে রাখে। জামাইবাবু টের পাবে মজাটা!